জাতীয়
রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান প্রত্যাবাসন: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র বাস্তব ও টেকসই সমাধান।
তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সহায়তা কার্যক্রমে ‘নাটকীয়ভাবে অর্থায়ন কমে যাওয়ার’ বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিবিরগুলোতে স্বনির্ভরতা ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি আয়োজন করলেও রোহিঙ্গা সংকট এখনও প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, গত বছর রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরতে সহায়ক হলেও আরও মনোযোগ প্রয়োজন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের শিবিরে অবস্থান কোনো সমাধান হতে পারে না। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ইতোমধ্যে নানা ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সমস্যার শুরু মিয়ানমারে, সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। শিবিরে প্রযুক্তি-সুবিধা পাওয়া এক হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম বড় হয়ে উঠছে—এটি কারও জন্যই ভালো খবর নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।
বৈঠকে ভাসানচরের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস জানান, ভাসানচর থেকে অনেক শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ইভো ফ্রেইজেন বলেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ইউএনএইচসিআর প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, তার পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি ২০১৭ সাল থেকে একাধিকবার শিবির পরিদর্শন করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করাই আমাদের সব প্রচেষ্টার লক্ষ্য। প্রথমবার ভোট দেওয়া ও নতুন ভোটারদের জন্য আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে চাই।
বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
জাতীয়
আবেগ দিয়ে নয়, সংবিধান ও আইন অনুযায়ীই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হতে হবে সংবিধান ও আইন—কোনো আবেগ বা খেয়ালি সিদ্ধান্ত নয় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে এমনই এক নীতিগত অবস্থান ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র কোনো আবেগীয় তাড়নায় পরিচালিত হয় না; বরং এটি চলে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী। বিরোধী দলের সাম্প্রতিক কিছু দাবি এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতার বিভিন্ন বক্তব্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদ বা সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে যে ‘আরোপিত আদেশের’ কথা বলা হচ্ছে, সেটিকে তিনি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিহিত করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমরা একটি সাংবিধানিক কাঠামোতে কাজ করছি। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করলে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধন করার কোনো সুযোগ বা এখতিয়ার নেই। যারা একে আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করতে চাইছেন, তারা কি আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ, নাকি জেনেবুঝেই সংবিধান লঙ্ঘনের উসকানি দিচ্ছেন?’
তিনি আরও যোগ করেন, জনরায়ের প্রতি সরকারের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু সেই রায়কে বাস্তবে রূপ দিতে হলে অবশ্যই সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে। কোনো ‘অবৈধ আদেশের’ মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে আঘাত হানা সম্ভব নয়।
অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণের সময় বিরোধী দলের অনুপস্থিতিকে তিনি দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলীয় বন্ধুরা রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে চাননি, তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেছেন।
এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে, কিন্তু সংসদীয় শিষ্টাচারের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা ভাবার বিষয়। মজার ব্যাপার হলো, তারা ভাষণ শুনতে চাননি ঠিকই, কিন্তু আবার সেই ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন।’
সরকার পক্ষ এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একে এপ্রিশিয়েট করি। যদি ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হয়, তবে সংখ্যানুপাতে আমরা পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করব যাতে দেশবাসী সত্য জানতে পারে।’
বর্তমান অধিবেশনের ব্যস্ততা এবং আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে সংবিধান সংশোধনী বিল আনা টেকনিক্যালি চ্যালেঞ্জিং।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান অধিবেশনে আমাদের ওপর ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির একটি বিশাল আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ কাজ হাতে নিয়ে সংবিধান সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর বিল উত্থাপন করা এই মুহূর্তে কঠিন। তবে আমরা আলোচনার পথ বন্ধ করছি না।’
তিনি প্রস্তাব করেন যে, আগামী বাজেট অধিবেশনে কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই বিল উত্থাপন করা হবে যা আইনিভাবে হবে ত্রুটিমুক্ত।
জুলাই জাতীয় সনদকে একটি ‘ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সরকার এই সনদের প্রতিটি শব্দের প্রতি দায়বদ্ধ। তবে এই দায়বদ্ধতা পালন করতে হবে সংবিধানকে অক্ষুণ্ণ রেখে।
তিনি একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন: “কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা কি সংবিধানের ওপরে স্থান পেতে পারে?” তার মতে, যেকোনো বড় পরিবর্তন হতে হবে সংসদের মাধ্যমে এবং আইনি বিধিবিধান মেনে। তিনি বিরোধী দলকে আহ্বান জানান, যেন তারা রাজপথের আবেগ নিয়ে সংসদে এসে সংবিধান বহির্ভূত দাবি না তোলেন। বরং কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে বসে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধান বের করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দীর্ঘ বক্তব্যে একটি বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যে, সরকার সংস্কারের পক্ষে থাকলেও তা কোনোভাবেই সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে করতে রাজি নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘ইমোশন’ বা আবেগ সাময়িকভাবে জনপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল রাখতে আইনি কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদের এই আহ্বান মূলত বিরোধী দলের প্রতি একটি বার্তা যেখানে তিনি গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে এবং সংসদীয় আইন অনুসরণ করে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এমএন
জাতীয়
সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় জামায়াত আমিরের ক্ষোভ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি জানান, ১০ নম্বর অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিবেশন ডাকার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন।
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি সংবিধান সংস্কারের আইনি বাধ্যবাধকতা ও বর্তমান স্থবিরতা তুলে ধরেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১০ নম্বর অর্ডারে পরিষ্কার বলা হয়েছে- সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়, অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশনও আহ্বান করতে হবে। আজ সেই ৩০তম দিন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী সংসদ আহ্বান করেন। আমরা ধরে নিচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই হয়ত রাষ্ট্রপতি এটি আহ্বান করবেন, কিন্তু সময় পার হয়ে যাচ্ছে।
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী, নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চাই। বিধি অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের পর আমরা বিরোধীদলীয় ৭৭ জন সদস্য নির্ধারিত তফসিলে স্বাক্ষরও করেছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এরপরই পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আগে তো শুরু হতে হবে, তারপর সমাপ্তির প্রশ্ন। আমরা পৃথক ব্যালটে সংস্কারের জন্য ভোট নিয়েছি। এখন এই পরিষদ গঠন ও অধিবেশন আহ্বান করা আইনি বাধ্যবাধকতা।
এমএন
জাতীয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন শেষে স্পিকার এ মুলতবি ঘোষণা করেন।
স্পিকার বলেন, সংসদর বৈঠক আগামী ২৯ মার্চ (রোববার) বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হলো। আপনাদের সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ। সবাইকে আগাম ঈদ মোবারক জানান স্পিকার।
জানা গেছে, এই প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং তার ওপর প্রায় ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশগুলো নিয়েও আলোচনা হবে।
উল্লেখ্য, রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের (বীর বিক্রম) সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়েছিল।
এমএন
জাতীয়
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ‘এক ছাতা’ নীতি, বড় সংস্কারের পথে সরকার
দেশের প্রান্তিক মানুষের জন্য পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও সমন্বিত করতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে সরকার। এখন থেকে বিভিন্ন খাতের সুবিধাভোগীদের একটি সমন্বিত পদ্ধতির আওতায় বা ‘এক ছাতার নিচে’ নিয়ে আসা হবে।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন অনুপস্থিত থাকায় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার বর্তমানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামক একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো ক্রমান্বয়ে একটি সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে সব সুবিধাভোগীকে একটি সুনির্দিষ্ট পরিবারের আওতাভুক্ত করা। এতে একজন ব্যক্তি বা পরিবার কয়টি খাত থেকে সুবিধা পাচ্ছে, তা সহজেই চিহ্নিত করা যাবে এবং ডুপ্লিকেট সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়া সম্ভব হবে।’
ভাতা বিতরণে মাঠপর্যায়ের নানা অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফারজানা শারমীন বলেন, “ভাতা সরবরাহের সময় অনেকের কাছে টাকা দাবি করার মতো খবর আমরা পাচ্ছি। এটি স্পষ্টতই একটি দুর্নীতি। বর্তমান সরকার বিতরণ কার্যক্রমকে শতভাগ স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের পাশাপাশি দরিদ্র মানুষ যেন তাদের প্রাপ্য অধিকারটুকু কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই পায়, সেটি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুকের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বিগত শাসন আমলের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে সরকারি সুবিধার তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আমাদের হাতে থাকা বিদ্যমান তালিকাটি বর্তমানে নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। নীতিমালা সংশোধন করে কেবল প্রকৃত যোগ্য ও অভাবী মানুষদেরই এই নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হবে।’
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন স্বীকার করেন যে, অতীতে তালিকা প্রণয়নে চরম স্বজনপ্রীতি করা হয়েছিল। তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছি। অযোগ্যদের বাদ দিয়ে যারা প্রকৃতপক্ষেই ভাতার দাবিদার, তাদের অন্তর্ভুক্ত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
সংসদের দ্বিতীয় দিনের এই আলোচনা থেকে এটি পরিষ্কার যে, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে চাইছে বর্তমান সরকার। ‘এক ছাতা’ নীতি এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় কমবে এবং প্রকৃত দরিদ্র মানুষ উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমএন
জাতীয়
নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করার পদক্ষেপ নেবে সরকার: জুবাইদা রহমান
দেশের নারীদের জন্য শিক্ষা অবৈতনিক করার পদক্ষেপ নেবে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পত্নী ডাক্তার জুবাইদা রহমান।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, “যে জাতির নারীরা এগিয়ে যায়, সেই জাতি এগিয়ে যায়। বর্তমান সরকার কন্যাশিশুর অধিকার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করার পদক্ষেপও নেবে সরকার।”
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে যেখানে নারী নেতৃত্ব গড়ে উঠবে ভবিষ্যত বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে নারী উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি নারী বিষয়ক অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন এবং আনসার-ভিডিপিতে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। এছাড়া নারীদের প্রথম কোটা দিয়েছিলেন ২০ শতাংশ। এর ফলেই বর্তমানে মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের ৬২ শতাংশ নারী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অবৈতনিক পড়াশোনা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অধিকার সবার। গণতন্ত্রের লেবাসেও স্বৈরাচার হয়। যা আমরা বিগত সরকারের আমলে দেখেছি। আমরা এতদিন অধিকার হারা হয়েছিলাম। তাই এখনও কথা বলতে হয় নারী অধিকার নিয়ে।’
নরসিংদীর ধর্ষণের মতো ঘটনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি অন্যান্য দেশের দিকে তাকাই, সভ্য সমাজের কালো দিকটা আমরা দেখি না। গণমাধ্যমের কারণে সেগুলো আমাদের সামনে আসে। আমরা এমন একটি দেশ চাই যেখানে নারীর অধিকার নিয়ে আলাদা করে কথা বলতে হবে না।’
এমএন




