জাতীয়
জুলাই সনদ দেশের জন্য ১০০ বছরের রোডম্যাপ: প্রেস সচিব
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশে একটি জাতীয় গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে। এ জুলাই সনদকে দেশের জন্য ১০০ বছরের একটি রোডম্যাপ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, গণভোট সম্পর্কে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরির জন্য- বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সরকার বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। সরকারের বহুমুখী কৌশলের এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম জানান, দেশের প্রায় চার লাখ মসজিদ, পাশাপাশি মন্দির ও গির্জার মাধ্যমে ইমাম ও পুরোহিতদের সম্পৃক্ত করে সাধারণ মানুষের কাছে গণভোট ও জুলাই সনদের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, একসময় দেশে সাক্ষরতার হার কম থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপের মতো প্রত্যন্ত এলাকাতেও ইউটিউব ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহার সচেতনতা কার্যক্রমে কাজে লাগাচ্ছে সরকার।
প্রেস সচিব বলেন, গণভোটের বার্তা আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দিতে ভ্রাম্যমাণ প্রচার কাফেলার সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০টিতে উন্নীত করা হচ্ছে। এসব কাফেলা দেশের ৪৯৫টি উপজেলা জুড়ে প্রচার চালাবে, যাতে একজন নাগরিকও তথ্যের বাইরে না থাকেন।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম- এ দুই ধারার সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে গণভোট প্রচার করা হচ্ছে। এভাবে প্রচারের সরকারি কৌশলের উদ্দেশ্য একটাই- দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে সবচেয়ে সংযুক্ত ডিজিটাল পরিসর পর্যন্ত সর্বত্র জুলাই সনদের বার্তা দৃঢ়ভাবে প্রোথিত করা।
জাতীয়
রাষ্ট্র সংস্কারের বদলে ‘দায়মুক্তির ফাঁদ’ তৈরি হচ্ছে: টিআইবি
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক অধ্যাদেশগুলোতে তার স্পষ্ট প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, শতাধিক অধ্যাদেশ জারি করে এক ধরনের রেকর্ড গড়া হলেও এসব আইনি কাঠামোর বড় অংশে জুলাই সনদের চেতনা উপেক্ষিত হয়েছে। বরং সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেই নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা রাষ্ট্র সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।
তার অভিযোগ, সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও নিজস্ব বিবেচনায় একের পর এক অধ্যাদেশ জারি করলেও অনেক ক্ষেত্রে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মৌলিক সুপারিশ উপেক্ষা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংস্কারের নামে এমন আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যা কার্যত দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করছে এবং পুরোনো ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা পালনের অংশ হিসেবে টিআইবি ধারাবাহিকভাবে আইনের খসড়া পর্যালোচনা ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দিয়ে আসছে। কিছু ক্ষেত্রে সেই সুপারিশ বাস্তবায়িত হওয়ায় সরকার ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানালেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক খাতে যৌক্তিক প্রস্তাব উপেক্ষিত থাকার বিষয়টি গভীর উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আটটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংস্কার অধ্যাদেশ বিশ্লেষণ করে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ও জবাবদিহির কাঠামো নিশ্চিত করা হয়নি। বিশেষ করে দুদক সংস্কারে কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও দুর্নীতির মামলায় জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে সাজা মার্জনার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা তিনি ‘দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দেওয়ার ফাঁদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
এছাড়াও দুদক সংস্কার অধ্যাদেশে কমিশনার সংখ্যা বৃদ্ধি, নারী কমিশনার ও আইসিটি বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্তি এবং সরাসরি এফআইআর করার ক্ষমতাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি রোধে প্রস্তাবিত ইন্টিগ্রিটি ইউনিট বাতিল এবং পূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়গুলোকে গুরুতর দুর্বলতা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই অধ্যাদেশ একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে। সাবেক আমলা ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাধান্য, ‘সদস্য সচিব’ পদ সৃষ্টি এবং প্রথম তিন বছরে অনির্দিষ্ট সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগের সুযোগ দেওয়াকে তিনি সিভিল ও পুলিশি আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্ব বজায় রাখার কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংস্কার অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিক খসড়াটি আন্তর্জাতিক মানের হলেও সংশোধিত সংস্করণে এসে সেই সম্ভাবনা খর্ব হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে কমিশনের আওতায় আনার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অন্তর্ভুক্ত করায় কমিশনের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সার্বিকভাবে টিআইবি মনে করে, সংস্কার কমিশনগুলোর বহু গুরুত্বপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ উপেক্ষা করে যে অধ্যাদেশগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে, তা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার বদলে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করবে। জুলাই সনদের চেতনা অনুযায়ী যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রকৃত সংস্কার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে এই উদ্যোগগুলো রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হবে বলে তাদের আশঙ্কা।
এমকে
জাতীয়
দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না। এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের সফিপুর আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে ৪১তম বিসিএস (আনসার) কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক-প্রশিক্ষিকা এবং আনসার ব্যাটালিয়ন ২৬ ও ২৭তম ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কোনো আনসার সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে সে শুধু আইন ভাঙে না, সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে। বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয় এটি রাষ্ট্রের নিরীহ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী।
তিনি আনসারদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের কেউ যেন কখনো কোনো বেআইনি আদেশ, কোনো স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা বা কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ না হন। সাহস মানে শুধু বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়।
সাহস মানে অন্যায় আদেশকে না বলা, অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, মজলুমের পক্ষে কাজ করা। দায়িত্ব পালনে ন্যায়ানুগ পন্থা অবলম্বন করা এবং নিজেকে সঠিক পথে অটল রাখা। সততা, নৈতিকতা ও বিবেকই হবে আপনাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। কর্মজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে, চাপ থাকবে।
ভুল বোঝাবুঝি হবে, সমালোচনাও হবে। যদি আপনারা সততা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্বকে আঁকড়ে ধরেন, তবে কোনো চ্যালেঞ্জই আপনাদের পথচলা থামাতে পারবে না।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ করে আসছে। এরই মধ্যে প্রায় ৫৬ হাজার আনসার, ২ লাখ ৫৫ হাজার ভিডিপি ও টিডিপি সদস্য এবং ৩ হাজারেরও অধিক আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যকে মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের উদ্দেশে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষাধিক সদস্যকে এসটিডিএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে সর্বমোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আনসার সদর দপ্তর, একাডেমি, রেঞ্জ, জেলা ও ব্যাটালিয়নসমূহে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সংযোজন, এবং পেশাগত উৎকর্ষ, কল্যাণমূলক কার্যক্রম, প্রশাসন, প্রশিক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সগুলো নতুন করে গঠন ও সংশোধনের জন্য সময়োপযোগী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এমকে
জাতীয়
ইসিতে তৃতীয় দিনের আপিল শুনানি চলছে
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ ১৪১-২১০ নম্বর আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আর মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারবেন।
এর আগে গত শনিবার আপিল শুনানির প্রথম দিনে ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি শেষ করা হয়। এরমধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল মঞ্জুরের সংখ্যা ৫১টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল মঞ্জুরের সংখ্যা ১টি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এ কে একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল মঞ্জুর হওয়ায় ওই প্রার্থীর (এস এ কে একরামুজ্জামান) মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আর ১৫টি আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে এবং ৩টি আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।
এরপর রোববার (১১ জানুয়ারি) দ্বিতীয় দিনের আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় দিনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৭০ জনের আপিল শুনানি করেছে। এরমধ্যে ৫৭ জনের আপিল মঞ্জুর করেছে ইসি।
আরও জানা গেছে, নানা কারণে ৭ জনের আপিল নামঞ্জুর করেছে এবং ৬ জনের আপিল পেন্ডিং রাখা হয়েছে। পেন্ডিং তালিকায় থাকাদের বিভিন্ন সময় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শনিবার বিবেচনাধীন থাকা মুন্সীগঞ্জ–৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মহিউদ্দিনের আপিল মঞ্জুর হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। এরপর ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
এমকে
জাতীয়
দায়িত্ব ছাড়ার পর যে ৩ কাজ করবেন প্রধান উপদেষ্টা
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের পর বিজয়ী দলের হাতে ক্ষমতা তুলে দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তারপর তিনি কি করবেন- জনমনে এমন নানান প্রশ্ন রয়েছে। তবে, জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সহধর্মিনী আকিয়ে আবের সঙ্গে বৈঠককালে সেই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ড. ইউনূস।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠককালে আকিয়ে আবে প্রধান উপদেষ্টার কাছে নির্বাচন পরবর্তী সময়ের পরিকল্পনা জানতে চেয়েছিলেন।
জবাবে প্রধান উপদেষ্টা জানান, তিনি মূলত তিনটি বিষয়ে ফোকাস করে নির্বাচন পরবর্তীসময়ে উনার কাজ করবেন। সেগুলো হলো-
প্রথমত: ডিজিটাল হেলথকেয়ার ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে কাজ করবেন, যেন স্বাস্থ্যসেবায় দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নারীদের প্রবেশাধিকার বাড়ে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে যেন তাদের পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবার খোঁজখবর রাখতে পারেন সে ব্যবস্থা করবেন।
দ্বিতীয়ত: তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির যে কাজটি তিনি করে চলেছেন সেটি করবেন।
তৃতীয়ত: থ্রি জিরো নিয়ে যে কাজ করছেন সেটি অব্যাহত রাখবেন।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আরও বলেন, আততায়ীর গুলিতে নিহত জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা তাদের সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের পর মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে তিনি জাপান সফর করবেন। এই ফাউন্ডেশন বিশেষত ওশিয়ান রিসার্চ নিয়ে গবেষণা করে। তিনি সেখানে একটি কনফারেন্সে যোগ দেবেন এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কিভাবে কোলাবরেশন বাড়ানো যায় তা নিয়ে কথা বলবেন।
এমকে
জাতীয়
আজ ঢাকায় আসছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আজ ঢাকায় পৌঁছাবেন। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসসহ ইমিগ্রেশন সূত্র। বিমানবন্দরে নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিন শূন্য থাকা রাষ্ট্রদূতের পদ পূর্ণ হতে যাচ্ছে তার আগমনে।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি বিকালে ওয়াশিংটনে শপথ নেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা ও সম্পদবিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস তাকে শপথবাক্য পড়ান।
গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। ডিসেম্বরে সিনেট তার মনোনয়ন অনুমোদন করে। সিনেটের অনুমোদন পেয়ে ক্রিস্টেনসেন লিংকডইনে এক পোস্টে বলেন, ‘বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস্টেনসেন মার্কিন পররাষ্ট্র সেবার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সিনিয়র ফরেন সার্ভিস কাউন্সেলের সদস্য। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা ছিলেন। তার অন্যান্য কর্মস্থলের মধ্যে ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটি উল্লেখযোগ্য। তিনি ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
এর আগে ঢাকায় সর্বশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন পিটার হাস। তিনি ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করেন। পিটার হাসের পর ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদটি শূন্য ছিল। এ সময়ে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
এমকে




