অন্যান্য
বাংলাদেশিদের গড় বুদ্ধি বিশ্বে সর্বনিম্ন স্তরে
রসিকতার ছলে অনেকেই বলে থাকেন বাংলাদেশিদের আইকিউ কম বা দেশের মানুষের বুদ্ধি কম। তবে বাস্তবে বাংলাদেশিদের বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ কত, কীভাবে তা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়—সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা অনেকেরই নেই।
ইন্টেলিজেন্স কোশেন্ট বা আইকিউ বলতে মূলত বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষার ফলাফলকে বোঝায়। বাংলায় এর সহজ অর্থ ‘বুদ্ধিমাত্রা’। আইকিউ পরিমাপের জন্য বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি থাকলেও এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো একক সূত্র নেই। সাধারণত মানুষের বিচক্ষণতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সক্ষমতার ভিত্তিতে আইকিউ নির্ধারণ করা হয়।
সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের গড় আইকিউ নিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ। ১৯৯টি দেশের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে ব্রিটিশ মনোবিদ রিচার্ড লিন-এর পরিচালিত কিছু সুপরিচিত ও ব্যাপকভাবে প্রচারিত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে।
সবশেষ ২০২২ সালে প্রকাশিত এই তালিকায় দেশভিত্তিক গড় আইকিউয়ের পাশাপাশি ইন্টেলিজেন্স ক্যাপিটাল ইনডেক্স (আইসিআই) এবং প্রোগ্রাম ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট (পিআইএসএ) স্কোরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রকাশের পর বিষয়টি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তালিকায় দেখা যায়, ১০৬.৪৮ আইকিউ স্কোর নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে জাপান। মাত্র ০.০১ পয়েন্ট ব্যবধানে ১০৬.৪৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তাইওয়ান। আর ১০৫.৮৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে সিঙ্গাপুর।
শীর্ষ ছয়টি দেশের মধ্যেই পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। ১০৫.৩৭ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে হংকং, ১০৪.১ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে চীন, এবং ১০২.৩৫ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
সপ্তম স্থান থেকে তালিকায় ইউরোপীয় দেশগুলোর উপস্থিতি শুরু হয়। ১০১.৬ স্কোর নিয়ে বেলারুশ সপ্তম এবং ১০১.২ স্কোর নিয়ে ফিনল্যান্ড অষ্টম স্থানে রয়েছে। ক্ষুদ্র ইউরোপীয় রাষ্ট্র লিচেনস্টাইন ১০১.০৭ স্কোর নিয়ে নবম এবং ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দেশ জার্মানি ১০০.৭৪ স্কোর নিয়ে দশম স্থানে অবস্থান করছে।
তালিকায় শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে প্রথম ছয়টিই এশীয় দেশ এবং বাকি চারটি ইউরোপীয় দেশ। লক্ষণীয় বিষয় হলো—এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কেউই প্রথম দশে স্থান পায়নি।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত পিছিয়ে। ১৯৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। বাংলাদেশের গড় আইকিউ স্কোর ৭৪.৩৩। একই তালিকায় ভারত রয়েছে ১৪৩তম স্থানে, তাদের গড় আইকিউ ৭৬.৭৪। আর ৮০ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান আছে ১২০তম অবস্থানে।
দক্ষিণ এশিয়ার দারিদ্র্যপীড়িত দেশ আফগানিস্তানও গড় আইকিউয়ে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ৮২ স্কোর নিয়ে আফগানিস্তানের অবস্থান ১০৩তম।
তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে হিমালয়ের দেশ নেপাল। দেশটির গড় আইকিউ স্কোর মাত্র ৪২.৯৯, যা তালিকায় সবচেয়ে কম। অন্যদিকে তালিকার শীর্ষে থাকা জাপানের স্কোর ১০৬.৪৮।
ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকা এশীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—মিয়ানমার ৫২তম (স্কোর ৯১.১৮), ইরাক ৬১তম (স্কোর ৮৯.২৮), থাইল্যান্ড ৬৪তম (স্কোর ৮৮.৮৭), ভুটান ৬৮তম (স্কোর ৮৭.৯৪), শ্রীলঙ্কা ৭১তম (স্কোর ৮৮.৬২), মালয়েশিয়া ৭৩তম (স্কোর ৮৭.৫৮) এবং আফগানিস্তান ১০৩তম (স্কোর ৮২.১২)।
বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ২৯তম স্থানে (স্কোর ৯৭.৪৩), রাশিয়া ৩৫তম (স্কোর ৯৬.২৯) এবং ইউক্রেন ৫৭তম স্থানে রয়েছে, যার গড় আইকিউ স্কোর ৯০.০৭।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে আইকিউ স্কোর ৮৫ থেকে ১১৫ হলে তাকে গড় বা স্বাভাবিক বুদ্ধিমাত্রা হিসেবে ধরা হয়। স্কোর ১৩০ হলে সেই ব্যক্তি সাধারণের তুলনায় বেশি বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিসেবে বিবেচিত হন। আর যদি আইকিউ স্কোর ১৬০ ছাড়িয়ে যায়, তাহলে তাকে এক কথায় ‘জিনিয়াস’ বলা হয়।
অন্যান্য
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা দেখে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ
কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিছানায় ছারপোকা, নিম্ন মানের খাবার পরিবেশন ও বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
রোববার (৮ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আকস্মিকভাবে হাসপাতালটিতে যান। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আক্ষেপ করে বললেন, কতজন ডাক্তার অনুপস্থিত তা সরেজমিনে এসেও তিনি জানতে পারলেন না।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কতজন ডাক্তার অনুপস্থিত তা এখন পর্যন্ত জানতে পারলাম না। আমি নিজে এসেও তা জানত পারছি না। হাসপাতালের পরিচালকের অদক্ষতা এসব অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হাসপাতালের বিছানাপত্র নিয়ে সমস্যা পাওয়া গেছে। সেখানে ছারপোকার সমস্যা মারাত্মক। খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ডাক্তার সময় মতো আসছেন না।
এই হাসপাতালের সবচেয়ে নেতৃত্বের সংকট বড় সমস্যা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বড় সমস্যা হলো দেশের সর্বোচ্চ মানসিক হাসপাতাল হওয়ার পরও লিডারশিপ সঙ্কট আছে এখানে। অব্যবস্থাপনা আছে। দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য বলেছি।
বেশিরভাগ অভিযোগ মেনে নিয়ে দোষ স্বীকার করলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান।
কয়েক দিনের মধ্যে আবারও হাসপাতালটি পরিদর্শনের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তখন কোনো অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্তা নেয়া হবে।
এমএন
অন্যান্য
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ১২টি জরুরি নির্দেশনা দিলো সরকার
বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাকে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি জরুরি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
উপসচিব তানিয়া আফরোজের সই করা এই নির্দেশনায় কর্মকর্তাদের জন্য ১২টি বিশেষ করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হলো:
১. দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার পরিহার করতে হবে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
২. বিদ্যমান ব্যবহৃত আলোর অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইটের ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
৩. অফিস চলাকালীন প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে।
৪. এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অবশ্যই ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখতে হবে।
৫. অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
৬. অফিসের করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুম ইত্যাদি স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৭. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে।
৮. অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যেমন: লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ও এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
৯. যাবতীয় আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে।
১০. সরকারি গাড়ির ব্যবহার সীমিত করতে হবে।
১১. জ্বালানি তেল ও গ্যাস ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী ও মিতব্যয়ী হতে হবে।
১২. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বৈশ্বিক এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এমএন
অন্যান্য
ইবি শিক্ষিকাকে খুন, আত্মা হত্যার চেষ্টা কর্মচারীর
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে কর্মচারী কর্তৃক নিজ অফিসে গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় একই বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রক্টর।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪ টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় উভয়কে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরে আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরএমও ডা. ইমাম হোসাইন।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, হত্যাকারী ফজলু আগে সমাজ কল্যাণ বিভাগের কর্মচারী ছিল। পরবর্তীতে তার কিছু অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে বিভাগীয় প্রধান তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদল করে। বদল করার আগে তাকে তিন-চারবার সুযোগ দেওয়া হয় কিন্তু তার আচরণ পরিবর্তন না হওয়ায় অবশেষে তাকে বদলি করে দিতে বাধ্য হয়। হত্যাকারী ফজলুর রহমান তার এ ট্রান্সফারটা মেনে নিতে না পেরে বিভাগের সভাপতিকে বারবার অনুরোধ করে তার অনুষদে আবার ফিরে আনার কিন্তু সভাপতি (মৃত শিক্ষিকা) রাজি হয়নি। এজন্য তার এই ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সে বিভাগীয় সভাপতিকে হত্যা করা হয়েছে ধারণা করা হয়।
ভবনের দায়িত্বরত আনসার সদস্য বলেন, আমি নিচে ছিলাম তখন তিন-চারবার বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনতে পাই। পাশে কয়েকজন ছাত্র ছিল। তাদের সাথে উপরে কী অবস্থা দেখার জন্য গেলাম। পৌঁছে দেখি দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বারবার দরজা খুলতে বলা সত্বেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় একজন চেয়ারে দাঁড়িয়ে ছিদ্র দিয়ে রুমের অবস্থা দেখে বললো ভিতরে খুন হয়েছে। ৬ জন মিলে দরজা ভেঙে দেখি ম্যাডাম নিচে উপুড় হয়ে পড়ে আছে। আর হত্যাকারী নিজের গলায় ছুরি বসিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছে।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তার গলা, হাতে পায়ে ছুরির আঘাতের ক্ষত পাওয়া গেছে।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ঐ কক্ষ থেকে দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল পাঠাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত্যু ঘোষণা করেন। আরেকজন ওটিতে চিকিৎসাধীন আছেন।
এদিকে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনা কীভাবে ঘটেছে সে ব্যাপারে পরে জানানো হবে।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠালে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আজকের এ ঘটনা অত্যন্ত অকল্পনীয় ও অপ্রত্যাশিত। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় অবশ্যই বিচার করা হবে।
এমএন/এমএসএ
অন্যান্য
পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার মায়ের মৃত্যু
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতার মা হুরন নাহার রশিদ মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
রোববার (১ মার্চ) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী মরহুম হারুনার রশীদ খান মুন্নুর সহধর্মিণী ও মুন্নু গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান হুরন নাহার রশিদ দীর্ঘদিন থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। সম্প্রতি স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রোববার ভোরে মারা যান।
মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়ে ও তিন নাতি রেখে যান। তার বড় মেয়ে আফরোজা খানম রিতা বর্তমানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির দায়িত্বে রয়েছেন। আর ছোট মেয়ে ফিরোজা মাহমুদ ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মো. আব্দুল আউয়াল বুলবুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গুলশানের আজাদ মসজিদে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর তার মরদেহ মানিকগঞ্জের মুন্নু সিটিতে নেয়া হবে। সেখানে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
মরহুমার স্বামী সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কবরের পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
এমএন
অন্যান্য
পথচারীদের জন্য স্বপ্ন’র বিনামূল্যে ইফতার সেবা
রমজানে অনেকে সঠিক সময়ে অফিস থেকে বের হলেও বাসায় পৌঁছানোর আগেই ইফতারের সময় হয়ে যায়। এমন সব মানুষের একটু স্বস্তি দিতে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে ‘স্বপ্ন’।
ইফতার এর আগে এবং ইফতারের সময় পথচারী, সাধারণ মানুষ ও খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য স্বপ্ন-এর পক্ষ থেকে খেজুর এবং শরবত দেয়া হচ্ছে। চলবে পুরো রমজান মাস জুড়ে ।
স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরে ট্রাফিক জ্যামসহ নানা কারণে সঠিক সময়ে বাসায় ফিরতে না পারা মানুষের জন্য আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস।
মূলত ইফতারের জন্য সঠিক সময়ে ঘরে ফিরতে না পারা মানুষ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা চিন্তা করে এই উদ্যোগ নিয়েছে সুপারশপ ‘স্বপ্ন’।
উল্লেখ্য, ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে মোট ৪৪ টি স্বপ্ন আউটলেট থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৬০০ মানুষকে বিনামূল্যে ইফতারের এই সেবা দেওয়া হচ্ছে ।
এমএন




