জাতীয়
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আজ থেকে দেশব্যাপী ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে আগামী ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। এই সময়ে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতে সহযোগিতা চাইতে সরকার, রাজনৈতিক দল ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের কাছে যাবেন সংগঠনটির সদস্যরা।
একইসঙ্গে, আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে হাদির খুনি ও খুনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দাখিল করার দাবিও জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। তা না হলে ৭ জানুয়ারির পর থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। ২২ কর্মদিবসের মধ্যে বিচার না করলে সরকার পতনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন সংগঠনটির নেতারা।
এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন।
এসময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, আপনাদের সঙ্গে যদি কেউ বৈঠক করতে আসে, আপনারা অবশ্যই বৈঠক করবেন। কিন্তু সেই বৈঠক হতে হবে ওপেন। কোনো সিক্রেট বৈঠক নাই। দিল্লির সঙ্গে আমাদের কোনো গোপন বৈঠক চলবে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তিন পাশ থেকে ভারতীয় আধিপত্যবাদ, যার কারণে আমরা ভারতীয় আধিপত্যের বিপক্ষে কথা বলি। এখন যদি আমেরিকা বাংলাদেশে আধিপত্যবাদ খাটাইতে চায়, আমরা কি আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বলব না? আমরা কি কারো কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব দিয়ে দিব? না, দেব না। আমাদের এই লড়াইটা কেবল শুরু।
ওসমান হাদির আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব বলেন, ওসমান হাদি আমাদের এই লড়াইয়ের পথটা দেখিয়ে গেছেন। এখন আমাদের সেই অনুযায়ী সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের কথা একটাই, বাংলাদেশের সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমরা এই লড়াইটা করব, ইনশাআল্লা
জাতীয়
৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির তথ্য কোথা থেকে এলো, পুলিশ-মিডিয়া কেউ জানে না!
গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে গাজীপুরে যৌথ অভিযানে তাহরিমা জান্নাত সুরভী নামে এক তরুণীকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার পর ৫ জানুয়ারি আদালত তাকে জামিন দিলে তিনি মুক্ত হোন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকায় সুরভীকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে অনেকে চেনেন।
গবেষণামূলক অনুসন্ধানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সুরভীকে গ্রেফতারের খবরটি দেশের শীর্ষ স্থানীয় মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিত হয় এবং বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যম ওইদিন জানায় যে, সুরভীর একটি চাঁদাবাজ চক্র আছে এবং “চক্রটি ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে”।
পরবর্তী সময়ে যখন সুরভীকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে সেটির এজাহার সামনে আসে তখন দেখা যায়, তাতে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির কোন অভিযোগ সুরভী বা তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নেই।
এজাহারে কী বলা হয়েছে, তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেফতার করা হয় গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় গত ২৬ নভেম্বর দায়ের করা একটি মামলায়। মামলাটি করেছেন সুরভীর পরিচিত সাংবাদিক নাইমুর রহমান দুর্জয়, যিনি ঢাকার একটি সংবাদমাধ্যমে মোজো রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত।
নাইমুর রহমান দুর্জয়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন “সংবাদ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার কথা বলে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাইমুর রহমান দুর্জয়কে গাজীপুরের চান্দরা চৌরাস্তা এলাকায় ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কালিয়াকৈরের সফিপুর এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর করে আটকে রাখা হয় এবং তার মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।”
এজাহারে আরও উল্লেখ আছে, মৃত্যুর হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৪৪,৭০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়। এছাড়া তাকে জোরপূর্বক ইয়াবা ব্যবসার স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
নাইমুর রহমান দুর্জয় বলেছেন, তিনি ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ করেননি; সুরভীর বিরুদ্ধে তার সকল অভিযোগ তার মামলার এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে।
পুলিশও ৫০ কোটির তথ্যের সূত্র জানে না
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, তারা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করেননি। নাইমুর রহমান দুর্জয় করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ৪৪,৭০০ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির কথা বলা আছে। কিন্তু এই টাকা তারা আদায় করতে পারেনি।
“৫০ কোটি টাকার তথ্য মিডিয়া কোথা থেকে পেল তা আমরা জানি না। পুলিশ এ ধরনের কোনো তথ্য দেয়নি। আমরা তাকে শুধু দুর্জয়ের করা মামলায় গ্রেফতার করেছি”, বলেছে ওসি নাসির উদ্দিন।
সুরভীর বিরুদ্ধে অন্য কোন মামলায় ৫০ কোটি টাকা চাাঁবাজির অভিযোগ আছে কিনা– প্রশ্ন করা হলে ওসি জানান, অন্য কোন মামলার তথ্য তার কাছে নেই।
৫০ কোটি টাকার খবরটি যেভাবে এসেছে: একটি টাইমলাইন
দ্য ডিসেন্ট অনুসন্ধান করে দেখার চেষ্টা করেছে কীভাবে এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেশের শীর্ষ স্থানীয় বহু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলো। এজন্য প্রথমে অনলাইনে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্য ডিসেন্ট আলোচ্য সংবাদটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার একটি টাইমলাইন তৈরি করেছে। পরবর্তীতে বেশ কিছু সংবাদামাধ্যম তাদের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ঘোষণা ছাড়া সংশোধন এবং সরিয়ে ফেলায় কিছু প্রতিবেদন এই টাইমলাইন থেকে বাদ পড়েও থাকতে পারে।
সুরভীকে গ্রেফতার করা হয় ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে। অনলাইনে খুঁজে গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রথম সংবাদটি পাওয়া গেছে বাংলাদেশ বুলেটিন নামের একটি ওয়েবসাইটে। ওই রাতে ভোর ৩টা ৫৪ মিনিটে (২৫ ডিসেম্বর) “আলোচিত সেই জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা গ্রেফতার” শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বাংলাদেশ বুলেটিন। রিপোর্টার হিসেবে ‘টঙ্গী প্রতিনিধি’ লেখা রয়েছে।
প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়েছে, “ব্ল্যাকমেইল, মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ রাতে গাজীপুরের টঙ্গীর নিজ বাসা থেকে তাহরিমাকে গ্রেফতার করা হয়।”
এরপর আরও লেখা হয়েছে, “সম্প্রতি গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছে জুলাই আন্দোলনের মামলার ভয় দেখিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এই চক্রের মূল নেতৃত্বে ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ভাইরাল জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা। তদন্তে আরও জানা গেছে, এই চক্রটি ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে।”
লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এই প্রতিবেদনে সুরভীকে গ্রেফতারের তথ্য এবং একাধিক ছবি ব্যবহার করা হলেও এসব তথ্যের কোন সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
পুরো প্রতিবেদনে ‘সূত্র’ বলতে তিনবার নামহীন সুত্রের কথা লেখা হয়েছে। সেগুলো হলো: “তদন্তে আরও জানা গেছে”, “অভিযোগ সূত্রে জানা যায়” এবং “অভিযোগ রয়েছে”।
যেসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে থেকে সুরভী এবং তার চক্র ‘টাকা হাতিয়েছেন’ তাদেরও কোন নাম পরিচয়ও উল্লেখ করা হয়নি।
এরপর এই খবরের দ্বিতীয় প্রকাশকারী হিসেবে পাওয়া গেছে বাংলাদেশ টাইমস নামে একটি অনলাইন পোর্টালকে। তারা ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটে ‘মোজো ডেস্ক’ উল্লেখ করে হুবহু শিরোনামসহ বাংলাদেশ বুলেটিন এর রিপোর্টটি প্রকাশ করে।
একই প্রতিবেদনের তৃতীয় প্রকাশকারী হিসেবে পাওয়া গেছে অনলাইন পোর্টাল বার্তা বাজার’কে। এই পোর্টালটি সকাল ৭টায় “৫০ কোটি টাকার মামলাবাণিজ্য ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, গ্রেফতার আলোচিত জুলাইযোদ্ধা সুরভী” শিরোনামে ‘ডেস্ক রিপোর্ট’ উল্লেখ করে হবহু ওই রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে।
এর প্রায় দেড় ঘন্টা পরে, সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে দৈনিক কালের কণ্ঠে ‘অনলাইন ডেস্ক’ “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে কথিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ সুরভী গ্রেফতার” শিরোনামে বাংলাদেশ বুলেটিনের ওই প্রতিবেদনটি প্রায় হুবহু প্রকাশ করা হয়। তবে কয়েক জায়গায় বাক্য কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। দ্য ডিসেন্ট এর সার্চে প্রাপ্ত তথ্য মতে, কালের কণ্ঠ এই প্রতিবেদনের চতুর্থতম প্রকাশকারী।
এই চারটি সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের এই প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেছে দ্য ডিসেন্ট।
প্রথম প্রকাশকারী ৪ সংবাদমাধ্যমের রহস্যজনক সূত্র
বাংলাদেশ বুলেটিন এর ম্যানেজিং এডিটর সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বুধবার দুপুর একটায় ফোনে কথা বলেন দ্য ডিসেন্ট এর প্রতিনিধি। তখন জনাব সাখাওয়াত জানান, এই রিপোর্ট সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
“আমাদের এখানে চারটি মিডিয়া আছে। আমি চারটিরই দায়িত্বে আছি। আমরা রিপোর্টারের ওপর নির্ভর করি। তারা যা পাঠায় সেটাই প্রকাশ করি। আমি রিপোর্টারের সঙ্গে কথা বলব, পরে আপনাকে জানাতে পারব”, বলেন সাখাওয়াত।
কখন জানাবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “রাত আটটার পরে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা রিপোর্টারের সঙ্গে ফোনে কথা বলি না। অফিসে আসলে কথা বলব।”
এরপর বুধবার সন্ধ্যায় আবার ফোন করে সাখাওয়াত হোসেনের কাছে তাদের এই প্রতিবেদনের রিপোর্টার ‘টঙ্গী প্রতিনিধি’র নাম ও যোগাযোগ নম্বর চাওয়া হয়। তখন তিনি জানান, তাদের কোন টঙ্গী প্রতিনিধি নেই।
তাহলে ‘টঙ্গী প্রতিনিধি’র নামে খবরটি প্রকাশ করা হলো কেন, এমন প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, ‘এটা ডেস্ক থেকে কেউ করেছে।’
এরপর তিনি আরও জানান, প্রকৃতপক্ষে খবরটি তারা দৈনিক কালের কণ্ঠ থেকে কপি করেছেন।
যদিও ওয়েবসাইটে প্রদত্ত সময় অনুযায়ী, বাংলাদেশ বুলেটিনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে রাত ৩টা ৫৪ মিনিটে আর কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন তার প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে প্রকাশিত হয়েছে।
নিজের বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে জনাব সাখাওয়াত কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেইজে শেয়ার করা এ সংক্রান্ত একটি ফটোকার্ডে স্ক্রিনশট এবং সেটি যে মোবাইলে নেয়া হয়েছে সেটির মেটাডাটার স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন।
দ্য ডিসেন্ট কালের কণ্ঠের ওই ফটোকার্ডটি তাদের ফেসবুক পেইজে খুঁজে পেয়েছে যেটি পোস্ট করা হয়েছে ২৫ ডিসেম্বর ভোর রাত ২টা ১০ মিনিটে। তবে ফটোকার্ডে যে শিরোনাম রয়েছে তাতে সুরভীর গ্রেফতারের তথ্য থাকলেও ‘৫০ কোটি টাকার’ কথা নেই। এবং কালের কণ্ঠের ফটোকার্ডে ‘বিস্তারিত লিংকে’ লেখা থাকলেও কমেন্ট সেকশনে ওয়েবসাইটের কোন লিংক পাওয়া যায়নি। কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটেও ফটোকার্ডে উল্লিখিত শিরোনামের কোন প্রতিবেদনও পাওয়া যায়নি। হতে পারে, এরকম শিরোনামের প্রতিবেদন করে পরে ডিলিট করা হয়েছে। ডিলিট করা হয়ে থাকলে তাতে ‘৫০ কোটি টাকার’ প্রসঙ্গ ছিল কিনা তা যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে কালের কন্ঠের প্রতিবেদন থেকে বাংলাদেশ বুলেটিন কপি করেছে কিনা তাও নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
কালের কণ্ঠের অনলাইনে দায়িত্বরত একাধিকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, ওই রাতের শিফটে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি এখন আর পত্রিকাটিতে চারকিরত নেই। ফলে, তারা এই শিরোনামের কোন প্রতিবেদন কেন এখন নেই তার ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না।
অনলাইনে থাকা প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বুলেটিন-ই প্রথম ৫০ কোটি প্রসঙ্গ নিয়ে রিপোর্ট করে বলে পাওয়া যাচ্ছে। এবং কালের কণ্ঠ পরবর্তীতে তাদের প্রতিবেদনটিই যে, কপি করে নতুন করে প্রকাশ করেছে সেটিও প্রমাণিত।
৫০ কোটি চাঁদাবাজির খবরটি বাংলাদেশ টাইমস কোথা থেকে পেয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির মোজো এডিটর সাব্বির আহমেদ বলেন “আমার এই নিউজ সম্পর্কে জানা নেই। আপনি যদি আমার কাছে নিউজের লিঙ্ক দিতে পারেন, আমি খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব।”
পরবর্তীতে নিউজের লিংক পাঠানোর তিনি জানান, তারা তথ্যটি বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকা থেকে নিয়েছেন। যদিও বাংলাদেশ টাইমস এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বুলেটিন এর ক্রেডিট দেয়া ছিল না।
বার্তা বাজার খবরটি কোথায় পেয়েছে প্রশ্ন করলে পোর্টালটি সম্পাদক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমরা নিউজটি বাংলাদেশ টাইমস থেকে কপি করেছি। এই ধরনের নিউজগুলো যখন আমরা অন্যদের থেকে সংগ্রহ করি, তখন ডেস্ক রিপোর্ট হিসেবে উল্লেখ করি।”
৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির তথ্য যুক্ত যে প্রতিবেদনটি কালের কণ্ঠ ২৫ তারিখ সকাল ৮টা ২৮মিনিটে প্রকাশ করেছে সেটির সূত্র কী জানতে চাইলে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী বলেন, “আমি এই রিপোর্ট সম্পর্কে কিছু জানি না। খোঁজ নিতে হবে, তারপর আপনাকে জানাতে পারব।”
এর কিছুক্ষণ পর কালের কণ্ঠের অনলাইনে কর্মরত একজন প্রতিবেদকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, তারা প্রতিবেদনটি বার্তা বাজার থেকে সংগ্রহ করেছেন।
তবে অন্য একটি অনলাইন পোর্টাল থেকে খবর নিয়ে কোন প্রকার যাচাই এবং ক্রেডিট উল্লেখ করা ছাড়াই তা প্রকাশের বিষয়ে জানতে হায়দার আলীর সঙ্গে পরবর্তীতে যোগাযোগ করলে তিনি সাড়া দেননি।
অন্যান্য সংবাদমাধ্যমগুলো যেভাবে প্রকাশ করেছে এই খবর
কালের কণ্ঠের পরে ৯টা ১০ মিনিটে ‘নিজস্ব প্রতিবেদক’ এর বরাতে “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘জুলাইযোদ্ধা’ সুরভী গ্রেফতার” শিরোনামে খবরটি প্রকাশ করে বাংলা ভিশন। ‘নিজস্ব প্রতিবেদক’ এর বরাত দেয়া হলেও প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ বুলেটিন এর প্রতিবেদনের হুবহু কপি-পেস্ট; শুধু কয়েকটি বাক্য আগ-পিছ করা হয়েছে।
এরপর ৯টা ৩৫ মিনিটে ‘গাজীপুর প্রতিনিধি’ এর বরাতে খবরটি প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউন। “জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী গ্রেফতার” শিরোনামের ভেতরে ৫০ কোটি চাঁদাবাজির তথ্য বাংলাদেশ বুলেটিনে যেভাবে ছিল সেভাবেই হাজির করা হয়েছে। বাকি প্যারাগুলোও একই রকম। শুধু এখানে একটি সূত্র যুক্ত করা হয়েছে, “টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান” বলে।
বাংলা ট্রিবিউনের গাজীপুর প্রতিনিধি রায়হানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৫০ কোটির তথ্যটি তাকে জানানি টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান। অন্য কোন সাংবাদিকের কাছ থেকে জেনে তিনি ওসির বরাতে এটি লিখেছিলেন। এখন আর ওই সাংবাদিকের নাম মনে নেই।
২৫ ডিসেম্বর ১০টা ৩ মিনিটে দৈনিক ইত্তেফাক ‘ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট’ এর বরাতে খবরটি প্রকাশ করে শিরোনাম দেয়, “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ সুরভী গ্রেপ্তার”।
১০টা ৫৩ মিনিটে দৈনিক যুগান্তর ‘যুগান্তর প্রতিবেদন, গাজীপুর’ এর বরাতে শিরোনাম করে “কথিত জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা গ্রেফতার, ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি”।
১০টা ৫৩ মিনিটে দেশ রূপান্তরও ডেস্ক এর বরাতে শিরোনাম করেছে, “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ, আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ সুরভী গ্রেপ্তার”।
১০টা ৫৪ মিনিটে আরটিভি অনলাইনে ‘আরটিভি নিউজ’ এর বরাতে “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ ‘জুলাইযোদ্ধা’ সুরভীর বিরুদ্ধে, আরও যা জানা গেল” শিরোনামে খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিকাল ৩টা ৬ মিনিটে ‘টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি’ উল্লেখ করে দৈনিক সমকাল তাদের ওয়েবসাইটে ও পরে মাল্টিমিডিয়া স্টোরি প্রকাশ করে। শিরোনাম ছিল, “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ কথিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা গ্রেপ্তার।”
যেহেতু ‘টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি’ দেয়া আছে, তাই সমকালের টঙ্গী প্রতিনিধি মুসার সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, এই তথ্য তাকে কেউ বলেনি। মুসা বলেন, “খালি আমি নই তো। আরও অনেক সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে।”
এছাড়া চ্যানেল আই অনলাইন, ডিবিসি নিউজ, কালবেলা, জাগো নিউজ সহ আরও বেশ কিছু গণমাধ্যম এই নিউজ প্রকাশ করে। সবার এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্যারাগুলো প্রায় হুবহু মিলে যায়। সূত্রগুলোও সব জায়গায়ই নাম পরিচয়হীন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সমকালের অনলাইন সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব।”
এরপর কল করা হলে তিনি জানান, রিপোর্টটি প্রতিনিধির তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই সংশোধন করা হয়েছে।
এ ছাড়াও বাংলাভিশনের হেড অফ নিউজ আব্দুল হাই সিদ্দিক বলেন, “আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। অনলাইন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।”
দ্য ডিসেন্ট বাংলাভিশনের অনলাইনে দায়িত্বে থাকা কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
যুগান্তরের অনলাইন শিফট ইনচার্জ আতাউর রহমান বলেছেন, খবরটি আমাদের দৃষ্টিতে আসার পর তাতে গরমিল আছে বলে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা সংশোধনী দেব।
ইত্তেফাকের অনলাইন সম্পাদক সহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পাওয়া যায়নি।
দ্য ডিসেন্ট এই প্রতিবেদক কর্তৃক যোগাযোগের পর বাংলাদেশ বুলেটিন, সমকালসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম তাদের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদগুলো সরিয়ে নিয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সংশোধনী নোটিশও দিয়েছেন।
জাতীয়
১০ হাজার কোটি টাকা দিয়েও আমাকে কেনা সম্ভব নয়: ডিসি সারওয়ার
সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা এমএ মালিকের মনোনয়ন বৈধ করে দিতে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন ডিসি সারওয়ার আলম।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই দাবি করেন।
সারওয়ার আলম বলেন, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে আমি ১ টাকাও ঘুষ নিয়েছি, তাহলে আমি স্বেচ্ছায় আমার চাকরি ছেড়ে দেবো এবং যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবো। ১০ কোটি নয়, ১০ হাজার কোটি টাকা দিয়েও সারওয়ার আলমকে কেনা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি নির্দিষ্ট মহল সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে। এই ধরনের অপপ্রচারে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন সে আহ্বান জানান তিনি।
ডিসি আরও বলেন, যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের ভুয়া সংবাদ ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সবাইকে গুজবে কান না দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমার কাজের ধরন ও জীবনযাপন সম্পর্কে আপনারা সবাই কমবেশি জানেন। তাই আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ শুধু মিথ্যাই নয়, অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত।
সবশেষে তিনি একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সবার সহযোগিতা কামনা করেন
এমকে
জাতীয়
ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা যেন ফিরে না আসে, সেজন্যই গণভোট: আলী রীয়াজ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশ যাতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় আর ফিরে না যায়, সে জন্যই এবারের গণভোট।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, গণভোট বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের ১৭ হাজার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীর জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে আজ অধ্যাপক আলী রীয়াজ এ কথা বলেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং আওতাধীন সব দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা ভার্চুয়ালি এই সভায় অংশ নেন।
বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটের এই সুযোগ আগামী ৫ বছর বা ১০ বছরে আর আসবে না। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, তা ঠিক করে দেওয়ার এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশের যে কয়টি মন্ত্রণালয়ের উপজেলা-ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে জনবল আছে, তাদের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় অন্যতম।
তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে আপনাদের যে যোগাযোগ আছে, তার মধ্য দিয়ে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গণভোট-সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও বিগত ১৬ বছরের সংগ্রামে হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তারা প্রাণ দিয়ে আমাদের এই দায়িত্ব দিয়ে গেছেন—এমন ব্যবস্থা করার, যেন আমরা আগের সেই অবস্থায় ফিরে না যাই।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, গণভোটকে আপনারা মানুষের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করুন। মানুষের কাছে যেন বিষয়টি সহজবোধ্য হয়, সে জন্য গণভোটকে হ্যাঁ-না ভোট হিসেবে উপস্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি।
পাশাপাশি গণভোটের ফলে কী কী পরিবর্তন আসবে, তা সময় নিয়ে মানুষকে বুঝিয়ে বলার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।
গত ৫৪ বছরেও এই অতি সাধারণ আকাঙ্ক্ষা পূরণে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরের শাসন ও জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা সবাই উপলব্ধি করেছি যে, এই শাসন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।
আগামীতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা আবার যেন ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
এ সময় তিনি গণভোট বিষয়ে জনমত সৃষ্টির জন্য প্রস্তুতকৃত লিফলেটের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো কর্মকর্তাদের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে মন্ত্রণালয় ও দপ্তর-সংস্থাগুলো ড্রপ-ডাউন ব্যানার স্থাপন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লিফলেট প্রস্তুত ও বিতরণ, কৃষি তথ্য সার্ভিসের মোবাইল ভ্যান ও আঞ্চলিক রেডিও সেন্টার থেকে প্রচার, প্রকল্প এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টিতে সভা-সমাবেশ আয়োজনের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের ২৪/৭ হটলাইন সার্ভিস গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করবে।
এমকে
জাতীয়
নির্বাচন ও গণভোট দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—দুটিই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি প্রধান উপদেষ্টা সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও বাংলাদেশের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি (কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট) নিয়ে আলোচনা শিগগিরই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন ইইউ।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি (পিসিএ) নিয়ে চলমান আলোচনা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট, অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
পাওলা পাম্পালোনি বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর সাধারণ অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় সম্পর্ক পরিচালনার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অধ্যাপক ইউনূস যে ‘অসাধারণ ও ব্যাপক’ সংস্কারমূলক কাজ করেছেন, তার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান পাওলা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে এসব সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন তিনি।
ইইউ কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্কারের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখা গেছে, তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং প্রশংসা করেছে। তিনি পিসিএ চুক্তিতে অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই চুক্তি দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় সুযোগ তৈরি করবে।
জবাবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত ১৭ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারকে ইইউর ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পিসিএ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি, যা বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।
পাওলা পাম্পালোনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইইউ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এরই প্রতিফলন হিসেবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ একটি উচ্চপর্যায়ের বড় নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জানান, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশে আসবেন এবং রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বৈরশাসনের কারণে গত ১৬ বছর মানুষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এবার মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে।
পাওলা পাম্পালোনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সফল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পর বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যা ঢাকা ও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক জোটের মধ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সমর্থন দিয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তারা প্রচার চালাবে বলে তার বিশ্বাস। আমি মনে করি না কোনো দল ‘না’ ভোটের পক্ষে যাবে।
সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
জাতীয়
তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন, ইইউ পর্যবেক্ষক দল পাঠানোসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে এ সময় আলোচনা হয়েছে।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকের পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, এবার অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে বলেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থনই ব্যক্ত হয়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়েই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তারা কথা বলতে এসেছিলেন। খুব ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার আসবে, তাদের অধিকতর সহযোগিতা দেবে ইইউ। গত কয়েকটি নির্বাচনে তারা কোনো পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। ইইউ বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। নির্বাচন কেমন হতে যাচ্ছে, বিএনপির ভূমিকা কেমন থাকবে এবং নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের উন্নয়নের ব্যাপারে কী ভাবনা-চিন্তা, তা জানতে চেয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই নির্বাচন দ্রুত করার দাবিটি মূলত বিএপির ছিল। নির্ধারিত তারিখেই শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিএনপির যে প্রতিশ্রুতি, এটা তিনি পুর্নব্যক্ত করেছেন।
সাক্ষাতের সময় নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
এমকে




