রাজনীতি
দেশে নতুন জালিম ও গুপ্ত সংগঠনের আবির্ভাব হয়েছে: তারেক রহমান
বাংলাদেশে নতুন ধরনের এক জালিম শক্তির আবির্ভাব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি বিশেষ চক্র এখন ‘গুপ্ত সংগঠনের’ মাধ্যমে সাধারণ জনগণের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল নগরের বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত বিএনপির বিভাগীয় নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন,দীর্ঘ ১৫–১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যারা প্রকাশ্য রাজনীতির বদলে গুপ্ত সংগঠনের মাধ্যমে জনগণের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভোটাধিকার হরণকারী অপশক্তির পতন হলেও, এই নতুন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়কে বারবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে, যার চূড়ান্ত অবসান ঘটেছে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নারী-পুরুষ একসঙ্গে মাঠে কাজ করে। কৃষকের সঙ্গে কৃষাণীরাও মাঠে কাজ করে। শুধু মাঠেই নয়, সমাজের সবক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নারীরা। যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশের মা-বোনদের সম্মান করে না, তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ কোনো অগ্রগতি বা মর্যাদাপূর্ণ রাজনীতি আশা করতে পারে না।
ইসলামের ইতিহাসে নারীদের সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীদের পেছনে রেখে কোনোভাবেই দেশ এগোতে পারে না।
এমএন
রাজনীতি
ইসলামী আন্দোলনের ৩০ দফা ইশতেহার, ১২টি বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ‘জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই ইশতেহারে ৩০টি মৌলিক দফা এবং ১২টি বিশেষ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
৩০ দফা মৌলিক ইশতেহার
১. দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন।
২. দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
৩. সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
৪. রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বত্র শরীয়াহর প্রাধান্য।
৫. কৃষি ও শিল্পবিপ্লব ঘটিয়ে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যমুক্ত অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ গঠন।
৬. নৈতিকতায় সমৃদ্ধ, কর্মমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা।
৭. সার্বজনীন কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ।
৮. পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্রসংস্কার।
৯. মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধতা।
১০. আর্থিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
১১. নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারসহ সকল জনগোষ্ঠীর মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষা।
১২. রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতিতে বৈষম্য বিলোপ।
১৩. সকলের জন্য সাশ্রয়ী ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা।
১৪. পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় গুরুত্ব।
১৫. ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ।
১৬. শুধু দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন নয়, নির্মূলকরণ কর্মসূচি গ্রহণ।
১৭. শুধু আইনের শাসন নয়, ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা।
১৮. জনমতের যথার্থ প্রতিফলন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠায় পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি বাস্তবায়ন।
১৯. মানুষের সার্বিক কল্যাণে ধর্ম ও রাজনীতির সমন্বয়।
২০. দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন ও অনৈতিক পেশার সঙ্গে জড়িতদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধকরণ।
২১. খুন, গুম, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও দুঃশাসনের অবসান।
২২. জনগণের বাক্স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
২৩. নারীদের শুধু সমঅধিকার নয়, অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা।
২৪. শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, স্যুয়ারেজ ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু।
২৫. সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ।
২৬. কওমি মাদরাসার ডিগ্রিধারীসহ দক্ষ ও যোগ্য ওলামায়ে কিরামকে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা।
২৭. সড়ক নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ।
২৮. বাংলাদেশকে ১৫ বছরের মধ্যে উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করা।
২৯. শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা।
৩০. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।
১২টি বিশেষ কর্মসূচি
১. হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা।
২. প্রাথমিক স্তরের সকল শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন একবেলা পুষ্টিকর খাবার।
৩. ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী যুবকদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন এককালীন ঋণ।
৪. সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি বা স্বাস্থ্যকার্ড চালু, ভর্তুকিমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং কৃষিকার্ড প্রবর্তন।
৫. ন্যাশনাল জব পোর্টাল, যেখানে দেশে ও বিদেশে চাকরি খোঁজা, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের সুবিধা থাকবে।
৬. কর্মজীবী মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন।
৭. ঢাকাসহ সকল নগরে সরকার নিয়ন্ত্রিত ও ফ্র্যাঞ্চাইজভিত্তিক বাস ব্যবস্থাপনা।
৮. সেবাকেন্দ্রিক কর ব্যবস্থা চালু।
৯. সকলের জন্য নির্বিঘ্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ।
১০. নারী পোশাকশ্রমিকদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা।
১১. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।
১২. কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় পদে ওলামায়ে কেরামের পদায়ন।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
রাজনীতি
ঢাকা-১১ আসনে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে নাহিদ ইসলাম
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১১ আসনে প্রচার-প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী মো.নাহিদ ইসলাম।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই রামপুরা ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও পথসভা করেন।
অনান্য দিনের মতো বুধবার সকাল থেকেই তিনি ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। এ সময় স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়ার কথাও শোনেন।
দুপুরে রামপুরায় মাটির মসজিদ এলাকায় মহিলা ভোটার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনে নারীরা অপরিসীম ভূমিকা পালন করেন, তারা রাস্তায় নেমে এসে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
বিকেলে তালতলা মার্কেটে ব্যবসায়ী সমাবেশে যোগদান, মাটির মসজিদ চৌরাস্তায় উঠান বৈঠক এবং রাতে মালিবাগ জামেয়া মসজিদের পূর্ব গেটের সামনে উঠান বৈঠক করবেন নাহিদ ইসলাম।
ঢাকা-১১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩ জন।
এই আসনের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাড্ডা থানা এলাকা, রামপুরা থানার টিভি সেন্টার, আফতাবনগর আবাসিক এলাকা, বনশ্রীর একাংশ, মহানগর প্রজেক্ট ও মালিবাগ-চৌধুরীপাড়া। এছাড়া ভাটারা থানার নতুন বাজার, বারিধারা সংলগ্ন এলাকা, নুরের চালা ও ছোলমাইদ এলাকাও এই আসনের অন্তর্ভুক্ত।
এমএন
রাজনীতি
ইসলামী আন্দোলনের ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ ঘোষণা
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম একে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের আইএবি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ইশতেহার জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হয়।
তিনি বলেন, আমাদের ইশতেহারের নামকরণ করা হয়েছে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’। কারণ মহান স্বাধীনতার যুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে জনপ্রত্যাশার উন্মেষ ঘটেছে তা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত করার অঙ্গীকার নিয়েই আমাদের এই ইশতেহার।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের পরিচালক ও রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ হয়। আর নির্বাচনের আগে ইশতেহারের মাধ্যমে জাতির সামনে দলের নীতি-ভাবনা ও দেশ গঠনের রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তার নীতি-ভাবনা ও দেশ গঠনের রূপরেখা ও কর্মসূচি উপস্থাপন করার জন্য এই ইশতেহার পেশ করছে।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ২৪-এর জুলাইয়ে শুরু হওয়া এক ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু, হাজার হাজার নাগরিকের পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্বের বিনিময়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। আমরা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারী, আহত ও আত্মউৎসর্গকারীদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।
তিনি বলেন, ইশতেহারকে আমরা তিনটি অধ্যায়ে উপস্থাপন করছি। রাষ্ট্র গঠনে আমাদের নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারে আমাদের পরিকল্পনা ও খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা।
ইশতেহারের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলাম প্রচলিত অর্থে ধর্ম বলতে যা বোঝায় তার চেয়েও বিস্তৃত একটি ধারণা। বিশ্বাসের সমষ্টি ও ইবাদতের সাথে সাথে ইসলাম জীবন পরিচালনার সব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্দেশনা দেয়। বিশেষ করে মানুষের সবচেয়ে বড় যৌথ প্রকল্প রাষ্ট্র ও শাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ইসলামের নির্ধারিত, বিস্তৃত এবং বহু শতাব্দী চর্চিত রীতি-নীতি ও বিধিমালা রয়েছে। যার আলোকে ১৩শ বছর মানবসভ্যতা শান্তি ও সমৃদ্ধির সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিমালার মধ্যে রয়েছে আদালত, ইনসাফ, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এই মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন করবে।
তিনি আরো বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তর কেন্দ্রীক অস্থিরতা থেকে দেশকে বের করে আনা হবে। ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চিত হবে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, ক্ষমতা ও জবাবদিহিতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য সাংবিধানিকভাবে স্পষ্ট করা হবে, যাতে নির্বাহী আধিপত্য ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমে। জাতীয় স্বার্থ, নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল আচরণ রক্ষায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশের সব মানুষকে সমান অধিকার ও মর্যাদা সম্পন্ন নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে। ধর্ম বা জাতি বিবেচনায় কাউকে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বিবেচনা করবে না। সবার ধর্মীয় বিশ্বাস রক্ষা ও পালনের নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি এক ধরনের হুমকি থাকায় তা রক্ষায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক সহিংসতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতা রক্ষায় কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, শরীয়াহ মোতাবেক নারীদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে আইনগত ও সামাজিক বাস্তবায়ন জোরদার করা হবে। পথশিশু ও বস্তিবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট সামাজিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। গৃহকর্মী, অনানুষ্ঠানিক ও অবৈতনিক পরিচর্যা কাজে নিয়োজিত নারীদের শ্রমের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
‘বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হলো দুর্নীতি। ইসলামী আন্দোলন নৈতিক, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বহুমাত্রিক কৌশলে ও কর্মপন্থায় দুর্নীতিকে ক্রমান্বয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে। দুর্নীতিবিরোধী আইন ও নীতিমালা কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধ করা হবে, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা জোরদার করা হবে এবং বাজারে প্রবেশ ও কার্যক্রমে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বাজার ও সেবাখাতে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নিশ্চিত করা হবে। সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি কার্যকর করা হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতির ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক ও প্রকাশ্য শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না থাকে। সেবাখাতে সিন্ডিকেট চক্র বন্ধ করা হবে এবং সেবা প্রদানে ঘুষ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারীর প্রতি দায় বোধ করে। নারীর বিদ্যমান পরিস্থিতি যে সমস্যাজনক তাও স্বীকার করে। সেজন্য নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই ভূমির হাজার বছরের বোধ-বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের আলোকে করণীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এমএন
রাজনীতি
আসন্ন নির্বাচনে কারচুপির আভাস পাচ্ছি: মাহদী আমিন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির আভাস পাচ্ছি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে এবং ফলাফল প্রভাবিত করতে বিভিন্ন ধরনের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ‘রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ (আরএফইডি)-র সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইনশাল্লাহ। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১৬ বছর এই দিনের জন্য লড়াই করেছি। ১৬ বছরের যে সুদীর্ঘ সংগ্রাম ছিল, যে গণ-অভ্যুত্থান ছিল, তার মূল উদ্দেশ্য এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণ যেখানে জনগণই হবে সব রাজনৈতিক ক্ষমতা উৎস। আমরা দেখেছি ১৪ সালের বিনা ভোটে নির্বাচন, ২০১৮ সালের নিশিরাতের নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের ডামি ভোটের নির্বাচন। এই তিনটা নির্বাচন কিন্তু প্রকৃতপক্ষকে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত রাখার জন্য জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে কী ধরনের একটা ইঞ্জিনিয়ারিং করেছিল সেটা কিন্তু আপনারা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশে মোটামুটি এখন সবাই জানেন যে পোস্টাল ব্যালটটাকে কীভাবে একটা নির্দিষ্টভাবে সুবিধার জন্য কিংবা আমাদের অসুবিধার জন্য কাজ করা হয়। আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ধরনের কথা দেখছি, সেখানে কখনো উঠছে যে ভোটার মাইগ্রেশন হয়েছে বিপুল সংখ্যক। ঢাকায় বেশকিছু জায়গায় আমরা দেখছি অনেক বোরকা তৈরির কথা বলা হচ্ছে। আমরা দেখেছি অনেক ধরনের কথা হচ্ছে। আসুন সবাই মিলে নির্বাচনে যেকোনো ধরনের অনিয়ম-কারচুপি এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিরুদ্ধে দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য একসঙ্গে কাজ করি।
এমএন
রাজনীতি
আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ৪৮ শতাংশই ঝুঁকছেন বিএনপির দিকে: সিআরএফ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আসন্ন এ নির্বাচনে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের প্রায় ৪৮ শতাংশ সমর্থক এখন বিএনপিকে সমর্থন করছে। বাকি ৫২ শতাংশ আওয়ামী লীগ সমর্থক বেছে নিতে পারেন অন্য প্রার্থীদের।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস) যৌথভাবে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাবুল হক। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাটি উপস্থাপন করেন লেখক, গবেষক ও সিআরএফ-এর স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।
প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের অংশগ্রহণ, অগ্রাধিকার, নেতৃত্ব সংক্রান্ত ধারণা ও নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে জনমত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। স্ট্রাটিফাইড র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার অংশ নেন।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো অনিশ্চিত বা ভোটে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেননি। লিঙ্গ, বয়স, শিক্ষা ও বসবাসের স্থানভেদে ভোটদানের আগ্রহে বড় ধরনের পার্থক্য নেই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হচ্ছে দুর্নীতি ও সুশাসন। প্রায় ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ধর্মীয় বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন মাত্র ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার।
ভোটাররা এমন নেতাদের পছন্দ করছেন, যারা জনগণের কথা ভাবেন এবং কার্যকর নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে জনদরদি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম হিসেবে উঠে এসেছে। অধিকাংশ ভোটার একাধিক তথ্যসূত্র ব্যবহার করেন।
প্রতিবেদনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ভোটাররা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার চেয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি ও ব্যালট দখলের আশঙ্কা সব দলের সমর্থকদের মধ্যেই রয়েছে।
সিআরএফের এই প্রতিবেদনে দেখা যায়, সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে সমর্থন করছেন। ৫২ শতাংশ মানুষ অন্যকোনো প্রার্থীদের বেছে নিতে পারেন। অন্যদিকে, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতকে পছন্দ করছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ ভোটার প্রার্থীকে গুরুত্ব দেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার প্রার্থী বা প্রার্থী-দল উভয় বিষয় বিবেচনা করে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ২ শতাংশ শুধু প্রার্থীকে গুরুত্ব দেন এবং ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রার্থী ও দল উভয়কেই বিবেচনায় নেন।
এমএন



