রাজনীতি
ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে লড়া এই প্রার্থী তার নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেন। ইশতেহারে তিনি নাগরিক বঞ্চনা দূর করে ঢাকা-৯ এলাকাকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও বাসযোগ্য জনপদে রূপান্তরের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, আমি কোনো পেশাদার রাজনীতিবিদ নই, আমি এই এলাকারই মেয়ে। আমার কথা পরিষ্কার—ঢাকা-৯-এর অবহেলার দিন শেষ। আমরা সমান ট্যাক্স দিই, আমাদের অধিকারও সমান হওয়া।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষ অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাসহ নানা মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এবার আমাদের ন্যায্য পাওনা আমরা বুঝে নেব।
তাসনিম জারার নির্বাচনি ইশতেহার নিচে তুলে ধরা হলো-
১. গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতা: বাসযোগ্য ঢাকা-৯ আসন চাই
সমস্যা: প্রতি মাসে আমরা গ্যাসের জন্য বিল দিচ্ছি। কিন্তু চুলা জ্বালালে কী বের হয়? বাতাস। গ্যাস নেই, কিন্তু বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। এটা একধরনের প্রতারণা। এর সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে আমাদের জিম্মি করে ফেলে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনা। যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে বাসার পাশে ও রাস্তায় দুর্গন্ধে টেকা দায়। রাস্তাগুলো বছরের পর বছর ভাঙ্গাচোরা বা কাজ চলমান অবস্থায় পড়ে থাকে।
সমাধান:
ক) ন্যায্য বিল: সংসদে আমার প্রথম কাজ হবে “সেবা না দিলে বিল নেই” (No Service, No Bill) নীতির জন্য খসড়া আইন প্রস্তাব করা এবং চাপ সৃষ্টি করা। তিতাস যদি গ্যাস দিতে না পারে, তারা টাকা নিতে পারবে না। গ্যাস না থাকলে মাসিক বিল মওকুফ করার প্রস্তাব থাকবে এই বিলে।
খ) সিন্ডিকেট ভাঙবো: পাইপলাইন গ্যাসের ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারকে এই এলাকায় ভর্তুকি মূল্যে বা ন্যায্যদামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাধ্য করব। সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে চাপ দেব।
গ) জলাবদ্ধতা নিরসন: ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বর্ষার আগেই খাল ও নর্দমা পরিষ্কার নিশ্চিত করতে আমি ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের ওপর কঠোর নজরদারি রাখব।
ঘ) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পার্ক: ঘরের সামনে বা রাস্তায় ময়লার স্তূপ জমতে দেওয়া হবে না। আধুনিক বর্জ্য অপসারণ (Secondary Transfer Station) ব্যাবস্থা নিশ্চিত করতে ও এলাকার পার্কগুলোতে হাঁটার পরিবেশ উন্নত করতে সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয়ে কাজ করবো।
ঙ) সমন্বয় ও জবাবদিহিতা: রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা চলবে না। ওয়াসা বা সিটি কর্পোরেশন, যে-ই রাস্তা কাটবে, কাজ শেষ করার নির্দিষ্ট ‘ডেডলাইন’ থাকবে। ডেডলাইন মিস করলে ঠিকাদারকে জরিমানা গুনতে হবে।
২. স্বাস্থ্য: চিকিৎসায় অবহেলা আর মানব না
সমস্যা: ঢাকা-৯ এলাকায় আমরা ৭-৮ লাখ মানুষ বাস করি, অথচ আমাদের জন্য বড় হাসপাতাল মাত্র একটি, মুগদা মেডিক্যাল। এটা একটা নিষ্ঠুর কৌতুক। ৫০০ বেডের এই হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ডাক্তার-নার্সরা অমানবিক চাপে কাজ করছেন, আর রোগীরা সেবা না পেয়ে ধুঁকছেন। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো ডেঙ্গু। প্রতি বছর বর্ষা এলেই লোক দেখানো মশার ওষুধ ছিটানো হয়, অথচ আমাদের প্রিয়জনরা মারা যায়।
সমাধান: একজন ডাক্তারের হাতেই সমাধান হবে ঢাকা-৯ এর স্বাস্থ্য সমস্যা। আমি একজন ডাক্তার। আমার দেশ-বিদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে আমি এই সমস্যা সমাধানে কাজ করবো।
ক) মুগদা হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল রাখতে আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করব এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনব। এটি যেন একটি আদর্শ সেবাকেন্দ্র হয়, সেই উদ্যোগ আমি নেব।
খ) কমিউনিটি ক্লিনিক হবে ‘মিনি-হাসপাতাল’: পাড়ার ক্লিনিকগুলোকে আধুনিকায়নে বিশেষ বরাদ্দ আনার উদ্যোগ নেব, যাতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বড় হাসপাতালে ছুটতে না হয়।
গ) ডেঙ্গু টাস্কফোর্স (সারা বছর): বৃষ্টি আসার পর ওষুধ ছিটিয়ে লাভ নেই। আমরা একটি ‘স্থায়ী মশা নিধন স্কোয়াড’ গঠন করবো যারা সারা বছর ড্রেন পরিষ্কার ও লার্ভা নিধনের কাজ করবে। ডেঙ্গু মৌসুম আসার আগেই আমরা মশা মারব।
ঘ) নারী স্বাস্থ্য: গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারী-বান্ধব টয়লেট ও ব্রেস্টফিডিং নিশ্চিত করতে কাজ করবো।
৩. নিরাপত্তা: মাদক সিন্ডিকেট হটিয়ে রাস্তা হবে জনগণের
সমস্যা: আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট এখন সাধারণ মানুষের নেই, চলে গেছে মাদক সিন্ডিকেটের দখলে। সন্ধ্যার পর খিলগাঁও বা বাসাবোর অলিগলি দিয়ে মা-বোনেরা হাঁটতে ভয় পান। যে শহর নারীকে নিরাপত্তা দিতে পারে না, সে শহর উন্নত হতে পারে না। আমরা ট্যাক্স দিই রাস্তার বাতির জন্য, আর সেই বাতি নষ্ট থাকে যাতে অপরাধীরা অন্ধকারে রাজত্ব করতে পারে।
সমাধান:
ক) ‘নিরাপদ করিডোর’: স্কুল, কলেজ এবং গার্মেন্টসের রাস্তায় আমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরা এবং উচ্চ-ক্ষমতার ল্যাম্পপোস্ট বসাব। অন্ধকার রাস্তা মানেই অপরাধের আখড়া। আমি ঢাকা-৯ এর কোনো কোণা অন্ধকার থাকতে দেব না।
খ) মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: মাদকাসক্তদের আমরা ঘৃণা করব না, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। কিন্তু যারা মাদক ব্যবসা করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে, তাদের আমরা এক বিন্দু ছাড় দেব না। প্রশাসনকে সাথে নিয়ে এলাকা মাদক-ব্যবসায়ী মুক্ত করব।
গ) নারীবান্ধব পরিবহন: বাসে নারীদের সিট পাওয়া যুদ্ধজয়ের মতো। আমি পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের সাথে বসে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যাবস্থা তৈরি করব।
৪. শিক্ষা: আমাদের সন্তানদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ হোক
সমস্যা: অপরিকল্পিত কারিকুলাম আর ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের ‘গিনিপিগ’ বানিয়ে ফেলেছে। তার ওপর আছে স্কুলের ‘ভর্তি বাণিজ্য’। টাকা বা সুপারিশ ছাড়া ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়া যায় না। এই দুর্নীতি আমাদের মেধাবী সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে।
সমাধান: আমি বিশ্বমানের শিক্ষা লাভ করার সুযোগ পেয়েছি। আমি চাই আমার এলাকার প্রতিটি সন্তান যেন বিশ্বমানের শিক্ষার সুযোগ পায়। তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
ক) এমপির কোনো কোটা থাকবে না: আমি কথা দিচ্ছি, স্কুল ভর্তিতে এমপির কোনো সুপারিশ বা কোটা থাকবে না। ভর্তি বাণিজ্য আমি কঠোর হাতে দমন করব। মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে একমাত্র যোগ্যতা।
খ) স্কুল হবে ল্যাবরেটরি: আমার বরাদ্দের টাকা দিয়ে আমি স্কুলগুলোতে আধুনিক সায়েন্স ল্যাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব এবং কোডিং শেখানোর ব্যবস্থা করব। এতে আমাদের ছেলেমেয়েরা ফ্রিল্যান্সিং বা উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারবে। প্রত্যেকটি স্কুলে লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে যাতে আমাদের শিশু কিশোরদের মানসিক বিকাশ যথাযথভাবে ঘটে।
গ) স্মার্ট প্রজন্ম: শুধু বইয়ের পড়া নয়, মানসিক স্বাস্থ্য, সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেখার ওপর জোর দেব। আমাদের তরুণরা যেন বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করার উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠতে পারে।
ঘ) অভিভাবক-শিক্ষক ফোরাম: শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সংসদে লড়ব। একই সাথে, স্কুলে বুলিং বা হয়রানি বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করব। স্কুলগুলোতে যেন অভিভাবক-শিক্ষক ফোরাম তৈরি হয় এবং তা যথাযথ ভাবে কাজ করে তা নিশ্চিত করব।
৫. অর্থনীতি ও জীবিকা: মেধা আমাদের সবার, সুযোগ কেন কেবল ধনীদের?
সমস্যা: আমাদের অনেক তরুণ-তরুণীরা বেকার, কারণ সিস্টেম তাদের পক্ষে নেই। তাদের মেধা আছে, কিন্তু পুঁজি নেই। রাষ্ট্র কেবল বড় শিল্পপতিদের ঋণ মওকুফ করে, কিন্তু আমাদের ছোট ব্যবসায়ী বা নতুন উদ্যোক্তারা ব্যাংকের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে যায়। আমাদের মায়েরা কাজ করতে চান, কিন্তু ডে-কেয়ার সেন্টার না থাকায় সন্তানকে ঘরে রেখে তারা কাজে যেতে পারেন না। এটা অর্থনীতির ব্যর্থতা।
সমাধান:
ক) ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ ফান্ড: আমি এমপি হলে আমার বিশেষ বরাদ্দ থেকে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘সিডিং ফান্ড’ বা প্রাথমিক পুঁজির ব্যবস্থা করব। জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার জন্য আমি ব্যাংকের সাথে লড়াই করব।
খ) কর্মজীবী মায়েদের মুক্তি: প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারি খরচে বা ভর্তুকি দিয়ে ‘কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার’ চালু করব। যাতে মায়েরা নিশ্চিন্তে কাজে যেতে পারেন।
গ) শ্রমিকের মর্যাদা: গৃহকর্মী থেকে শুরু করে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, সবার জন্য ‘ন্যায্য মজুরি’ ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমি সংসদে কথা বলব। কেউ যেন তাদের দুর্বলতার সুযোগ না নিতে পারে।
ঘ) স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ই-কমার্স প্রশিক্ষণ ও অনলাইন মার্কেট অ্যাক্সেস নিশ্চিত করবো। যেন তারা শুধু দোকানে নয়, মোবাইলেও ব্যবসা করতে পারেন। আরও বেশী কাস্টোমারকে আকৃষ্ট করতে পারেন।
৬. এমপির জবাবদিহিতা: আমি ‘অতিথি পাখি’ নই, আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে
সমস্যা: ভোটের আগে নেতারা পায়ে ধরেন, আর ভোটের পরে তাদের টিকিটিও দেখা যায় না। এমপি সাহেব থাকেন গুলশানে বা সংসদে, আর আপনারা থাকেন সমস্যায়। এমপিকে পাওয়া যেন ভাগ্যের ব্যাপার। এই সংস্কৃতি আর কতদিন?
সমাধান:
ক) এলাকায় স্থায়ী কার্যালয়: আমি নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে এলাকার প্রাণকেন্দ্রে আমার স্থায়ী অফিস চালু করব। কর্মজীবীদের সুবিধার্থে এটি সন্ধ্যায়ও খোলা থাকবে। আমি এবং আমার অফিসের স্টাফরা আপনাদের জানানো সমস্ত সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবো।
খ) ওপেন ড্যাশবোর্ড: আপনার অভিযোগ কোনো ফাইলে চাপা পড়ে থাকবে না। আমরা ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড করব, যেখানে আপনারা দেখতে পাবেন আপনার অভিযোগের বর্তমান অবস্থা কী।
গ) কোনো প্রটোকল নয়: আমাদের সাথে কথা বলতে কোনো “ভাই” বা “নেতা” ধরার প্রয়োজন পড়বে না।
তাসনিম জারা বলেন, আমার এলাকাবাসী, আপনাদেরকে একটা কথা বিশেষভাবে বলতে চাই। আমি কোনো পেশাদার রাজনীতিবিদ নই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বচ্ছভাবে রাজনীতি করার ও দেশ গড়ার একটা সুযোগ এসেছে তাই রাজনীতিতে এসেছি। আমার এই ইশতেহার কোনো গতানুগতিক ‘ফাঁকা বুলি’ নয়। এটি আপনাদের সাথে আমার চুক্তি। আমি যা লিখেছি, তা কীভাবে বাস্তবায়ন করব, সেই পরিকল্পনা করেই মাঠে নেমেছি।
তিনি আরও বলেন, আপনারা অনেক নেতা দেখেছেন, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছেন। এবার একজন ডাক্তারকে সুযোগ দিন, যে ডাক্তার জানে রোগ কোথায় আর ওষুধ কোনটা, যে ডাক্তার কথা রাখে, যে ডাক্তার বিপদে পাশে এসে দাঁড়ায়। এমন একজন শিক্ষিত সন্তানকে সুযোগ দিন, যে আপনাদের মাথা নত হতে দেবে না।
রাজনীতি
নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যদিও একটি রাজনৈতিক মহল নারীদের খাটো করে দেখে ও ঘরে আটকে রাখার চেষ্টা করছে।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এলজিইডি ভবনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক নির্বাচিত ‘শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী সম্মাননা ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জনগণের কল্যাণের জন্য ম্যান্ডেট পেয়েছে বিএনপি। তারেক রহমান অনেকগুলো পরিবর্তনের কথা বলেছেন। প্রথম ঢাকায় নেমে যে পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর আশা, বিধ্বস্ত রাষ্ট্র আর ধ্বংস হয়ে যাওয়া অর্থনীতি নিয়ে দেশ পরিচালনা করলেও শিগগিরই ইতিবাচকভাবে সব ঘুরে দাঁড়াবে।
এ সময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান বলেন, ন্যায়ভিত্তিক ও সহনশীল সমাজ গঠনে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি উন্নত সমাজ গঠনের জন্য নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য রাখা যাবে না।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনটি ক্যাটাগরিতে সারা দেশ থেকে মোট ৯ নারীকে শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী সম্মাননা-২০২৬ প্রদান করা হয়।
রাজনীতি
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে সরকার: ড. হেলাল উদ্দিন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচনের আগে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার এখন সেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।
সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানার বায়তুল মোকাররম সাংগঠনিক ওয়ার্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে জনসভায় দেশবাসীকে জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। জনগণ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলেও সরকার এখন সেই রায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিষয়টি আদালতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সুযোগ থাকবে না বলেই সরকার তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করা হলে ছাত্র-জনতা তা প্রতিহত করবে।
সভায় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় গেলে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমন করা হবে। কিন্তু সরকার গঠনের এক মাস পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকারের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
বায়তুল মোকাররম সাংগঠনিক ওয়ার্ড সভাপতি এনামুল হক শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, পল্টন থানা আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলাম, পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম এবং সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার আব্দুর রব। সভায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের সহস্রাধিক ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে ব্যবসায়ীদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মতিঝিল দক্ষিণ থানার আরামবাগ ওয়ার্ড আয়োজিত আরেকটি ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ড. হেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, রমজান মাস ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে পরিশুদ্ধ করার মাস। তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অন্যায়ের পথ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। ব্যক্তি ও নেতৃত্বের মধ্যে আল্লাহভীতি থাকলে সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি বন্ধ করা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক অস্থিরতাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
মতিঝিল দক্ষিণ থানার আরামবাগ ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও মতিঝিল দক্ষিণ থানা আমীর মাওলানা মুতাছিম বিল্লাহ। এছাড়া মতিঝিল দক্ষিণ থানা ও আরামবাগ ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি
ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে: ড. হেলাল উদ্দিন
ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে মানুষের মৌলিক অধিকার রাষ্ট্রই নিশ্চিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, মানুষের তৈরি আইনে রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়ার কারণে দেশের নাগরিক বৈষম্যের শিকার। মানুষের তৈরি আইনে কেবলমাত্র ক্ষমতাসীন নেতাকর্মীরা উপকৃত হয়, সাধারণ জনগণ উপকৃত হয়নি, হবে না।
রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মতিঝিল উত্তর থানা শাখার উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ফুড প্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, মানুষের তৈরি আইনে রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়ার কারণে দেশের নাগরিকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এসব আইনে কেবল ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাই বেশি সুবিধা পান, সাধারণ জনগণ উপকৃত হয় না। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে সমাজের ছিন্নমূল, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দায়িত্ব রাষ্ট্র বহন করবে এবং কাউকে কারও কাছে হাত পাততে হবে না। কিন্তু মানুষের তৈরি আইনে রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়ায় সমাজে ধনী-গরিবের বিভাজন এবং বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই বৈষম্যের শিকল ভেঙ্গে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি উপস্থিত সকলকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, এই সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু ক্ষমতায় বসে সেই জুলাইকে অস্বীকার করছে। তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে গণভোটে জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে আদালতের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই অস্বীকার করলে ছাত্র-জনতা ছেড়ে দেবে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আবারও ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসবে। জনগণ রাজপথে নেমে আসলে পালানোর পথ খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য না করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য ও মতিঝিল উত্তর থানা আমীর এস এম শামসুল বারী’র সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি মাওলানা রবিউল ইসলামরে পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মতিঝিল উত্তর থানা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
রাজনীতি
ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের বিকল্প নেই: ড. হেলাল উদ্দিন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজের সর্বস্তরে যে বৈষম্য, বিচারহীনতা ও নৈতিক অবক্ষয় তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্তি পেতে হলে ইসলামী সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার (৭ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র পল্টন থানার উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, নৈতিক অবজ্ঞার কারণেই জনগণের আমানত খেয়ানত করা হচ্ছে। নৈতিক অবক্ষয়ের একটি দৃষ্টান্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে সারাদেশে মানুষ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের ভোট দিলেও ফলাফলে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে ধানের শীষের প্রার্থীদের। তিনি অভিযোগ করেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনগণের ভোট চুরি করা হয়েছে এটা নৈতিকতার অভাব এবং আদর্শ বিসর্জনের দৃষ্টান্ত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক একজন নারী উপদেষ্টা ইতোমধ্যে মিডিয়ায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংযের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
এসময় তিনি সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, তাঁরা সংসদে বিরোধী দলে থাকলেও আমরা তাদেরকে মেইনস্ট্রিম হতে দিই নাই। ঐ সাবেক উপদেষ্টার বক্তব্যে প্রমাণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অংশ এবং প্রশাসনের ভেতরে থাকা ডিপ স্টেট যৌথভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে নিজেদের পছন্দের দলকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। শুধু ক্ষমতায় বসায়নি বরং সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন দিয়ে আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথ তৈরি করে দিয়েছে। কারণ এই দুই-তৃতীয়াংশ আসনে ক্ষমতাসীন দল বিরোধীদলের মতামত উপেক্ষা করে নিজের মন-মতো আইন তৈরি করতে পারবে।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, বদর যুদ্ধের শিক্ষা হলো—সংখ্যা বা অস্ত্র নয়, বরং ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাসই বিজয়ের মূল শক্তি। তিনি বলেন, মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে মাত্র ৩১৩ জন মুসলিম যোদ্ধা বদরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে আবু জাহেল-এর নেতৃত্বে কুরাইশদের সৈন্য ছিল সহস্রাধিক। তবুও মুসলমানরা বদর যুদ্ধে ঈমানী শক্তির বলে বিজয় অর্জন করেন।
ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বদর যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিতে তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে প্রাথমিক বিজয় অর্জিত হলেও চূড়ান্ত বিজয় এখনো অর্জিত হয়নি। চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান বলেন, বদরের শিক্ষা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধা না করা। তিনি বলেন, বদর যুদ্ধে অংশ নেওয়া ৩১৩ সাহাবি যেমন ঈমান ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে লড়াই করে বিজয় অর্জন করেছিলেন, তেমনি বর্তমান সময়েও অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই করে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পল্টন থানা সহকারী সেক্রেটারি এনামুল হক, থানা কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম মজুমদার ও মোহাম্মাদ আল-আমীন রাসেল প্রমূখ।
ঢাকা মহানগরী মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এবং পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম-এর পরিচালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পল্টন থানা সহকারী সেক্রেটারি এনামুল হক এবং থানা কর্মপরিষদ সদস্য মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম মজুমদার ও মোহাম্মাদ আল-আমীন রাসেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এমএন
রাজনীতি
ঢাকা-১৬ আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আমিনুল হক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আমিনুল হক হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।
রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগ-এর বিচারপতি মো. জাকির হোসেন-এর নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ঢাকা-১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আমিনুল হক। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন-এর কাছে ৩ হাজার ৩৬১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। নির্বাচনে আব্দুল বাতেন মোট ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়েছেন। আর আমিনুল হক পান ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। তবে ভোটে হারলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর (টেকনোক্র্যাট) দায়িত্ব পেয়েছেন আমিনুল হক।
এর আগে ১৫ এর অধিক প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। শুনানির জন্য আবেদনগুলো গ্রহণ করে ওইসব আসনের ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনী’ আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করছেন।
হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকায় এই বেঞ্চে অন্যান্য দেওয়ানি এখতিয়ারের সঙ্গে দেখা যায়, ২০০১ ইং সনের গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ দ্বারা সংশোধিত ১৯৭২ ইং সনের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ মোতাবেক ‘নির্বাচনী’ আবেদনপত্র; যেসব বিষয় এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত হইবে এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল, আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি করবেন।
এমএন




