অন্যান্য
নজরুলের সেকাল-হাদির একাল, জাতির পরকাল
ঢাকার কেন্দ্রেই কাজী নজরুল ইসলামের কবর। বিদ্রোহী কবি, যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতাকেও অপরাধ বলে চিহ্নিত করেছিলেন। তাঁর কবরের পাশেই আজ শুয়ে আছেন ওসমান হাদি। ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক এক নাগরিক কণ্ঠ, যিনি জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে সত্য বলা এখনো বিপজ্জনক।
এই দুটি কবর পাশাপাশি থাকা কেবল ভৌগোলিক ঘটনা নয়। এটি আমাদের সময়ের এক গভীর নৈতিক প্রতীক। যেন নজরুলের অগ্নিবাণী ইতিহাস পেরিয়ে এসে ওসমান হাদির নীরব সমাধির মাধ্যমে আজও প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি।
নজরুলের কবরের পাশে এক নীরব প্রশ্ন।
আজকের বাংলাদেশ এক গভীর নৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতি আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর শিরায় শিরায় ঢুকে পড়েছে। দলীয় রাজনীতি ন্যায়ের বোধকে গ্রাস করেছে। মতভিন্নতা শত্রুতায় রূপ নিয়েছে। অন্যের প্রতি সম্মান যেন ক্রমেই অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে। এই অবস্থায় সবচেয়ে ভয়ংকর ক্ষতি অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিকও নয়। সবচেয়ে ভয়ংকর ক্ষতি হলো নৈতিক আত্মসমালোচনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা।
এমন সময়ে কুরআনের একটি ছোট কিন্তু গভীর দোয়া আমাদের সামনে আয়নার মতো দাঁড়ায়। রব্বানা’গফির লি ওয়া লিওয়ালিদাইয়া ওয়া লিল মু’মিনীনা ইয়াওমা ইয়াকূমুল হিসাব।
এই দোয়ায় প্রথমেই বলা হয় হে আমাদের পালনকর্তা, আমাকে ক্ষমা করো, আমার পিতামাতাকে ক্ষমা করো, এবং সমস্ত মুমিনদের সেই দিনে ক্ষমা করো যখন হিসাব নেওয়া হবে।
অন্যকে, দোষারোপ করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করার এই সাহসটুকুই আজ আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত। আমরা সবাই যেন অন্যের ভুল গুনতে ব্যস্ত, কিন্তু নিজের দায় স্বীকার করতে অনীহা।
রবীন্দ্রনাথ বহু আগেই সতর্ক করেছিলেন যে নিজের চোখে ধুলো দেয়, সে অন্যের চোখে আলো দেখতে পায় না।
রাষ্ট্র যখন নিজের চোখে ধুলো দেয়, তখন অন্যায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
এরপর আসে বাবা মায়ের কথা। নৈতিক উত্তরাধিকার, কৃতজ্ঞতা এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক। বাবা মায়ের প্রতি সম্মান মানে কেবল পারিবারিক কর্তব্য নয়। এর অর্থ শিক্ষক, প্রবীণ, ভিন্নমতাবলম্বী এবং সর্বোপরি মানুষের জীবনের প্রতি সম্মান। আজকের বাংলাদেশে এই সম্মানের ভাঙন স্পষ্ট। আর যেখানে সম্মান থাকে না, সেখানে সহিংসতা ঢুকতে বেশি সময় লাগে না।
নজরুলের সময়েও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা নিষেধ ছিল। ব্রিটিশ শাসনের চোখে বিদ্রোহ ছিল অপরাধ। কবিতা ছিল ভয়। কলম ছিল হুমকি। নজরুল জেল খেটেছেন, তাঁর লেখা বন্ধ করা হয়েছে, তাঁর কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা হয়েছে। তবু তিনি চুপ করেননি। কারণ তিনি জানতেন চুপ থাকাই সবচেয়ে বড় অপরাধ।
ওসমান হাদির সময়েও সেই নিষেধাজ্ঞা রয়ে গেছে। শাসনের রং বদলেছে, ভাষা বদলেছে, কিন্তু ভয় দেখানোর চরিত্র বদলায়নি। এখন আর কবিকে জেলে নেওয়া হয় না। এখন সত্য বলা নাগরিককে একা করে দেওয়া হয়। ভয় দেখানো হয়। একসময় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ওসমান হাদির নির্মম হত্যা এই ভাঙনেরই ফল। তিনি কোনো দলের মুখপাত্র ছিলেন না। ছিলেন না ক্ষমতার অংশ। তিনি ছিলেন ন্যায়ের পক্ষে সবার জন্য কথা বলা এক অবিচল কণ্ঠ। তাঁকে হত্যা করা মানে কেবল একজন মানুষকে হত্যা করা নয়। এটি ছিল সত্য বলার সাহসকে হত্যা করা।
আরও বেদনাদায়ক সত্য হলো আজ পর্যন্ত তাঁর হত্যাকারীরা এবং হত্যার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীরা আইনের মুখোমুখি হয়নি। এই বিচারহীনতা কেবল রাষ্ট্রের ব্যর্থতা নয়। এটি আমাদের সমষ্টিগত নীরবতার ফল।
এখানেই নজরুলের সেই অমোঘ উচ্চারণ নতুন করে ধ্বনিত হয়। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।
এই পংক্তির তাৎপর্য আজ আরও গভীর। কারণ ন্যায়ের পক্ষে নিহত ওসমান হাদি চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন নজরুলের কবরের পাশেই। যেন বিদ্রোহী কবির উত্তরাধিকার নীরবে এক নাগরিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
হাদির হত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া এক নীরব নাটকের পরিণতি। যেখানে সত্য বলা ধীরে ধীরে অপরাধে পরিণত হয়। আর অন্যায়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই নিরাপদ জীবন হিসেবে শেখানো হয়।
আজ সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো হাদি নেই, কিন্তু তাঁর হত্যার বিচার নেই। এই বিচারহীনতাই বলে দেয় অন্যায় থেমে নেই। অন্যায় তার নিজের গতিতে চলছে। অন্যায়ের মৃত্যু নেই। মৃত্যু আছে কেবল প্রতিবাদের।
এই কারণেই নজরুল ঘুমিয়ে আছেন শান্ত হয়ে। তিনি জানতেন তাঁর বিদ্রোহ শেষ কথা নয়। তার পাশে আজ ঘুমিয়ে আছেন হাদি। কবি নন, রাজনীতিক নন, একজন সাধারণ মানুষ, যিনি অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি।
এই পাশাপাশি শুয়ে থাকা আমাদের জন্য কোনো গৌরব নয়। এটি আমাদের ব্যর্থতার স্মারক। আমরা প্রতিবাদীদের কবর দিতে শিখেছি, কিন্তু তাদের দাবিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারিনি।
এই প্রশ্নের উত্তর কেবল স্মরণে থাকলে চলবে না। কারণ স্মরণ জাতিকে বদলায় না, বদলায় দায়িত্ববোধ। জাতির মাইন্ডসেট বদলাতে হলে প্রথমেই ভাঙতে হবে বিচারহীনতার নিশ্চিন্ত সংস্কৃতি। মানুষ তখনই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, যখন সে জানে অন্যায় করলে রেহাই নেই।
রাষ্ট্রের পরিকাঠামো নতুন করে গড়ার অর্থ নতুন ভবন বা নতুন নাম নয়। এর অর্থ এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে একজন সাধারণ নাগরিকের জীবন রাষ্ট্রের কাছে ক্ষমতাবানের চেয়েও কম মূল্যবান হবে না। যেখানে হত্যা মানে শুধু একটি ফাইল নয়, বরং রাষ্ট্রের জন্য একটি অস্বস্তিকর ব্যর্থতা।
জবাবদিহিতা তখনই বাস্তব হয়, যখন ক্ষমতা জানে প্রশ্ন আসবেই। তদন্ত থামানো যাবে না, বিচার ঝুলিয়ে রাখা যাবে না, আর নীরবতাকে স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। আইন যদি দুর্বল হয়, তবে তা ইচ্ছাকৃত দুর্বলতা। সেই দুর্বলতা দূর না করলে অন্যায় থামে না, শুধু পদ্ধতি বদলায়।
ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা যত কথাই বলি, তা নৈতিক উচ্চারণের বাইরে যায় না। বিচারই হলো সেই জায়গা, যেখানে রাষ্ট্র প্রমাণ করে সে কোন পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে। ন্যায়ের পক্ষে, না সুবিধার পক্ষে।
নজরুল অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, যখন কথা বলা নিষিদ্ধ ছিল। হাদি কথা বলেছিলেন, যখন কথা বলা বিপজ্জনক ছিল। দুজনই প্রমাণ করেছেন সময় বদলায়, কিন্তু অন্যায় বদলায় না যদি তাকে থামানো না হয়।
নজরুল ঘুমিয়ে আছেন শান্ত। তার পাশে হাদিও ঘুমিয়ে আছেন। এখন আর প্রশ্ন নয়, এখন পরীক্ষা। এই জাতি কি শুধু তাদের কবরকে সম্মান করবে। নাকি তাদের অসমাপ্ত দায়িত্বটুকু নিজের কাঁধে নেবে।
রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। rahman.mridha@gmail.com
অন্যান্য
ঝিনাইদহে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত একাধিক
ঝিনাইদহে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ৮ জন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মাধবপুর গ্রামে শুক্রবার জামায়াতের মহিলা শাখার পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হয়। দুপুরে ইফতারের আয়োজন নিয়ে নারী কর্মীদের সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাগবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে মহিলা কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সাথে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামছুল আরেফিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এমএন
অন্যান্য
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা দেখে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ
কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিছানায় ছারপোকা, নিম্ন মানের খাবার পরিবেশন ও বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
রোববার (৮ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আকস্মিকভাবে হাসপাতালটিতে যান। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আক্ষেপ করে বললেন, কতজন ডাক্তার অনুপস্থিত তা সরেজমিনে এসেও তিনি জানতে পারলেন না।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কতজন ডাক্তার অনুপস্থিত তা এখন পর্যন্ত জানতে পারলাম না। আমি নিজে এসেও তা জানত পারছি না। হাসপাতালের পরিচালকের অদক্ষতা এসব অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হাসপাতালের বিছানাপত্র নিয়ে সমস্যা পাওয়া গেছে। সেখানে ছারপোকার সমস্যা মারাত্মক। খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ডাক্তার সময় মতো আসছেন না।
এই হাসপাতালের সবচেয়ে নেতৃত্বের সংকট বড় সমস্যা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বড় সমস্যা হলো দেশের সর্বোচ্চ মানসিক হাসপাতাল হওয়ার পরও লিডারশিপ সঙ্কট আছে এখানে। অব্যবস্থাপনা আছে। দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য বলেছি।
বেশিরভাগ অভিযোগ মেনে নিয়ে দোষ স্বীকার করলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান।
কয়েক দিনের মধ্যে আবারও হাসপাতালটি পরিদর্শনের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তখন কোনো অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্তা নেয়া হবে।
এমএন
অন্যান্য
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ১২টি জরুরি নির্দেশনা দিলো সরকার
বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাকে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি জরুরি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
উপসচিব তানিয়া আফরোজের সই করা এই নির্দেশনায় কর্মকর্তাদের জন্য ১২টি বিশেষ করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হলো:
১. দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার পরিহার করতে হবে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
২. বিদ্যমান ব্যবহৃত আলোর অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইটের ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
৩. অফিস চলাকালীন প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে।
৪. এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অবশ্যই ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখতে হবে।
৫. অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
৬. অফিসের করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুম ইত্যাদি স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৭. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে।
৮. অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যেমন: লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ও এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
৯. যাবতীয় আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে।
১০. সরকারি গাড়ির ব্যবহার সীমিত করতে হবে।
১১. জ্বালানি তেল ও গ্যাস ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী ও মিতব্যয়ী হতে হবে।
১২. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বৈশ্বিক এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এমএন
অন্যান্য
ইবি শিক্ষিকাকে খুন, আত্মা হত্যার চেষ্টা কর্মচারীর
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে কর্মচারী কর্তৃক নিজ অফিসে গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় একই বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রক্টর।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪ টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় উভয়কে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরে আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরএমও ডা. ইমাম হোসাইন।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, হত্যাকারী ফজলু আগে সমাজ কল্যাণ বিভাগের কর্মচারী ছিল। পরবর্তীতে তার কিছু অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে বিভাগীয় প্রধান তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদল করে। বদল করার আগে তাকে তিন-চারবার সুযোগ দেওয়া হয় কিন্তু তার আচরণ পরিবর্তন না হওয়ায় অবশেষে তাকে বদলি করে দিতে বাধ্য হয়। হত্যাকারী ফজলুর রহমান তার এ ট্রান্সফারটা মেনে নিতে না পেরে বিভাগের সভাপতিকে বারবার অনুরোধ করে তার অনুষদে আবার ফিরে আনার কিন্তু সভাপতি (মৃত শিক্ষিকা) রাজি হয়নি। এজন্য তার এই ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সে বিভাগীয় সভাপতিকে হত্যা করা হয়েছে ধারণা করা হয়।
ভবনের দায়িত্বরত আনসার সদস্য বলেন, আমি নিচে ছিলাম তখন তিন-চারবার বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনতে পাই। পাশে কয়েকজন ছাত্র ছিল। তাদের সাথে উপরে কী অবস্থা দেখার জন্য গেলাম। পৌঁছে দেখি দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বারবার দরজা খুলতে বলা সত্বেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় একজন চেয়ারে দাঁড়িয়ে ছিদ্র দিয়ে রুমের অবস্থা দেখে বললো ভিতরে খুন হয়েছে। ৬ জন মিলে দরজা ভেঙে দেখি ম্যাডাম নিচে উপুড় হয়ে পড়ে আছে। আর হত্যাকারী নিজের গলায় ছুরি বসিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছে।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তার গলা, হাতে পায়ে ছুরির আঘাতের ক্ষত পাওয়া গেছে।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ঐ কক্ষ থেকে দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল পাঠাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত্যু ঘোষণা করেন। আরেকজন ওটিতে চিকিৎসাধীন আছেন।
এদিকে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনা কীভাবে ঘটেছে সে ব্যাপারে পরে জানানো হবে।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠালে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আজকের এ ঘটনা অত্যন্ত অকল্পনীয় ও অপ্রত্যাশিত। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় অবশ্যই বিচার করা হবে।
এমএন/এমএসএ
অন্যান্য
পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার মায়ের মৃত্যু
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতার মা হুরন নাহার রশিদ মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
রোববার (১ মার্চ) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী মরহুম হারুনার রশীদ খান মুন্নুর সহধর্মিণী ও মুন্নু গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান হুরন নাহার রশিদ দীর্ঘদিন থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। সম্প্রতি স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রোববার ভোরে মারা যান।
মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়ে ও তিন নাতি রেখে যান। তার বড় মেয়ে আফরোজা খানম রিতা বর্তমানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির দায়িত্বে রয়েছেন। আর ছোট মেয়ে ফিরোজা মাহমুদ ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মো. আব্দুল আউয়াল বুলবুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গুলশানের আজাদ মসজিদে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর তার মরদেহ মানিকগঞ্জের মুন্নু সিটিতে নেয়া হবে। সেখানে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
মরহুমার স্বামী সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কবরের পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
এমএন




