জাতীয়
দেশে চালের ঘাটতি নেই, তারপরও কেন দাম বাড়ে- প্রশ্ন সিপিডির
আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম ৪০ শতাংশ কমেছে। দেশে চাল উৎপাদনেও ঘাটতি নেই। তারপরও কেন দাম বাড়ে— এ প্রশ্ন রেখে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, এ ক্ষেত্রে চালের উৎপাদন খরচ ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বড় কারণ।
শনিবার ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক মিডিয়া বিফ্রিংয়ে সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন।
এ সময়ে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান ও গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন।
সিপিডির গবেষণা প্রবদ্ধ উপস্থাপনকালে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ২০২৩ সাল থেকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এখনও চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কমছে, তবে কমার হার ধীর। লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি ৮.৪৯ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও কমে এসেছে। তবে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ। সুতরাং খাদ্যের মূল্য কিছুটা কমলেও অন্যান্য পণ্যের দাম বেশি।
তিনি বলেন, খাদ্যের দাম কেন কমছে না? যেমন: চালের মূল্যের সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের মূল্যস্ফীতির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তথ্যে পাওয়া যায় চালের চাহিদা ৩১ মিলিয়ন মেট্রিক, আর উৎপাদন ৪৪ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ চালের উৎপাদনে ঘাটতি নেই। তারপরও কেন দাম বাড়ে। এ ক্ষেত্রে চালের উৎপাদন খরচ ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বড় কারণ হিসাবে দেখতে পাচ্ছি। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম ৪০ শতাংশ কমেছে, কিন্তু আমাদের দেশে কমছে না। চিনি ও তেলের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও আমাদের দেশে কমছে না।
সামনে নির্বাচন, অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতিও মন্থর এই অবস্থায় রাজস্ব লক্ষমাত্রা বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক এমন প্রশ্ন রেখে সিপিডির ফাহমিদা খাতুন বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনমাসে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১৬.৭ শতাংশ হলেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। যতটুকু জানতে পেরেছি নভেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ১৫.০২ শতাংশ। এনবিআরকে যদি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হয়, তাহলে বাকি সময়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। বর্তমান বাস্তবতায় খুবই কঠিন হবে। অন্যদিকে সংশোধিত বাজেটে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে মূল বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা থাকে সেটা অর্জন করতেই এনবিআরকে হিমশিম খেতে হয়। সামনে নির্বাচন, অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতিও মন্থর। এই অবস্থায় লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন রয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে সরকারি ব্যয়ে দেখতে পাই সরকারি ব্যয় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিন্ম। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হার সাড়ে ১১ শতাংশ। বড় বড় মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়ন হার অনেক কম। যেমন- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ইত্যাদি। আবার বাজেট ঘাটতি নিয়ে যদি বিশ্লেষণ করা যায়, তাহলে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে অনুদান বাদে বাজেটে উদ্বৃত্ত দেখা যাচ্ছে। ওই সময়ে বাজেট উদ্বৃত্তের পরিমাণ ১২ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ৫ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। তবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ধীরগতিই ওই উদ্বৃত্তের প্রধান কারণ।
একই সময়ে সরকারের বৈদেশিক উৎস থেকে নিট ঋণ গ্রহণ কমেছে। তবে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নির্ভরতা বেড়েছে। প্রথম তিন মাসে সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিট ১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, বিপরীতে আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকার ব্যাংক খাতকে ১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছিল। অব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ঋণাত্মক অবস্থায় নেমে এসেছে। জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৯ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। অব্যাংকিং উৎসগুলোর মধ্যে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যাওয়ায় এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সিপিডি বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকারের অর্থায়নে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। যা ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ এবং সুদের হারের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আর একটি বিষয় হচ্ছে সরকার ৫টি দূর্বল ইসলামী ব্যাংককে একত্রিত করতে গিয়ে ২০ হাজার কোটি টাকা পেইড অব ক্যাপিটাল দিয়েছে। আবার বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধ করতে হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। যদি সামনের গ্রীষ্মের লোডশেডিং কমাতে হয়, তাহলে ওই টাকা পরিশোধ করতে হবে। আর একটি বিষয় হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল চলতি অর্থ বছরে হয়তো বাস্তবায়ন করতে হবে। সেক্ষেত্রে সরকারকে চাপের মুখে পড়তে হবে।
সুপারিশের ক্ষেত্রে সিপিডি বলছে, রাজস্ব বাড়াতে ডিজিটাল অর্থনীতি, সম্পদ ও সম্পত্তির ওপর কার্যকর কর আরোপ জরুরি। বাস্তব বাজারমূল্যের ভিত্তিতে সম্পত্তি কর হালনাগাদ করে এনবিআরের সম্পদ করের সঙ্গে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। একই সঙ্গে অকার্যকর কর ছাড় ও অব্যাহতিগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করে বাতিল করতে হবে এবং খেয়ালখুশিমতো কর সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা কমাতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ আর্থিক প্রবাহ রোধে নীতিগত ও বাস্তব প্রয়োগ—উভয় পর্যায়ে কর কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
জাতীয়
টানা ৪ দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারির শুরুতে দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। নির্ধারিত সরকারি ছুটির সঙ্গে একদিন অতিরিক্ত ছুটি নিতে পারলে টানা ৪ দিনের অবকাশ মিলবে।
সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণার কথা রয়েছে। তবে দিনটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
৪ ফেব্রুয়ারি যদি শবে বরাত হিসেবে নির্ধারিত হয়, সেক্ষেত্রে পরদিন বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) একদিন ছুটি নিলেই সরকারি কর্মচারীরা ৪ দিনের টানা ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। কারণ বৃহস্পতিবারের পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।
এই হিসাবে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে ১ দিন ছুটি ম্যানেজ করেই সরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ পাবেন।
এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, শবে বরাত উপলক্ষে ঘোষিত ছুটি চাঁদ দেখা সাপেক্ষে কার্যকর হবে।
এমকে
জাতীয়
১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও না পরেও না: প্রধান উপদেষ্টা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে দৃঢ় আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, কে কী বললো তাতে কিছু আসে-যায় না। ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন হবে—একদিন আগেও না, একদিন পরেও না।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গম্বিস ও মোর্স ট্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। তারা দুজনই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এসব তথ্য জানান।
বৈঠককালে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচন হবে স্বাধীন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনকালীন সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে এবং ভুয়া খবরের বন্যা বইছে। তবে এসব অপপ্রচার সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল এবং ফল ঘোষণার পর জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
সাবেক অ্যাক্টিং আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মোর্স ট্যান গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে আসন্ন নির্বাচন, জুলাই বিপ্লব ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকেন্দ্রিক ভুয়া খবর ও অপপ্রচার, রোহিঙ্গা সংকট এবং সত্য ও পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। তার ভাষায়, জনগণের সমর্থনে অনুমোদিত হতে যাওয়া জুলাই সনদ ভবিষ্যতের স্বৈরশাসনের পথ বন্ধ করবে এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলবে।
তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকরা নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন।
তিনি বলেন, মানুষ এখন এআই-নির্মিত ভুয়া ভিডিও ও অপপ্রচার শনাক্ত করতে পারছে।
আলবার্ট গম্বিস এ বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, ভুয়া খবর বর্তমানে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রু হয়ে উঠেছে এবং এটি মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
দুই সাবেক মার্কিন কূটনীতিকই গত দেড় বছরে দেশ পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার প্রশংসা করেন।
তারা বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন গঠনের সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্ন তুললে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগের জন্য সময় উপযুক্ত নয়।
তিনি বলেন, সত্য ও পুনর্মিলন তখনই সম্ভব, যখন অপরাধ স্বীকার করা হয়, অনুশোচনা ও অনুতাপ প্রকাশ করা হয় এবং সঠিক পরিবেশ তৈরি হয়। কিন্তু এখনো তারা তাদের অপরাধ অস্বীকার করছে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত তরুণদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে দাবি করা হচ্ছে। অথচ তাদের (পতিত সরকার ও দল) বর্বর অপরাধের বিপুল প্রমাণ রয়েছে। তবুও তারা সম্পূর্ণ অস্বীকারের অবস্থানে রয়েছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
জাতীয়
দেশের সার্বভৌমত্ব-অখণ্ডতা রক্ষায় সদা জাগ্রত থাকতে হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম বিজিবির নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনে সদা জাগ্রত থাকতে হবে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিক জীবনের অলংকার। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনো পিছপা হয় না সেই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি।
তিনি বলেন, ২৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বাহিনী কালের পরিক্রমায় আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকষ, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষার মাধ্যমে দেশমাতৃকার অখণ্ডতা রক্ষা ও সীমান্তের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি চোরাচালান রোধ, মাদক ও মানবপাচার রোধসহ যেকোনো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দেওয়া এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজিবি অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশবাসীর আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিজিটিসিএন্ডসি বিগত ৪৪ বছর ধরে বিজিবির রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে গড়ে তুলছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭২টি ব্যাচকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ৭০০–১০০০ জন হলেও ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে ৩০২৩ জন (পুরুষ ২৯৫০, মহিলা ৭৩) রিক্রুটকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের নির্দেশনায় এবং বিজিবি সদর দপ্তরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে এই চ্যালেঞ্জিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। একসঙ্গে ৩ হাজারেরও অধিক রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিজিটিসিএন্ডসি স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
জাতীয়
পোস্টাল ব্যালট গণনার ভিডিও ভাইরাল, ব্যবস্থা চায় বিএনপি
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালট গণনা নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে একটি বাসার ভেতরে একাধিক ব্যক্তিকে বিপুলসংখ্যক পোস্টাল ব্যালট একসঙ্গে গণনা করতে দেখা যায়। খামগুলোর ওপর বাহরাইনের ঠিকানা লেখা দেখা গেছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কাছে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির দৈর্ঘ্য ৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ড। এতে কয়েকজন ব্যক্তিকে পাশাপাশি বসে পোস্টাল ব্যালট গুনতে দেখা যায়। ভিডিওতে একজনকে ভিডিও ধারণে বাধা দিতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ভিডিও করা যাবে না এবং ফেসবুকে ছড়ানো যাবে না। আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, এতে ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এছাড়া একই ধরনের আরেকটি ২৭ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতেও বহু পোস্টাল ব্যালট একসঙ্গে গণনার দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে চট্টগ্রাম-৩ আসনের নাম উল্লেখ করতে শোনা যায়।
জুনায়েন বিন সাদ নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করেন, এটি ওমানে জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার বাসার দৃশ্য। তবে প্রথম ভিডিওটি বাহরাইনে জামায়াতের একজন নেতার বাসায় ধারণ করা হয়েছে বলে কেউ কেউ দাবি করছেন।
চট্টগ্রাম-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ভিডিওটি দেখেছি। এটি সঠিক কি না যাচাই করা হচ্ছে।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাহরাইনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতারা পোস্টাল ব্যালট হ্যান্ডেল করছেন, এমন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
এমকে
জাতীয়
ইসিতে চলছে পঞ্চম দিনের আপিল শুনানি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের পঞ্চম দিনের কার্যক্রম চলছে আজ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) এই আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
জানা গেছে, আজ আপিল নম্বর ২৮১ থেকে ৩৫০ পর্যন্ত মোট ৭০টি আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে, গত চার দিনে ২৮০টি আপিল শুনানি হয়েছে। প্রথম দিনে ৫২টি, দ্বিতীয় দিনে ৫৭টি, তৃতীয় দিনে ৪০টি এবং চতুর্থ দিনে ৫৩টি আপিল মঞ্জুর হয়েছে।
উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন সময়সূচিতে আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।
এমকে



