অর্থনীতি
থাইল্যান্ড থেকে আসবে ১ কোটি ৩৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল
আসন্ন রোজায় ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে থাইল্যান্ড থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই তেল আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কেনা হচ্ছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গুদাম পর্যন্ত সব খরচ যোগ করে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৬২ টাকা ৬৩ পয়সা। টিসিবির ভর্তুকিমূল্যে এসব তেল বিক্রি করবে।
মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রমজান মাসে তেলের সরবরাহ বাড়ানো ও দাম স্থিতিশীল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল কেনার প্রস্তাব তোলে। পরে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) যাচাই-বাছাই শেষে থাইল্যান্ডের প্রাইম কর্প ওয়ার্ল্ড কোম্পানি লিমিটেডকে যোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন করে।
সব প্রক্রিয়া শেষে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ১৭৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৭ টাকা ব্যয়ে এই সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত হয়।
দুই লিটার পেট বোতলে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ধরা হয়েছে ১৩১ টাকা ৪৭ পয়সা। পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত দাম দাঁড়াচ্ছে ১৬২ টাকা ৬৩ পয়সা। এই তেল খোলা বাজারে বর্তমানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে, তবে কেনা দামের চেয়ে বেশি দামে। ফলে এতে সরকারের কোনো ভর্তুকি লাগবে না।
এদিকে একই বৈঠকে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকিমূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনারও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
জানা গেছে, টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের জন্য মসুর ডাল কিনতে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে চারটি প্রস্তাব কারিগরি ও আর্থিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়।
সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের এম/এস পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলসের কাছ থেকে প্রতি কেজি ৭১ টাকা ৮৭ পয়সা দরে এই মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঢাকার সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি লিটার ১৮০ টাকা ৮৫ পয়সা দরে ১ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কেনার আরেকটি প্রস্তাব আনা হলেও পরে সেটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
অর্থনীতি
এলপিজি উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি
এলপিজি উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে ও এলসি খোলার আবেদন দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপসচিব মিয়া মোহাম্মদ কেয়ামউদ্দিনের সই করা চিঠিটি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি আমিরুল হক।
তিনি বলেন, লোয়াবের সঙ্গে বৈঠকে আমরা এলপিজি সেক্টরকে সবুজ শিল্প হিসেবে ঘোষণা করার অনুরোধ জানিয়েছি। এরপর বিষয়টিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গভর্নরকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক এলপিজি সেক্টরে গ্রিন ফান্ডের কম সুদে ঋণ প্রদানে গতি আনতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘দেশে এলপি গ্যাসের চাহিদার ৯৮ শতাংশ বেসরকারি কোম্পানি আমদানি করে, যার অধিকাংশই শিল্পখাতসহ গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাধারণভাবে এ সময়ে বিশ্ববাজার ও দেশে এলপি গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া শীতকালে পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহও অপেক্ষাকৃত কম থাকায় এলপি গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে এসব কারণে বাজারে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট রয়েছে এবং সাধারণ জনজীবনে এর প্রভাব পড়েছে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে এ সংকট নিয়ে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে লোয়াব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় গ্রিনফুয়েল বিবেচনায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এলপিজি আমদানির জন্য ঋণপ্রাপ্তি ও এলসি খোলার আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির অনুরোধ জানানো হয়েছে।’
‘এলপিজিকে সবুজ শিল্প (গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি) হিসেবে গণ্য করত, সবুজ শিল্পের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে গঠিত গ্রিন ফান্ড থেকে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদানের বাবস্থা করা গেলে এলপিজি সেক্টরে সৃষ্ট সমস্যা নিরসন করা সম্ভব হবে এবং এলপিজি ব্যবহারকারীদের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দামে এলপিজি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
এতে আরও বলা হয়, ‘এমতাবস্থায় বাজারে এলপি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উল্লিখিত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঋণপ্রাপ্তি ও এলসি খোলার আবেদনসমূহ দ্রুত ও অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিষ্পত্তির বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
অর্থনীতি
গ্রিনহাউস গ্যাস ৮৪.৯৭ মিলিয়ন টন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ
বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ৮৪ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন টন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, এর মধ্যে নিজস্ব সক্ষমতায় ২৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার শর্তে অতিরিক্ত ৫৮ দশমিক ২৩ মিলিয়ন টন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ ব্যাপারে অনুমোদন দেওয়া হয়।
তিনি জানান, সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ছিল ২০২ দশমিক শূন্য ৪ মিলিয়ন টন। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালে তা বেড়ে ৪১৮ দশমিক ৪০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে তৃতীয় ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি-৩) অনুযায়ী নিঃসরণ কমানোর রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়েছে।
এনডিসি-৩–এ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এনার্জি খাতে, যেখানে ৬৯ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন টন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য ধরা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প খাতে শূন্য দশমিক ৬৪ মিলিয়ন টন, কৃষি খাতে ৮ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন টন, বন ও ভূমি ব্যবহার খাতে ৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন টন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ১ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন টন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাতিসংঘের বিভিন্ন কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে ইউএনএফসিসিসি সচিবালয়ে তার প্রতিশ্রুতি জানিয়ে আসছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৃতীয় এনডিসি বাংলাদেশের জলবায়ু দায়বদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বকে নতুন করে তুলে ধরেছে।
অর্থনীতি
চালের দাম বাড়তি, সরবরাহ বাড়লেও সবজিতে অস্বস্তি
শীত মৌসুমের সব সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম নিয়ে অস্বস্তি কাটছে না ক্রেতাদের। এ ছাড়া খুচরা বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দাম বাড়তি দেখা গেছে।
রাজধানীর খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রচণ্ড শীতে সবজি তুলতে পারছেন না কৃষকরা। তাপমাত্রা বাড়লে কমবে সবজির দাম।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি পিস মাঝারি আকারের ফুল কপি মিলেছে ১৫-২৫ টাকায়। ১০-১৫ টাকা বেড়ে তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। এ ছাড়া ১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি মুলা ৪০ টাকায়, বেগুন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকায়। কিছুটা বেড়ে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। প্রতিকেজি শালগম, পেঁপে, ব্রকলি মিলছে ৩০-৫০ টাকায়। বছরের এই সময়ে টমেটোর দাম থাকে ক্রেতার নাগালের মধ্যে। তবে বাজারে পাকা, কাচাঁ ও আধাপাকা তিন ধরনের টমেটোর দাম ১০০-১২০ টাকা। গত সপ্তাহে ৮০ টাকায় মিলেছে পাকা টমেটো। প্রতিকেজি ঢ্যাঁড়শ, পটল বিক্রি হচ্ছে ৯০-১২০ টাকায়।
গত সপ্তাহের মতো প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি রঙের ডিম ১০৫-১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লারের কেজি ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা আর সোনালি জাতের মুরগির কেজি কেনা যাচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়। প্রতিকেজি গরুর মাংস মিলছে ৭৫০-৮০০ টাকায়।
প্রতিকেজি পাঙাশ ১৭০-২০০ টাকায়, পাবদা ৪০০-৫৩০ টাকায়, কৈ মাচ ২৫০-৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি রুই ৩২০-৪২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৮০ টাকা, কাতলা ৩৪০-৪৪০ টাকা, শিং ৩৪০-৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে খুচরা বাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই দুই ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। এ ছাড়া বেড়েছে মুগ ডাল, ছোট মসুর ডাল ও চা-এর দাম। অবশ্য বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ডিম ও মুরগির দাম স্থিতিশীল আছে।
বিক্রেতারা জানান, রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম ছিল ৬৫ টাকার আশপাশে, সেটি বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা। আর দামি মিনিকেট মোজাম্মেলের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বেড়ে ৮৫-৮৬ টাকা হয়েছে।
গতকাল ধরনভেদে দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে। সপ্তাহখানেক আগে যা ৩-৪ টাকা কম ছিল। আর আমদানি করা নাজিরশাইলের কেজি রাখা হচ্ছে ৭৫-৭৮ টাকা। গত সপ্তাহে এ চালের দাম ছিল কেজিতে ৭২-৭৫ টাকা।
অর্থনীতি
আকুর বিল পরিশোধের পর ৩২ বিলিয়নে নামলো রিজার্ভ
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের আমদানি বিল পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের ৩২ বিলিয়ন ডলারের নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫৩ কোটি ৫২ লাখ ডলার ডলারের সমপরিমাণ অর্থ আকুকে পরিশোধ করার পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের ইতিহাসে ২০২২ সালের আগস্টে রিজার্ভ উঠেছিল সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারে। এর পর আওয়ামী সরকারের সহায়তায় কয়েকটি ব্যক্তি ও গোষ্ঠি ব্যাপকভাবে অর্থ পাচার করতে থাকে। যার কারণে রিজার্ভে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। প্রতি মাসে রিজার্ভ কমতে–কমতে সরকার পতনের আগে ২০২৪ সালের জুলাই শেষে তা ২০ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি না করে অর্থ পাচার রোধে কঠোর হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে হুন্ডি বন্ধ হওয়ায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যায়। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বাড়তে থাকে। যার ফলে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের মেয়াদোত্তীর্ণ বকেয়া পরিশোধ করার পরও গ্রহণযোগ্য অবস্থায় রয়েছে রিজার্ভ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। এরপর সর্বশেষ ৭ জানুয়ারি দিন শেষে গ্রস রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩৩ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার।
এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা সবসময় প্রকাশ করা হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য নিট রিজার্ভ ২৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রয়েছে।
প্রতি মাসে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার করে এ রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে ৪ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে। একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম সূচক হলো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ।
অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের শুল্ক কমানোর প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। এ ছাড়া তিনি সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রকে পারস্পরিক শুল্ক ২০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দেন খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে।
এ প্রেক্ষাপটে খলিলুর রহমান বর্তমান ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কহার কমানোর প্রস্তাব দেন। রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার এ প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি পোশাক পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কমানো বা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাবও তিনি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার কথা জানান।
উভয় পক্ষ বাকি থাকা কয়েকটি বিষয় দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি করে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি চূড়ান্ত ও কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়।
খলিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী দিনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করতে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের সহায়তা কামনা করেন।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি (ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন) তহবিলে প্রবেশাধিকারের অনুরোধ জানান। রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার এ বিষয়ে তার প্রচেষ্টার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। ইউএসটিআরের পক্ষে সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডান লিঞ্চসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ড. খলিলুর রহমান আগামীকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।




