জাতীয়
দিল্লি থেকে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে জরুরি ঢাকায় তলব
নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জরুরিভিত্তিতে ঢাকায় ডেকে এনেছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। ডাক পেয়ে সোমবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান তিনি।
হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর ঢাকা ফেরার তথ্য নিশ্চিত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তৃত ধারণা পেতে বাংলাদেশ দূতকে জরুরি ডেকে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক পর্যালোচনায় সোমবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের মধ্যে একদফা আলোচনা হয়েছে। আজকালের মধ্যে তারা দিল্লি ফেরত হাইকমিশনারকে নিয়ে বসতে পারেন।
সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ও ময়মনসিংহে পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ভারতে থাকা বাংলাদেশের মিশনগুলোতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা। সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রে হামলা করেছে হিন্দুত্ববাদী তিনটি সংগঠন। এরপর ভিসা কেন্দ্রটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া, বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও দিল্লিতে দুই দেশের হাইকমিশনারদের পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দেশ দুবার করে পরস্পরের কূটনীতিককে তলব করে নানা ইস্যুতে প্রতিবাদ আর উদ্বেগ জানিয়েছে। সবশেষ, গত ২৩ ডিসেম্বর দিনের শুরুতে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। এর জের ধরে এদিন বিকেলে দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে। একই দিনে দুই দেশের দূতকে পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে এটাই প্রথম।
এমকে
জাতীয়
৯ তারিখ নয়, স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হবে ১৬ এপ্রিল
রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের সময় এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৯ এপ্রিল এর পরিবর্তে আগামী ১৬ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হতে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানটি অনিবার্য কারণবশত ৯ এপ্রিলের (বৃহস্পতিবার) পরিবর্তে আগামী ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।
পুনর্নির্ধারিত তারিখের জন্য নতুন করে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হবে না। ৯ এপ্রিলের (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠানের জন্য পাঠানো আমন্ত্রণপত্র নিয়ে পুনর্নির্ধারিত তারিখের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা যাবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া (মরণোত্তর), সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ (মরণোত্তর), সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেতসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন। গত ৫ মার্চ মন্ত্রিসভা বৈঠকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত হয়।
জাতীয়
গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অন্তর্ভুক্ত করে সংসদে বিল পাস
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারের পথ প্রশস্ত করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে গুমকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বিল পাসের আগে এর উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিলের মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য গুমকে একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছি। যারা বলছেন আমরা গুমের বিচার চাচ্ছি না, তাদের বলবো-এই আইনটা ভালো করে পড়ে দেখবেন।
গুম আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের তালিকায় ছিল না। আমরা তা অন্তর্ভুক্ত করে বিচারের ব্যাপারে আমাদের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বাইরে গুমের বিচার করার ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছাকে অনেকে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন। এই সরকার গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, তা এই বিলের মাধ্যমে পুরো সংসদ ও দেশবাসীকে অবহিত করলাম।
বিলটি পাসের পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে তখন আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করব। এখানে এই ব্যাপারে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।’
আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মন্ত্রী, বাইরে কত লোক কত কথা বলে। আপনি সংসদের আলোচনা ও সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের মধ্যে আপনার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। বাইরের কথা শোনার প্রয়োজন এখানে সংসদীয় আইনে নেই। বিধি অনুযায়ী যেটুকু করতে হবে সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি।’
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস অ্যাক্ট-এর অধিকতর সংশোধন কল্পে এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিলটি পাসের মধ্য দিয়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয়
‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন ২০২৬’ সংসদে পাস
জেল-জরিমানার বিধান করে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিনে বিলটি উত্থাপন করেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১০ম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের রায়ে জলাভূমি সুরক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন দ্রুত প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। উচ্চ আদালতের রায় কার্যকর এবং জলাভূমি সুরক্ষা, সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য সংসদে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন ২০২৬’ বিল আনা হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিস্তৃত হাওর ও জলাভূমি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি হাওরকে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন এবং কৃষি সম্প্রসারণের আওতায় আনার উদ্দেশে ১৯৭৭ সালে ‘হাওর উন্নয়ন বোর্ড’ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার পর হাওর অঞ্চলের অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদীপথে বাধা সৃষ্টি, বিষ ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পর্যটনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলার জন্য আইনি কাঠামোর অপ্রতুলতা অনুভূত হয়।
বিবৃতিতে আরো জনানো হয়, সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালে বেলার করা রিট পিটিশনের রায়ে হাইকোর্ট জলাভূমি সুরক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন দ্রুত প্রণয়নের নির্দেশ দেন।
এ প্রেক্ষাপটে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং হাওর ও জলাভূমি এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রের সংরক্ষণের জন্য ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন, ২০২৬’ বিলটি আইনে পরিণত করা প্রয়োজন।
আইনের বিধান লঙ্ঘনে দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে উভয় দণ্ডের অতিরিক্ত দণ্ড হবে না।
জাতীয়
আলটিমেটাম দেয়ার জায়গা রাজপথ, সংসদ নয়: জামায়াত এমপিকে স্পিকার
জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলামকে উদ্দেশ্যে করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আল্টিমেটাম দেয়ার জায়গা রাজপথ, সংসদ নয়। উত্থাপিত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য আলাপ হচ্ছে এখানে।
মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এসব কথা বলেন স্পিকার।
এর আগে ভোলায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেফতার করার ঘটনায় নিন্দা জানান দলের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম।
অফিস চলাকালীনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তির দাবি জানান তিনি ।
তারও আগে সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলের কর্মী সাওদা সুমির সঙ্গে নিকৃষ্ট আচরণ নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা দিচ্ছে।
ওই পোস্টে জামায়াত আমির লেখেছেন, জামায়াতকর্মী সাওদা সুমির সঙ্গে যে নিকৃষ্ট আচরণ করা হয়েছে তা নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা দিচ্ছে। ফ্যাসিবাদীরা সব যুগেই নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য প্রতিবাদী জনগণের কণ্ঠ নির্লজ্জ ও নিষ্ঠুরভাবে স্তব্ধ করতে চায়। পরিণতিতে তাদের কণ্ঠই স্তব্ধ হয়ে যায়।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘জানি না, অন্তরে যারা ফ্যাসিবাদ লালন করে, তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেবে কী না। লজ্জা, লজ্জা!’
রোববার ৫ এপ্রিল রাতে নিজ বাসা থেকে জামায়াত কর্মী সাওদা সুমিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। জামায়াতের এ নারী কর্মীর গ্রেফতার ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
এদিকে ভোলার পৌরসভা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সাওদাকে রাতের বেলা নিজ বাসা থেকে গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক এই সংগঠনটি এই ঘটনাকে অমানবিক ও অনভিপ্রেত হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে ওই নারীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল। তিনি এই গ্রেফতারকে গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থি বলে অভিহিত করেছেন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিবি সাওদাকে তার নিজ বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যায়। গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী থেকে ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ’ থাকার কথা বলা হয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া একজন নারীকে গভীর রাতে গ্রেফতারে এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
জাতীয়
মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী
মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে সরকার। সে লক্ষ্যে শহর ও গ্রামে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (০৬ এপ্রিল) ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে ৭ এপ্রিল, ২০২৬ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উদযাপিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’।
তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ— এই তিনটি উপাদান পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এদের নিরাপত্তা এবং সুস্থতা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। এজন্য সব প্রাণের সুরক্ষা আজ সময়ের দাবি। এটাই ‘One Health’ বা ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণা, যা মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার চারপাশের প্রাণিকূল ও পরিবেশের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সমান তাগিদ দেয়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানকে সমন্বিত করে গবেষণা ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতি স্বাস্থ্যসেবায় অভূতপূর্ব সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আমাদের দেশে প্রান্তিক অঞ্চল ও দরিদ্র বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই, মানসম্পন্ন ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা প্রদানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কিংবা মেশিন লার্নিং (এমএল)-এর মতো প্রযুক্তির উদ্ভাবন, ব্যবহার ও প্রসারকে উৎসাহিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিশ্বাস করে ‘Prevention is Better than Cure’, অর্থাৎ ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’। নির্বাচিত এই সরকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির ভিত্তিতে উন্নত কল্যাণকামী রাষ্ট্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার আলোকে সকলের জন্য সহজ ও সুলভ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কারণ, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
তারেক রহমান বলেন, মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে সরকার। সেই লক্ষ্যে শহর ও গ্রামে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী বা হেলথ কেয়ারার নিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ হবেন নারী। এছাড়া প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড, দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা চালু করা, স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান উন্নয়ন ও চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, স্বাস্থ্যবিমা চালু ও ধীরে ধীরে বিস্তার, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার এবং সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতার জন্য ন্যায়সঙ্গত আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে পালন করলে আমরা একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে সক্ষম হব। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।



