সারাদেশ
আমার একটা কলিজা হারিয়ে ফেলেছি, বিচার চাই: সাজিদের বাবা
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদের উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে দুঃখজনকভাবে। দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করলেও, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় গভীর শোকাহত হয়ে পড়েছে পরিবার, এবং সাজিদের বাবা রাকিব উদ্দীন এই ক্ষতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে সাজিদ তার মায়ের সঙ্গে বাড়ির কাছে হাঁটতে গিয়ে অসতর্কতায় গর্তে পড়ে যায়। মা রুনা খাতুন জানান, ছেলে হঠাৎ ‘মা’ বলে ডেকে ওঠে, কিন্তু পেছনে তাকিয়ে দেখেন সে গর্তের ভেতরে। গর্তের ওপর খড় বিছানো থাকায় বিপদটি আগে থেকে বোঝা যায়নি। স্থানীয়রা দ্রুত খবর দিলেও, শিশুটি গর্তের গভীরে চলে যায়।
উদ্ধারকারী দল ৪০ ফুট মাটি খনন করে রাত সোয়া ৯টায় সাজিদকে বের করে আনে। তাকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। আজ শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বাড়ির পাশের মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে, এবং পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
সাজিদের বাবা রাকিব উদ্দীন গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ফুটফুটে একটা সন্তান হারিয়েছি। আমার একটা কলিজা হারিয়ে ফেলেছি। আমি বিচার চাই। প্রশাসনিকভাবে যে বিচার করবে, আমি তাতেই সন্তুষ্ট। আমার কিছু করণীয় নাই। এখন শুধু দোয়া করা লাগবে। যেহেতু আল্লাহই দিয়েছেন, আল্লাহই নিয়ে গেছেন। কিন্তু অবহেলা হয়েছে, এটা একমাত্র অবহেলা। এ ছাড়া আর কিছু না।’
তিনি আরও যোগ করেন যে, গর্ত খননকারীরা যদি সঠিকভাবে এটি বন্ধ করে রাখতেন বা কোনো সতর্কতা চিহ্ন দিতেন, তাহলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।
স্থানীয়দের মতে, এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপ বসানো নিষিদ্ধ, কিন্তু একজন ব্যক্তি পানি যাচাইয়ের জন্য গর্ত খনন করেছিলেন। পরে এটি ভরাট করা হলেও বর্ষায় মাটি বসে গিয়ে আবার গর্ত সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অবহেলা না ঘটে।
সারাদেশ
রামপাল সড়ক দুর্ঘটনা: জানাজা শেষে একই পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন
বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর মোংলা সরকারি কবরস্থানে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।
জানাজা ও দাফনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাচান চৌধুরী।
দাফন সম্পন্ন হলেও মোংলা পৌরসভার শেলাবুনিয়া গ্রামে শোকের মাতম থামেনি। স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাকের দুই ছেলে, এক মেয়ে, এক পুত্রবধূ এবং চার নাতি-নাতনি প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে তার স্ত্রী ও তিন ছেলে জীবিত থাকলেও পরিবারের বড় একটি অংশ চিরতরে হারিয়ে গেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে ও নববিবাহিত বর আহাদুর রহমান সাব্বির, সাব্বিরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম। এছাড়া বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মাইক্রোবাস চালক মো. নাঈম শেখও।
অন্যদিকে কনের পক্ষ থেকে নিহত হয়েছেন নববধূ মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম এবং নানি আনোয়ার বেগম। তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে।
স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হারানো আশরাফুল আলম জনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এক নিমেষেই স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি এখন কার মুখ চেয়ে বাঁচব?
স্থানীয় বাসিন্দা আলী আজম জানান, খুলনা-মোংলা মহাসড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত হলেও এটি এখনো চার লেনে উন্নীত করা হয়নি। ফলে সরু রাস্তায় প্রায়ই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করা এবং এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার খুলনার কয়রা থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি মোংলায় ফিরছিল। পথে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, যা এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়।
সারাদেশ
রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বিয়ে করে ফেরার পথে বর-কনেসহ নিহত ১৩
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বিয়ে করে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং নয়জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
নিহতরা হলেন— বর আহাদুর রহমান সাব্বির, কনে মারজিয়া আক্তার মিতু, কনের বোন লামিয়া, নানি আনোয়ারা বেগম, দাদি রাশিদা বেগম, বরের বাবা বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, আঞ্জুমান, পুতুল, ঐশী, গাড়িচালক নাঈম শেখ, শিশু ইরাম, সামিউল ও আলিফ।
নিহত কনে মারজিয়া আক্তার মিতুর মামা আবু তাহের জানান, বিয়ের পর বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসটি মোংলার শেলাবুনিয়া এলাকায় কনের শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিকেল ৪টার পর রামপালের কাছাকাছি দুর্ঘটনার ঘটে। এতে কনে মিতু, তার বোন লামিয়া, নানি ও দাদিসহ পরিবারের মোট ৪ জন সদস্য নিহত হন।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান বলেন, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল এবং মাইক্রোবাসটি মোংলার দিকে যাচ্ছিল। পথে বেলাই ব্রিজ এলাকায় দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে রাত ৯টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসরুর আহসান বলেন, এখন পর্যন্ত সেখানে ৯ জনের মরদেহ আনা হয়েছে।
নিহত গাড়িচালক নাঈমের বন্ধু বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফলতিতা বাজার ক্রস করছিলাম। তখন আমার কাছে ফোন আসে রামপালে নাঈম এক্সিডেন্ট করছে। পরে জানতে পানি নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে নাঈমের মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনা শুনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসি। এসে দেখলাম নাঈম মারা গেছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নবদম্পতির স্বপ্নভঙ্গের পাশাপাশি একাধিক পরিবারের ওপর নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।
এমএন
সারাদেশ
১৭ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করে গড়তে হবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ: পানিসম্পদ মন্ত্রী
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ‘জঞ্জাল’ পরিষ্কার করে জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রহমতখালী, ওয়াপদা, জকসিন ও মান্দারী খালসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ্যানি চৌধুরী লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, যেহেতু আমরা নির্বাচিত সরকার, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব কাজ সব ডিপার্টমেন্টের সাথে সমন্বয় করে করব। কাজগুলো চালু রাখব, সুযোগ-সুবিধা জনগণের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দেব।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। সে সময় আমরা সেচ সুবিধা পেয়েছি। উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। মাছের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আমরা স্বনির্ভর এলাকা গড়তে সক্ষম হয়েছি। এখনো স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রেসিডেন্ট জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে। সেখানে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য। এটা দেশবাসীর প্রয়োজনে এবং দেশের মানুষের সুবিধা বা স্বার্থের কারণে। সবার সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছি, তা আমরা সম্পন্ন করব।
এ্যানি চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারুল উপজেলায় সাহাপাড়া খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এর মাধ্যমে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। সারাদেশেই আমরা এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রহমতখালী, ওয়াপদা জকসিন ও মান্দারী খাল পরিদর্শন করেছি। খালে যে পরিমাণ ময়লা বর্জ্য পড়ে আছে বা দখল হয়ে আছে, এগুলো যদি আমরা কোনভাবেই সরিয়ে না নেই তাহলে খাল খননের সুবিধা আমরা পাব না। সেজন্য একদিকে খাল খনন অব্যাহত থাকবে, পাশাপাশি সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। যারা অবৈধভাবে দখলদার এবং বিভিন্ন জায়গায় ময়রা আবর্জনা ফেলেন তাদের আরও সতর্ক ও সজাগ হতে হবে। সবার আন্তরিকতা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, এটি সফল হবে বলে আমরা মনে করছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ জামান খান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি এম বেলাল হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহসিন কবির স্বপন ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম প্রমুখ।
এমএন
সারাদেশ
শরীয়তপুরের চরভাগায় জিওব্যাগ চুরি: ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেন এমপি কিরণ
শরীয়তপুরের চরভাগা এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ‘সোনার বাংলা এভিনিউ’ অংশ থেকে জিওব্যাগ চুরির ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ। আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে চুরি হওয়া জিওব্যাগ ফিরিয়ে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে ব্যাগ ফেরত না দিলে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শরীয়তপুরের সখিপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে চরভাগাসহ আশপাশের জনপদ রক্ষায় সরকার ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংরক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। বাঁধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্থাপন করা হয় জিওব্যাগ, যা নদীর তীব্র স্রোতের চাপ কমিয়ে বাঁধকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি রাতের আঁধারে এসব জিওব্যাগ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, যা বাঁধের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
তিনি আরও বলেন, যারা জিওব্যাগ চুরির সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত এসব অপকর্ম বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলের কেউ যদি কোনো অপকর্মে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দল থেকেও বহিষ্কার করা হবে।
সখিপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম হামিদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান বাচ্চু সরকার। নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি শামসুল আলম দাদন, সখিপুর থানা যুবদলের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ মাসুম বালা, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান রাজীব সরদার এবং নড়িয়া ও সখিপুর উপজেলার বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিকসহ প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থায়ী ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করে, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চরভাগাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে সুরক্ষা পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমএন
সারাদেশ
সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের সহযোগিতা চাই: মতিউর রহমান আকন্দ
সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বিচারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, অসহায় ও বিচারবঞ্চিত মানুষকে আইনি সহায়তা দিতে আইনজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিল বগুড়া ইউনিটের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, “আমরা সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিচারবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের জন্য আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। এ কাজে আইনজীবীদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আইনজীবীদের পবিত্র কোরআনের আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের বগুড়া ইউনিটের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম আকন্দের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।
এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহরের আমির ও বগুড়া সদর আসনের উপনির্বাচনে এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুলহক সরকার, শহর সেক্রেটারি আব্দুল মালেক এবং জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম।
ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় বগুড়ার বিপুল সংখ্যক আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন।
এমএন




