অর্থনীতি
প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের কার্যালয়
জাহাজ ভাঙা শিল্পের প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে অবশেষে চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের প্রথম নিজস্ব কার্যালয়।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হবে, যার ফলে অনুমোদনের জন্য ইয়ার্ড মালিকদের আর ঢাকায় ছুটতে হবে না।
জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বা শিপ রিসাইক্লিং শিল্পের তদারকি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে এই বোর্ড গঠিত হলেও, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় দীর্ঘ সাত বছর এটি কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। তবে চলতি বছরের মার্চ মাসে একজন মহাপরিচালক ও দুইজন উপ-পরিচালক নিয়োগের মধ্য দিয়ে বোর্ডের কার্যক্রমে গতি আসে।
জাহাজ ভাঙা শিল্পের মূল কেন্দ্র চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হওয়ায় রাজধানীর শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে কার্যক্রম পরিচালনার পরিবর্তে চট্টগ্রামেই বোর্ডের কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এত দিন মন্ত্রণালয়ের একটি কক্ষে বসেই দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
নগরীর আগ্রাবাদে জাম্বুরি মাঠ সংলগ্ন নবনির্মিত বিএসটিআই ভবনের অষ্টম তলায় স্থাপন করা হয়েছে এই নতুন কার্যালয়। প্রায় ১৮ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই অফিসটি রোববার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।
শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান।
মহাপরিচালক আরও জানান, এখান থেকে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হলে জাহাজ আমদানি, ভাঙা এবং ইয়ার্ডের অনুমতিসহ অন্তত ২৯ ধরনের লাইসেন্স, অনুমোদন ও নবায়ন সরাসরি এই অফিস থেকেই সম্পন্ন করা যাবে।
তিনি বলেন, ‘আগে এসব অনুমোদনের জন্য উদ্যোক্তাদের বেশিরভাগ সময়ই ঢাকায় যেতে হতো। এখন আর সেটির প্রয়োজন হবে না।’
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই কার্যালয় চালু হওয়ার ফলে জাহাজ ভাঙা শিল্পের ব্যবসায়ীদের সময় ও খরচ—উভয়ই কমবে। তারা আশা করছেন, বোর্ডটি একটি ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ হিসেবে কাজ করবে। এটি লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া দ্রুততর করার পাশাপাশি এই শিল্পের সুশৃঙ্খল ও টেকসই বিকাশে নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে।
অর্থনীতি
১৬টি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে, আরও তিনটি আসছে
পরিশোধিত জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে ১৬টি জাহাজ। যা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। ৩ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত এসব জাহাজ বন্দরে নোঙর করে। এর মধ্যে ১১টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস করা হয়েছে। বাকী ৫টি থেকে খালাস করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী কয়েক দিনে আরও তিনটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের প্রথম দশ দিনে কাতার থেকে তিনটি এলএনজিবাহী জাহাজ—‘আল জুর’, ‘আল জাসাসিয়া’ ও ‘লুসাইল’—প্রায় ৬২ হাজার টন করে এলএনজি নিয়ে খালাস সম্পন্ন করেছে।
১২ মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছানো ‘আল গালায়েল’ জাহাজ থেকে ২৬,১৬৫ টন এলএনজি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে খালাস করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এলপিজিবাহী জাহাজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে আসা জাহাজগুলো ইতিমধ্যেই মোট ১৯,৩১৬ টন এলপিজি খালাস করেছে। আরও কয়েকটি এলপিজি ট্যাঙ্কারে খালাস প্রক্রিয়া চলছে, যা মার্চের মাঝামাঝি শেষ হবে।
এলএনজি ও এলপিজি ছাড়াও পরিশোধিত জ্বালানি, ফার্নেস অয়েল, গ্যাস অয়েল, ডিজেল এবং বেজ অয়েলসহ শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল বন্দরে এসেছে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি এবং চার হাজার টন বেজ অয়েল দেশে এসেছে।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা জাহাজ চলাচল ও বিমা খরচকে প্রভাবিত করছে। তবে বন্দরের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি মাসে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পখাত এবং গৃহস্থালির জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরণের বিঘ্নের আশঙ্কা নেই।
অর্থনীতি
রুপার দামে পতন, ভরি কত?
দেশের বাজারে রুপার দাম আরেক দফা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২৯২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়বে ৬ হাজার ৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৭ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম।
অর্থনীতি
দাম কমার পর আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ
আমদানিনির্ভর হওয়ায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে প্রায়ই ওঠানামা দেখা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে সময় সময় স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সবশেষ ১৩ মার্চ বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করেছে।
সেই সংশোধিত মূল্য অনুযায়ী শনিবার (১৪ মার্চ) দেশের বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচা শুরু হয়েছে।
বাজুসের নির্ধারিত সর্বশেষ দামে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের খরচ করতে হচ্ছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা।
১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকায়। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বহুবার সমন্বয় করা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, আর ১৬ দফা কমানো হয়েছে।
অর্থনীতি
দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম, কত দামে বিক্রি হচ্ছে আজ
ফের কমানো হয়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়েছে। এতে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে। শুক্রবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং রুপার দাম ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়েছিল।
প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৬৭ হাজার ১০৬ টাকা এবং প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়বে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৪২ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ২৬ দফা বাড়ানো হয়েছে। কমানো হয়েছে ১৬ দফা।
এমএন
অর্থনীতি
ঈদের ছুটিতেও দুইদিন আন্তঃব্যাংক চেক নিষ্পত্তি, নতুন সময়সূচি দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছুটির মধ্যেও ১৮ ও ১৯ মার্চ সীমিত পরিসরে কিছু এলাকায় ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকবে। এ সময় আন্তঃব্যাংক চেক নিষ্পত্তির জন্য নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি)-২ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদের আগে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধ এবং রফতানি বিল ক্রয়ের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরীসহ আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আগামী ১৮ ও ১৯ মার্চ সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এই দুইদিন সীমিত সংখ্যক জনবল দিয়ে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এর মধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত যোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। আর গ্রাহক লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
এ দুইদিন নতুন সময়সূচিতে বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস (ব্যাচ) এবং রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সিস্টেমের মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তি করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১৮ ও ১৯ মার্চ ব্যাচের (বিএসিপিএস) মাধ্যমে হাই ভ্যালু চেক ক্লিয়ারিংয়ের জন্য বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে পাঠাতে হবে। এগুলো দুপুর সাড়ে১২টার মধ্যে নিষ্পত্তি হবে। আর রেগুলার ভ্যালু চেক ক্লিয়ারিংয়ের জন্য দুপুর ১২টার মধ্যে ক্লিয়ারিং হাউসে পাঠাতে হবে। এসব চেক নিষ্পত্তি হবে দুপুর ১টার মধ্যে।
তবে উল্লিখিত দিনগুলোতে বিইএফটিএনের তিনটি সেশন আগের সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। আর আরটিজিএসের মাধ্যমে গ্রাহক লেনদেন সকাল ১০টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা এবং আন্তঃব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার ও রিটার্ন ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে।
এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে দেশে কার্যত সব তফসিলি ব্যাংক ও বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এমএন




