অর্থনীতি
সম্মিলিত ব্যাংকের কর্মীদের বেতন ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে
বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের কর্মীদের বেতন-ভাতা কমানোর পরামর্শ দিয়েছে। ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটের কারণে কর্মীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে এবং গ্রাহকেরা টাকা তোলার ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এখানকার পাঁচটি ব্যাংক হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। ব্যাংকগুলো একীভূত হয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করবে।
গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সদর দপ্তরে এই পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। বৈঠকে ব্যাংকগুলো এক হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা চেয়েছিল, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদন দিয়েছে মাত্র ৩৫০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, ব্যাংকগুলোর খরচ কমানো এবং নতুন ব্যাংক দ্রুত চালু করা অপরিহার্য। অংশ হিসেবে কর্মীদের বেতন ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে এই পাঁচ ব্যাংকে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী রয়েছেন। অতীতের সময় অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংকগুলোকে প্রায় ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে, যা এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি।
একীভূত ব্যাংকে সাধারণ আমানতকারীরা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে।
নতুন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সাত সদস্যের, সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা হলেন সরকারি বিভিন্ন বিভাগীয় সচিব ও যুগ্ম সচিবরা। নতুন ব্যাংকে পেশাদার ব্যাংকার, হিসাববিদ ও আইনজীবী সমানসংখ্যক স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাবেন। এমডি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনীতি
বাংলাদেশে আমদানি বন্ধ, ভারতে নষ্ট হচ্ছে ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ
বাংলাদেশের বাজারে স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পর পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্রের রপ্তানিকারকরা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। সীমান্তে আটকে থাকা প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা নাসিক থেকে ১৬ রুপি কেজি দরে কিনে পরিবহনসহ ২২ রুপি খরচ করে সীমান্তে আনা সেই পেঁয়াজ এখন মাত্র ২ রুপি কেজিতে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
শুক্রবার মালদহের মাহাদিপুর-সোনামসজিদ সীমান্তে দেখা গেছে, ৫০ কেজির একটি বস্তা মাত্র ১০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। অথচ মালদহের স্থানীয় খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ২০–২২ রুপি। সীমান্তে কম দামে পেঁয়াজ কিনতে ক্রেতারা ছুটে আসছেন, কিন্তু এটি রপ্তানিকারকদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হঠাৎ বাংলাদেশি আমদানিকারকরা আমদানি বন্ধ করে দেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
রপ্তানিকারকরা জানান, বাংলাদেশি আমদানিকারকদের মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে ঘোজাডাঙ্গা, পেট্রাপোল, মাহাদিপুর ও হিলি সীমান্তে অন্তত ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ মজুত করা হয়েছিল। শুধু মাহাদিপুরেই ছিল প্রায় ২০ হাজার টন। রপ্তানি স্বাভাবিক থাকলে কেজি প্রতি ৩০–৩২ রুপি দরে বিক্রি করে ৮–১০ রুপি লাভ হতো। কিন্তু এখন পেঁয়াজ পচতে শুরু করেছে। ক্ষতি কমাতে প্রতিদিন শতাধিক শ্রমিক লাগিয়ে পচা পেঁয়াজ আলাদা করতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী সাজিরুল শেখ বলেন, ‘২২ রুপি কেজি দরে নাসিক ও ইন্দোর থেকে পেঁয়াজ এনেছিলাম। এখন পচা শুরু করায় বাধ্য হয়ে ২, ৬ বা ১০ রুপিতে বিক্রি দিচ্ছি।’ আরেক ব্যবসায়ী জাকিরুল ইসলাম জানান, ‘দুই মাস আগেও প্রতিদিন ৩০–৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠিয়েছি। এখন স্টক পচে যাওয়ায় লোকাল মার্কেটে যেটুকু দাম পাওয়া যায়, সেটাতেই বিক্রি করছি। বাংলাদেশ পরিষ্কার জানিয়েছে, তারা এখন পেঁয়াজ নেবে না।’
মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দু’মাস আগেও বাংলাদেশে রপ্তানি স্বাভাবিক ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মজুত করা ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ এখন তাদের মাথাব্যথার কারণ। অন্যদিকে পেট্রাপোল ও ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে তুলনামূলক কম মজুত থাকায় সেখানে বড় কোনো সংকট তৈরি হয়নি।
পানির দরে পেঁয়াজ কিনলেও ভারতীয় ভোক্তারা সন্তুষ্ট নন। মালদহের ক্রেতা খাইরুল হক বলেন, ‘রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের অবহেলায় বাজারের এই অবস্থা। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত, আর খুচরা বাজারে দাম এখনও ২০–৩০ রুপি।’
কলকাতাসহ আশপাশের শহরে তুলনামূলক ভালো মানের পেঁয়াজ ২৫–৩০ রুপি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতাদের মতে, গুদামে থাকা স্টক বাজারে আসতে শুরু করলে দাম আরও কমে যেতে পারে।
অর্থনীতি
মেট্রোরেল-৬ প্রকল্পে ব্যয় কমছে ৭৫৫ কোটি টাকা
রাজধানীতে স্বস্তিতে যাতায়াতের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় গণপরিবহন হচ্ছে মেট্রোরেল। ‘এমআরটি (ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট) লাইন-৬’এটিই দেশের প্রথম মেট্রোরেল। আধুনিক এই গণপরিবহন প্রতিদিন চার লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করছে। জাতীয় বিশেষ দিনগুলোতে যা সাড়ে চার লাখ ছাড়িয়ে যায়। কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত নির্মাণাধীন বাকি কাজ শেষ হলে দিনে ৬ লাখ ৭৭ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে এমআরটি-৬।
জনপ্রিয় হলেও মেট্রো-৬-এর নির্মাণ ব্যয় নিয়ে সমালোচনা আছে। বলা হয়ে থাকে, এশিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল মেট্রো প্রকল্প এটি। প্রতিবেশী ভারতের দিল্লি মেট্রোরেলের চেয়ে ব্যয় দুই-তৃতীয়াংশ বেশি হয়েছে এতে। আর পাকিস্তানের লাহোরে প্রথম মেট্রোরেলের চেয়ে দ্বিগুণ। চীনের সাংহাই শহরের প্রথম মেট্রোরেলের নির্মাণ ব্যয়ের পাঁচগুণ। এরকম সমালোচনার মুখে মাঝ পথে এসে কমছে মেট্রোরেলের নির্মাণ ব্যয়। ৭৫৫ কোটি টাকা ব্যয় কমানোর প্রস্তাব করেছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এ সম্পর্কিত একটি সংশোধন প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল সোমবার একনেক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সম্প্রতি এ সম্পর্কিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে সংশোধন অনুমোদনের সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, প্রায় ৭৫৫ কোটি টাকা ব্যয় কমানোর প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য বিবেচনাযোগ্য। এই প্রস্তাব সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-৬-এর বিজয় সরণি, ফার্মগেট, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মতিঝিল স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান কাঠামোর জন্য অতিরিক্ত ৩ দশমিক ৫৬ হেক্টর জমি আর প্রয়োজন হয়নি। এতে ১ হাজার ১২১ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। চারটি স্টেশন প্লাজা নির্মাণ প্রকল্প প্রস্তাব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ বাবদ ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে ১৬৫ কোটি টাকা। উত্তরা উত্তর, উত্তরা মধ্য, আগারগাঁও ও মতিঝিল স্টেশনে এই প্লাজাগুলো নির্মাণের কথা ছিল। এছাড়া মূল লাইন, সিভিল ও স্টেশন নির্মাণে ১১৬ কোটি টাকা, ইলেকট্রিক ও মেকানিক্যাল (ইঅ্যান্ডএম) রেলওয়ে ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে ৯০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ও পুনর্বাসন পরামর্শ সেবায় প্রায় ৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।
মেট্রোরেল-৬ (দক্ষিণ)-এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল ওহাব। গত সেপ্টেম্বর থেকে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এমআরটি-৬ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জানান, পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাদ দেওয়া স্টেশন প্লাজাগুলোর খুব বেশি প্রয়োজন নেই। মেট্রোরেলের বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে প্লাজাগুলোর কথা ভাবা হয়েছিল। ব্যাংক বুথ, শপিংসহ বিভিন্ন সেবা সৃষ্টির লক্ষ্য ছিল তখন। পরে দেখা গেল, এগুলো লাভজনক নয়। বাদ দেওয়ায় এখন ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ বড় অঙ্কের টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। বর্ধিত সময়ে কাজ শেষ করার বিষয়ে আশাবাদী তিনি।
তবে ওই দুই খাতে ব্যয় সাশ্রয় হলেও জাইকার ঋণের সুদ পরিশোধ, অতিরিক্ত সময়ের জন্য কর্মকর্তা ও পরমার্শকদের বেতন ভাতা এবং মতিঝিল থেকে কমলাপুর স্টেশনে রোলিং স্টক অ্যান্ড ইকুইপমেন্টস ব্যয়সহ বাড়তি ব্যয় রয়েছে ১ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা।
ব্যয় কমানোর পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ডিএমটিসিএল। ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে এতে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
মূলত, মতিঝিল-কমলাপুর অংশে ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটারের সম্প্রসারণের কাজ শেষ করতে এ সময় বাড়ানোর প্রয়োজন হচ্ছে। এমআরটি লাইন-৬ দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্প। প্রকল্পের ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশটি ইতোমধ্যে চালু রয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে উদ্বোধন করা হয়, তখন এটি উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচল করত। পরে ২০২৩ সালের শেষে মতিঝিল পর্যন্ত সব স্টেশন যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এবার অনুমোদন পেলে এটি হবে প্রকল্পটির তৃতীয় সংশোধনী। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৩২ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা।
এমকে
অর্থনীতি
সোনার দাম আবারও বেড়েছে, ভরি ২ লাখ ১০ হাজার টাকা
দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪০৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে করে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরির দাম দুই লাখ ১০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এ দাম রোববার ( ৩০ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ায় সোনার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তবে মূল কারণ হচ্ছে, বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ২০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৭২ হাজার ২৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৪৩ হাজার ৩২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোনার দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ২৪৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬০১ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
এমকে
অর্থনীতি
ব্যবসায়ীদের জন্য আমরা ‘কমফোর্ট জোন’ তৈরি করতে পারিনি: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সমাজে চাঁদা ও দুর্নীতি ব্যবসায়ীদের এমনভাবে নিরুৎসাহিত করছে যে, তারা সামর্থ্য থাকার স্বত্বেও অনেকে ব্যবসায় স্থাপনের চিন্তা করে না।
তিনি বলেন, রাজনীতির জায়গা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আমরা ব্যবসায়ীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত কমফোর্ট জোন তৈরি করতে পারিনি। এ জন্য রাজনীতিবিদদের দায় রয়েছে বলে মনে করেন জামায়াত আমির।
শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে আয়োজিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশনে তিনি এসব বলেন। ‘অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ বিষয়ক এই সম্মেলনের আয়োজন করে বণিক বার্তা।
অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ দেশের অর্থনীতিতে গরিব-দুঃখী সবাই অবদান রেখে যাচ্ছে। আমাদের টোটাল ডেভেলপমেন্ট দুটো বড় খাত থেকে আসে; একটা বিভিন্ন পর্যায়ের ট্যাক্স, আরেকটা রেমিট্যান্স। ভিক্ষুক ও শিল্পপতি উভয়ই ট্যাক্স দেন।
যেহেতু সমাজের দায়িত্ব সবাই সমানভাবে নিচ্ছে, তাই অর্থনৈতিক বিষয়টিও ন্যায্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। তা না হলে এই ক্ষেত্রে অবিচার হবে, সেই অবিচার এরই মধ্যে সমাজে চলছে। এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই; কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।’
জামায়াত আমির বলেন, অর্থনীতি নিয়ে আপনি আগাবেন কীভাবে? এই অর্থনীতিতে যেমন বিভিন্ন সরকারি মার-প্যাঁচ, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য আছে, তেমননিভাবে সেখানে অনেক দুর্বৃত্তপনাও আছে। ক্ষেত্রবিশেষে এই দুর্বৃত্তপনাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে রাষ্ট্র। ফলে যে উদ্যোক্তার পাঁচ বছরের মধ্যে সফলতার মুখ দেখার কথা ছিল সেটা ১০ বছর গড়িয়ে চলে যাচ্ছে।
চাঁদা ও দুর্নীতি ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করছে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, সামর্থ্য থাকা স্বত্বেও অনেকে ব্যবসায় স্থাপনের চিন্তা করে না। উল্টো যে ব্যবসাটা আছে সেটাকে বাঁচাবে কীভাবে তা নিয়েই ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বিদেশি বিনিয়োগকারীরদের বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানালে তারা জবাব দেয়, আমাদের দেশ স্ট্যাবল না, অনেক বেশি লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, জীবন ও মূলধনের হুমকি বিদ্যমান। বিপরীতে অনেক দেশ আছে যারা আমাদের উপযুক্ত পরিবেশ দেবে। (তারা বলে) তোমরা ভালো পরিবেশ দাও, আমরা আসব।’
ব্যবসায়ীদের রাজনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘অনেক সময় ব্যবসায়ীদের বলা হয় সুবিধাবাদী। যখন যে দল ক্ষমতায় যায়, তখন সে দলের পেছনে লাইন দেয়। আমি মনে করি কেউ লাইন দেয় নিজের আগ্রহে কেউ লাইন দেয় বাধ্য হয়ে। আর লাইন দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না; ব্যবসাকে বাঁচাতে পারে না। এটা তাদের দায় নয়; এই দায় আমার; আমাদের রাজনীতিবিদদের। রাজনীতির বাইরে কোনো অর্থনীতি নেই।’
ব্যবসায়ীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ আখ্যায়িত করে জামায়াতে ইসলামীর এই শীর্ষ নেতা বলেন, রাজনীতির জায়গা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আমরা কাঙ্ক্ষিত কমফোর্ট জোন ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি করতে পারিনি। তবে কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতে হবে।
দেশের মেধা পাচারের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের মেধাগুলো দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে। সেখানে তারা চমৎকার ভূমিকা রাখতেছে, নিজেদের মেলে ধরছে। আমার দেশে তারা পারে না কেন? কারণ, আমরা সেই পরিবেশ তাদের দিতে পারিনি। ফলে আমাদের মেধা পাচার হয়ে যাচ্ছে। তাদের যদি একটু সম্মানের জায়গা তৈরি করে দিতে পারি তাহলে তারা আসবে। এই দেশকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্ষেত্রবিশেষে তারা নেতৃত্ব দিতে পারবে।’
জামায়াতের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের ফোকাস তিনটা জায়গায়। আমরা বিশ্বাস করি এই তিন জায়গা ঠিক হলে দেশ পাল্টে যাবে। এক নম্বর শিক্ষা; তবে সনদ দেওয়া শিক্ষা নয়; প্রফেশনাল এডুকেশন দিতে হবে। কৃষক থেকে শুরু করে সবাই হবে একেক জন রিসোর্স ও দক্ষ পারসন। দুই নম্বর বিষয় হলো দুর্নীতি প্রতিরোধ। দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে গিয়ে আমরা ঢাল বা পাতা ধরে টান দিই কিন্তু মূল থেকেই যায়। আমাদের তৃতীয় বিষয় হলো ন্যায়বিচার সর্বত্র এবং সবার জন্য। এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের ব্যবসায় হবে টেকসই। জাতি হবে প্রগ্রেসিভ ও ডায়নামিক। এটা নিশ্চিত করতে না পারলে সমাজ ভালোর দিকে আগাবে না।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘এই জায়গা ঠিক হলে সমাজ ঠিক হবে; তবে একদিনে না। প্রথমে শুরু করতে হবে। তারপর ক্রমান্বয়ে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা বিপ্লবী পরিবর্তনের দিকে নয়, বরং যৌক্তিক পরিবর্তনের দিকে যেন দেশটাকে এগিয়ে নিতে পারি সে দিকে নজর দিতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে এ লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। অতীতে যা হওয়ার হয়েছে আগামীটাকে বিনির্মাণ করতে হবে।’
অর্থনীতি
ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন ২০ লাখের বেশি করদাতা
চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরে ২০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক প্রেস বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালুর পর এটি কর প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তরে বড়ো সাফল্য।
গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এনবিআরের ওয়েবসাইট (www.etaxnbr.gov.bd) থেকে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকেই করদাতারা উল্লেখযোগ্য সাড়া দিয়ে দ্রুতগতিতে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করছেন।
এ বছর এনবিআর বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ, শারীরিকভাবে অসমর্থ, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং দেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া অন্য সব ব্যক্তিগত করদাতার জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। তবে অব্যাহতিপ্রাপ্ত করদাতারাও চাইলে অনলাইন পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।
ই-রিটার্ন সিস্টেমে কোনো দলিল বা কাগজপত্র আপলোড না করেই আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য এন্ট্রি করে ঘরে বসে রিটার্ন দাখিল সম্ভব। ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং কিংবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ, নগদ) মাধ্যমে কর পরিশোধ করে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ ও আয়কর সনদ প্রিন্ট করা যাচ্ছে।
বিদেশে অবস্থানরত করদাতারা পাসপোর্ট নম্বর, এনআইডি ও ই-মেইলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ereturn@etaxnbr.gov.bd এ পাঠালে তাদের ই-মেইলে OTP ও রেজিস্ট্রেশন লিংক পাঠানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা সহজেই রেজিস্ট্রেশন ও রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
করদাতাদের সহায়তায় এনবিআর একটি কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১), অনলাইন অভিযোগ সুবিধা, এবং সব কর অঞ্চলে ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক চালু রেখেছে। পাশাপাশি করদাতা, কর আইনজীবী, সিএ, সিএমএ ও চার্টার্ড সেক্রেটারিদের ই-রিটার্ন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এনবিআর সব ব্যক্তিগত করদাতাকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর তারিখের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিলের অনুরোধ জানিয়েছে।
এমকে



