আন্তর্জাতিক
এয়ারবাসের কয়েক হাজার উড়োজাহাজ উড্ডয়ন স্থগিত
তীব্র সৌর বিকিরণের কারণে উড়োজাহাজের অনবোর্ড ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এমন আশঙ্কায় এয়ারবাসের কয়েক হাজার উড়োজাহাজের উড্ডয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বিলম্ব দেখা দিয়েছে।
এয়ারবাসের এ৩২০ মডেলের প্রায় ৬,০০০ উড়োজাহাজে এমন জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বিশ্বে এয়ারবাসের যে পরিমাণ উড়োজাহাজ চলে এই সংখ্যা সেটির প্রায় অর্ধেক। জটিলতা কাটাতে দ্রুত সফটওয়্যার আপডেট করতে পরামর্শ দিয়েছে এয়ারবাস কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, এরপর বেশিরভাগ উড়োজাহাজই আবার উড্ডয়ন করতে পারবে।
যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, এই সতর্কতার কারণে ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। তবে দেশটির বিমানবন্দরে এখনও তেমন প্রভাব দেখা যায়নি।
এয়ারবাস উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী ইউরোপীয় কোম্পানি। তারা জানিয়েছে, গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর আকাশসীমার মাঝামাঝিতে উড়তে থাকা একটি উড়োজাহাজ হঠাৎ উচ্চতা হারিয়ে ফেলে। ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে সৌর বিকিরণ ও অনবোর্ড ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারে ব্যাঘাত ঘটার বিষয়টি শনাক্ত হয়। জেটব্লু এয়ারওয়েজের ওই ফ্লাইটটি ফ্লোরিডায় জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। আহত হন অন্তত ১৫ জন।
আন্তর্জাতিক
খামেনি হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে যে বার্তা দিলো ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যায় জড়িত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
রোববার (১ মার্চ) সকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট তার অফিস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খামেনির হত্যাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এর কঠিন প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই গুরুতর অপরাধ কখনো অপ্রতিক্রিয়ায় থাকবে না এবং এটি ইসলামি বিশ্বের ও শিয়াবাদের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় খুলবে। এই মহান নেতার বিশুদ্ধ রক্ত একটি উন্মাদ স্রোতের মতো প্রবাহিত হবে এবং মার্কিন-জায়োনিস্টদের শোষণ ও অপরাধ নির্মূল করবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এইবারও আমরা আমাদের সব শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে, ইসলামি জাতি এবং বিশ্বের মুক্ত মানুষদের সমর্থন নিয়ে, এই গুরুতর অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও দায়ীদের অনুতপ্ত করে তুলব।’
পেজেশকিয়ান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটির ঘোষণাও দিয়েছেন।
এদিকে খামেনির মৃত্যুর খবর রোববার পাওয়া গেলেও তিনি হামলার শিকার হয়েছেন আগের দিন ভোরেই। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এদিন তার বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছিল সংবাদমাধ্যম বিবিসি। স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে পড়েছে। এটির চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, শনিবার ভোরে খামেনিকে তার কার্যালয়েই হত্যা করা হয়েছে। ওই সময় তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনরত ছিলেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসন ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। এক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ ছিলেন।
এমএন
আন্তর্জাতিক
খামেনির মৃত্যুসংবাদ পোস্ট করে যা লিখলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ তাসনিম ও ফার্স সংবাদ সংস্থা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি রোববার সকালে জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’।
এর আগে, নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুসংবাদ প্রচার করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম দুষ্টু ব্যক্তি, মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নয়, বরং সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেই মহান আমেরিকানদের জন্যও ন্যায়বিচার, যারা খামেনি ও তার রক্তপিপাসু সন্ত্রাসী দলের হাতে নিহত বা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। তিনি আমাদের গোয়েন্দা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার নজর এড়াতে পারেননি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা নিশ্চিত করেছি যে তিনি বা তার সঙ্গে নিহত অন্য নেতারা কিছুই করতে পারেননি।’
ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘এটি ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা শুনছি যে তাদের আইআরজিসি, সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চান না এবং আমাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা (ইমিউনিটি) চাইছেন।’
তিনি যোগ করেন, ‘‘যেমন আমি গত রাতে বলেছি, ‘এখন তারা নিরাপত্তা পেতে পারে, পরে তারা শুধু মৃত্যুই পাবে!’ আশা করা যায়, আইআরজিসি ও পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে ইরানি দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে একীভূত হবে এবং একসঙ্গে কাজ করে দেশকে তার প্রাপ্য মহত্ত্বে ফিরিয়ে আনবে।’’
এদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে ৭ দিনের সরকারি ছুটি ও ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইতিহাসের সবচেয়ে ‘ভয়াবহ আক্রমণের’ ঘোষণা ইরানের
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করতে যাচ্ছে। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই’ এই অভিযান শুরু হবে এবং তা অঞ্চলজুড়ে ‘দখলকৃত ভূখণ্ড ও আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে পরিচালিত হবে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর আইআরজিসি এই ঘোষণা দেয়।
এর আগে, শনিবার সকালে খামেনির প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। এরপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনির মৃত্যুর তথ্য জানান। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খামেনির নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন।
কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রথমে স্বীকার করা হয়নি। অবশেষে আজ সকালে দেশটি জানিয়েছে, তাদের প্রধান ধর্মীয় নেতা নিহত হয়েছেন। খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন, নিশ্চিত করল ইরানি সংবাদমাধ্যম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) ইরানি বার্তাসংস্থা তাসনিম ও ফারস নিউজ তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর আল জাজিরার।
খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। এরপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনির মৃত্যুর তথ্য জানান। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খামেনির নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন।
কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রথমে স্বীকার করা হয়নি। অবশেষে আজ সকালে দেশটি জানিয়েছে, তাদের প্রধান ধর্মীয় নেতা নিহত হয়েছেন।
ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগসহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইরানের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটেই ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, তেহরানের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয়রা আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহৌরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ বলেন, তেলআবিবের ওপর সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল প্রতিরক্ষামূলক ও কৌশলগত অভিযান।
এদিকে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, জনসমাবেশ ও অনাবশ্যক কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।
হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।




