জাতীয়
শঙ্কামুক্ত নন ওসমান হাদি, বিদেশে নেয়ার পরিকল্পনা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া হতে পারে।
রোববার সকালে হাদির পরিবার ও একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে ৭২ ঘণ্টা পর কাছের কোনো দেশে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের কথা বলা হচ্ছে।
ওসমান হাদির গুরুতর অসুস্থতার কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আশ্বাস দিয়েছেন চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে বিদেশে পাঠানো হবে। সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, যার জন্য তার পরিবার ও ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ সরকারের সাথে যোগাযোগ করেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর এভারকেয়ারে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও হাদি এখনও শঙ্কামুক্ত নন বলে জানা গেছে।
শনিবার রাত ১১টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এসময় সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, গুলিবিদ্ধ হাদির অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলেও তিনি শঙ্কামুক্ত নন।
চিকিৎসাধীন হাদির শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেওয়ার পর শুক্রবার রাতে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে গণমাধ্যমে ব্রিফ করেন, ঢাকা মেডিকেলের নিউরো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল আহাদ।
তিনি বলেন, হাদির অর্গানগুলো মোটামুটি কাজ করছে। পরবর্তীতে হয়তো তার আর কোন অপারেশন নাও লাগতে পারে।
এমকে
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন ড. ইউনূস
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেছেন বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ শনিবার ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে যমুনায় ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ঈদের নামাজ শেষে যমুনায় প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সকাল সোয়া ৯টা থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়। এতে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও সিনিয়র সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলা ঘটে। এরমধ্যে বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও অংশ নেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
জাতীয়
বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাবা জিয়াউর রহমান ও মা বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় মা-বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ করে মোনাজাত করেন। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে তিনি সেখানে যান। প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিনী সৈয়দা শামিলা রহমান, তার দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান ছিলেন।
এ সময়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাংসদ মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এটিএম শামসুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘কবর জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গুলশানের বাসায় ফিরেছেন।’
জাতীয়
বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫ জামাত অনুষ্ঠিত
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়।
প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।
দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, ইমামতি করেন মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, ইমামতি করেন মাওলানা মো. জাকির হোসেন। চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায়, ইমামতি করেন মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী।
পঞ্চম ও শেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়, এতে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
প্রতিটি জামাত শেষে দেশ ও জাতির উন্নতি, সমৃদ্ধি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দেশের অগ্রগতি ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও মুক্তির জন্যও প্রার্থনা করা হয়।
জাতীয়
যমুনায় সর্বসাধারণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শনিবার (২১ মার্চ) সকালে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানও অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে থেকেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা অভিমুখে মানুষের ঢল নামে।
এর আগে সকালে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নামাজ শেষে কোলাকুলি করেন তাঁরা। পরে সকাল ১০টায় যমুনায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে স্ত্রী জুবাইদা রহমানসহ উপস্থিত হন তিনি।
যমুনায় এসে প্রথমে কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, আলেম-ওলামা-মশায়েখ, শিল্পী ও সাহিত্যিক, উচ্চপদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী।
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শেরেবাংলা নগরে রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করবেন।
দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে এটি তারেক রহমানের প্রথম ঈদ উদযাপন। ১৭ বছর লন্ডনে ঈদ উদযাপন করেছেন তিনি।
জাতীয়
সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ শনিবার (২১ মার্চ) সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উৎসবের আনন্দে ভাসছে রাজধানীসহ পুরো দেশ।
ঈদকে ঘিরে ঘরে ঘরে ছিল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সেমাই, চিনি, পোলাওয়ের চাল আর নতুন পোশাকের সুবাসে মুখর ছিল চারপাশ।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার খবরে পাড়া-মহল্লায় নেমে আসে আনন্দের ঢেউ। শিশু-কিশোররা মেতে ওঠে উল্লাসে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ )জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, দেশের কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হয়।
পরদিন শুক্রবার চাঁদ দেখা যাওয়ার পরই ঈদ উদযাপনের ঘোষণা আসে।
এবারের ঈদে রয়েছে ভিন্ন মাত্রা। নতুন সরকারের অধীনে এটি প্রথম ঈদ হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও রয়েছে বাড়তি আলোচনা ও উৎসাহ।
তবে ঈদের আনন্দে কিছুটা বিঘ্ন ঘটাতে পারে আবহাওয়া।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে ঈদের জামাতে অংশ নিতে মুসল্লিদের বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। প্যান্ডেল, মাইক ও ওজুখানার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে বসানো হয়, পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহ ছাড়াও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ঈদকে ঘিরে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। শেষ মুহূর্তেও নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কে কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিল মানুষ। জুতা, টুপি ও আতরের দোকানগুলোতে ছিল ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি।
আজও নাড়ির টানে ঘরে ফিরেছেন মানুষ। এতে রাজধানী অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা ত্যাগের শিক্ষা ধারণ করে সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঈদের এই আনন্দ ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়ার। ঈদগাহে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে সাম্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু খাবার, চলছে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়।
হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে পুরো জাতি-এভাবেই উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।



