রাজনীতি
ইসলামী আন্দোলনের ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ ঘোষণা
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম একে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের আইএবি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ইশতেহার জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হয়।
তিনি বলেন, আমাদের ইশতেহারের নামকরণ করা হয়েছে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’। কারণ মহান স্বাধীনতার যুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে জনপ্রত্যাশার উন্মেষ ঘটেছে তা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত করার অঙ্গীকার নিয়েই আমাদের এই ইশতেহার।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের পরিচালক ও রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ হয়। আর নির্বাচনের আগে ইশতেহারের মাধ্যমে জাতির সামনে দলের নীতি-ভাবনা ও দেশ গঠনের রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তার নীতি-ভাবনা ও দেশ গঠনের রূপরেখা ও কর্মসূচি উপস্থাপন করার জন্য এই ইশতেহার পেশ করছে।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ২৪-এর জুলাইয়ে শুরু হওয়া এক ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু, হাজার হাজার নাগরিকের পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্বের বিনিময়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। আমরা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারী, আহত ও আত্মউৎসর্গকারীদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।
তিনি বলেন, ইশতেহারকে আমরা তিনটি অধ্যায়ে উপস্থাপন করছি। রাষ্ট্র গঠনে আমাদের নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারে আমাদের পরিকল্পনা ও খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা।
ইশতেহারের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলাম প্রচলিত অর্থে ধর্ম বলতে যা বোঝায় তার চেয়েও বিস্তৃত একটি ধারণা। বিশ্বাসের সমষ্টি ও ইবাদতের সাথে সাথে ইসলাম জীবন পরিচালনার সব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্দেশনা দেয়। বিশেষ করে মানুষের সবচেয়ে বড় যৌথ প্রকল্প রাষ্ট্র ও শাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ইসলামের নির্ধারিত, বিস্তৃত এবং বহু শতাব্দী চর্চিত রীতি-নীতি ও বিধিমালা রয়েছে। যার আলোকে ১৩শ বছর মানবসভ্যতা শান্তি ও সমৃদ্ধির সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিমালার মধ্যে রয়েছে আদালত, ইনসাফ, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এই মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন করবে।
তিনি আরো বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তর কেন্দ্রীক অস্থিরতা থেকে দেশকে বের করে আনা হবে। ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চিত হবে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, ক্ষমতা ও জবাবদিহিতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য সাংবিধানিকভাবে স্পষ্ট করা হবে, যাতে নির্বাহী আধিপত্য ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমে। জাতীয় স্বার্থ, নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল আচরণ রক্ষায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশের সব মানুষকে সমান অধিকার ও মর্যাদা সম্পন্ন নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে। ধর্ম বা জাতি বিবেচনায় কাউকে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বিবেচনা করবে না। সবার ধর্মীয় বিশ্বাস রক্ষা ও পালনের নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি এক ধরনের হুমকি থাকায় তা রক্ষায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক সহিংসতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতা রক্ষায় কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, শরীয়াহ মোতাবেক নারীদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে আইনগত ও সামাজিক বাস্তবায়ন জোরদার করা হবে। পথশিশু ও বস্তিবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট সামাজিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। গৃহকর্মী, অনানুষ্ঠানিক ও অবৈতনিক পরিচর্যা কাজে নিয়োজিত নারীদের শ্রমের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
‘বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হলো দুর্নীতি। ইসলামী আন্দোলন নৈতিক, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বহুমাত্রিক কৌশলে ও কর্মপন্থায় দুর্নীতিকে ক্রমান্বয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে। দুর্নীতিবিরোধী আইন ও নীতিমালা কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধ করা হবে, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা জোরদার করা হবে এবং বাজারে প্রবেশ ও কার্যক্রমে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বাজার ও সেবাখাতে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নিশ্চিত করা হবে। সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি কার্যকর করা হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতির ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক ও প্রকাশ্য শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না থাকে। সেবাখাতে সিন্ডিকেট চক্র বন্ধ করা হবে এবং সেবা প্রদানে ঘুষ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারীর প্রতি দায় বোধ করে। নারীর বিদ্যমান পরিস্থিতি যে সমস্যাজনক তাও স্বীকার করে। সেজন্য নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই ভূমির হাজার বছরের বোধ-বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের আলোকে করণীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এমএন
রাজনীতি
রাষ্ট্রপতিকে বাদ দিতেই হবে, কোনো অপশন নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের (চুপ্পু) অভিশংসন জরুরি বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, নয়ছয় না করে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের মাধ্যমে দ্রুত বিদায় করতে হবে।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি তুলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাষ্ট্রপতি (চুপ্পু) এখানে এসেছেন। মুসল্লিরা প্রতিবাদ করেছেন। আমরা সরকারকে দ্রুত জানাব যে, নয়ছয় না করে রাষ্ট্রপতির (চুপ্পু) অভিশংসন জরুরি। তাকে বাদ দিতেই হবে। সরকারের কোনো অপশন নেই। যদি বাদ না দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের আন্দোলনে যেতে হবে।
ঢাকা-৮ আসনের ভোটারদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা-৮ আসনে যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি নতুন শপথ নিতে জাতীয় ঈদগাহে এসেছি। কারণ, আমরা অনেক শহীদ ভাইকে নিয়ে আজ নামাজ পড়তে পারতাম। আমরা চাই বাংলাদেশে শহীদ ও আহতদের বিচার বুঝে পাব। একই সঙ্গে বুঝে পাব শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার।
আগামী দিনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কয়েক দিন ধৈর্য ধারণ করছি। সবকিছু সচল হলে আমরা রাজপথে যেতে বাধ্য হবো, ইনশা আল্লাহ।
রাজনীতি
মনিপুরে ঈদের নামাজ পড়লেন বিরোধীদলীয় নেতা
রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ (মূল বালিকা ক্যাম্পাস) মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার (২১ মার্চ) সকালে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে আয়োজিত ঈদ জামাতে অংশ নেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই মিরপুর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে সাধারণ মুসল্লিরা মনিপুর স্কুল মাঠে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য সমবেত হন। বিরোধীদলীয় নেতার আগমনকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নামাজ শেষে খুতবা পাঠ করা হয়। এরপর দেশ ও জাতির কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন ডা. শফিকুর রহমান। মোনাজাত শেষে তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি
ঈদযাত্রীদের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে : জামায়াত আমির
ঈদযাত্রীদের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ এবার ইতিহাসের জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা প্রত্যক্ষ করল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে শহর থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ আপনজনের সঙ্গে মিলেমিশে ঈদ করার জন্য একবুক প্রত্যাশা ও আনন্দ নিয়ে সারা বছর ধরে অপেক্ষা করেন।’
তবে এবার ঈদযাত্রায় জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘ইতিহাসের জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ এবার প্রত্যক্ষ করল। এর দায় অবশ্যই সরকারকে নিতে হবে।’
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের পরপরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, এ অব্যবস্থাপনার মূলভিত্তি এটিই।’
জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘বাস মালিকরা স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে ঈদ যাত্রায় কম ভাড়া নিচ্ছে, যা চরম মিথ্যাচার। জনগণের এই দুঃখ এবং আফসোস দেখবে কে? তাহলে কি প্রিয় বাংলাদেশ আবারও ফ্যাসিবাদের কবলে পড়তে যাচ্ছে?’
হুঁশিয়ারি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে তাদের জন্য দুঃসংবাদ— জেগে ওঠা যুবসমাজ ও জনগণ তা বরদাশত করবে না। অতএব সময় থাকতে সাবধান হওয়া দরকার। অন্যথায় বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদেরই এসব দায় বহন করতে হবে।’
রাজনীতি
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা মেনে নেবে না জনগণ: জামায়াত আমির
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর সমাগত পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেছেন, গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না।
বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, জাতি এমন একসময়ে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করতে যাচ্ছে, যখন দেশে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে এবং একটি ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, নতুন করে কেউ আর ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না। মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলবে, চলাফেরা করবে। সমাজে কোনো ভেদাভেদ ও বৈষম্য থাকবে না এবং নাগরিকেরা জানমাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা পাবেন। দেশ হবে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। এরপরও এই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না। তাই সরকারি ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান তিনি।
যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জাতি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশ পেয়েছে, শুভেচ্ছা বার্তায় তাদের জন্য দোয়া কামনা করেন জামায়াত আমির। একই সঙ্গে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষে মানুষে দয়া, সৌভ্রাতৃত্ব, সাম্য, ঐক্য ও ভালোবাসার এক মহাসেতুবন্ধ গড়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহভীতি তথা তাকওয়ার গুণাবলি সৃষ্টির মাধ্যমে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জীবনে শান্তি ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে; ধনী-গরিব সব শ্রেণির মধ্যে নিবিড় ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটি হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত সমাজ গঠনে তৎপর হওয়ার পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার এবং একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিশেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন কামনা করে সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান ডা. শফিকুর রহমান।
রাজনীতি
তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসবে নগরবাসীকে শামিলের আহ্বান নাহিদ ইসলামের
তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসবে নগরবাসীকে শামিলের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতে ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
পোস্টে তিনি বলেন, যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় ক্লান্ত, কর্মব্যস্ত নগরবাসীর জন্য সুখবর! গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও নাগরিক উদ্যোগে রাজধানীতে আয়োজিত হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসব।
চাঁদরাতে মেহেদী উৎসব, ঈদের নামাজের পর বর্ণাঢ্য ঈদ মিছিল এবং পরদিন ঘুড়ি উৎসব; এমন অনন্য সব আয়োজনে আবারও ফিরে আসছে আমাদের পাঁচশো বছরের ঐতিহ্য।
তিনি বলেন, সব ভেদাভেদ ভুলে এই আনন্দোৎসবে শামিল হওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।



