জাতীয়
ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তাব করেছি: আসিফ নজরুল
আইপিএলের নিলামে দল পেলেও কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে। এ ঘটনায় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপের খেলাগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করার অনুরোধ জানাতে বিসিবিকে নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশে আইপিএলের খেলা সম্প্রচার বন্ধের পদক্ষেপ নিতে তথ্য উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল লেখেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে নতি স্বীকার করে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
‘ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী (উপদেষ্টা) হিসেবে আমি ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে বলেছি তারা যেন আইসিসির কাছে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করে লিখে। বোর্ড যেন জানিয়ে দেয় যে যেখানে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ভারতে খেলতে পারেন না, সেখানে বাংলাদেশের গোটা ক্রিকেট টিম বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিরাপদ মনে করতে পারে না। বোর্ড থেকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত করার অনুরোধ জানানোর নির্দেশনাও আমি দিয়েছি।’
সরকারের এ উপদেষ্টা আরও লেখেন, আমি তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রীকে (উপদেষ্টা) অনুরোধ করেছি বাংলাদেশে আইপিএল খেলার সম্প্রচারও যেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমরা কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটার ও বাংলাদেশকে অবমাননা মেনে নেবো না। গোলামীর দিন শেষ!
জাতীয়
মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল শুরু আজ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আজ (৫ জানুয়ারি) থেকে আপিল দায়ের করা যাবে। আগামী ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংক্ষুদ্ধ কোনো প্রার্থী বা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোনো সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অথবা প্রার্থী কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি ইসিতে আপিল দায়ের করতে পারবেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে আপিল দায়ের সংক্রান্ত ১০টি বুথ
১নং বুথে খুলনা অঞ্চলের জেলা: মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা।
২নং বুথে রাজশাহী অঞ্চলের জেলা: জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা।
৩নং বুথে রংপুর অঞ্চলের জেলা: পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা।
৪নং বুথে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেলা: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান।
৫নং বুথে কুমিল্লা অঞ্চলের জেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুর।
৬নং বুথে সিলেট অঞ্চলের জেলা: সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ।
৭নং বুথে ঢাকা অঞ্চলের জেলা: টাংগাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ।
৮ নং বুথে ময়মনসিংহ অঞ্চলের জেলা : জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা।
৯নং বুথে বরিশাল অঞ্চলের জেলা: বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ।
১০নং বুথে ফরিদপুর অঞ্চলের জেলা: রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর এবং শরীয়তপুর জেলার মনোনায়নপত্র বাতিল ও গ্রহণ আদেশের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল দায়ের করা যাবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে রাতে সারা দেশে কতগুলো মনোনয়নপত্র বৈধ এবং কতগুলো বাতিল হয়েছে তা প্রকাশ করা হবে।
ইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ কোনো প্রার্থী বা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোনো সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অথবা প্রার্থী কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল দায়ের করতে পারবেন।
যেভাবে আপিল দায়ের করতে হবে
» মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল : আপিল আবেদন কমিশন সচিবালয়ের সচিবের নিকট নির্ধারিত ফরমেটে দায়ের করতে হবে।
» আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ সম্বলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে।
» আপিল আবেদনের ১টি মূলকপিসহ সর্বমোট ৭ টি কপি দাখিল করতে হবে।
» আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনের আপিল আবেদন গ্রহণ সংক্রান্ত কেন্দ্রে স্ব স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে।
» আপিল আবেদন ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে দাখিল করতে হবে।
» আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপি পেতে নির্ধারিত ফরম-এ আবেদন দাখিল করতে হবে। ওই ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ হতে সংগ্রহ করা যাবে। আপিল দায়েরকারী অথবা আপিল দায়েরকারীর পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
আপিল নিষ্পত্তি: মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত আপিলসমূহ নির্বাচন কমিশন আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করবে।
নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুসরণ: সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী বা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি এবং সরকারী সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুসরণ করতে হবে।’
জাতীয়
ভোরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের ধিং এলাকায়। এর কেন্দ্রস্থল ছিল মাটির ৩৫ কিলোমিটার গভীরে।
ভূকম্পনের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই পোস্ট করেন। সিলেট নগরী ও আশপাশে কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর মধ্যরাতে সিলেটে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই দিন রাত ২টা ২০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথমবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর ২টা ২৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে দ্বিতীয়বার ভূমিকম্প হয়।
জাতীয়
সারাদেশের বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করলো ইসি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই কার্যক্রম শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যাচাই শেষে প্রাথমিকভাবে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে জমা পড়া মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে মোট ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়। ইসি জানায়, এবারের নির্বাচনে মোট ৩ হাজার ৪০৬টি মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছিল। এসব মনোনয়নপত্রের মাধ্যমে ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অঞ্চলভিত্তিক যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফল নিম্নরূপ—
ঢাকা অঞ্চল: বৈধ মনোনয়ন ৩০৯টি, বাতিল ১৩৩টি
চট্টগ্রাম অঞ্চল: বৈধ ১৩৮টি, বাতিল ৫৬টি
রাজশাহী অঞ্চল: বৈধ ১৮৫টি, বাতিল ৭৪টি
খুলনা অঞ্চল: বৈধ ১৯৬টি, বাতিল ৭৯টি
বরিশাল অঞ্চল: বৈধ ১৩১টি, বাতিল ৩১টি
সিলেট অঞ্চল: বৈধ ১১০টি, বাতিল ৩৬টি
ময়মনসিংহ অঞ্চল: বৈধ ১৯৯টি, বাতিল ১১২টি
কুমিল্লা অঞ্চল: বৈধ ২৫৯টি, বাতিল ৯৭টি
রংপুর অঞ্চল: বৈধ ২১৯টি, বাতিল ৫৯টি
ফরিদপুর অঞ্চল: বৈধ ৯৬টি, বাতিল ৪৬টি
সব মিলিয়ে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় মোট ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
বিশেষ পরিস্থিতি
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্যে আরও জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১—এই তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আপিলের সুযোগ
ইসি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত এই ফলাফলের বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থীর আপত্তি থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে, ফলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।
এমকে
জাতীয়
গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল: কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি। কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, বলপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। তারা বলেন, আমরা যে ডেটা পেয়েছি তা দিয়ে প্রমাণিত যে এটি পলিটিক্যালি মোটিভেটেড ক্রাইম।
রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন।
এসময় কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেনসহ উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।
কমিশনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, মোট ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ গুম তদন্ত কমিশনে জমা পড়ে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।
এখনো অনেকে অভিযোগ নিয়ে আসছেন জানিয়ে কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, ‘গুমের সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার হতে পারে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের মাধ্যমে আরও ভিকটিমের খোঁজ পাওয়া যায় যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আমাদের সম্পর্কে জানেন না কিংবা অন্য দেশে চলে গেছেন। এমন অনেকেই আছে যাদের সঙ্গে আমরা নিজ থেকে যোগাযোগ করলেও তারা অনরেকর্ড কথা বলতে রাজি হননি।’
প্রতিবেদন থেকে কমিশন জানায়, গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যারা জীবিত ফিরেছেন তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। যারা এখনো নিখোঁজ তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।
হাই প্রোফাইল গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই মামলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান।
কমিশনের সদস্যরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজে অনেকগুলো গুমের ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা। তাছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতে রেন্ডিশনের (আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গোপনে হস্তান্তর) যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে এটি স্পষ্ট হয় যে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই এগুলো হয়েছে।
অক্লান্ত পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের জন্য গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। জাতির পক্ষ থেকে আমি এই কমিশনের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা যে ঘটনা বর্ণনা করলেন, পৈশাচিক বলে যে শব্দ আছে বাংলায়, এককথায় বললে এ ঘটনাগুলোকে সেই শব্দ দিয়েই বর্ণনা করা যায়। এই নৃশংস ঘটনার মধ্যদিয়ে যারা গেছেন, আপনারাও তাদের সঙ্গে কথা বলার মধ্যদিয়ে, তাদের অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে সেই নৃশংস ঘটনাগুলো দেখেছেন। দৃঢ় মনোবল ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন করা যেতো না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে গণতন্ত্রের লেবাস পরে মানুষের ওপর কী পৈশাচিক আচরণ করা যেতে পারে সেটার ডকুমেন্টেশন এই রিপোর্ট। মানুষ কত নিচে নামতে পারে, কত পৈশাচিক হতে পারে, কত বিভৎস হতে পারে- এটা তার ডকুমেন্টেশন। যারা এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়েছে তারা আমাদের মতোই মানুষ। নৃশংসতম ঘটনা ঘটিয়ে তারা সমাজে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। জাতি হিসেবে এ ধরনের নৃশংসতা থেকে আমাদের চিরতরে বের হয়ে আসতে হবে। এই নৃশংসতা যেন আর ফিরতে না পারে সেই প্রতিকারের পথ খুঁজে বের করতে হবে।
রিপোর্টগুলো সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া কমিশনকে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা ও ভবিষ্যতের করণীয় পেশ করার বিষয়েও নির্দেশ দেন তিনি।
এছাড়া আয়নাঘরের পাশাপাশি যেসব জায়গায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে সে জায়গাগুলো ম্যাপিং করতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
কমিশন জানায়, তদন্ত অনুযায়ী বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে। শত শত গুমের শিকার ব্যক্তিকে হত্যা করে এই নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জেও লাশ গুম করে ফেলার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে।
প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যরা। প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ় অবস্থান ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন হতো না উল্লেখ করে তারা বলেন, আপনি দৃঢ় ছিলেন বলেই আমরা পেরেছি। আপনি সবসময় আমাদের যা কিছু প্রয়োজন ছিল সেই সহায়তা দিয়েছেন। আপনিই আমাদের মনোবল দৃঢ় করেছেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন করে এ কাজগুলো এগিয়ে নিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আহ্বান জানান এবং ভিকটিমদের সুরক্ষা নিশ্চিতের ব্যাপারে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন।
এমকে
জাতীয়
ভোটের আগে ও পরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সিল করে রাখা হবে: ইসি সানাউল্লাহ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরের কয়েকদিন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সিল করে রাখা হবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ভোটের সময় রোহিঙ্গারা যেন কোনভাবেই মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতে না পারে এবং তাদের যেন অপরাধে কেউ ব্যবহার করতে না পারে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল’ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ নির্বাচন ভালো করতে না পারলে তার পরিণতি সবাইকে ভোগ করতে হবে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকে যৌথবাহিনীর অপারেশন শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ অভিযানের মূল লক্ষ্য হবে তিনটি- অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও নির্বাচনী আচরণবিধির বড় ধরনের ব্যতয় থাকলে সেটিকে এড্রেস করা।
মিন মিন করে নির্বাচন করা যাবে না উল্লেখ করে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, এই নির্বাচনে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই। কেউ ক্ষুব্ধ হলে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন। গায়ের জোরে কিছু হবে না।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় কক্সবাজারে নিয়োজিত বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমকে



