অর্থনীতি
প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের কার্যালয়
জাহাজ ভাঙা শিল্পের প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে অবশেষে চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের প্রথম নিজস্ব কার্যালয়।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হবে, যার ফলে অনুমোদনের জন্য ইয়ার্ড মালিকদের আর ঢাকায় ছুটতে হবে না।
জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বা শিপ রিসাইক্লিং শিল্পের তদারকি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে এই বোর্ড গঠিত হলেও, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় দীর্ঘ সাত বছর এটি কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। তবে চলতি বছরের মার্চ মাসে একজন মহাপরিচালক ও দুইজন উপ-পরিচালক নিয়োগের মধ্য দিয়ে বোর্ডের কার্যক্রমে গতি আসে।
জাহাজ ভাঙা শিল্পের মূল কেন্দ্র চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হওয়ায় রাজধানীর শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে কার্যক্রম পরিচালনার পরিবর্তে চট্টগ্রামেই বোর্ডের কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এত দিন মন্ত্রণালয়ের একটি কক্ষে বসেই দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
নগরীর আগ্রাবাদে জাম্বুরি মাঠ সংলগ্ন নবনির্মিত বিএসটিআই ভবনের অষ্টম তলায় স্থাপন করা হয়েছে এই নতুন কার্যালয়। প্রায় ১৮ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই অফিসটি রোববার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।
শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান।
মহাপরিচালক আরও জানান, এখান থেকে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হলে জাহাজ আমদানি, ভাঙা এবং ইয়ার্ডের অনুমতিসহ অন্তত ২৯ ধরনের লাইসেন্স, অনুমোদন ও নবায়ন সরাসরি এই অফিস থেকেই সম্পন্ন করা যাবে।
তিনি বলেন, ‘আগে এসব অনুমোদনের জন্য উদ্যোক্তাদের বেশিরভাগ সময়ই ঢাকায় যেতে হতো। এখন আর সেটির প্রয়োজন হবে না।’
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই কার্যালয় চালু হওয়ার ফলে জাহাজ ভাঙা শিল্পের ব্যবসায়ীদের সময় ও খরচ—উভয়ই কমবে। তারা আশা করছেন, বোর্ডটি একটি ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ হিসেবে কাজ করবে। এটি লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া দ্রুততর করার পাশাপাশি এই শিল্পের সুশৃঙ্খল ও টেকসই বিকাশে নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে।
অর্থনীতি
স্বর্ণের দাম আরও বাড়লো, ভরি ২ লাখ ৭০ হাজার
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৩৪৮ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা হয়েছে।
বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড।
স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। সংগঠটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর আগে ২৭ জানুয়ারি ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয় ৫ হাজার ২৪৯ টাকা। সে সময় এক ভরি সোনার দাম হয় ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা। এই রেকর্ড দাম নির্ধারণের পর এখন আবারও দাম বাড়ানো হলো। এতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সোনার সর্বোচ্চ দামে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলো।
দাম বাড়ানোর ফলে ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৬ হাজার ৯৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৬ হাজার ৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৭৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ১৩২ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭২৫ টাকা।
সোনার দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কাফি
অর্থনীতি
ছয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত
দেশের নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও ভয়াবহ খেলাপি ঋণের চাপে নড়বড়ে হয়ে পড়া এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টি অবসায়নের দিকে এগোলেও আপাতত তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)- এই তিন প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সূচকে উন্নতির জন্য তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এর আগে, উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ ও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তী সময়ে দাখিল করা পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় ৯ প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ফাস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল তদারকির ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
অবসায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যা রোববার শেষ হয়। শুনানিতে উপস্থাপিত কর্মপরিকল্পনা ও আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক সময় দেওয়ার সুপারিশ করা হয়, যা পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদন পেয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময় আর্থিক খাতে চলমান অনিয়ম ও বড় ধরনের কেলেঙ্কারির সরাসরি প্রভাব পড়েছে এসব এনবিএফআইয়ে। বিশেষ করে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, যা এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি ভেঙে দিয়েছে।
এদিকে অবসায়নের তালিকায় থাকা এনবিএফআইগুলোর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগেই ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের জমাকৃত মূল অর্থ ফেরত পাবেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ মূল্যায়নের কাজ শুরু করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সরকার মৌখিকভাবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। তবে আমানতকারীরা শুধু তাদের মূল অর্থ ফেরত পাবেন, কোনো সুদ দেওয়া হবে না।
এমকে
অর্থনীতি
সঞ্চয়পত্র কেনায় সীমা তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার: অর্থসচিব
অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেছেন, সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে বর্তমান সীমা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। সোমবার(২৬ জানুয়ারি) ‘বন্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিকমেনডেশন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই তথ্য জানান।
অর্থসচিব বলেন, সঞ্চয়পত্র কেনাবেচায় নতুন ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে সরকার, যার মধ্যে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে সীমা উঠিয়ে দেওয়া অন্যতম বিবেচ্য বিষয়।
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, যদি বন্ড লেনদেন সহজ করা যায়, তাহলে দেশের বন্ড বাজারের পরিধি ৬ ট্রিলিয়ন টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারবে না; প্রয়োজন হবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার অথবা বন্ড বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের।
গভর্নর আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুদের হার নির্ধারণের ওপর বন্ড বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। একক সুদের হার প্রয়োগ করা হলে বন্ড বাজার টেকসই হবে।
এই নতুন উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক বাজারে সঞ্চয়পত্র এবং বন্ড খাতের গুরুত্ব বাড়াতে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এমকে
অর্থনীতি
আমদানি নির্ভর পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ ডলারের দাম: এনবিআর চেয়ারম্যান
ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ফলসহ আমদানি নির্ভর পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। কর বা শুল্ক নয় বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষ্যে আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব বাড়ানোর জন্য বিগত দেড় বছরে পণ্যে শুল্ক বাড়ানো হয়নি। তিনি বলেন, ট্যাক্স কালেকশন বাড়ানোর জন্য গত দেড় বছরে ট্যারিফ বাড়ানো হয়নি। বরং জনস্বার্থে চাল, পেঁয়াজ, আলু ও সয়াবিন আমদানিতে ডিউটি কমানো হয়েছে। বাজারে ফলসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কর বা শুল্ক নয়, ডলারের মূল্যবৃদ্ধিই প্রধান কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফলের ওপর উচ্চ কর আরোপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কিছু ভুল তথ্য রয়েছে। গত দেড় বছরে ফলের ওপর কোনো ডিউটি বাড়ানো হয়নি। বরং ফল আমদানির ওপর আগে ১০ শতাংশ ইনকাম ট্যাক্স ছিল, সেটি কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে খেজুর আমদানির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য হারে ডিউটি কমানো হয়েছে।
পণ্যমূল্য বৃদ্ধির ব্যাখ্যায় মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ডলারের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। দুই বছর আগে ডলারের মূল্য যেখানে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১২৬ থেকে ১২৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে যেকোনো পণ্য আমদানিতে খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।
তিনি বলেন, বিদেশ থেকে ফল বা যেকোনো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের মূল্যবৃদ্ধিই পণ্যমূল্য বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সরকার সামগ্রিকভাবে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার দিকে এগোচ্ছে। ট্যারিফ ট্রান্সফরমেশন বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে শুল্ক কমানোর সুপারিশ রয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ উচ্চ শুল্ক কাঠামো ধরে রাখতে পারবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানো হয় বলেও জানান তিনি।
রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রা চ্যালেঞ্জিং হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি খারাপ নয়। অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার পর রাজস্ব আদায় বেড়েছে।
অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩৪ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। অনলাইন রিটার্নের মাধ্যমে সরাসরি প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা গত বছর ছিল প্রায় ১৭০ কোটি টাকা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ সময়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ করে রিটার্ন জমা পড়তে পারে। প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণ অংশ আলাদা করার কাজ চলছে। শিগগিরই কমিটির বৈঠক, গেজেট প্রকাশ এবং সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এমকে
অর্থনীতি
ভারত থেকে দেশে এলো ১২৫ টন বিস্ফোরক
ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে ৮টি ট্রাক বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৫টার দিকে পেট্রাপোল স্থলবন্দর হয়ে প্রায় ১২৫ মেট্রিক টন ওজনের বিস্ফোরক চালানটি দেশে আসে। একসঙ্গে এত বড় চালান দেশে প্রবেশ করায় বন্দরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিস্ফোরক বহনকারী ট্রাকগুলো প্রবেশের পরপরই নির্ধারিত ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে নেওয়া হয়।
সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে চালানটি রাখা হয়েছে। আমদানিকৃত বিস্ফোরক দ্রব্য এনেছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড। রপ্তানিকারক হিসেবে রয়েছে ভারতের সুপার সিভা শক্তি কেমিক্যাল প্রাইভেট লিমিটেড।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং প্রকল্পের খনন কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য ভারত থেকে মোট ১২৭ মেট্রিক টন বিস্ফোরক দ্রব্য আমদানি করা হয়েছে। বর্তমানে বিস্ফোরক বোঝাই ভারতীয় ট্রাকগুলো বন্দর এলাকার ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে কঠোর নিরাপত্তায় রাখা আছে।
তিনি জানান, খালাস প্রক্রিয়ার জন্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সিঅ্যান্ডফ এজেন্ট কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করবে। যাচাই-বাছাই শেষে বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো বাংলাদেশি ট্রাকে করে দিনাজপুরে পাঠানো হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরক দ্রব্যের নিরাপদ সংরক্ষণ, খালাস ও পরিবহন নিশ্চিত করতে পুরো বন্দর এলাকাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দর দিয়ে এত বড় বিস্ফোরক চালান প্রবেশ করায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এমকে



