অর্থনীতি
সম্মিলিত ব্যাংকের কর্মীদের বেতন ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে
বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের কর্মীদের বেতন-ভাতা কমানোর পরামর্শ দিয়েছে। ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটের কারণে কর্মীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে এবং গ্রাহকেরা টাকা তোলার ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এখানকার পাঁচটি ব্যাংক হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। ব্যাংকগুলো একীভূত হয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করবে।
গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সদর দপ্তরে এই পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। বৈঠকে ব্যাংকগুলো এক হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা চেয়েছিল, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদন দিয়েছে মাত্র ৩৫০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, ব্যাংকগুলোর খরচ কমানো এবং নতুন ব্যাংক দ্রুত চালু করা অপরিহার্য। অংশ হিসেবে কর্মীদের বেতন ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে এই পাঁচ ব্যাংকে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী রয়েছেন। অতীতের সময় অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংকগুলোকে প্রায় ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে, যা এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি।
একীভূত ব্যাংকে সাধারণ আমানতকারীরা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে।
নতুন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সাত সদস্যের, সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা হলেন সরকারি বিভিন্ন বিভাগীয় সচিব ও যুগ্ম সচিবরা। নতুন ব্যাংকে পেশাদার ব্যাংকার, হিসাববিদ ও আইনজীবী সমানসংখ্যক স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাবেন। এমডি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনীতি
শ্রমিকদের বেতন দিতে বিশেষ ঋণ সুবিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
রপ্তানি খাতে বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ নিশ্চিতে বিশেষ ঋণ সুবিধা চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিআরপিডি পরিচালক মো. বায়েজীদ সরকার স্বাক্ষরিত সার্কুলারে ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এসংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়িক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি ধারাবাহিক নিম্নমুখী রপ্তানি, ক্রয়াদেশ পিছিয়ে যাওয়া, তারল্য সংকট ইত্যাদি কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ফলশ্রুতিতে উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এক্ষণে উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রেখে রপ্তানির গতিধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে অর্থায়ন সহায়তা প্রদানের আবশ্যকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এমতবস্থায় সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিতে ব্যাংকগুলোকে চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে বিশেষ মেয়াদি ঋণ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।
এই ঋণ সুবিধার পরিমাণ ঋণগ্রহীতা শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিগত তিন মাসের প্রদত্ত গড় বেতন/ভাতার অধিক হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান মোট উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে তারা রপ্তানিমুখী শিল্প এবং যে সকল প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদেরকে বিগত নভেম্বর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ মাসের বেতন পরিশোধ করেছে তারা সচল হিসেবে বিবেচিত হবে।
সচল ও রপ্তানিমুখী হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সংগঠনের (বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ইত্যাদি) প্রত্যয়নপত্র দ্বারা সমর্থিত হতে হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ আছে। এই ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক প্রচলিত সুদহার প্রযোজ্য হবে।
এমএন
অর্থনীতি
দেশে কতদিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে, জানালেন বিপিসি চেয়ারম্যান
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কারওয়ান বাজারে বিপিসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা বিকল্প বাজার খোঁজার বিষয়েও ভাবছি। তবে বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ মজুত রয়েছে, তাতে দাম বাড়ার শঙ্কা নেই।
তিনি আরও বলেন, নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে গতকাল পর্যন্ত ৭টি জাহাজের এলসি সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ডিজেল ১৪ দিন, অকটেন ২৮ দিন, পেট্রোল ১৫ দিন, ফার্নেস ৯৩ দিন ও জেড ফুয়েল ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে বলে তিনি জানান।
জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত তালিকা:
- ডিজেল মজুত রয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন, এর মধ্যে ব্যবহারযোগ্য মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার মেট্রিক টন।
- অকটেন মজুত রয়েছে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন, এর মধ্যে ব্যবহারযোগ্য মজুত রয়েছে ৩৪ হাজার মেট্রিক টন।
- পেট্রোল মজুত রয়েছে ২১ হাজার মেট্রিক টন, এর মধ্যে ব্যবহারযোগ্য মজুত রয়েছে ১৯ হাজার মেট্রিক টন
- ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন, এর মধ্যে ব্যবহারযোগ্য মজুত রয়েছে ৭৬ হাজার মেট্রিক টন।
- জেট এ-১ মজুত রয়েছে ৬০ হাজার মেট্রিক টন, এর মধ্যে ব্যবহারযোগ্য মজুত রয়েছে ৫৫ হাজার মেট্রিক টন।
এমএন
অর্থনীতি
২০২৬ সালে ৫% জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এইচএসবিসির
বিগত কয়েক বছরের নানা বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সত্বেও বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক দৃঢ়তা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এইচএসবিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ এবং পরবর্তী বছরে তা ৫.৫ শতাংশ হতে পারে। তবে ২০৪০ সালের মধ্যে ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’ হওয়ার যে স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখছে, তা অর্জনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে দেশের শক্তিশালী বেসরকারি খাত।
সোমবার (২মার্চ) এইচএসবিসি আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড দি ওয়ার্ল্ড: ইকোনমিক প্রস্পেক্টস্ ফর ২০২৬ অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে জুমের মাধ্যমে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চের চিফ এশিয়া ইকোনমিস্ট ও কো-হেড ফ্রেডরিক নিউম্যান।
অনুষ্ঠানটিতে বৈশ্বিক এবং এশিয়ার বাজারগুলোর সর্বশেষ খবর তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া এইচএসবিসি বাংলাদেশ-এর চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার জিগনেশ রূপারেল এইচএসবিসি গ্রুপের সর্বশেষ ফলাফল এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাংকটির সক্ষমতা সম্পর্কে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দি ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সভাপতি কাউসার আলম এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো: মাহবুব উর রহমান।
অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিএফও, স্টেকহোল্ডার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিনিয়োগ ও রপ্তানির পূর্বাভাসে ফ্রেডরিক নিউম্যান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০২৬ ক্যালেন্ডার বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ৪.১ শতাংশ হতে পারে। আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে আস্থা বাড়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতি প্রশমনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভোগব্যয়কে ত্বরান্বিত করবে। তবে বিনিয়োগের গতি অনেকাংশে নির্ভর করবে নতুন সরকার আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কতটা সফল হয় তার ওপর।
এলডিসি উত্তরণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রসঙ্গে নিউম্যান বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। বিশেষ করে মার্কিন শুল্কনীতির কারণে বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাসের ঝুঁকি থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, “নতুন সরকারের সামনে এখন সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট ম্যান্ডেট রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে হবে।’
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন অনুষ্ঠানে আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট ও সেভেন রিংস সিমেন্টের সিএফও কাউসার আলম (এফসিএমএ) বলেন, ‘অনুকূল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এবং শক্তিশালী বেসরকারি খাতের ওপর ভিত্তি করে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রাখে।’
এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ যখন সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে, তখন এইচএসবিসির ভূমিকা হলো স্থানীয় আকাঙ্খাকে বৈশ্বিক সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা। এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিএফও জিগনেশ রূপারেল ব্যাংকটির বৈশ্বিক সক্ষমতা ও বার্ষিক ফলাফল তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিএফও ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থনীতি
ব্যাংক এমডিদের রাজনৈতিক চাপমুক্ত থেকে কাজ করার নির্দেশ গভর্নরের
দেশের ব্যাংক খাতের সংস্কার ও গতিশীলতা ফেরাতে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) রাজনৈতিক চাপমুক্ত থেকে কাজ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
২০২৪ সালের শুরুতে দেশে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা কম ছিল, কিন্তু বছরের শেষের দিকে তা বৃদ্ধি পায়। জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রায় দুই শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিনিয়োগ কমে যায় এবং কর্মদক্ষ মানুষও কর্মহীনতার তালিকায় যুক্ত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ব্যাংকের এমডিদের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতে নতুন সরকারের ১ কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য পূরণে উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং রফতানিতে গতিশীলতা ফেরাতে ব্যাংকগুলোকে কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
এবিবি সভাপতি এবং কয়েকটি ব্যাংকের এমডিদের সঙ্গে এই সাক্ষাতে গভর্নর ব্যাংকারদের রাজনৈতিক চাপমুক্তভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এছাড়া পাঁচটি ব্যাংক মার্জার ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ ব্যাংক সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। একই সঙ্গে নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তার যোগদানের তারিখ থেকে ৪ (চার) বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেয়া হলো।
গভর্নর পদে দায়িত্ব পালনকালে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিনি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্রহণ করবেন। নিয়োগের অন্যান্য বিষয়াদি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএন
অর্থনীতি
আবারও দাম বেড়ে স্বর্ণ-রুপা বিক্রি হচ্ছে নতুন দরে, কোনটির ভরি কত?
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও এক দফা বাড়ানো হয়েছে। সব রেকর্ড ভেঙে এবার ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা। এবার ভরিতে মূল্যবান ধাতুটির দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। একই সঙ্গে রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণ ও রুপার নতুন দর ঘোষণা করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণ ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৬১ হাজার ৬৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ২৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৩৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এর আগে, সবশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল ১ মার্চ থেকে।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ২৩ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১২ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সঙ্গে এবার বাড়ানো রয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা বেড়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ১৭৩ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৮৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৮৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৪৩২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ১৪ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৭ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।
এমএন




