গণমাধ্যম
পাঠকদের উদ্দেশে প্রথম আলোর বার্তা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর গতকাল রাতে দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজ প্রকাশিত হয়নি ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেইলি স্টার’ পত্রিকা।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ।
প্রথম আলোর আলনাইন ওয়েবসাইটে জানানো হয়, বিগত রাতে প্রথম আলোর কার্যালয় ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হওয়ায় আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আজ প্রথম আলো ছাপা পত্রিকা প্রকাশ করা যায়নি।
এতে আরও বলা হয়, পাঠকদের কাছে এ জন্য আমরা আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। যতটা দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত কারিগরি ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করে প্রথম আলোর অনলাইন ও পত্রিকার প্রকাশ শুরু করা হবে। এ বিষয়ে পাঠকদের সহযোগিতাও প্রার্থনা করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠান দুটিতে আগুন দেওয়া হয়।
এদিকে, জনপ্রিয় পত্রিকা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এরপর প্রায় ১০ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার পর দেখা যায় প্রথম আলো কার্যালয়ের কার্যক্রম সমাপ্ত করেছে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। তবে যে কোনো ঝুঁকি এড়াতে আরেকটি ইউনিট এখনো ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
প্রথম আলো কার্যালয়ের গিয়ে দেখা যায়, আগুনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। সকাল থেকে ভবনের ভেতরে ধোঁয়ার দেখা মিললেও এখন আর তেমন নেই। আশপাশের ভবনেও আগুন ছড়িয়ে পড়েনি। তবে আগুন দেওয়া ভবনটির নিচতলায় প্রথমা প্রকাশনের কার্যালয় ছিল। আগুনে এ কার্যালয় পুরোপুরি পুড়ে গেছে।
এমকে
গণমাধ্যম
নতুন সরকারপ্রধান কিছু অসাধারণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন : মাসুদ কামাল
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেছেন, ‘আমাদের নতুন সরকারপ্রধান কিছু অসাধারণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমার কাছে যেটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে এই সিদ্ধান্তগুলো তিনি প্রথমে নিজের ওপর প্রয়োগ করছেন। যেমন—উনি যখন পথে চলাফেরা করেন, ওনার বাসা থেকে যখন অফিসে আসবেন, সেসময় কোনো সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না। নিজের গাড়ি ব্যবহার করছেন।
সেই গাড়ির যে জ্বালানি সেটাও নিজের টাকায় কিনছেন।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে মাসুদ কামাল এসব কথা বলেন।
মাসুদ কামাল বলেন, আগে আমরা দেখতাম প্রধানমন্ত্রী যখন যাতায়াত করতেন তখন ১৪ থেকে ১৫টা গাড়ির একটা বহর থাকতো। আগে পিছে নিরাপত্তা অনেক রকম ব্যাপার ছিল।
উনি বলেছেন যে, এত গাড়ি আমার সঙ্গে যাওয়ার দরকার নেই। সব মিলিয়ে বহর কমিয়ে এখন চারটায় নামিয়ে আনা হয়েছে। উনি আরো বলেছেন যে, ওনার গাড়িতে সব সময় জাতীয় পতাকা থাকারও দরকার নেই। যখন রাষ্ট্রীয় কোনো অনুষ্ঠানে যাবেন কেবল তখনই জাতীয় পতাকা থাকবে।
মাসুদ বলেন, ‘উনি যখন ক্যাবিনেট মিটিং করেন তখন এই মিটিংগুলো আগে হতো ওনার কার্যালয়ে। সব মন্ত্রীরা ওনার ওখানে আসতেন। এখন এতগুলো মন্ত্রী আসতে গেলে ভিআইপি চলাচল হতো। ভিআইপি চলাচলের কারণে যানজট হতে পারে। এই জন্য উনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, এখন থেকে ক্যাবিনেট মিটিংটা সচিবালয়ে যেয়েই করবেন। উনি একাই যাবেন। আর কারো আসার দরকার নেই।
মাসুদ কামাল আরো বলেন, এগুলো করলে বিশাল কিছু হয়ে যাবে, দেশের খুব উন্নতি হয়ে যাবে, অর্থনীতিতে উন্নতি হবে—বিষয়গুলো এমন না। কিন্তু এর সিম্বলিক একটা প্রভাব আছে। একটা প্রতিকী প্রভাব আছে। দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তি যিনি আছেন—সরকারপ্রধান তিনি ইচ্ছা করলে অনেক কিছুই করতে পারেন। তাদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষমতার প্রয়োগের পরিবর্তে উনি যেগুলো করছেন সেগুলো একটা উদাহরণ তৈরি করছে।
এমএন
গণমাধ্যম
নতুন সরকারের প্ল্যানের বাস্তবায়ন ধীরে ধীরে দেখতে চাই : মাসুদ কামাল
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেছেন, নতুন সরকারের প্ল্যানের বাস্তবায়ন ধীরে ধীরে দেখতে চাই। নতুন সরকার যে যাত্রা শুরু করলো কেমন হলো তাদের যাত্রাটা? তাদের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিং হলো সেখানে ৫০ জন মন্ত্রী বসেছিলেন তারেক রহমান সহ। আরো ১০ জন উপদেষ্টা ছিলেন, একসঙ্গে সবাই মিলে একটা মিটিং করেছেন।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেন।
মাসুদ আরো বলেন, এই তিনটাই যে পবিত্র রমজান শুরু হচ্ছে এটাকে সামনে রেখে করা হয়েছে। রোজার সময় আমরা সবসময় দেখেছি জিনিপত্রের দাম বেড়ে যায়। এইজন্য এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলেছেন। কিছু কিছু জিনিস আছে প্রতি রমজানে দেখি যে, টাকা দিলেও পাওয়া যায় না। তাদের সরবরাহ যেন ঠিক থাকে সেদিকেও এই সরকার নজর দেবে।
এমএন
গণমাধ্যম
বায়তুল মোকাররমের খতীবসহ অনেক আলেম জানেন না তারা বিবৃতি দিয়েছেন
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীসহ ১০১ জন বিশিষ্ট আলেমের এক বিবৃতির ভিত্তিতে ‘জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট কোনো ইসলামি জোট নয়’ শীর্ষক একটি খবর মূলধারার একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ‘দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশ’ নামক একটি সংগঠনের প্যাডে প্রচার সম্পাদক মাহদী হাসান বিবৃতিটি পাঠিয়েছেন।
বিবৃতির শেষে ১০০ জন আলেমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলে, আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী (মহাপরিচালক, বাবুনগর মাদরাসা, চট্টগ্রাম), আল্লামা খলিল আহমাদ কুরাইশী (মহাপরিচালক, হাটহাজারী মাদ্রাসা), আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা আব্দুল মালেক (জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব) প্রমুখ।
তবে বিবৃতির খবর সংবাদমাধ্যমে আসার পর কয়েকজন আলেম ফেসবুকে নিজেদের প্রোফাইল বা তাদের পরিচালিত মাদ্রাসার পেইজ থেকে জানান যে, আলোচ্য বিবৃতিতে তাদের নাম থাকলেও তারা এবিষয়ে কিছুই জানেন না।
ফেসবুকে এমন একাধিক পোস্টের প্রেক্ষিতে বিবৃতিতে নাম আছে এমন কয়েকজন আলেমের সাথে যোগাযোগ করে জানার চেষ্টা করেছে তারা বিবৃতিটির বিষয়ে জানেন কিনা। আট জন আলেমের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দিলে পাঁচজনের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়েছে। তারা সবাই বলেছেন তারা বিবৃতির বিষয়ে জানেন না। বাকি তিনজনকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকের নাম রয়েছে বিবৃতিতে ১৩ নম্বরে। তাঁর ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল করে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মাওলানা জহিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই বিবৃতির ব্যাপারে খতিব সাহেব কিছুই জানেন না। তিনি বিবৃতিতে নাম দেননি।
২২ নম্বরে নাম থাকা মুফতি ফয়জুল্লাহ্ সন্দীপি বলেছেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে হবে।
৪৮ নম্বরে নাম থাকা মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ বলেন, এটা যে ইসলামী জোট না আমরা আগেই বলেছি। তবে এই বিবৃতিতে আমি নাম দিইনি।
৪৯ নম্বরে নাম থাকা মাওলানা আহমদ মায়মুন বলেছেন, এই বিবৃতিতে আমার নাম কিভাবে এলো সেটি জানা নেই।
৭৮ নম্বরে নাম থাকা মুফতি আনওয়ারুল হক বলেন, আমি কোনো আলেমের বিপক্ষে কখনোই বিবৃতি দিতে পারি না। এখানে আমার নাম না জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি এগুলোর সাথে একমত নই।
কয়েকজন আলেমের ফেসবুক পোস্ট
বিবৃতির খবর সংবাদমাধ্যমে আসার পর কয়েকজন আলেমের পক্ষ থেকে ফেসবুকে পোস্ট করে জানানো হয় যে, তারা এই বিবৃতির বিষয়ে কিছু জানেন না।
যেমন, বিবৃতির ৭ নম্বরে নাম থাকা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুকের ভাতিজা ওয়ালিদ আল হামিদী তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, কমিবেশি ১০ দল নিয়ে যে নির্বাচনী সমোঝতা বা জোট যেটাই হচ্ছে এটা ইসলাম ভিত্তিক নয় মর্মে ১০১ আলেমের বিবৃতির সংবাদ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। উক্ত বিবৃতি যারা দিয়েছেন তন্মধ্যে প্রথম সারিতে রাখা হয়েছে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের আমীর বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন আমার চাচা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক হামিদী বর্ণভী হাফিঃ কে। এটা দেখেই কেমন যেন খটকা লাগলো। কারণ আমাদের পরিবারে বড়রা আমাদেরকে মতভেদ আর দলাদলি পায়ের নিচে ফেলে হাঁটতে শিখিয়েছেন।ব্যক্তিগত মতামত থাকতে পারে, কিন্তু সেটাকে কেন্দ্র করে বিভক্তিমূলক স্টেইটমেন্ট আসবেই না। আমি এটা দেখে তথ্যটা ভেরিফাই করার চেষ্টা করলাম। উনার ছেলে আমার চাচাতো ভাইয়েরা আমাকে জানিয়েছেন চাচা এরকম কোনো স্টেইটমেন্ট দেননি। দলবাজির জন্য মানুষ কতটা যে নিচে নামতে পারে। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে তৎপর। এজন্য প্রায় সময় বলি এদেশের মানুষেরা নিজের সমর্থিত দলকে যেভাবে প্রায়োরিটি দেয় সেভাবে যদি দ্বীনকে প্রায়োরিটি দিত তবে অনক সহজে জান্নাতী হওয়া যেত এবং দেশে দ্বীন কায়েম সহজ হয়ে যেত। তবে হ্যাঁ! আমি মনে করি- এ নির্বাচনী সমোঝতা বা জোট যা ই বলেন এটার ভিত্তি ইসলাম নাকি কী এটা পরিস্কার থাকা দরকার। জোট যেটা হচ্ছে প্রথমে এটা ইসলামী জোট হিসেবে পরিচিতি পেলেও এনসিপি আসার পর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন স্টেইটমেন্ট দেখা যাচ্ছে। আমি চাই স্টেইটমেন্ট এভাবে আসুকঃ ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর নির্বাচনী সমোঝতা বা জোট। যেটার বেইজ থাকবে ইসলাম।
এছাড়াও ৫৯ নম্বরে থাকা মাওলানা আতাউল হক জালালাবাদীর ছেলে আরিফুল হক জালালাবাদী তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট শরিয়া-ভিত্তিক কোনো ইসলামী জোট নয়: দেশের শীর্ষ ১০১ আলেমের বিবৃতি—শিরোনামে একটি সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। ডেইলি ইনকিলাবেও আসছে। দেশের শীর্ষ ১০১ আলেমের বিবৃতির মধ্যে ৫৯ নম্বরে আব্বাজান মাওলানা আতাউল হক জালালাবাদী হাফিযাহুল্লাহ-এর নাম দেয়া হয়েছে। এটি একটি মিথ্যা প্রচারণা। আমি আব্বাজানকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন— আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
বিবৃতিতে ৬১ নম্বরে জামেয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া শামীমাবাদ সিলেটের মুহতামিম হাফিয মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদ-এর নাম দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার নামও তার অজ্ঞাতসারে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জামিয়া শামীমাবাদ সিলেট এর ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়েছে।
জামেয়া শামীমাবাদ সিলেট নামে একটি ফেসবুক পেইজের পোস্টে বলা হয়েছে, দেশের শীর্ষ ১০১ আলেমের বিবৃতির মধ্যে ৬১ নম্বরে জামেয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া শামীমাবাদ সিলেটের মুহতামিম হাফিয মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদ-এর নাম দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে হযরত মুহতামিম সাহেব হুজুরকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এটি একটি মিথ্যা প্রচারণা। ব্যক্তিগতভাবে কিংবা লোক মারফতে আমার নাম প্রদান কিংবা উল্লিখিত বক্তব্যের ব্যাপারে আমার কোনো অবগতি নেই। আমার অজ্ঞাতে এবং কোনো ধরণের সম্মতি ব্যতিত এমন মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অতএব প্রকাশিত সংবাদের ব্যাপারে কাউকে বিভ্রান্ত না হবার আহ্বান জানানো যাচ্ছে।
গণমাধ্যম
অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের সভাপতি হাসান শরীফ, সম্পাদক মিজান সোহেল
দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর অনলাইন ও ডিজিটাল বিভাগের প্রধানদের সংগঠন অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের (ওইএ) নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে দৈনিক যুগান্তরের হাসান শরীফকে সভাপতি এবং দৈনিক ভোরের কাগজের মিজানুর রহমান সোহেলকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরের ওয়াটারফল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) শেষে ২০২৬ সালের জন্য নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।
নতুন কমিটির সহসভাপতি হয়েছেন বার্তাযোগের লুৎফর রহমান হিমেল, জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কে এম জিয়াউল হক এবং আরটিভির এম এ এইচ এম কবির আহম্মেদ।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিবিসির কামরুল ইসলাম রুবেল ও দৈনিক কালের কণ্ঠের আনিসুর রহমান বুলবুল। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন এশিয়া পোস্টের পলাশ মাহমুদ এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক দৈনিক ইনকিলাবের এস এ রহমান গালিব। অর্থ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন স্টার নিউজের মঈন বকুল এবং অফিস সম্পাদক হয়েছেন দীপ্ত টিভির মাসউদ বিন আব্দুর রাজ্জাক।
কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শিয়াবুর রহমান শিহাব, আমার দেশের রওশন জামিল ও বার্তা২৪.কম-এর মানসুরা চামেলী।
এর আগে এজিএমে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি হাসান শরীফ। সভায় ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অর্থ সম্পাদক মঈন বকুল এবং বার্ষিক কার্যক্রম প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহেল। আলোচনা শেষে উভয় প্রতিবেদন সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়।
আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য ও ইউএনবির সম্পাদক মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স দেশের অনলাইন গণমাধ্যমের বিকাশ, নীতিমালা প্রণয়ন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আই-এর মীর আত্তাকী মাসরুরুজ্জামান, দৈনিক দেশ রূপান্তরের মঞ্জুরুল হক, দ্য ডেইলি স্টারের আজাদ বেগ, দৈনিক যুগান্তরের আতাউর রহমান ও রবিন অমিত, দৈনিক ইত্তেফাকের রিজুয়ানা রিন্তী, বৈশাখী টেলিভিশনের এইচ এম নাহিয়ান, নয়া দিগন্তের মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ ও মৌসুমী সুলতানা, সময় টেলিভিশনের সায়েদুল মাহমুদ, চ্যানেল ২৪-এর মাজহার খন্দকার, গাজী টেলিভিশনের মাহমুদ সোহেল, ডেইলি সানের মওদুদ সুজন, এখন টিভির আনিসুর সুমন, দৈনিক মানবকণ্ঠের ফরহাদ হোসেন ও তানভীর খন্দকার, জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এস এম আমানুর রহমান, আরটিভির আবু আজাদ, আলোকিত বাংলাদেশের হাসান আল বান্না, দৈনিক বাংলাদেশের খবরের হাসনাত কাদীর, জিটিভির মাহমুদ সোহেল, সময়ের আলোর সাইদ রহমান, এবং যুবরাজ ফয়সাল।
গণমাধ্যম
গোল্ডেন সিল্ক রোড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন দেশের ২৯ সাংবাদিক
চীন বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো ‘গোল্ডেন সিল্ক রোড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্ব ফুটিয়ে তোলার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার পেলেন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৯ জন সাংবাদিক।
বুধবার শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রতিটি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারীকে নগদ এক লাখ টাকা ও সনদ, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দুই জনকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও সনদ এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী তিন জনকে ৩০ হাজার টাকা করে এবং সনদ দেওয়া হয়। মোট পাঁচটি শ্রেণিতে দেওয়া হয় পুরস্কার।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওফেং, চায়না মিডিয়া গ্রুপ–সিএমজির বাংলা বিভাগের পরিচালক ইউ কুয়াং ইউয়ে আনন্দী, চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস এসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হান খুন, আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টারের প্রেসিডেন্ট চুয়াং লিফং। এছাড়া প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশিষ্টজনরা।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, গোল্ডেন সিল্ক রোড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস কেবল সেরা কাজের স্বীকৃতি নয়, বরং দুই দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। তথ্য ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান আমাদের দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে আরও গভীর করবে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ চর্চার মাধ্যমে আমাদের সাংবাদিকরা দুই দেশের উন্নয়ন ও জনজীবনের গল্পগুলো বিশ্বদরবারে তুলে ধরবেন।
বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, গোল্ডেন সিল্ক রোড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সংবাদমাধ্যম কেবল তথ্য সরবরাহ করে না, বরং দুই দেশের সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
পুরস্কার পেলেন যারা
৫টি ক্যাটাগরিতে জমা পড়া মনোনয়ন থেকে বছরের সেরা ২৯টি প্রতিবেদনকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বা সম্প্রচারিত প্রতিবেদনগুলোকে মনোনয়নের জন্য বিবেচনা করা হয়।
অর্থনীতি ও প্রযুক্তি বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন ডেইলি সানের মো. মুনির হোসেন, দ্বিতীয় হয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনের গোলাম মওলা এবং রূপালী বাংলাদেশের আব্দুর রহিম। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ডেইলি সানের রফিকুল ইসলাম, ঢাকা পোস্টের আব্দুর রহমান এবং ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের আসজাদুল কিবরিয়া।
খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন দৈনিক ভোরের কাগজের এস এম নাজমুল হক ইমন। দ্বিতীয় হয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনের তানজিম আহমেদ, সকাল সন্ধ্যার রাহেনুর ইসলাম। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ঢাকা পোস্টের জোবায়ের হোসেন, স্টার নিউজের ফাসিউর রহমান সিফাত এবং দৈনিক ইনকিলাবের কামরুল হাসান খান।
ভিজ্যুয়ালস শ্রেণিতে প্রথম হয়েছেন বিডিনিউজের মাহমুদ জামান অভি। দ্বিতীয় হয়েছেন সারাবাংলার হাবিবুর রহমান। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন আজকের পত্রিকার জাহিদুল ইসলাম সজল, নাগরিক প্রতিদিনের ওলিদ ইবনে শাহ এবং বিডিনিউজের মাসুম বিল্লাহ।
জেনারেল নিউজ ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছেন রূপালী বাংলাদেশের সেলিম আহমেদ। দ্বিতীয় হয়েছেন ডেইলি সানের মৌসুমি ইসলাম এবং কালের কণ্ঠের মোহাম্মদ শরীফুল আলম। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন জাগো নিউজের মফিজুল সাদিক, বিডিনিউজের জেসমিন মলি এবং যমুনা টিভির সালাউদ্দিন আহমেদ।
মিডিয়া ইনোভেশন বিভাগ প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন আরটিভির মো. ইমরুল হাসান। যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের রাশেদুর রহমান, ইনডিপেনডেন্ট টিভির ওয়ালিউল আলম বিশ্বাস এবং একই রিপোর্টের জন্য যৌথভাবে বাংলা ট্রিবিউনের আরশাদ আলী ও সুদীপ্ত নুরুল কবীর পুরস্কৃত।
অনুষ্ঠানে দীপ্ত টিভি, চ্যানেল ২৪, আরটিভি, বাংলাভিশন এবং রেডিও টুডেকে আউটস্ট্যান্ডিং পার্টনারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠাগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন সিএমজি বাংলা বিভাগের পরিচালক ইউ কুয়াং ইউয়ে আনন্দী।
এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ডিপ্লোম্যাটিক কারেসপন্ডেন্ট এসোসিয়েশন বাংলাদেশ, ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সিনে-জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশ, টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশন, অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স, বাংলাদেশ চায়না আপন মিডিয়া ক্লাবকে আউটস্ট্যান্ডিং অর্গানাইজেশন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন।
চীনা দূতাবাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে চায়না মিডিয়া গ্রুপের বাংলা বিভাগ। সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টার, চায়নিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ, ওভারসিজ চায়নিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ চায়না আপন মিডিয়া ক্লাব, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিক্যাব, ইআরএফ, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সিনে-জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশ, অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স।
জমকালো এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ঋতু রাজ, কানিজ খন্দকার মিতু, সাজিয়া সুলতানা পুতুল, লুইপা, ওয়েন্ডি লিউ এবং জেসন ওয়াং সংগীত পরিবেশন করেন। এ ছাড়া আগত অতিথিদের জন্য ছিল র্যাফেল ড্র। পুরস্কার হিসেবে ছিল চীনের জনপ্রিয় মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনরের স্মার্টফোন।
অনুষ্ঠানে সমপানী বক্তব্যে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, গোল্ডেন সিল্ক রোড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডসে আপনাদের সাথে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে আমি সকল বিজয়ী মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সাথে দুই দেশের সেই সকল মিডিয়া গ্রুপ ও বন্ধুদের ধন্যবাদ জানাই যারা দীর্ঘকাল ধরে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে সমর্থন দিয়ে আসছেন। মিডিয়া বিনিময় বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শেখার সুযোগ তৈরি করে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সংবাদ আদান-প্রদানের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। চীন-বাংলাদেশ মিডিয়া সহযোগিতা মানুষের জীবনযাত্রার প্রকৃত উন্নতি এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।




