অর্থনীতি
স্বর্ণের দাম আরও কমলো
টানা দুই দফা বাড়ানোর পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমানো হয়। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং সনাতনপদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৫ টাকা।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই দিন ভরিতে এক লাফে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা।
সব মিলিয়ে নতুন বছরে মোট ৩ দফায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এর মধ্যে এক দফায় বাড়ানো হলেও ২ দফায় কমেছে স্বর্ণের দাম।
এর আগে সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর মাত্র ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
এমকে
অর্থনীতি
ভারতের সঙ্গে ব্যবসায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি: বাণিজ্য উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, আইপিএল ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব আমরা দেখছি না। ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে নতুন আমদানি নীতি আদেশ সংক্রান্ত এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গে আমাদের উদার বাণিজ্য কার্যক্রম চালু রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয়, সে পর্যন্ত আমরা সুনির্দিষ্ট কোনো দ্বিপক্ষীয় সিদ্ধান্ত নিই না। সামগ্রিকভাবে আমরা উদার বাণিজ্যে বিশ্বাসী।
‘ভারতের সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এটার কোনো প্রভাব এসেছে কি না সেটা দেখছি,’ যোগ করেন শেখ বশিরউদ্দীন।
এসময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দৈনন্দিন যেসব ঘটনা, এগুলো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে ভারত বিভিন্ন স্থলবন্দর বন্ধ করে দিয়ে, গত মে মাসে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। তার ফলে আমাদের রপ্তানি কমেছে। কিন্তু আমরা সে ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নিইনি।’
ভারতে পাট রপ্তানি বন্ধের পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেটি আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও জোগান ঠিক রাখার জন্য করা হয়েছে। অন্য দেশের ক্ষতি করার জন্য কিছু করা হয়নি। আমাদের নীতিগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে নেওয়া। আরেকটি দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য কখনো করা হয়নি।’
এমকে
অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় বড় অগ্রগতি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এর ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বর্তমানে ওয়াশিংটন সফররত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার বাংলাদেশের ওপর আরোপিত বিদ্যমান ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কহার কমানোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় তোলার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়া ও এ অঞ্চলের অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
এর পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানি অগ্রাধিকারকে সহায়তা করতে একটি নতুন ও উদ্ভাবনী সমাধানের বিষয়ে দুই দেশ আলোচনা করেছে। গতকাল ড. খলিলুর রহমান ও রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের মধ্যে আলোচনায় উঠে আসা প্রস্তাবিত এক বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থার আওতায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে উৎপাদিত বস্ত্রের বিপরীতে সমপরিমাণ (স্কয়ার মিটার ভিত্তিতে পরিমাপযোগ্য) তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুযোগ পেতে পারে বাংলাদেশ।
বাণিজ্যে এই সৃজনশীল ও পারস্পরিক লাভজনক ব্যবস্থাটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে একদিকে যেমন বাংলাদেশের উৎপাদক ও শ্রমিকরা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল উৎপাদকদের সঙ্গেও সরবরাহ শৃঙ্খলের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিবাচক গতি ও পারস্পরিক আস্থারই প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে একটি আশাব্যঞ্জক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
অর্থনীতি
নগদ লেনদেন রিপোর্ট সিটিআর দাখিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা
নগদ লেনদেন রিপোর্ট সিটিআর দাখিলের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের পরিচালক (বিএফআইইউ) এ কে এম গোলাম মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে নতুন এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনা বলা হয়েছে, গত ১৬ জুন ২০২০ তারিখে জারিকৃত বিএফআইইউ সার্কুলার নম্বর-২৬ এর ৬ (ছয়) নম্বর অনুচ্ছেদের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো একটি হিসাবে কোনো একটি নির্দিষ্ট দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ (দশ) লাখ টাকা বা তদুর্ধ্ব অর্থের বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রার জমা বা উত্তোলনের (অনলাইন, এটিএমসহ যে কোনো ধরনের নগদ জমা বা উত্তোলন) ক্ষেত্রে বিএফআইইউ বরাবর নগদ লেনদেন রিপোর্ট (CTR) দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত, নগদ লেনদেন রিপোর্ট সাপ্তাহিক ভিত্তিতে (প্রতি সপ্তাহের রিপোর্ট পরবর্তী সপ্তাহের ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে) দাখিল করার নির্দেশনা প্রদান করা হলো।
এ নির্দেশনা ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ হতে কার্যকর হবে। এতদ্ব্যতীত, ১-১০ জানুয়ারি ২০২৬ মেয়াদের (CTR) আগামী ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ এর মধ্যে দাখিল করতে হবে।
নগদ লেনদেন রিপোর্ট (CTR) দাখিলের বিষয়ে বিএফআইইউ সার্কুলার নম্বর-২৬, তারিখ: ১৬ জুন ২০২০ এর অন্যান্য নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।
এ প্রসঙ্গে আরো জানানো যাচ্ছে যে, যথা সময়ে (CTR) দাখিলে ব্যর্থতা অথবা ভুল, অসম্পূর্ণ বা মিথ্যা তথ্য বা বিবরণী সরবরাহ অথবা এতদ সংক্রান্ত নির্দেশনা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ২৩ ধারার বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গৃহীত হতে পারে।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ২৩(১) (ঘ) ধারা ও সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ১৫(১) (ঘ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো।
অর্থনীতি
ব্যাংক খাতে লুটপাটের সংস্কৃতি আর ফিরতে দেওয়া হবে না: গভর্নর
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে লুটপাটের সংস্কৃতি আর কখনই ফিরতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা অপরিহার্য।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ইসলামি ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং কনফারেন্সের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন গভর্নর। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের অতিথিরা অংশ নেন।
গভর্নর বলেন, ইসলামি ব্যাংকগুলো সাধারণ ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আমানতকারীদের ভালো মুনাফা দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ খাত থেকে বিপুল অর্থ লুটপাটের সুযোগ নিয়েছে।
ইসলামি ব্যাংকিং খাত জনগণের আস্থা হারায়নি। গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি আমানত এসেছে ইসলামি ব্যাংকগুলোতে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া সহায়তার অর্থ ফেরত দিয়েছে ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ।
ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়েছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, এ লক্ষ্যে একটি নতুন ইসলামি ব্যাংকিং আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।
শরিয়াহ বোর্ডের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘শরিয়াহ বোর্ডকে শক্তিশালী ও সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে। বোর্ডের সদস্যদের চাকরির ভয় করলে চলবে না।’
সুকুক বন্ড প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, বেক্সিমকো সুকুক বন্ড জোর করে বিক্রি করায় দেশের বন্ড বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে। তবে সরকারকে নতুন করে ইসলামি সুকুক বন্ড বাজারে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আর কোনো আর্থিক লুটতন্ত্র ফেরত আসতে দেওয়া হবে না। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি একাডেমিশিয়ানসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিশ্বে ইসলামি ব্যাংকিং খাতকে উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও শক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন গভর্নর।
এমকে
অর্থনীতি
সুদের হার হঠাৎ কমানো সহজ সিদ্ধান্ত নয়: অর্থ উপদেষ্টা
সুদের হার কমানো কোনো একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, এতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, সুদের হার কমানো নিয়ে অনেক সময় সহজ সমাধানের কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো একদিকে সুদ কমালে অন্যদিকে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়। ট্রেজারি বিল, ব্যাংকিং খাত ও বাজার ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় না রেখে সুদের হার কমালে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ট্রেজারি বিলের সুদহার এরই মধ্যে কমেছে উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এর প্রতিফলন ধীরে ধীরে বাজারে আসবে। তবে যদি ট্রেজারি বিল বা সঞ্চয়পত্রের সুদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ব্যাংকে আমানত রাখা কমে যাবে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের মূল কাজ হলো সঞ্চয় ও ঋণের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা। ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। এই কাঠামো দুর্বল হলে পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ব্যাংকিং অ্যালমানাক প্রসঙ্গে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এটি বিনিয়োগের সরাসরি নির্দেশনা না দিলেও ব্যাংক খাত বিশ্লেষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ডেটা সোর্স। এতে পেইড-আপ ক্যাপিটাল, অথরাইজড ক্যাপিটাল, ক্যাপিটাল রেশিও, প্রভিশনিং, রিটেইন্ড আর্নিংস এবং ক্রেডিট-ডিপোজিট রেশিওসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংযোজন করা হয়েছে।
তিনি জানান, নানান সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ব্যাংকিং অ্যালমানাকের প্রকাশনা অব্যাহত রাখা হয়েছে, যা প্রশংসনীয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় ব্যাংক খাতের অবস্থা ছিল সংকটপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কিছু ব্যাংকের প্রভিশনিং ও ঋণ কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। এসব পরিবর্তনের প্রতিফলন ব্যাংকিং অ্যালমানাকে উঠে এসেছে।
মুদ্রাস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, বাজার তদারকি এবং ব্যবসায়ী ও ভোক্তা পর্যায়ের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই সমাধান আসবে না।
এ সময় গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশকে সবসময় নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন না করে ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি গঠনমূলক সমালোচনা করা জরুরি। বাংলাদেশ নানান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




