অর্থনীতি
দুর্নীতিবাজদের আগে মানুষ ঘৃণা করতো, এখন লাফ দিয়ে যাই সম্মান করতে: অর্থ উপদেষ্টা
দুর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দুর্নীতি বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আগে দুর্নীতিগ্রস্ত লোককে সামাজিকভাবে অ্যাভয়েড করা হতো, মানুষ ঘৃণা করতো। তারা ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতে পারতো না। আর এখন লাফ দিয়ে আমরা যাই বিয়ে দিতে, সম্মান জানাতে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে শিল্পকলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সমাজে দুর্নীতিকে ঘৃণা করতে হবে। বর্তমানে দুর্নীতিবাজ পুরষ্কৃত হচ্ছে। সমাজের সব ব্যক্তির পক্ষ থেকে দুর্নীতির তথ্য আসতে হবে। এনফোর্সমেন্ট একটি কঠিন বিষয়। বর্তমানে দুদক আগের চেয়ে বেশি দৃশ্যমান।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা থাকলে সমাজে পচন ধরবে না, কমে আসবে দু্র্নীতি। আর্থিক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বড় বিষয়। হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে, শাস্তি কী দেবেন? সারাজীবন কারাগারে থাকলেও সাজা হয় না। কারণ দেশের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। শুধু শাস্তি দিয়েই নয়, সামাজিকভাবে দুর্নীতিবাজদের প্রতিরোধ করলে দুর্নীতি কমে আসবে।
সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, গত ১৫ বছরে যেসব দেশে আমাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে গেছে, সেখানে আজ আমাদের কার্যকর যোগাযোগ নেই; এমনকি যোগাযোগের পথও খুঁজে পাচ্ছি না। বিদেশে আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ ‘ডার্টি মানি’ হিসেবে পড়ে আছে, আর সেসব দেশে এই অর্থ উদ্ধার বা ব্যবস্থাপনার মতো লোকবলও আমাদের নেই।
মোমেন আরও বলেন, আগে মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে টাকা আসতো। এখন বাস্তবতা উল্টো—বাংলাদেশ থেকে অর্থ আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে যায় এবং পরে কোনো না কোনোভাবে আবার দেশে ফিরে আসে। এসব লেনদেনে বিভিন্ন ধরনের ‘ইনসেনটিভও’ থাকে। এত বড় কাঠামো একদিনে, এক মাসে বা এক বছরে বদলানো সম্ভব নয়।
ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, গত ১৫ বছর ধরে যারা অপরাধ করেছেন, আমাদের দেশের রাজনৈতিক এলিটরা কোটি টাকার বিনিময়ে তাদের সীমান্ত পার করে দিয়েছেন। এসব লোককে আপনারা নির্বাচিত করবেন কি না তা চিন্তা করতে হবে। এখন সময় এসেছে—এমন লোকদের আমরা নির্বাচিত করবো কি না এটা ভাবার।
তিনি বলেন, ভোট হলে শতভাগ লোক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভোট দেবে, তারপরও দুর্নীতি দূর করা কঠিন। আগামী নির্বাচন পরবর্তী শাসন করার জন্য দুঃশাসক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী রাখলে উন্নত দেশ পাওয়া কঠিন। ক্ষমতাচ্যুতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদের কে যারা সহযোগিতা করেছে টাকার বিনিময়ে, তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৫ বছরে যেসব দেশে টাকা পাচার হয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে দুদকের যোগাযোগ নেই। এসব টাকা ফিরিয়ে আনার জন্য সেসব দেশে ফাস্ট সেক্রেটারি পদমর্যাদার কর্মকর্তা পাঠাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে অনেকেই দেশ ছেড়েছেন—পালিয়ে গেছেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে বায়তুল মোকাররমের খতিব—এটিই দেখায় দুর্নীতি কত গভীরে পৌঁছেছে। যদি শুরুতেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যেতো, তাহলে আমাদের ১৫–১৬ বছরের ভোগান্তি হতো না।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছিলেন। সেখানে কৃষিজমির পরিমাণ দেখানো হয়েছিল ৫ দশমিক ২১ একর। ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন যাচাই করেও তাতে সমস্যা পাওয়া যায়নি। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, জমি রয়েছে ২৯ একর। গাড়ির বিবরণীতেও অসংগতি পাওয়া যায়—অতিরিক্ত দুটি গাড়ি যুক্ত ছিল, যার একটি তৎকালীন এক এমপি এবং অন্যটি সাবেক যুব প্রতিমন্ত্রীর নামে, যা কিনা ‘পাঁচ নম্বর সুধা সদন’ এর নামে কেনা হয়েছিল এবং সরকারের ভর্তুকিও দেওয়া হয়নি।
মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, যদি তখনই এসব অসংগতি ধরা হতো, সেক্ষেত্রে তার নমিনেশন বাতিল হতো। নমিনেশন বাতিল হলে তিনি এমপি বা প্রধানমন্ত্রী—কিছুই হতে পারতেন না। এমনকি তার দল ক্ষমতায় আসতো কি না সেটাও প্রশ্ন ছিল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, বাংলাদেশে ১৪ থেকে ১৫ ধরনের দুর্নীতি রয়েছে। আমরা শুধু ঘুস নিয়ে কাজ করছি, দুর্নীতির অনেকগুলো ধরনের মধ্যে ঘুস মাত্র একটি ধরণ।
দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে সরকারি সব প্রকল্পের ডিটেইলস অনলাইনে পাবলিশ করতে হবে। এমনকি কোনো তথ্য আপডেট হলেও তা জনগণকে জানাতে হবে। টাকা একবার চুরি হয়ে গেলে তা উদ্ধার করা কঠিন। বাংলাদেশে দুর্নীতি পদ্ধতি ভিন্ন, এখানে বিদেশি পদ্ধতি কাজ করবে না। আমাদের নিজস্ব মডেল তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- দুদক কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম, দুদক মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, আব্দুল্লাহ আল জাহিদ, আক্তার হোসেন, আবু হেনা মুস্তফা জামান, মোকাম্মেল হকসহ দুদকের পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, উপসহকারী পরিচালকসহ পাঁচ শতাতিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
অর্থনীতি
সঞ্চয়পত্র কেনায় সীমা তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার: অর্থসচিব
অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেছেন, সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে বর্তমান সীমা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। সোমবার(২৬ জানুয়ারি) ‘বন্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিকমেনডেশন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই তথ্য জানান।
অর্থসচিব বলেন, সঞ্চয়পত্র কেনাবেচায় নতুন ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে সরকার, যার মধ্যে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে সীমা উঠিয়ে দেওয়া অন্যতম বিবেচ্য বিষয়।
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, যদি বন্ড লেনদেন সহজ করা যায়, তাহলে দেশের বন্ড বাজারের পরিধি ৬ ট্রিলিয়ন টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারবে না; প্রয়োজন হবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার অথবা বন্ড বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের।
গভর্নর আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুদের হার নির্ধারণের ওপর বন্ড বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। একক সুদের হার প্রয়োগ করা হলে বন্ড বাজার টেকসই হবে।
এই নতুন উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক বাজারে সঞ্চয়পত্র এবং বন্ড খাতের গুরুত্ব বাড়াতে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এমকে
অর্থনীতি
আমদানি নির্ভর পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ ডলারের দাম: এনবিআর চেয়ারম্যান
ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ফলসহ আমদানি নির্ভর পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। কর বা শুল্ক নয় বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষ্যে আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব বাড়ানোর জন্য বিগত দেড় বছরে পণ্যে শুল্ক বাড়ানো হয়নি। তিনি বলেন, ট্যাক্স কালেকশন বাড়ানোর জন্য গত দেড় বছরে ট্যারিফ বাড়ানো হয়নি। বরং জনস্বার্থে চাল, পেঁয়াজ, আলু ও সয়াবিন আমদানিতে ডিউটি কমানো হয়েছে। বাজারে ফলসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কর বা শুল্ক নয়, ডলারের মূল্যবৃদ্ধিই প্রধান কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফলের ওপর উচ্চ কর আরোপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কিছু ভুল তথ্য রয়েছে। গত দেড় বছরে ফলের ওপর কোনো ডিউটি বাড়ানো হয়নি। বরং ফল আমদানির ওপর আগে ১০ শতাংশ ইনকাম ট্যাক্স ছিল, সেটি কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে খেজুর আমদানির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য হারে ডিউটি কমানো হয়েছে।
পণ্যমূল্য বৃদ্ধির ব্যাখ্যায় মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ডলারের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। দুই বছর আগে ডলারের মূল্য যেখানে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১২৬ থেকে ১২৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে যেকোনো পণ্য আমদানিতে খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।
তিনি বলেন, বিদেশ থেকে ফল বা যেকোনো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের মূল্যবৃদ্ধিই পণ্যমূল্য বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সরকার সামগ্রিকভাবে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার দিকে এগোচ্ছে। ট্যারিফ ট্রান্সফরমেশন বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে শুল্ক কমানোর সুপারিশ রয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ উচ্চ শুল্ক কাঠামো ধরে রাখতে পারবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানো হয় বলেও জানান তিনি।
রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রা চ্যালেঞ্জিং হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি খারাপ নয়। অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার পর রাজস্ব আদায় বেড়েছে।
অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩৪ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। অনলাইন রিটার্নের মাধ্যমে সরাসরি প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা গত বছর ছিল প্রায় ১৭০ কোটি টাকা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ সময়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ করে রিটার্ন জমা পড়তে পারে। প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণ অংশ আলাদা করার কাজ চলছে। শিগগিরই কমিটির বৈঠক, গেজেট প্রকাশ এবং সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এমকে
অর্থনীতি
ভারত থেকে দেশে এলো ১২৫ টন বিস্ফোরক
ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে ৮টি ট্রাক বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৫টার দিকে পেট্রাপোল স্থলবন্দর হয়ে প্রায় ১২৫ মেট্রিক টন ওজনের বিস্ফোরক চালানটি দেশে আসে। একসঙ্গে এত বড় চালান দেশে প্রবেশ করায় বন্দরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিস্ফোরক বহনকারী ট্রাকগুলো প্রবেশের পরপরই নির্ধারিত ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে নেওয়া হয়।
সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে চালানটি রাখা হয়েছে। আমদানিকৃত বিস্ফোরক দ্রব্য এনেছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড। রপ্তানিকারক হিসেবে রয়েছে ভারতের সুপার সিভা শক্তি কেমিক্যাল প্রাইভেট লিমিটেড।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং প্রকল্পের খনন কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য ভারত থেকে মোট ১২৭ মেট্রিক টন বিস্ফোরক দ্রব্য আমদানি করা হয়েছে। বর্তমানে বিস্ফোরক বোঝাই ভারতীয় ট্রাকগুলো বন্দর এলাকার ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে কঠোর নিরাপত্তায় রাখা আছে।
তিনি জানান, খালাস প্রক্রিয়ার জন্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সিঅ্যান্ডফ এজেন্ট কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করবে। যাচাই-বাছাই শেষে বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো বাংলাদেশি ট্রাকে করে দিনাজপুরে পাঠানো হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরক দ্রব্যের নিরাপদ সংরক্ষণ, খালাস ও পরিবহন নিশ্চিত করতে পুরো বন্দর এলাকাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দর দিয়ে এত বড় বিস্ফোরক চালান প্রবেশ করায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এমকে
অর্থনীতি
চিনি-ছোলার দাম চড়া, স্বস্তি পেঁয়াজ-ডিমে
একমাস পরেই শুরু হবে রোজা। রমজান মাস ঘিরে এরই মধ্যে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষত রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে সেগুলোর দাম এখনই বেশ চড়া। যার মধ্যে অন্যতম ছোলা ও চিনি। গত কয়েকদিনে এ দুটি ভোগ্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বিক্রেতা সূত্রে জানা গেছে, সরবরাহে কোনো ধরনের সংকট না থাকলেও পাইকারি বাজারে ছোলা-চিনির মতো পণ্যগুলোর দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও। রমজানে বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ খুচরা বিক্রেতাদের।
তবে ভরা মৌসুম হওয়ার কারণে কমেছে দেশি পেঁয়াজের দাম। এছাড়া সবজির ও ফার্মের মুরগির ডিমের দাম কমে এলেও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, সেগুনবাগিচাসহ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখন প্রতি কেজি ছোলা ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক ধরেই পাইকারি বাজারে ছোলার দাম বাড়তে শুরু করেছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও খুচরা বাজারে ছোলা বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
রামপুরা বাজারের মুদি দোকানি এনামুল হক বলেন, পাইকারি বিক্রেতারা ছোলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। যার প্রভাব পড়েছে খুচরায়। তবে ছোলার সরবরাহে ঘাটতি নেই।
শুধু ছোলা নয়, একই অবস্থা চিনির দামেও। বাজারে গত বছরের চেয়েও চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক। তারপরও বাজারে পণ্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দামে স্থিতিশীলতা রয়েছে।
জানা গেছে, এক মাস আগেও প্যাকেটজাত চিনির দাম ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। এখন অবশ্য সবগুলো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চিনির দামই ১০৫ টাকা করা হয়েছে। আর খোলা চিনি যেখানে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে এখন কোনো দোকানেই ১১০ টাকার কমে চিনি মিলছে না।
বাজারে আল আমিন নামের একজন ক্রেতা বলেন, রমজানে যেসব পণ্যের বাড়তি চাহিদা থাকে সেগুলোর দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রতিবারই এটা হয়। এবারও ব্যতিক্রম হবে না।
এ দুই মুদি পণ্যের দাম বাড়লেও স্বস্তি ফিরেছে পেঁয়াজের দামে। ধারাবাহিকভাবেই পণ্যটির দাম কমছে। এখন প্রতি কেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। আর বাজারে বিক্রি হওয়া সিংহভাগ পেঁয়াজ দেশি। অন্যদিকে, ভারত থেকে আমদানি হয়ে আসা কিছু পেঁয়াজ এখনো ৭০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এদিকে কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার পর সপ্তাহখানেক আগে মুরগির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছিল। এখনো সেই বাড়তি দামে আটকে আছে। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর সোনালি মুরগির দাম ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
তবে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম এখনো বাড়েনি। বেশ কিছুদিন ধরে মুরগির ডিমের দাম অন্য সময়ের তুলনায় বেশ কম। প্রতি ডজন বাদামি রংয়ের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১০০ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া শীতের সবজির দামও গত দুই সপ্তাহ বাড়লেও এখন আবার কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এর মধ্যে ফুলকপির দাম ৫০ টাকা থেকে কমে এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় নেমেছে। বাধাকপি প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। নতুন আলুর দাম মান ও বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়।
অন্যদিকে, শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বেগুন মানভেদে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকায়, টমেটোর ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে অন্য পণ্যগুলো আগের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এমকে
অর্থনীতি
কমানোর ১২ ঘণ্টা পর দাম বাড়লো সোনার, নতুন রেকর্ড
দেশের বাজারে ১২ ঘণ্টা আগেই কমানো হয়েছিলো সোনার দাম। তবে আজ তা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৬ হাজার ২৯৯ টাকা। এতে অতীতের রেকর্ড ভেঙে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা।
স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
শুক্রবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এমকে



