আন্তর্জাতিক
জনগণের সঙ্গে ‘গভীর বিশ্বাসঘাতকতা’ করছে ইরান : ওয়াশিংটন
ইরান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ইরানি জনগণের সঙ্গে ‘গভীর বিশ্বাসঘাতকতা’। খবর শাফাক নিউজের।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ফার্সি ভাষায় দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তেহরান বিক্ষোভকারীদের দমাতে সন্ত্রাসী প্রক্সি বাহিনী মোতায়েন করেছে বলে প্রতিবেদন পাওয়া যাচ্ছে। এতে বলা হয়, ইরানের জনগণের অর্থ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে এসব গোষ্ঠীকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পৃথক এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে। খামেনি বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতেই রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ধ্বংস করছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, প্রকৃত উদ্বেগের বিষয় হলো, ইরানের জনগণ ৪৭ বছরের মিথ্যা ও সরকারের ব্যর্থতা বুঝে ফেলেছে।
এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান, হিজবুল্লাহ বা ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। রিয়ালের বড় দরপতন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট এর মূল কারণ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন নিহত এবং ২ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার স্বীকার করে আলোচনার পথ খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এমকে
আন্তর্জাতিক
হিজাব পরা নারীই একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন: ওয়াইসি
হিজাব পরা একজন নারীই ভবিষ্যতে একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে মন্তব্য করেছেন সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) দলের প্রধান এবং হায়দরাবাদের প্রভাবশালী রাজনীতিক আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। ভারতের সংবিধান সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সমান অধিকার দিয়েছে— এই যুক্তি তুলে ধরে এই মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে তার এই বক্তব্যকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি একে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য বলেও আখ্যা দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বলছে, হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এই বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির দাবি, ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্যের মাধ্যমে ওয়াইসি অর্ধসত্য তুলে ধরেছেন, কারণ ‘বহু মুসলিম নারীই’ হিজাব পরার প্রথার ‘বিরোধী’।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, আগামী ১৫ জানুয়ারির পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে গত শুক্রবার মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে এক নির্বাচনী সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে ওয়াইসি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সংবিধানে বলা আছে, কেবল একটি ধর্মের মানুষই সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট হতে পারে। কিন্তু ড. বাবাসাহেব আম্বেদকরের লেখা আমাদের সংবিধানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে— যে কোনও নাগরিক ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কিংবা একজন মেয়রও হতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে সেই দিন আসবে, যেদিন আমি বা বর্তমান প্রজন্ম কেউই হয়তো থাকব না, কিন্তু হিজাব পরা এক নারী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন’। ওয়াইসি বলেন, তিনি এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত। একইসঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন দলের উদ্দেশে বলেন, ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, তা বেশিদিন টিকবে না।’
এই বক্তব্যের জবাবে বিজেপি সংসদ সদস্য অনিল বন্ডে বলেন, ওয়াইসি দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করছেন এবং অর্ধসত্য তুলে ধরছেন। তার দাবি, মুসলিম নারীরা হিজাব পরার বিরুদ্ধে, কারণ কেউই পরাধীনতা চায় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইরানে হিজাববিরোধী আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি ভারতে জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী সভায় ওয়াইসি স্থানীয় ভোটারদের আহ্বান জানান, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের বিজেপি, উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এবং অজিত পাওয়ারের এনসিপি— এই দলগুলোর প্রার্থী বা তাদের সমর্থিত কাউকে যেন ভোট না দেয়া হয়।
এছাড়া মুম্বাইয়ের মেয়র কে হবেন সেই বিতর্কও সম্প্রতি সামনে এসেছে। কারণ সম্প্রতি বিজেপি দাবি করেছে রাজ্য রাজধানীর পরবর্তী মেয়র হবেন একজন মারাঠি ও হিন্দু। এ প্রসঙ্গে ওয়াইসি বলেন, এ ধরনের আলোচনা কেবল নির্বাচনের সময়ই সামনে আসে। তিনি অভিযোগ করেন, ফড়নবীস, শিন্ডে ও পাওয়ার জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন এবং ভোটের মাধ্যমে তাদের উপযুক্ত জবাব দেয়ার আহ্বান জানান। ওয়াইসির ভাষায়, ‘আমরা আপনাদের ষড়যন্ত্রের শিকার হব না’।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলগুলো সংবিধান মেনে সরকার পরিচালনা করছে না। তাদের শাসনের ভিত্তিই হলো ঘৃণা। তারা নিজেদের সংখ্যালঘু ও দলিতদের বন্ধু বলে দাবি করে, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। কৃষকদের জন্যও তারা কিছু করছে না বলেও অভিযোগ করেন ওয়াইসি।
এমকে
আন্তর্জাতিক
যেভাবেই হোক, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র দখল করবেই: ট্রাম্প
গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে আবারও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই আর্কটিক দ্বীপটি দখলে নিতে যুক্তরাষ্ট্র সহজ বা প্রয়োজনে কঠিন পথে এগোতে পারে।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে তেল খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমরা কিছু একটা করব—তারা চাক বা না চাক। গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে তিনি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব কার্যত উপেক্ষা করেন।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাইবে। তবে তা সম্ভব না হলে শক্ত পথ বেছে নেওয়া হবে। তার মতে, খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ার কারণে।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র না নিলে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ডের দখল নিতে পারে। তাই বিষয়টি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি থাকলেও, দ্বীপটি দখলের হুমকিতে ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় মিত্ররা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, এমন আগ্রাসন ন্যাটো ও যুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য ভয়াবহ হবে।
তবে ডেনমার্কের এই উদ্বেগকে গুরুত্ব দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু হলেও কয়েকশ বছর আগে সেখানে জাহাজ ভেড়ানোই মালিকানার প্রমাণ হতে পারে না।
এদিকে আগামী সপ্তাহে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
এমকে
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রে ডিভি লটারি ভিসা ইস্যু স্থগিত
ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (ডিভি) ইস্যু করার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক জরুরি ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডিভি লটারির আওতায় কোনো নতুন ভিসা ইস্যু করা হবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্প্রতি ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে গুলিবর্ষণ এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একজন অধ্যাপককে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি ডিভি প্রোগ্রামের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ডিভি প্রোগ্রামের স্ক্রিনিং ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া পুনরায় পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভিসা আবেদনকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং তারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি কি না—তা কঠোরভাবে যাচাই করতেই এই বিরতি দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই না ডিভি প্রোগ্রামের কোনো দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনিরাপদ কেউ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করুক।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, যারা এরই মধ্যে ডিভি ভিসার জন্য আবেদন করেছেন বা যাদের ইন্টারভিউয়ের তারিখ নির্ধারিত আছে, তাদের প্রক্রিয়া চালু থাকবে। আবেদনকারীরা নির্ধারিত সময়ে ইন্টারভিউয়ে অংশ নিতে পারবেন। তবে ইন্টারভিউ সফল হলেও পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কাউকে কোনো নতুন ভিসা দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, বর্তমানে কোনো নতুন ভিসা ইস্যু হচ্ছে না।
যাদের কাছে এরই মধ্যে বৈধ ডিভি ভিসা রয়েছে, তাদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। কারণ এই স্থগিতাদেশের ফলে কোনো বর্তমান বৈধ ভিসা বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়নি। এছাড়া ডিভি-২০২৭ লটারি সংক্রান্ত কোনো নতুন আপডেট এই মুহূর্তে নেই বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এই নির্দেশনার কোনো ব্যতিক্রম থাকবে না। জননিরাপত্তার স্বার্থে পুরো প্রক্রিয়াটি ঢেলে সাজানোর পরই এই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সূত্র: বিজনেস টুডে
আন্তর্জাতিক
ইরানে বিক্ষোভ দমনে কঠোর সরকার, শুধু তেহরানেই একরাতে নিহত ২০০
ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে গত বুধবার থেকে। বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে সরকার পতনের ডাক। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগের দাবি তুলে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান, ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’।
রাজধানী তেহরান ছাড়িয়ে কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ। সরকারি ভবন, রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। এমনকি নিজ দেশের পতাকাও ছিঁড়ে ফেলতে দেখা গেছে বিক্ষোভকারীদের।
এ অবস্থায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ঘোষণা করেছেন, যারা দেশে ধ্বংসাত্মক কাজ লিপ্ত হয়েছেন, তাদের মোকাবিলা করতে আর পিছপা হবে না সরকার। পরে দেশটির এলিট ফোর্স ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডও এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দেশের যেসব চলছে, তা আর অব্যাহত রাখতে দেবে না তারা।
বিবৃতি দেওয়ার পর বিক্ষোভ দমনে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। সহিংস বিক্ষোভাকারীদের ওপর ব্যাপকহারে গুলি চালিয়েছে বাহিনীটি। এতে শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই এক রাতে নিহত হয়েছে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন।
ওই প্রতিবেদনে টাইম ম্যাগাজিন জানিয়েছে, নাম গোপন রাখার শর্তে তেহরানের এক চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন, শুধুমাত্র তেহরানের ছয়টি হাসপাতালে ২০৬ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগ গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন।
সাময়িকীটি বলেছে, যদি মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয় তাহলে ধারণা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে তোয়াক্কা না করে এবার বিক্ষোভকারীদের দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান সরকার। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে তাহলে খামেনি সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন পর্যন্ত ৩১টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের তীব্র আন্দোলনের পর শুক্রবার রাতেও হাজার হাজার মানুষ তেহরানসহ অন্যান্য জায়গায় জড়ো হয়েছেন।
ওই চিকিৎসক টাইমস ম্যাগাজিনকে বলেছেন, শুক্রবার হাসপাতাল থেকে এসব মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। নিহতদের বেশিরভাগ তরুণ বলে জানিয়েছেন এ চিকিৎসক।
তবে, হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে টাইমস ম্যাগাজিন।
বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় এবং সংঘর্ষ আরও সহিংস হয়ে ওঠায় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে শুক্রবার কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র শত শত হাজার সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা এটাকে ধ্বংস করতে চায়— এমন শক্তির সামনে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না।’ বিক্ষোভকারীদের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার অভিযোগও তোলেন তিনি। এছাড়া তেহরানের পাবলিক প্রসিকিউট বলেন, যারা নাশকতা চালাবে বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবে, তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ অবস্থায় ইরান সরকারকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা গুলি চালানো শুরু করো না, কারণ তাহলে আমরাও গুলি চালানো শুরু করব। আমি শুধু আশা করি ইরানের বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকবে, কারণ জায়গাটি এই মুহূর্তে খুবই বিপজ্জনক।’
এমকে
আন্তর্জাতিক
ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা পাবে তেল কোম্পানিগুলো: ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলায় দ্রুত বিনিয়োগে ফেরার আহ্বান জানিয়ে দেশটির তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যের কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি তাদের আশ্বস্ত করেন যে, বিনিয়োগ করলে তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে ‘সম্পূর্ণ নিরাপত্তা’ পাবেন।
বৈঠকের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, আপনাদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা থাকবে। আপনারা সরাসরি আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নয়। আমরা চাই না আপনারা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করুন।
ট্রাম্প আরও বলেন, আমাদের বড় তেল কোম্পানিগুলো অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে—এটি সরকারের অর্থ নয়, তাদের নিজস্ব অর্থ। তবে তাদের সরকারের সুরক্ষা দরকার।
এই বৈঠকের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার তেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও একটি ট্যাংকার জব্দ করে। গত এক মাসে এটি পঞ্চম ঘটনা। এতে স্পষ্ট হয়, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি, পরিশোধন ও উৎপাদনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্প প্রশাসন কতটা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানায়, ১৭টি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে ছিল শেভরন, যা এখনও ভেনেজুয়েলায় কাজ করছে, পাশাপাশি এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপস—যাদের প্রকল্প ২০০৭ সালে জাতীয়করণের সময় হারিয়ে যায়। এছাড়া হলিবার্টন, ভ্যালেরো, ম্যারাথন, শেল, সিঙ্গাপুরভিত্তিক ট্রাফিগুরা, ইতালির এনি ও স্পেনের রেপসোলসহ দেশি-বিদেশি বহু প্রতিষ্ঠান বৈঠকে অংশ নেয়।
এক্সনমোবিলের সিইও ড্যারেন উডস বলেন, বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী ভেনেজুয়েলা বিনিয়োগযোগ্য নয়। বাণিজ্যিক কাঠামো, আইন ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ সুরক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার।
অনিশ্চয়তায় কোম্পানিগুলো
ইউসিএলএর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বেঞ্জামিন র্যাড জানান, ভেনেজুয়েলায় ফেরার বিষয়ে তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে এখনও দ্বিধা রয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকলে এই বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণই থাকবে।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন দৈনিক এক মিলিয়ন ব্যারেলের নিচে নেমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সম্পর্ক কতটা স্থিতিশীল হয় এবং কী ধরনের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়—তার ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ।
সমালোচনা ও রাজস্ব বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন
পাবলিক সিটিজেন নামের ভোক্তা অধিকার সংগঠনের জ্বালানি কর্মসূচির পরিচালক টাইসন স্লোকাম এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্পের লক্ষ্য মূলত ‘কোটি কোটি ধনকুবেরের হাতে ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া’
এখনও যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানায়নি, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির আয় কীভাবে বণ্টন হবে বা কত অংশ কারাকাস পাবে। বিশেষজ্ঞ র্যাচেল জিয়েম্বা সতর্ক করে বলেন, যদি এই অর্থ ভেনেজুয়েলার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে না যায়, তাহলে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হবে।
এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা জানায়, তারা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। একই দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে।
এমকে




