কর্পোরেট সংবাদ
বিকাশে আসা রেমিট্যান্সে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন প্রবাসীর স্বজনদের
জাপান প্রবাসী জাহানারা সুমী দৈনন্দিন কাজ শেষে বিশ্রাম নিতে নিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করছিলেন। হঠাৎ একটি অনলাইন পেইজে তাঁর চোখে পড়ল বিশাল আকৃতির একটি নদীর বোয়াল মাছ বিক্রির ভিডিও। সেটি দেখেই তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে উঠলেন- মনে পড়ে গেল ছোটবেলায় বাবার আনা বড় বড় মাছের কথা, যা দেখে পুরো বাড়িতে হৈচৈ লেগে যেত। তাই আর দেরি না করে বাবার প্রিয় বোয়াল মাছ অর্ডার করে তাঁকে সারপ্রাইজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুমী।
তিনি বলেন, ঢাকায় থাকা আমার ভাইকে সঙ্গে সঙ্গে ম্যাসেজ দিয়ে বোয়াল মাছ বুক করার জন্য বলি। সচরাচর এতো বড় মাছ তো আর পাওয়া যায় না! আমি জাপান থেকেই তাৎক্ষণিক ভাইয়ের বিকাশ অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠিয়ে দেই। এমন জরুরি মুহূর্তে বিকাশ-এর রেমিট্যান্স সেবা সত্যিই খুব স্বস্তির জায়গা। ক্যারিয়ারের তাগিদে বাবা-মা-পরিবার ছেড়ে দূর প্রবাসে থাকলেও এই ধরনের আর্থিক সেবার কল্যাণে সেই দূরত্ব অনেকটাই ঘুচে যায়।
এদিকে, সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে রেখে সংসারের প্রয়োজনে বাহরাইন-এ পাড়ি জমিয়েছিলেন চাঁদপুরের বাসিন্দা রসুল মিয়া। প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখেন অনাগত সন্তান আর স্ত্রী আকলিমার। এমনই এক ঝড়ের রাতে প্রসব বেদনা উঠে আকলিমার, সেই রাতেই হাসপাতালে নিয়ে যান আত্মীয়স্বজন। এমন পরিস্থিতিতে সন্তান ও মাকে বাঁচাতে মাঝ রাতেই অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তাররা। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্ত্রীর পাশে না থাকার মনোবেদনা ছিল পাহাড়সম। তবুও অপারেশনের জন্য তাৎক্ষণিক বিকাশ-এর রেমিটেন্স সেবা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠাতে পারায় খানিকটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন তিনি। ঘূর্ণিঝড় কেটে যায়, স্ত্রী-সন্তান দুইজনই সুস্থ হয়ে ফেরে বাড়ি।
হোক সংকট কিংবা আনন্দ – প্রিয়জনদের বিশেষ মুহুর্তগুলোয় পাশে থাকার চেষ্টায় প্রবাসীদের বড় বাধা সময়মতো কষ্টার্জিত রেমিটেন্স পাঠাতে না পারা। তবে প্রযুক্তির কল্যাণে এখন কোটি প্রবাসী তার প্রিয়জনদের বিশেষ মুহুর্তগুলোকে আরও অর্থবহ করে তুলছেন সরাসরি তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে রেমিটেন্স পাঠিয়ে। মাত্র কয়েক ট্যাপে বিকাশ-এ রেমিটেন্স পাঠানোর সুবিধা প্রবাসীর সাথে তার পরিবারের বন্ধন আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়িয়ে সমৃদ্ধ করছে দেশের অর্থনীতিকেও।
বিদেশ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রেমিটেন্স পাঠানো এবং তা তোলার জন্য নিকটবর্তী বাজারে বা উপজেলা শহরে যাওয়া প্রবাসী এবং তার স্বজন উভয়ের জন্যই অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে। এই কারণে যখন প্রয়োজন তখনই রেমিটেন্স পাঠাতে বা পেতে বিকাশ-এর রেমিটেন্স সেবায় আগ্রহ বাড়ছে প্রবাসী এবং তার প্রিয়জনদের।
দেশের অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে বিবেচিত প্রবাসীদের কষ্টার্জিত এই রেমিটেন্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহকে গতিশীল করে রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। সে লক্ষ্যে, প্রবাসীদের জন্য রেমিটেন্স পাঠানোর একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে বিকাশ। বর্তমানে, বিশ্বব্যাপী ১৭৬টিরও বেশি দেশ থেকে শতাধিক আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটর (এমটিও)-এর মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠাতে পারছেন প্রবাসীরা, যা দেশের ২৫টি শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকে নিষ্পত্তির (স্যাটেলমেন্ট) মাধ্যমে নিমেষেই পৌঁছে যাচ্ছে প্রিয়জনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে। সাথে রেমিটেন্সের সাথে যোগ হয়ে যাচ্ছে সরকার প্রদত্ত প্রণোদনার অর্থও।
বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলে ‘লাস্ট মাইল সল্যুশন প্রোভাইডার’ হিসেবে বিকাশ-এ পাঠানো রেমিটেন্স হাতের মুঠোয় পৌঁছে যাওয়ায় প্রবাসীর পরিবার-প্রিয়জনদের জীবনমান বাড়ছে। সহজে এই রেমিটেন্স পাঠানোর সুযোগ হুন্ডিসহ অবৈধ পথে অর্থ পাঠানোকে নিরুৎসাহিত করছে, পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখছে। এদিকে, বিকাশ-এ আসা রেমিটেন্সের টাকা দিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকেই মোবাইল রিচার্জ, সেভিংস, কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, এনজিওর কিস্তি দেওয়া, স্কুল-কলেজের ফি পরিশোধসহ অসংখ্য কাজে ব্যবহার করতে পারছেন প্রবাসীর স্বজনরা।
কর্পোরেট সংবাদ
‘নগদ’ টিকিয়ে রাখতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন: বাংলাদেশ ব্যাংক
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নগদের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্থানীয় বা বিদেশি— যে কোনো উৎস থেকে বিনিয়োগ এলে তা ইতিবাচকভাবেই দেখা হবে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।
এর আগে বেলা ১১টার পর ডাক বিভাগের এমএফএস প্রতিষ্ঠান নগদ-এ বিদেশি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।
আরিফ হোসেন খান বলেন, একসময় নগদ বড় ধরনের সংকটে পড়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিশাল গ্রাহকভিত্তি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসক ও প্রশাসক টিম নিয়োগ দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসক টিম দায়িত্ব পালনের ফলে আর্থিক সূচক ও লেনদেনের তথ্যসহ সার্বিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি স্থায়ী সমাধান নয়। নগদকে শক্ত ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বড় বিনিয়োগ অপরিহার্য। নগদ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এমএফএস প্রতিষ্ঠান। এটি টিকে থাকতে না পারলে বাজারে একচেটিয়া পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা গ্রাহকদের জন্য ক্ষতিকর হবে।
তিনি আরও জানান, অতীতে নগদে বিদেশি বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নগদে অতীতে যেসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে বলেও জানান মুখপাত্র। একই সঙ্গে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আরিফ হোসেন খান বলেন, নগদের মালিকানার সঙ্গে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ জড়িত, যা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারেরই। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারকে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেবে।
এমএন
কর্পোরেট সংবাদ
৩১টি স্টার্টআপ ও এসএমই কে নিয়ে ‘অন্যরকম উদ্যোক্তা’র কোহর্ট ২.০- এর যাত্রা শুরু
দেশের বিকাশমান উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) প্রসারে যাত্রা শুরু করলো অন্যরকম উদ্যোক্তা অ্যাকসিলারেটর প্রোগ্রাম কোহর্ট ২.০।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ফার্মগেটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অন্যরকম উদ্যোক্তা আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাকসিলারেটর প্রোগ্রাম কোহর্ট ২.০ উদ্বোধন করেছে।
অ্যাকসিলারেটর প্রোগ্রাম কোহর্ট ২.০-এর জন্য ৩১টি বৈচিত্র্যময় স্টার্টআপ ও এসএমই-কে নির্বাচিত করা হয়েছে। কোহর্ট ২.০ মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কৌশলগত সহায়তা, মেন্টরশিপ এবং প্রয়োজনীয় রিসোর্স প্রদান করা হবে।
অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে ব্যবসা,উদ্যোক্তা ও শিক্ষা খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন, শায়খ আহমাদুল্লাহ, আশিক চৌধুরী, আয়মান সাদিক এবং ফাহিম আবদুল্লাহ। তাঁরা বাংলাদেশের বিকাশমান উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেমের সম্ভাবনা এবং টেকসই ব্যবসা গড়ে তোলা নিয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
কোহর্ট ২.০-এর বাছাই প্রক্রিয়ায় বাজারে প্রভাব বিস্তার এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে এমন ৩১টি উদ্যোগকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যরকম উদ্যোক্তা অ্যাকসিলারেটরের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিবিড় প্রশিক্ষণ এবং নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে, যা তাদের প্রাথমিক স্তরের উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক সফলতার মাঝের ব্যবধান কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
প্রথম আয়োজনের সফলতার ধারাবাহিকতায়, ছয় মাসব্যাপী অ্যাকসিলারেটর প্রোগ্রামে ‘কোহর্ট ১’-এর অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২ থেকে ১০ গুণ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। একটি সুনির্দিষ্ট ‘ফাউন্ডার-ফার্স্ট’ বা উদ্যোক্তা-কেন্দ্রিক দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে, অন্যরকম উদ্যোক্তা স্বল্পমেয়াদী বা ক্ষণস্থায়ী সাফল্যের পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তাদের এমনভাবে ক্ষমতায়ন করার ওপর জোর দেয়, যাতে তাঁরা একটি মজবুত ও টেকসই ব্যবসা গড়ে তুলতে পারেন।
এমএন
কর্পোরেট সংবাদ
ক্যাশলেস লেনদেনে সম্প্রসারণে চুক্তিবদ্ধ হলো ‘নগদ’ ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক
দেশব্যাপী আন্তঃপরিচালনযোগ্য লেনদেন সেবার পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নগদ লিমিটেড এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর (এমটিবি) মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সম্প্রতি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিলসি-এর প্রধান কার্যালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তির আওতায় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদের মাধ্যমে সম্পাদিত এনপিএসবি এবং বাংলা কিউ আর লেনদেনের সেটেলমেন্ট ব্যাংক হিসেবে কাজ করবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। এই সেবাটি আন্তঃপরিচালনাযোগ্য (ইন্টারঅপারেবল) ক্যাশহীন লেনদেন সেবার পরিসর সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ডিজিটাল অর্থনীতি ও স্মার্ট গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নগদ লিমিটেড-এর প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন। এসময় উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সামনের দিনে আরো বেশি সহযোগিতাপূর্ণ অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরো সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দেশব্যাপী ডিজিটাল পেমেন্টকে আরো ছড়িয়ে দিতে নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতামূলক প্রকল্প অব্যাহত থাকবে বলেও মন্তব্য করেন।
এমএন
কর্পোরেট সংবাদ
৮৮ জন নারী উদ্যোক্তার তৈরি পণ্য নিয়ে শুরু হলো ‘তারা উদ্যোক্তা মেলা ২০২৬’
নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি দেশীয় পণ্যের প্রসার ও এসব পণ্যের বাজারসৃষ্টি করতে ব্র্যাক ব্যাংকের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘তারা উদ্যোক্তা মেলা ২০২৬’শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৮৮ জন নারী উদ্যোক্তা তাঁদের তৈরি দেশীয় পণ্য নিয়ে তারা উদ্যোক্তা মেলায় অংশ নিয়েছেন। এই মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এবং মেলার পর্দা নামবে ১ মার্চ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের আলোকি কনভেনশন সেন্টারে ব্র্যাক ব্যাংকের আয়োজনে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়।
মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম. হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ইনডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর লীলা রশিদ ও আনিতা গাজী রহমান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান এবং অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর হেড অব এসএমই ব্যাংকিং-এর সৈয়দ আব্দুল মোমেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মেলার বিশেষত্ব, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৮৮ জন নারী উদ্যোক্তা তাঁদের তৈরি দেশীয় পণ্য নিয়ে তারা উদ্যোক্তা মেলায় অংশ নিয়েছেন। মেলায় অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগ নারী উদ্যোক্তা উৎপাদন খাতে জড়িত, যারা দেশের ঐতিহ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ব্র্যাক ব্যাংক বিনা খরচে স্টল বরাদ্দ দিয়েছে এবং মেলার সম্পূর্ণ খরচ বহন করছে। এতে নারী উদ্যোক্তারা এই মেলায় অংশ নিতে নিজেদের কোনো খরচ বহন করতে হচ্ছে না।
মেলায় বিভিন্ন ধরনের পণ্যের সমাহার নিয়ে হাজির হয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা। তাঁদের তৈরি পণ্যের মধ্যে বুটিক, হাতে সেলাই করা পোশাক, মৃৎশিল্প, পাটজাত পণ্য, জামদানি, মসলিন, অর্গানিক স্কিনকেয়ার এবং বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন দেশীয় পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রি চলছে। এছাড়াও মেলায় আগতদের জন্য রাখা হয়েছে ইফতার ও ডিনার ফুড কোর্টসহ অন্যান্য স্টল।
নারী উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করতে মেলায় ব্র্যাক ব্যাংক কিউআর এবং কার্ড পেমেন্ট সুবিধা দিচ্ছে। মেলায় কিউআর পেমেন্টের মাধ্যমে কেনাকাটা করলে ক্রেতারা ২০% পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া মেলায় আগতদের জন্য ইফতার ও ডিনারের জন্য ফুড কোর্টের ব্যবস্থা রয়েছে।
এই তারা উদ্যোক্তা মেলায় দেশীয় পণ্যের প্রচার এবং দেশের ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ন রেখে পণ্য উদ্ভাবনের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। বিশেষ করে মেলাটি ঈদের আগে হওয়ায় নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি অনেক নতুন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করছে এবং তাদের মেলায় অংশগ্রহণে আকৃষ্ট করছে।
তারা উদ্যোক্তা মেলা প্রদর্শনী সম্পর্কে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, উন্নয়নের সম-অংশীদার হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের পূর্ণ সম্ভাবনার বিকাশে সহায়তা করে। সে মূল্যবোধ থেকেই আমরা প্রতিবছর এই তারা উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করেছি।
তিনি আরো বলেন, এই মেলার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা যেমন দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে মিশে থাকা দেশীয় পণ্যের প্রচার ও প্রসারের সুযোগ পাচ্ছেন, অন্যদিকে নিজেরাও আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। তিনি আরও জানান,নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন আরও মেলার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এমএন
কর্পোরেট সংবাদ
পবিত্র রমজানে ‘রেমিটেন্স সেবা মাস’ পালন করছে এনআরবিসি
এনআরবিসি ব্যাংক প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাতে উৎসাহিত করণ এবং এ সংক্রান্ত সেবার প্রসারে পবিত্র রমজান মাসকে ‘বিশেষ রেমিটেন্স সেবা মাস’ হিসেবে পালন করছে। এ উপলক্ষ্যে ঈদের আগ পর্যন্ত রেমিটেন্স গ্রহণকারীদের বিশেষ উপহার প্রদান করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ড. মো: তৌহিদুল আলম খান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম খান, প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা (সিএইচআরও) ফয়সাল আহমেদ, প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা (সিআরও) সিরাজুল আমিন আহমেদ, আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান হাসনাত রেজা মহিবুল আলম, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) রাসেদুল ইসলাম এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, রেমিট্যান্স-কেন্দ্রিক ব্যাংক হিসেবে এনআরবিসি ব্যাংক প্রবাসী আয় পরিষেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। পরিচালক পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা রেমিট্যান্স খাতকে ব্যাংকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সেবাক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে। প্রবাসীদের পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এই বিশেষ উপহার দেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংক তার দেশব্যাপী শাখা এবং উপ-শাখা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দ্রুত, নিরাপদে এবং সুবিধাজনকভাবে গ্রাহকদের কাছে রেমিট্যান্স পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রেমিট্যান্স গ্রাহকদের জন্য পরিষেবার মান বৃদ্ধির জন্য, ইতিমধ্যেই সকল আউটলেটে পৃথক ‘রেমিট্যান্স সার্ভিস ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে। এই চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে, রমজান মাস জুড়ে বিশেষ উপহার বিতরণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
এমএন




