আইন-আদালত
হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের ৪৫৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করেন। ৪৫৭ পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ রায়ে উঠে এসেছে ভয়ংকর সব নৃশংসতা এবং রাষ্ট্রীয় মদদে হত্যার নীল নকশা।
গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিলেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রধান দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দুটি পৃথক অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মামলার অন্যতম আসামি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে বিশেষ বিবেচনায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত তার ৪৫৭ পৃষ্ঠার রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বিশ্লেষণ করেছেন এবং অপরাধগুলোকে দুটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। প্রথম শ্রেণিতে উসকানি ও প্ররোচনার বিষয়টি উঠে এসেছে।
রায়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলে সম্বোধন করেন। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত উসকানি।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের রেকর্ড থেকে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি আন্দোলনকারীদের কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই উসকানি ও প্ররোচনার সরাসরি ফল হিসেবে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে সরাসরি হত্যার নির্দেশ ও নৃশংসতার বিষয়টি উঠে এসেছে। পূর্ণাঙ্গ রায়ের সবচেয়ে ভয়ংকর অংশটি হলো ১৮ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত জানিয়েছেন, তৎকালীন মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে কথোপকথনে শেখ হাসিনা ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয় করে হেলিকপ্টার থেকে মারণাস্ত্র ব্যবহারের সরাসরি নির্দেশ দেন।
এই নির্দেশের নিষ্ঠুর প্রতিফলন দেখা যায় ৫ আগস্ট ঢাকার চানখারপুলে, যেখানে ছয়জন এবং আশুলিয়ায় আরও ছয়জনকে গুলি করে হত্যার পর পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই পাশবিক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসি প্রদানের রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে আদালত একটি নজিরবিহীন নির্দেশনা দিয়েছেন। দণ্ডিত ব্যক্তিদের নামে দেশে বিদ্যমান সকল স্থাবর যেমন জমি ও বাড়ি এবং অস্থাবর যেমন ব্যাংক ব্যালেন্স ও শেয়ার সম্পত্তি রাষ্ট্রকে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই বাজেয়াপ্ত করা অর্থ ও সম্পদ যেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া এক চূড়ান্ত ধাপে উপনীত হলো। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪৫৭ পৃষ্ঠার এই রায়টি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণ এবং পরবর্তীকালে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য অপরাধের বিচারিক দলিল হিসেবে এটি সংরক্ষিত থাকবে।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হওয়ার পর জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই রায়ের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হলো যে, জনগণের ওপর গুলি চালিয়ে কেউ পার পায় না। তারা এখন এই রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে এনে এই দণ্ড কার্যকরের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা বা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার তাগিদ দিচ্ছেন বিশিষ্টজনরা।
শহীদ আবু সাঈদ থেকে শুরু করে আশুলিয়ার পুড়ে যাওয়া সেই দেহগুলো, সবার রক্তের যে ঋণ, এই ৪৫৭ পৃষ্ঠার রায়ে তার আংশিক বিচার প্রতিফলিত হয়েছে। বিচার বিভাগ তার দায়িত্ব পালন করেছে; এখন দেখার বিষয় সরকার কত দ্রুত দণ্ডিতদের ফিরিয়ে এনে এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে।
এমকে
আইন-আদালত
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা যাবে: আপিল বিভাগ
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে কোনো বাধা থাকলো না।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।
সেদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
গত বছরের ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলে দ্বিধা বিভক্ত রায় দেন হাইকোর্ট। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করেন। বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট খারিজ করে চুক্তি প্রক্রিয়া বৈধ ঘোষণা করেন।
পরে নিয়মানুযায়ী প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠানো হয়।
গত ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়। একইসঙ্গে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
গত ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন। একইসঙ্গে যেকোনো অপারেটরকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব (নিযুক্ত) দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি অনুসারে ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক পাবলিক বিডিং (দরপত্র আহ্বান) নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন রিটটি করেন। রিটে নৌসচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়।
নিউমুরিং টার্মিনালে সবই আছে, তবু কেন বিদেশির হাতে যাচ্ছে’ শিরোনামে গত ২৬ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। এ প্রতিবেদনসহ এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এনসিটি পরিচালনায় ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করার নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়।
এমএন
আইন-আদালত
ভোট কারচুপির অভিযোগে আরও ৫ প্রার্থীর মামলা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা করেছেন আরও ৫ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ৪ জন বিএনপির এবং একজন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী।
বুধবার (১১ মার্চ) হাইকোর্টে এ মামলা করেন প্রার্থীরা।
মামলা করা বিএনপির ৪ প্রার্থী হলেন— গাইবান্ধা-৫ আসনের ফারুক আলম সরকার, ঢাকা-৫ আসনের নবী উল্লাহ নবী, পাবনা-৩ আসনের হাসান জাফির তুহিন ও কুষ্টিয়া-৪ আসনের সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। এছাড়া খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হলেন দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক।
গাইবান্ধা-৫ আসনে বাংলাদেশ বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল ওয়ারেছ। তিনি ভোট পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. ফারুক আলম সরকার পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৮৩ ভোট।
ঢাকা-৫ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৯১ ভোট।
কুষ্টিয়া-৪ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬০৩ ভোট।
ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি।
পাবনা-৩ আসনে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মাদ আলী আছগার। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী মো. হাসান জাফির তুহিন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট।
এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে ১৪টি, ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ৮টি এবং স্বতন্ত্র এক প্রার্থীর কারচুপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যালট ও রেজাল্ট শিট হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্টের নির্বাচনী বেঞ্চ।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে করা ‘নির্বাচনী’ আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগে নির্বাচনী বেঞ্চ গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চে এসব আবেদনের শুনানি চলছে।
এমএন
আইন-আদালত
জুলাই সনদের প্রত্যেকটি শব্দ ও অক্ষর আমরা ধারণ করি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জুলাই জাতীয় সনদ-এর প্রতিটি শব্দ ও অক্ষরের প্রতি বর্তমান সরকার পূর্ণ অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং এটি বাস্তবায়নে জাতি ও জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদের পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে, জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী আমরা তা বাস্তবায়ন করব। ইশতেহারে আমরা উপ-রাষ্ট্রপতির বিধান রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে, আমরা সেটিও কার্যকর করব। আমরা কেবল জুলাই সনদে সীমাবদ্ধ থাকব না, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সকল অঙ্গীকার পূরণে আমরা দায়বদ্ধ।’
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান সংস্কার ও গণভোট অধ্যাদেশ সংক্রান্ত রিট এবং রুল জারির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আমি সমালোচনা নয়, বরং আইনের ভেতরে থেকে আলোচনা করতে চাই। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ ও গণরায় নিয়ে নানা কথা বলছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই— আমরা এই সনদের প্রতি শতভাগ অঙ্গীকারাবদ্ধ। এটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যেখানে আমরা স্বাক্ষর করেছি।’
সালাহ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘যারা সমালোচনা করছেন, তাদের অনেকেই এই সমঝোতায় সই করেছেন। যারা বেশি সমালোচনা করছেন, তারা সুবিধা বুঝে পরে সই করেছেন। এখন বলা হচ্ছে জবরদস্তিমূলকভাবে শপথ নিতে হবে। কিন্তু আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার— আমরা সংবিধান মেনেই এ পর্যন্ত এসেছি এবং সামনেও সংবিধান অনুযায়ী চলব। গণভোটের রায়কে সম্মান দিতে হলে আগে জাতীয় সংসদে যেতে হবে। সেখানে আলোচনা ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’
আসন্ন সংসদ অধিবেশন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আমরা সাংবিধানিকভাবে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করতে বাধ্য। সংসদই নির্ধারণ করবে কোন অধ্যাদেশ কীভাবে গৃহীত বা সংশোধিত হবে। সংসদ সার্বভৌম, আর সংসদ সদস্যরা সেই সার্বভৌমত্বের প্রতিনিধি। আইনের ভিত্তিতে হওয়া গণভোটের মর্যাদা সাংবিধানিক ভোটের পরে। তাই সব বিতর্কের নিরসন সংসদেই হওয়া উচিত।’
অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের মাঠে অনেকে অনেক কথা বলবেন। এসব বলার অধিকার রক্ষার জন্যই আমরা জীবন দিয়েছি, গণ-অভ্যুত্থান করেছি। সব বিতর্ক ও বাহাস জাতীয় সংসদের ভেতরেই হোক। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জনগণ যা চাইবে এবং যা সাংবিধানিক হবে, সেটাই বাস্তবায়িত হবে।’
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ফোরামের মহাসচিব ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সভাপতি ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।
অনুষ্ঠানে ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সাধারণ সম্পাদক গাজী তৌহিদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খানসহ অন্যান্য আইনজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল।
এমএন
আইন-আদালত
প্রসিকিউটরদের সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটরের রুদ্ধদ্বার বৈঠক
এক কোটি টাকা ঘুষ দাবির অডিও ফাঁসের পরদিন সব প্রসিকিউটরদের নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বসলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) চিফ প্রসিকিউটরের কনফারেন্স রুমে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে ঘণ্টাখানেকেরও বেশি সময়। এ সময় প্রসিকিউশনের বেশিরভাগ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে চিফ প্রসিকিউটর বৈঠকে নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রসিকিউটর মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এর আগে সোমবার (৯ মার্চ) প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অডিও ফাঁস হয়। অডিওতে তিনি চট্টগ্রামের রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে খালাসের কথা বলে তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেন।
একাধিক সাইবার বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, অডিওটি সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের। ওই সময় ফজলে করিম চৌধুরী জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিম হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন।
এদিকে ঘটনার পর দেশের ন্যায়পরায়ণ মহল ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অডিওটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করছেন।
এমএন
আইন-আদালত
শরীয়তপুরের আশিনগরে কেমিক্যাল মিশিয়ে শিশু খাদ্য তৈরি: ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার আশিনগর ইউনিয়নে কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর রং ব্যবহার করে শিশুদের বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত ঘোষ। অভিযানে সার্বিক সমন্বয় করেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুব্রত ভট্টাচার্য্য।
অভিযান চলাকালে সহায়তায় ছিলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এইচ. এম. আকতার এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশিনগর এলাকায় আইস ললি, চকলেটসহ শিশুদের জন্য তৈরি বিভিন্ন খাদ্যপণ্য কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই উৎপাদন করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসব খাদ্য তৈরিতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও রং ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এছাড়া উৎপাদনকারী ব্যক্তিদের কাছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর কোনো অনুমোদন নেই। এমনকি কোনো সরকারি নিবন্ধন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই এসব খাদ্যপণ্য স্থানীয় বাজার ও বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, শিশুদের জন্য তৈরি খাবারে নিম্নমানের কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর রং ব্যবহার করা হলে তা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
বিশেষ করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি তদারকি কামনা করেছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা হোক।




