খেলাধুলা
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল
বিয়ের প্রলোভনে শুলশানের একটি হোটেলে নিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদ রায়হানের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ। এতে একাধিকবার ওই তরুণীকে ধর্ষণের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৩০ নভেম্বর আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মো. সামিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ধর্ষণের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় ক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদ রায়হানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি। সাক্ষীরা আদালতে হাজির হয়ে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করবেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনাটি মামলার ছয় মাস আগে হয়েছে বিধায় কোনো আলামত জব্দ করা সম্ভব হয়নি। মামলার বাদী নিজেও কোনো আলামত উপস্থাপন করতে পারেননি। হোটেলে রক্ষিত রেজিস্ট্রার বুকের গেস্ট বুকিং সংক্রান্ত রেজিস্ট্রেশন স্লিপ, তরুণী ও আসামির পাসপোর্ট কপি জব্দ করা হয়। ডিএনএ রিপোর্টে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সার্বিক তদন্তে প্রথম দিনের ঘটনা, হোটেল বুকিং কপি, ধর্ষণের মেডিক্যাল রিপোর্টসহ অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনায় আসামি তোফায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে রায়হান। বিষয়টি সমাধানে তার পরিবারের কাছে গিয়েও ফল পাইনি। ঘটনার একপর্যায় বিসিবি প্রেসিডেন্টকে লিখিত অভিযোগ দিই। তিনি আশ্বাস দিয়েও কথা রাখেননি। এভাবে প্রতিনিয়ত পদে পদে অনেকভাবে সম্মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন ও হেনস্তার শিকার হচ্ছি। আমি আদালতে ন্যায়বিচার চাই।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আসামি তোফায়েলের সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর থেকে তারা ফেসবুক মেসেঞ্জারে নিজেরা কথা বলতেন।
এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হলে আসামি তোফায়েল ওই তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। তবে তরুণী রাজি না হলেও তাকে বিয়ের প্রলোভনে দেখিয়ে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি করেন। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি তাকে স্ত্রী পরিচয়ে গুলশানের একটি হোটেলে নিয়ে আসামি তোফায়েল তাকে ধর্ষণ করেন। তখন তাকে অল্প কিছু দিনের মধ্যে বিয়ে করবেন বলে তরুণীকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ওই তরুণী তাকে বিয়ের কথা বললে তোফায়েল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় গত ১ আগস্ট ওই তরুণী বাদী হয়ে গুলশান থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর আসামি তোফায়েলকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে এই জামিন শেষ হওয়ার আগেই ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি।
এমকে
খেলাধুলা
বিশ্বকাপ ইস্যুতে এবার আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে বিসিবি
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে আইসিসির সিদ্ধান্ত বদলাতে শেষ চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তা ইস্যুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের পরও আইসিসির ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটি বা ডিআরসিতে পুনরায় চিঠি পাঠিয়েছে বিসিবি। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে বোর্ড কার্যত কোণঠাসা হয়ে এই পথ বেছে নেয়।
বিসিবির একটি সূত্র ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছে, ‘হ্যাঁ, বিসিবি ডিআরসির কাছে গেছে। তারা সব পথ ব্যবহার করতে চায়। ডিআরসি বিপক্ষে রায় দিলে তখন একমাত্র পথ হবে সুইজারল্যান্ডের কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস।’
ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আগেই ঘোষণা দেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ দল ভারত সফর করবে না। এই অবস্থান আসে সিনিয়র পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর।
আইসিসির সংবিধান ও ডিআরসির কার্যপরিধি দেখলে স্পষ্ট হয়, আইসিসি বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার ক্ষমতা এই কমিটির নেই।
আইসিসি বোর্ড ১৪-২ ভোটে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারতে রাখার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়। স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নে হুমকির মাত্রা ‘কম থেকে মাঝারি’ বলা হয়। এরপরও আসিফ নজরুল বলেন, এই সিদ্ধান্ত বিসিবির নয়, সরকারের।
ডিআরসির কার্যপরিধির ১.৩ ধারায় বলা আছে, ‘এই কমিটি আইসিসি বা আইসিসির অধীনে গঠিত কোনো সংস্থার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনবে না।’
আইসিসি বোর্ডের এক সূত্র বলেছে, ‘বাংলাদেশ ডিআরসিতে যেতে পারে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী এই মামলা শোনার সুযোগই নেই। কারণ এটি বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।’
জানা গেছে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ উপলক্ষে নামিবিয়ায় থাকা আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ এখন দুবাইয়ে আছেন। শনিবারের মধ্যে বাংলাদেশের বদলি দল নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
একটি সূত্র জানায়, ‘আইসিসি বোর্ডের সদস্যরা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ। আইসিসিকে না জানিয়ে কেন সংবাদ সম্মেলন করা হলো, সেটি নিয়ে প্রশ্ন আছে।
ডিআরসি ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী কাজ করে। ২০১৮ সালে তারা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের করা ৭ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি খারিজ করেছিল। তখন ডিআরসি রায়ে বলে, দুই দেশের মধ্যে থাকা নথিটি ছিল শুধু ‘লেটার অব ইনটেন্ট’, বাধ্যতামূলক চুক্তি নয়।
ডিআরসি মূলত দেখে, আইসিসি বোর্ড নিয়ম মেনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না। এটি কোনো আপিল আদালত নয়।
এই কমিটিতে মাইকেল বেলফ ছাড়াও আছেন মাইক হেরন, বিচারপতি উইনস্টন অ্যান্ডারসন, ডিওন ভ্যান জিল, গ্যারি রবার্টস, গুও কাই, অ্যানাবেল বেনেট, জ্যঁ পলসন, পিটার নিকলসন, বিজয় মালহোত্রা ও স্যালি ক্লার্ক।
এমএন
খেলাধুলা
আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু স্থানান্তরে সুবিচার করেনি: আসিফ নজরুল
কয়েক সপ্তাহের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর বাংলাদেশের একটা পথই খোলা ছিল—হয় ভারতে গিয়ে খেলতে হবে, নয়তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই খেলা হবে না। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের ভারতে না যাওয়ার অবস্থানই ধরে রাখল বাংলাদেশ।
আজ বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে বসেছিলেন যুব ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবির কর্তাব্যক্তিরা। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো সুযোগ নেই। আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু স্থানান্তরের অনুরোধ না রেখে সুবিচার করেনি বলেও উল্লেখ করেছেন আসিফ নজরুল।
ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই অবস্থানে তারা অনড় আছেন। যে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তারা ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটিরও কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তিনি আরও বলেন, স্বভাবত, আমরা সবাই চেয়েছি আমরা যেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারি। কিন্তু আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির কোন পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোন বায়বীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয়নি। এটা সত্যিকারের ঘটনা থেকে হয়েছে।
আসিফ নজরুলের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনিও জানিয়েছেন, এখনও বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই খেলতে চান তারা। এজন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এদিকে, কট্টরপন্থীদের আন্দোলনের মুখে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছিল আইসিসি।
বিসিবি সভাপতি বলেন, মুস্তাফিজকে আইপিএলের একটা দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। মুস্তাফিজ নিজে সরে যায়নি, মুস্তাফিজের ইনজুরি হয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তার এনওসি ক্যান্সেল করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়া হয়েছিল। এরপর আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমরা বিকল্প ভেন্যুতে খেলতে চাই।
খেলাধুলা
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের পথে পিসিবি
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভেন্যু ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি যদি আইসিসি না মানে এবং বাংলাদেশ যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেয় তাহলে টুর্নামেন্ট বয়কটের পথে হাঁটতে পারে পাকিস্তানও। ভারতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা শঙ্কার মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতের মাটিতে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তারা তাদের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও। আসন্ন আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করলেও বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর জেরে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কায় নিজেদের ম্যাচ আয়োজনের দাবি জোরালো করে বিসিবি।
আইসিসি সর্বশেষ বোর্ড মিটিংয়ে বাংলাদেশের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। হয় ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে হবে নয়তো বিকল্প দেশকে বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া হবে বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে। আইসিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি না থাকা সত্ত্বেও সূচি পরিবর্তন করলে ভবিষ্যৎ আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোর ক্ষেত্রে তা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশের সামনে দুটি কঠিন পথ খোলা রয়েছে—নিজেদের দাবি প্রত্যাহার করে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ অথবা টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো। প্রসঙ্গত, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
সূচি অনুযায়ী, ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশ প্রথম তিনটি ম্যাচ খেলবে কলকাতায়—৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে।
খেলাধুলা
বাংলাদেশ ভারতে না খেললে বিকল্প দল নেবে আইসিসি, বোর্ডসভায় সিদ্ধান্ত
২০২৬ আইসিসি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে বাংলাদেশ রাজি না হলে বিকল্প দল অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) আরও এক দিন সময় দিয়েছে আইসিসি।
নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বিসিবি ভারতের বিপক্ষে ও ভারতের ভেন্যুতে দল না পাঠানোর বিষয়টি আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে বিষয়টি আজ আইসিসির বোর্ডসভায় আলোচনায় আসে। সভায় এ নিয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের ফলাফলে বাংলাদেশের পরিবর্তে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বিকল্প দল নেওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তবে সিদ্ধান্ত কার্যকরের আগে বিসিবিকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত অবস্থান জানাতে বলা হয়েছে। এ জন্য বিসিবিকে এক দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
আইসিসি বোর্ডসভা–সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ক্রিকেটভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকইনফো।
বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি না হয়, সেক্ষেত্রে বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে সুযোগ পাবে বলেও জানিয়েছে ক্রিকইনফো। ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে কি না সে বিষয়ে আজ সন্ধ্যায় শুরু হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ভার্চুয়াল সভা।
সভায় বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। যেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান, মহসীন নাকভি, বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়াসহ অন্যান্য বোর্ডের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। আইসিসির হয়ে বহুল আলোচিত এ সভায় প্রতিনিধিত্ব করছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী, হেড অব ইভেন্টস ও লিগ্যাল অফিসার।
উল্লেখ্য, স্কটল্যান্ড ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বে নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও জার্সির পেছনে থেকে চতুর্থ স্থান অর্জন করায় ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তবে বাংলাদেশ সরে দাঁড়ালে তাদের জন্য বিশ্বকাপের দরজা খুলে যেতে পারে।
খেলাধুলা
শর্ত পূরণ হলে শুক্রবার থেকেই মাঠে ফিরবেন ক্রিকেটাররা
বাংলাদেশ ক্রিকেটের অস্থিরতায় নতুন মোড় এসেছে ক্রিকেটারদের অবস্থানে। ১৫ জানুয়ারি দুপুরের ম্যাচ বয়কটের কারণে মাঠে গড়ায়নি, যার পর বিপিএল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়। তবে কোয়াব ক্রিকেটাররা শর্তসাপেক্ষে শুক্রবার থেকেই খেলায় ফিরতে চান। তারা প্রধান শর্ত হিসেবে বিসিবির অর্থ কমিটির পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং তাকে অপসারণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার দাবি জানাচ্ছেন।
কোয়াবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে তারা আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে পুনর্বিবেচনা করেছে। বর্তমানে নারী জাতীয় দল নেপালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে অংশগ্রহণ করছে, পাশাপাশি পুরুষ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও চলমান। সব খেলা বন্ধ থাকলে এ সব দলের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ক্রিকেটাররা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বিপিএলকেও বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি টুর্নামেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে কোয়াব। এ কারণে দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক স্বার্থে তাদের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে খেলায় ফিরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
ক্রিকেটাররা এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তার পরিচালকের পদ নিয়ে যে প্রক্রিয়া চলছে, তার জন্য বিসিবিকে সময় দিতে প্রস্তুত তারা। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়াটি যেন যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়, সেই আশাও প্রকাশ করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে ক্রিকেটাররা জানিয়েছেন, পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম কর্তৃক তাদের উপর প্রকাশ্যে অপমানজনক মন্তব্যের জন্য তিনি যদি প্রকাশ্যে ক্ষমা চান, তাহলে তারা শুক্রবার থেকেই মাঠে ফিরতে রাজি।
এই অবস্থান পরিবর্তনের ফলে বিপিএল স্থগিতের পর নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গন কাদের নিয়ে ও কী পথে যাবে, সেটা নির্ভর করবে বিসিবির পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।



