জাতীয়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১০৬ মামলায় চার্জশিট দাখিল
জুলাই মাসে ছাত্র ও জনতার অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ঘটনাগুলোয় দায়ের মামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০৬টির চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ৩১টি হত্যা মামলা এবং বাকি ৭৫টি অন্য ধারায়।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চার্জশিটকৃত ৩১টি হত্যা মামলা পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, কুড়িগ্রাম, শেরপুর জেলা এবং পিবিআই, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের। অন্যান্য ধারার ৭৫টি মামলা পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়া, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, বরগুনা জেলা এবং পিবিআই, সিআইডি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দায়ের এসব মামলার সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা প্রতিটি মামলা তদারকি করছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। অন্য মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩(এ) ধারায় বৈষম্যবিরোধী ৪৩৭টি মামলায় মোট ২ হাজার ৮৩০ জনকে অব্যহতির জন্য আদালতে অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
জাতীয়
পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তনের কথা জানাল ইসি
দেশের ভেতরে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এ কথা জানান।
ইসি মাছউদ বলেন, প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। তবে দেশের ভেতরে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
বিশেষ করে আসনভিত্তিক প্রার্থীদের নাম সংযুক্ত করে পোস্টাল ব্যালট ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার।
তিনি বলেন, প্রবাসী ভোটারদের জন্য ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সেখানে কোনো পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট অপরিবর্তিতই থাকছে।
ইসি বলেন, দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালট এখনও ছাপানো হয়নি। তাই সেখানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে অনলাইন নিবন্ধনের পর প্রবাসী ভোটারের কাছে ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন। যার মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় আট লাখ। আর দেশের ভেতরে সরকারি চাকরিজীবী, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনি হেফাজতে থাকা ৭ লাখ ৬১ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে একই ঠিকানায় কয়েকশ ব্যালট কিংবা ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে মনে করেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।
জাতীয়
জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ বিষয়ক জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও পঞ্চম এলডিসি সম্মেলনের মহাসচিব রাবাব ফাতিমা।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমানে এই সফর না করার অনুরোধ জানানো হয়। এই সফরের নতুন কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী মাসে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সফর করতে পারে।
গত নভেম্বরে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, এলডিসি থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ এবং নির্বিঘ্ন উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের পথনকশা প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কাছ থেকে মতামত ও নথিপত্র সংগ্রহ করেছে জাতিসংঘ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর স্থগিত হলেও নির্ধারিত সময়েই সংস্থাটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন বাংলাদেশে পাঠাবে।
এ বিষয়ে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান গত বৃহস্পতিবার জানান, জাতিসংঘ এ দফায় আসছে না মানে পরে আসবে। তবে তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদনটা আমরা পেয়ে যাব। এরপর বাকি প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে এগোবে।
এদিকে প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয়টি সামনে এনে এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিওটিও) আওতায় বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত বাণিজ্যসুবিধা আর থাকবে না, ফলে দেশের রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এলডিসির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ইতিবাচক অবস্থান নেই। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ সদস্য দেশের যে কোনো একটি দেশ বিরোধিতা করলে সেটিকে সম্মিলিত বিরোধিতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, আইসিসি বাংলাদেশসহ মোট ১৬টি ব্যবসায়ী সংগঠন গত ২৪ আগস্ট একযোগে সংবাদ সম্মেলন করে এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর দাবি তোলে। সরকার ইতোমধ্যে জাতিসংঘকে ব্যবসায়ীদের এই দাবির কথা জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত পায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। অন্যদিকে লাওস ও নেপাল এখনো এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাবে। এর আগে ২০১৮ সালে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক- এই তিন সূচকেই উত্তীর্ণ হয়ে দেশটি উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে। ২০২১ সালের পর্যালোচনার পর জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ দেয়।
বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, অন্তত তিন বছর উত্তরণ পেছানো প্রয়োজন, কারণ প্রস্তুতিতে ঘাটতি রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কারিগরি শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের যেমন সীমাবদ্ধতা আছে, তেমনি সরকারের ঘাটতিও বড়।
তিনি বলেন, যে স্তরে বাংলাদেশ যেতে চায়, সেখানে অন্যান্য দেশের ব্যাংকঋণের সুদ ৫ শতাংশের নিচে, অথচ দেশে তা প্রায় ১৫ শতাংশ। অন্য দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিশ্চয়তা থাকলেও এখানে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সুশাসন ও অবকাঠামোর ঘাটতিও রয়েছে। তার প্রশ্ন, এসব সমস্যা রেখে কেবল নামমাত্র এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে দেশের লাভ কী?
জাতীয়
২৫ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ না হলে মিলবে না নতুন অনুমোদন
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ওষুধের নতুন মূল্য নির্ধারণ নীতিমালা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মোট বার্ষিক বিক্রির অন্তত ২৫ শতাংশ আর্থিক মূল্যের সমপরিমাণ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ বাজারে সরবরাহ ও বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি নতুন কোনো ওষুধের অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারবে না।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে নীতিমালাটি অনুমোদন দিয়েছে। এখন এটি গেজেট আকারে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি সরকার জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ তালিকা সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয়। নতুন করে ১৩৫টি ওষুধ যুক্ত হওয়ায় তালিকায় মোট অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫টি। সরকার জানিয়েছে, শিগগিরই এসব ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হবে এবং জাতীয় ঔষধ মূল্য নির্ধারণ নীতিমালা–২০২৫ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
শিল্পমালিকদের আপত্তি
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করলেও ওষুধ শিল্পের মালিকরা ২৫ শতাংশ উৎপাদন বাধ্যবাধকতাকে ‘বাস্তবতা-বিবর্জিত’ ও ‘বাজারবিরোধী’ বলে সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণ বা মূল্য নির্ধারণ কাঠামো তৈরির সময় শিল্পের অংশীজনদের সঙ্গে কোনো অর্থবহ আলোচনা হয়নি।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বিএপিআই) মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, দেশে কোনো কোম্পানিই শতভাগ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন করে না। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান ৫–১০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করে না, আর অনেক নতুন কোম্পানি একেবারেই করে না। তাঁর ভাষায়, “দাম সংশোধন ছাড়া যদি ২৫ শতাংশ উৎপাদনে বাধ্য করা হয়, তাহলে লোকসান গুনে উৎপাদন করতে হবে, নইলে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গত তিন দশকে মাত্র দু’বার মূল্য সংশোধন হওয়ায় অনেক ওষুধ উৎপাদন করলেই বড় অঙ্কের লোকসান হয়। এর ফলে স্যালাইনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের উৎপাদন ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
রেনাটা লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এস কায়সার কবিরও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাজারের চাহিদা বিবেচনা না করে উৎপাদনের নির্দিষ্ট হার বেঁধে দেওয়া হলে তা কার্যকর হবে না। “চাহিদা না থাকলে অতিরিক্ত ওষুধ উৎপাদন করে গুদামে রাখা কোনো কোম্পানির পক্ষেই সম্ভব নয়,” বলেন তিনি।
বিএপিআই সভাপতি আবদুল মুক্তাদির অভিযোগ করেন, মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় শিল্পের স্টেকহোল্ডারদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁর মতে, নীতিমালার ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে শিল্প এখনো স্পষ্ট ধারণা পায়নি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত
ফার্মাসিস্ট ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক পরামর্শক মো. আবু জাফর সাদেক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করেন, অতিরিক্ত মূল্য নিয়ন্ত্রণ গুণগত মান ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, একতরফা সিদ্ধান্তের বদলে সরকার ও শিল্পের মধ্যে সহযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি রোগীদের জন্য বেশি লাভজনক হবে।
সরকারের অবস্থান
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ দিয়েই প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ রোগের চিকিৎসা সম্ভব। এসব ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে আনলে সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা আরও সহজ হবে। তিনি এই উদ্যোগকে ‘যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার দাবি, গত ১৪ মাস ধরে একটি টাস্কফোর্স উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে।
নতুন মূল্য নির্ধারণ কাঠামো
নতুন নীতিমালায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের ক্ষেত্রে ‘কস্ট-প্লাস বেঞ্চমার্কিং’ পদ্ধতিতে ভ্যাট বাদে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হবে। কাঁচামাল, প্রাইমারি প্যাকেজিং ব্যয় ও নির্ধারিত মার্কআপ যোগ করে এই দাম ঠিক করবে সরকার মনোনীত কমিটি বা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ)।
অন্যদিকে, অত্যাবশ্যকীয় তালিকার বাইরে থাকা ওষুধের দাম নির্ধারণে রেফারেন্স প্রাইসিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। নির্দিষ্ট সংখ্যক কোম্পানি উৎপাদন করলে বাজারমূল্যের মধ্যম মান বা আন্তর্জাতিক দামের ভিত্তিতে দাম ঠিক হবে, যা নির্ধারিত বেঞ্চমার্কের ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে।
বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন
টাস্কফোর্সের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, দীর্ঘদিন দাম সমন্বয় না হওয়ায় উৎপাদনকারীরা অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ থেকে সরে গিয়েছিল। নতুন নীতিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ওষুধের প্রাপ্যতা বাড়বে এবং দাম কমবে। তাঁর মতে, “নিয়ন্ত্রিত মুনাফার মাধ্যমে শিল্প ও জনস্বাস্থ্য—উভয়ই উপকৃত হবে।”
তবে শিল্পমালিকদের আশঙ্কা, বাজার বাস্তবতা বিবেচনা না করলে এই নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এখন গেজেট প্রকাশের পর বাস্তবে নীতিমালাটি কীভাবে কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।
জাতীয়
সৌদিতে থাকা ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেবে বাংলাদেশ
সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে (বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক) বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুততর করার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ তথ্য জানান।
বৈঠকে সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাদের (বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক) বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদানের অগ্রগতি, জনশক্তি রপ্তানি ও পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি, সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য ‘World Defense Show’-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণপত্রসহ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতিম দেশ।
তিনি বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শুধু ইসলাম ধর্মের পবিত্র ভূমি হিসেবে নয়, বরং আমাদের ৩২ লাখেরও বেশি প্রবাসী কর্মীর দ্বিতীয় আবাসস্থল হিসেবেও এটি বাংলাদেশিদের হৃদয়ের গভীরে আসীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি প্রবাসীদের অবদান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। উপদেষ্টা এ সময় বাংলাদেশ থেকে আরও অধিক হারে জনশক্তি আমদানির জন্য রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত উপদেষ্টাকে সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাদের (বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক) বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদানের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন এবং বাংলাদেশের বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এ বিষয়ে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে। এটি ত্বরান্বিত করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকটি বিশেষ টিমও পাঠানো হয়েছে। তবে মিশনে আসা আবেদনের তুলনায় পাসপোর্টের এনরোলমেন্টে উপস্থিতির হার অনেক কম রয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সৌদি আরবের ইন্টেরিয়র মিনিস্টারকে অবহিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। আমরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন-সংক্রান্ত একটি পরিপত্রও জারি করা হয়েছে। অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযান বেগবান করা হয়েছে। ‘ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চলছে।
সৌদি রাষ্ট্রদূত স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে আগামী ৮-১৪ ফেব্রুয়ারি মেয়াদে সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী (World Defense Show)-তে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান এবং এ সংক্রান্ত সৌদি ইন্টেরিয়র মিনিস্টারের একটি আমন্ত্রণপত্র উপদেষ্টার হাতে তুলে দেন।
উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কারণে তিনি এ ইভেন্টে অংশগ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং উপযুক্ত প্রতিনিধি প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফয়সল আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব মু. জসীম উদ্দিন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
জাতীয়
বইমেলায় স্টলের জন্য আবেদন ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত
বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার স্টল বরাদ্দের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়েছে। ১৬ জানুয়ারি অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব ড. মো. সেলিম রেজা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী প্রকৃত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে স্টলের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান করা হচ্ছে। আবেদনপত্র অনলাইনে www.ba21bookfair.com এই ওয়েবসাইটে পূরণ করা যাবে।
পুরোনো (২০২৫ সালের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী) যেসব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পূর্বের আকারের (১, ২, ৩ ও ৪ ইউনিটের স্টল বা প্যাভিলিয়ন) স্টল পেতে আগ্রহী, তারা অনলাইনে ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনপত্রের সঙ্গে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনদ, লেখকের সঙ্গে সম্পাদিত সর্বশেষ একটি চুক্তিপত্রের ১ম ও শেষ পাতা, লেখককে প্রদত্ত সম্মানির সাম্প্রতিক প্রমাণক, আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরে গ্রন্থ জমা প্রদানের রসিদ/প্রত্যয়নপত্র এবং অগ্নি-সাইক্লোন বীমার প্রমাণক আপলোড করবেন।
নতুন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অথবা যেসব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পূর্বের আকার থেকে বর্ধিত স্টল বা প্যাভিলিয়ন পেতে আগ্রহী, সেসব প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি থেকে তথ্যফরম বা আবেদনপত্র সংগ্রহ ও পূরণ করে উপর্যুক্ত প্রয়োজনীয় তথ্যাদিসংবলিত আবেদন বইসহ (ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে প্রকাশিত কমপক্ষে ৩০টি মানসম্মত বই) ২০ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি (ছুটির দিনসহ) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে একাডেমির ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ভবনের নিচতলায় অভ্যর্থনা কক্ষ থেকে সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। বইয়ের মান ও অন্যান্য কাগজ বা দলিল যাচাই শেষে স্টল বরাদ্দের ব্যাপারে বইমেলা পরিচালনা কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
অনলাইনে আবেদনপত্র জমা দিতে অপারগ প্রতিষ্ঠানসমূহ সরাসরি আবেদনপত্র জমা দিতে পারবে। অনলাইনে বা সরাসরি প্রাপ্ত আবেদনপত্র অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ পরিচালনা কমিটি যাচাই-বাছাই করে ৩১ জানুয়ারি অনলাইনে প্রকাশ করবে।
বরাদ্দপ্রাপ্ত স্টলের ভাড়া ব্যাংকে জমা দিয়ে জমার রসিদ ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আপলোড করতে হবে এবং ০১ কপি প্রতিষ্ঠানের নামসহ একাডেমির ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভবনের নিচতলায় অভ্যর্থনা কক্ষে জমা দিতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের স্টল ভাড়া উপর্যুক্ত সময়ের মধ্যে জমা হবে না, সেসব প্রতিষ্ঠানের নাম লটারির তালিকার বাইরে থাকবে।
ভাড়া বাবদ প্রদেয় টাকা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির যে কোনো অনলাইন শাখা থেকে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, বাংলা একাডেমি শাখার ‘বাংলা একাডেমি অমর একুশে গ্রন্থমেলা সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ০২০০০১৪০৪৯২৩১’-এ জমা দিতে হবে। টাকা জমার রসিদে প্রতিষ্ঠানের নাম ও অনলাইন রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকা অপরিহার্য।
অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’-এর নীতিমালা ও নিয়মাবলি মেনে চলতে হবে। এই নীতিমালা ও নিয়মাবলি ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
এমকে



