রাজনীতি
নির্বাচন হবে দেশ পুনর্গঠনের হাতিয়ার, দিলেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য নয়, বরং এটি দেশ পুনর্গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শুধু সরকার পরিচালনা নয়, দেশ পুনর্গঠনের কাজেও হাত দেওয়া হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন,দীর্ঘ এক যুগ ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। বিগত স্বৈরাচার শাসক নারী ও যুবকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারেনি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শুধু সরকার পরিচালনা নয়, রাষ্ট্র সংস্কার, পুনর্গঠন ও নারী ও যুবকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার কাজে হাত দেবে।
তিনি ঠাকুরগাঁও বাসীর উদ্দেশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ধানের শীষ জয়ী হলে বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হবে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালুর কথায় তিনি বলেন, এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে ঋণ নিতে পারবেন, সার ও কীটনাশক পাবেন। ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি রেজিস্টার্ড এনজিও থেকে নেওয়া কৃষিঋণ সরকার পরিশোধ করবে বলেও জানান।
তিনি বলেন, কৃষিপ্রধান এলাকায় কলকারখানা স্থাপন করা হবে, যাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে চা কারখানা ও শিল্পকারখানা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি হিমাগার নির্মাণ, যুবকদের জন্য আইটি পার্ক, মেডিক্যাল কলেজ ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, গত এক যুগে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ দেখেছে। ফলে মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে স্বাস্থ্যসেবার জন্য হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে। আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, এখন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে হবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই কাজ বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এক দল আরেক দলের সমালোচনা করতেই পারে। কিন্তু শুধু সমালোচনা করে জনগণের কোনো লাভ হয় না। জনগণ জানতে চায়, তাদের জন্য কী করা হবে। বিএনপি জনগণের জন্য পরিকল্পনার কথা বলছে এবং জনগণকেই সব ক্ষমতার উৎস মনে করে। যে বাংলাদেশে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে, তরুণরা বেকার থাকবে না, সবাই চিকিৎসা পাবে—এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই। দেশ স্বাধীন করেছি, চব্বিশে স্বাধীনতা রক্ষা করেছি। এখন গণতন্ত্রকে শক্ত করতে হবে, দেশ পুনর্গঠন করতে হবে।
ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়েই বাংলাদেশ গড়বে বিএনপি। ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হলে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়েই কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
এমএন
রাজনীতি
আমরা ন্যায়বিচার কায়েম করার পক্ষে : জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে টাকার বিনিময়ে আর বিচার বিক্রি হতে দেওয়া হবে না। তিনি অঙ্গীকার করেন, আমরা ন্যায়বিচার কায়েম করার পক্ষে। ঐক্যজোট ক্ষমতায় গেলে দেশের সাধারণ মানুষ এবং রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর বিচার একই আইনে হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জ নিউ ফিল্ড মাঠে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। এই টাকাগুলো ১৮ কোটি মানুষের।
রাস্তার ভিক্ষুক বা আজকে জন্ম নেওয়া শিশুরও এই টাকায় অংশ রয়েছে। তারা এই টাকা বিদেশ পাঠিয়ে দিয়েছে।
জামায়াতের আমির বলেন, আপনাদের এখানে খুব একটা চাঁদাবাজি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু শুনেছি এখানেও চাঁদাবাজি হয়।
আমরা ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি চলবে না। ব্যবসায়ীর রাতের ঘুম হারাম হবে না। ফুটপাতের সাধারণ মানুষের চোখের পানি ফেলতে হবে না। আপনারা জানেন, ঢাকা শহরের ভিক্ষুকদেরও চাঁদা দিতে হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি দল– আমাদের ভাই-বন্ধু আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত রাখতে দেয় না।
তারা কিভাবে বোরকা-হিজাব খুলে ফেলার কথা বলতে পারে! তারা কি কোনো মায়ের গর্ভ থেকে আসেনি! তাদের বলব, আগে নিজের মা-বোনদের সম্মান করতে শিখুন। প্রয়োজনে জীবন দিব, তবু মা-বোনদের ইজ্জত কাউকে কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, আমাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট। আমাদের যারা নির্বাচিত হবেন, তারা প্রতি বছর একবার নিজেদের ও নিজের পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে হবে। তিনি জনগণের সম্পদে হাত দিয়েছেন কি-না সেটা জানার অধিকার জনগণের অবশ্যই আছে। অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে যে প্লট এমপি-মন্ত্রীদের দেওয়া হয়, সেটা আমরা নিব না। শুল্কমুক্ত গাড়ি আমরা কিনব না। সাধারণ মানুষ যেভাবে চলে, আমরাও সেভাবে চলব।
হবিগঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, আমি শুনেছি হবিগঞ্জও সন্ত্রাসকবলিত এলাকা। নির্বাচিত হলে দুর্নীতিমুক্ত জেলা উপহার দেব ইনশাআল্লাহ। আপনারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ১২ তারিখ ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দিবেন প্রত্যাশা করি। যে এলাকা যত বেশি উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে, আল্লাহ আমাদেরকে সুযোগ দিলে সেই এলাকা থেকেই উন্নয়নের ধারা শুরু করব।
যুবকদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিব। আমরা গ্রামকেও শিল্পাঞ্চল বানাব। সেখানে হবে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা। সেখানকার শিক্ষিতরা তাদের যোগ্যতা দিয়ে গ্রামের অবস্থা পাল্টে দিবে। যুবকরা তৈরি হয়ে যাও, আমরা এই বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দিব।
স্বাস্থ্যখাত নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা দায়িত্ব দিলে প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। হবিগঞ্জে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা হবে।
উক্ত সমাবেশে হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন— সিলেট বিভাগীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, হবিগঞ্জ–৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ কাজী মহসিন আহমেদ, হবিগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর জোট বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী, হবিগঞ্জ-২ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল বাছিত আজাদ, হবিগঞ্জ-৪ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ আবদুল কাদের, হবিগঞ্জ জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি সদ্য জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারী অ্যাডভোকেট চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমানসহ জামায়াতের নেতৃস্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এমএন
রাজনীতি
বিএনপির ইশতেহার ঘোষণায় ৩৮ দেশের কূটনীতিকের সরব উপস্থিতি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
বিএনপির এই রাজনৈতিক ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৩৮টি দেশের প্রভাবশালী কূটনীতিকরা সরব উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ইশতেহারে বিএনপির আগামী দিনের পররাষ্ট্র নীতি কী হবে—তা নিয়েই বিদেশি প্রতিনিধিদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল। অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য কূটনীতিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো গভীর মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন।
অনুষ্ঠানে শুধু কূটনীতিকরাই নন, বরং দেশের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট নাগরিক ও বুদ্ধিজীবীদের মিলনমেলা বসেছিল। প্রবীণ সাংবাদিক ও যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমানসহ প্রায় ৬০ জন সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, ব্যবসায়ী নেতা এবং কবি-কথাসাহিত্যিকরা বিএনপির এই রাজনৈতিক সনদ প্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
ইশতেহারে দেশের শাসনব্যবস্থা সংস্কার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
এমএন
রাজনীতি
ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান তারেক রহমানের
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নিজেই পর্যাপ্ত আসনে জিতবে বলে মন্তব্য করেছেন দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচনের পর ঐক্য সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক বিরোধী দলের সঙ্গে কীভাবে আমি ঐক্য সরকার গঠন করব। তাহলে বিরোধী দল কে হবে?”
“আমি জানি না তারা কত আসনে জিতবে। যদি তারা বিরোধী দলের অবস্থানে থাকে। আমি তাদের ভালো বিরোধী দল হিসেবে আশা করব।”
তারেক রহমানের সহযোগীরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বাস এবারের নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হবে। সংসদে ৩০০ আসন থাকলেও বিএনপি তার নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে ২৯২টি আসনে। বাকিগুলো দেওয়া হয়েছে জোটের অন্যান্য দলগুলোকে।
তবে তারেক রহমান নিজে কোনো সংখ্যার কথা উল্লেখ করেননি। তিনি রয়টার্সকে শুধু বলেছেন “আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে আমরা সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসনে জয়ী হব।”
দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে নির্বাচন শেষে জামায়াত মূলত ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৪ সালে সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের সময় দেশের তৈরি পোশাক খাত মূলত ব্যহত হয়েছে। সেটি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন পেলে সবাইকে নিয়ে সরকার গঠনের আগ্রহ দেখিয়েছে দলটি।
জয়ী হলে ভারত থেকে চীনের দিকে ঝুঁকবেন?
তারেক রহমানকে রয়টার্স প্রশ্ন করেছিল যদি তার দল জয়ী হয় তাহলে তারা ভারত থেকে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না।
জবাবে তিনি বলেন, “যদি আমরা সরকারে থাকি, আমাদের তরুণদের চাকরি দিতে হবে। দেশে আমাদের ব্যবসা আনতে হবে যেন তাদের চাকরির সুযোগ তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবনযাপন করতে পারেন।”
“তাই, বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে, যেসব প্রস্তাব আমাদের জনগণ ও দেশের জন্য উপযুক্ত হবে, আমরা তাদের সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করব। আলাদা কোনো দেশের সঙ্গে নয়।”
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেবেন কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, “যদি জনগণ কাউকে মেনে নেয়, যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়। তাহলে যে কারও রাজনীতি করার সুযোগ আছে।”
এছাড়া মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা যতক্ষণ নিশ্চিত না হবে ততক্ষণ তারা বাংলাদেশে থাকতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তারেক।
এমএন
রাজনীতি
ঢাকা-৫ আসনকে মানবিক ও নিরাপদ গড়ার প্রত্যয়ে জামায়াত প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক নিরাপদ, সমৃদ্ধ, উন্নত ও মানবিক ঢাকা-৫ গড়ার প্রত্যয়ে নিয়ে তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর নূর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন।
“সবার জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা” নিশ্চিত করার অঙ্গিকারে ১২ দফার ভিত্তিতে তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহার স্থানীয় জনতার সামনে তুলে ধরেন।
ইশতেহারের ১২টি প্রধান দফা:
১. শিক্ষা: সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং নতুন সরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন।
২. সুশাসন: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠন।
৩. দারিদ্র্য বিমোচন: কর্মহীন, গৃহহীন ও চিকিৎসা বঞ্চিতদের সংখ্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা।
৪. জুলাই বিপ্লব: ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের যথাযথ সম্মান প্রদান এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
৫. অপরাধ নির্মূল: চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মাদক, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিং সম্পূর্ণ নির্মূল করা।
৬. নাগরিক সেবা: জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল খনন, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ও মশক নিধন।
৭. স্বাস্থ্য: আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ ও ২৪/৭ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
৮. ইউটিলিটি: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, নিরাপদ পানি, গ্যাস ও হাই-স্পিড ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা।
৯. অর্থনীতি: স্বনির্ভর অর্থনীতি ও পরিবারভিত্তিক কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু করা।
১০. নিরাপত্তা: নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ শহর গড়ে তোলা।
১১. শিল্প ও যোগাযোগ: বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু এবং এলাকার অভ্যন্তরীণ রাস্তার উন্নয়ন।
১২. অধিকার ও স্বাধীনতা: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি ঢাকা-৫ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুস সালাম, যাত্রাবাড়ী পূর্ব থানা আমীর ও ঢাকা-৫ আসন কমিটির সদস্য সচিব মো. শাহজাহান খান, ডেমরা মধ্য থানা আমীর মোহাম্মদ আলী, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমীর মোখলেছুর রহমান, এবি পার্টির সমন্বয়ক লুৎফুর রহমান, এনসিপির ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম মিন্টুসহ ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ইশতেহার ঘোষণা শেষে মোহাম্মদ কামাল হোসেন স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, নির্বাচিত হলেঅগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের কর্মপরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ ঢাকা-৫ গড়তে ইনসাফ কায়েমের বিকল্প নেই।
নাইম
রাজনীতি
ইনকিলাব মঞ্চের জাবের গুলিবিদ্ধ
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। বার্তায় বলা হয়, জাবের ভাই গুলিবিদ্ধ। জুমা -শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হইছে।
তাদের দাবি, সংগঠনের নেত্রী জুমাকে এবং শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীকে আঘাত করা হয়েছে। আরেক পোস্টে ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত কোনো জমায়েত করবেন না।
আমরা চিকিৎসা নিয়ে আবার রাজপথে আসব। সেই পর্যন্ত নিরাপদে থাকার আহ্বান জানাই।
শহীদ শরীফ ওসনান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে যমুনার সামনে অবস্থান করছে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এ সংঘর্ষ হয়।
এদিকে, আব্দুল্লাহ আল জাবেরের ফেসবুক আইডিতে থেকে জানানো হয়, শতাধিক আহত ও জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, আপাতত কোনো জমায়েত করবেন না। আমরা চিকিৎসা নিয়ে আবার রাজপথে আসব।
এমএন



