জাতীয়
গুগলে কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যাখ্যা
গুগলকে কনটেন্ট সরাতে অনুরোধের সংখ্যার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাখ্যা দিয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা দেয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের এই নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে, মিস-ইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা এবং মিসইনফরমেশন-কেন্দ্রিক চরিত্রহননের বাইরে দেশের কোনো পত্রিকার নিউজ, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত পোস্ট, ভিডিও কনটেন্ট, রিলস, অনলাইনে প্রকাশিত আর্টিকেল, অভ্যন্তরীণ কোনো সমালোচকের রাজনৈতিক সমালোচনামূলক কোনো কনটেন্ট সরাতে সরকার কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করেনি।
উল্লেখ্য, মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা এবং মিসইনফরমেশন–কেন্দ্রিক বেআইনি মানহানিকর তথ্য দিয়ে কারো চরিত্রহননের চেষ্টা সংক্রান্ত তথ্য অপসারণের অনুরোধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহ এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মাধ্যমে বিটিআরসিতে যায়।
বর্তমান সরকার সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগের সিআরআই বা এজাতীয় কোনো বট বাহিনী পরিচালনা করে না। বিটিআরসি বা এনটিএমসি সহ বাংলাদেশের কোন এজেন্সি বা সংস্থা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের কন্টেন্ট ডাউন করার ক্ষমতা রাখে না, সেজন্য যেকোনো অনুরোধ সোশ্যাল মিডিয়া ও টেক প্ল্যাটফর্মকে জানাতে হয়।
জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সময়ে গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট অ্যানালাইসিস করে দেখা যায়, ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৭৯ টি অনুরোধ যায়। এটা আওয়ামী লীগ সরকারের জুন-ডিসেম্বর ২০২২ সময়কালে পাঠানো ছয় মাসের মোট সংখ্যা ৮৬৭ এর তিন ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম।
তার আগের ছয় মাসে অর্থাৎ থেকে জুলাই-ডিসেম্বর’২৪, এই ৬ মাসে, বাংলাদেশ রিকুয়েস্ট করেছে মাত্র ১৫৩ টি, যা আওয়ামী আমলের সর্বোচ্চ অনুরোধ সংখ্যার সাড়ে পাঁচ ভাগের একভাগ। এবং আওয়ামী আমলের সর্বনিম্ন রিকুয়েস্ট জুন-ডিসেম্বর’২০২৩ সময়ের ৫৯১ টির অর্ধেকেরও কম। অর্থাৎ স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনায় বর্তমান সরকার এত কমসংখ্যক রিকুয়েস্ট পাঠাচ্ছে, যা উল্লেখযোগ্য নয়।
এখানে আরও উল্লেখ্য যে, গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট মতে ৬৫ শতাংশ অনুরোধ হচ্ছে ‘Not enough information’ ক্যাটাগরিতে, অর্থাৎ এসব বিষয় বিশেষ উদ্দেশ্যপূর্ণ ছিল না।
জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সময়কালে বাংলাদেশ ভেতর ও বাহির থেকে এক অনাকাঙ্ক্ষিতহারে মিস-ইনফরমেশন ক্যাম্পেইনের শিকার হয়। প্রতিবেশী দেশের মিডিয়া থেকে ক্রমাগত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিস-ইনফরমেশন ও প্রোপাগান্ডা ক্যাম্পেইন শুরু হয়। সরকারকে এসবের বিরুদ্ধে বেশকিছু রিপোর্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গুগলকে দিতে হয়েছে।
পাশাপাশি এসময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষিদ্ধ হয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিটি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষ খুনের বিচার শুরু হলে আওয়ামীলীগ সাইবার স্পেইসে ক্রমাগত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এবং সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিস-ইনফো ক্যাম্পেইনসহ সন্ত্রাসের আহ্বান শুরু করে।
দেশের সাইবার স্পেইসকে নিরাপদ রাখা, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, ধর্মীয়, জাতিগত এবং নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোকে অনলাইনে ও অফলাইনে সুরক্ষা দান সরকারের দৈনিক দায়িত্বের অংশ।
যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া এবং সাইবার স্পেইস দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম এলিমেন্ট হয়ে উঠেছে, তাই বিশ্বের সব দেশের মতই বাংলাদেশ সরকারকে এখানে রেগুলেশনের নিমিত্তে কিছু রিপোর্ট করতে হয়। পাশাপাশি সরকার অনলাইন জুয়া এবং গ্যাম্বলিং সংক্রান্ত কিছু টেক-ডাউন রিকুয়েস্টও করেছে।
যেহেতু গুগলের স্বচ্ছতা রিপোর্টে মিস-ইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা এবং ক্যারেক্টার এসাসিনেশন বিষয়ক আলাদা কোনো ক্যাটাগরি নেই, এসব রিপোর্ট সরকারের সমালোচনা ক্যাটাগরিতে দেখানো হয়েছে। তথাপি এই সংখ্যা আওয়ামী সরকারের তুলনায় সংখ্যায় পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম।
অত্যন্ত হতাশার বিষয় এই যে, বাংলা ও ইংরেজিতে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পূর্বে সরকারের ব্যাখ্যা কিংবা বক্তব্য চাওয়া হয়নি। প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে এরকম চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রকাশের হীনম্মন্য প্রবণতা, সমাজের স্থিতিশীলতা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যাহীন খণ্ডিত সংবাদ প্রকাশ, কোনোভাবেই দায়িত্বশীল মিডিয়ার ভূমিকা হতে পারে না।
উল্লেখযোগ্য যে, জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সময়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে, শতাধিক বড়ো আন্দোলন হয়েছে, বেশকিছু মব হয়েছে, মাজার ভাংগা সহ সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে। বিশেষকরে ‘মব লিঞ্ছিং’ বা গণপিটুনিতে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে কয়েকটি। বছরের শুরুতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছিল, যার সাথে সরকারের একটি স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ কার্যক্রমও সম্পর্কিত ছিল।
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনেও ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা এবং প্রতিশোধের প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে সোশ্যাল হারমনি রক্ষায় সরকার প্ল্যাটফর্ম গুলোকে সরকারি দায়িত্বশীল রিপোর্ট করেছে।
সরকার অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে নাগরিকদের জানাতে চায় যে, আন্তর্জাতিক র্যাংকিং এ প্রকাশিত সূচকে দেশের বাকস্বাধীনতা ও ইন্টারনেট সূচকের অসামান্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের বাকস্বাধীনতা ও ইন্টারনেট সূচকের অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ফ্রিডম হাউসের Freedom on the Net 2025 রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এ বছর বাংলাদেশ ইন্টারনেট স্বাধীনতার ক্ষেত্রে একক দেশ হিসেবে সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটির স্কোর গত বছরের ৪০ থেকে বেড়ে ৪৫ হয়েছে, যা সাত বছরে সর্বোচ্চ।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ফলে দমনমূলক সরকার অপসারিত হওয়ায় এবং অন্তর্বর্তী সরকার ইন্টারনেট বন্ধ প্রতিরোধে পদক্ষেপ এবং সাইবার সুরক্ষায় ইতিবাচক সংস্কার নেয়ার ফলে এই উন্নতি হয়েছে।
এমকে
জাতীয়
নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠক ১৯ জানুয়ারি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলার সার্বিক প্রস্তুতি ও করণীয় নির্ধারণে বৈঠকে বসছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এই উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং কমিটির আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর (অব.) সভাপতিত্বে এই সভা আগামী ১৯ জানুয়ারি দুপুর দুইটায় শুরু হবে।
সভায় আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
সভার আলোচ্যসূচিতে যা রয়েছে– আসন্ন জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সংক্রান্ত আলোচনা; সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অভিযান পরিচালনা বিষয়ক আলোচনা; সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত আলোচনা; চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতকারীদের কর্মকান্ড রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ; জুলাই হত্যাকাণ্ডের শহীদদের মামলার রেকর্ড, তদন্ত ও অগ্রগতি বিষয়ক আলোচনা; দেশে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী উস্কানিমূলক সাইবার প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের বিরুদ্ধে আইনগত ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকের অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কিত আলোচনা।
সভার আলোচ্যসূচি নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়– শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন পরবর্তী সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও প্রতিরোধ, নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর অপতৎপরতা রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ; গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করা। গার্মেন্টস কারখানা, ঔষধ শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির তৎপরতা বিষয়ে আলোচনা; অস্ত্র জমা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা সংক্রান্ত আলোচনা; সীমান্ত ও পার্বত্যাঞ্চল পরিস্থিতি বিষয়ক আলোচনা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইন-শৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ক আলোচনা করা হবে।
জাতীয়
পোস্টাল ব্যালটের ভাঁজে ‘ধানের শীষ’, যা বললো ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’ ভাঁজের মধ্যে পড়ে যাওয়া নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সিনিয়র সচিব জানান, ব্যালট পেপার ছাপানোর ক্ষেত্রে সরকারি গেজেটের ক্রমধারা বা ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসব কথা বলেন।
ব্যালটের ভাঁজে ধানের শীষ প্রতীক ঢাকা পড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ইট ইজ এ মিস, আমি (এখনই বিস্তারিত) বলতে পারব না। কারণ ছাপানোর দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের কাছ থেকে না জেনে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে যতটুকু জানা আছে, সরকারিভাবে যে গেজেট পাবলিশ করা হয়েছে, সে গেজেটের ধারাবাহিকতা বা অর্ডার অনুযায়ী ব্যালট সাজানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধানের শীষ প্রতীকটি ব্যালটের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়েছে, যা ভাঁজ করলে সহজে নজরে আসে না। দলটির পক্ষ থেকে এখনো পাঠানো হয়নি এমন ব্যালটগুলো সংশোধন করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ব্যালট পুনরায় ছাপা হবে কি না জানতে চাইলে সচিব বলেন, এটি নিয়ে এখনই মন্তব্য করা যাবে না। কমিশন সভায় আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বাহরাইনে অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
একই ঠিকানায় অনেক পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানো এবং এ সংক্রান্ত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বাহরাইনের বিষয়টি আপনারা জানেন, ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ পোস্টাল ব্যালট পাঠাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশের পোস্টাল সিস্টেম ভিন্ন হওয়ায় বাহরাইনের ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছে। সেখানে প্রায় ১৬০টি ব্যালট একটি জায়গায় একটি বক্সে রেখে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ডেলিভারি পয়েন্ট হিসেবে বিষয়টি অনেকটা ছাত্রজীবনের মতো, হোস্টেলে যেমন একটি নির্দিষ্ট জায়গায় চিঠিপত্র রেখে দেয়া হতো এবং সেখান থেকে সবাই নিজের নিজের চিঠি নিয়ে নিত, ঠিক সেভাবেই একটি বক্সে ১৬০টি ব্যালট রাখা হয়। পরে প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইয়েরা ওই বক্স খুলে চার-পাঁচজন মিলে ভাগ করে নেন, যে যার পাশের ঘরে থাকে, সে তারটা নিয়ে যায় বা পৌঁছে দেয়।
ইসি সচিব আরও বলেন, ভিডিওটি করা হয়েছে, যেটা করা উচিত হয়নি বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। তবে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, প্রবাসী ভোটাররা ভোটের একটি ব্যালট হাতে পাওয়ার আনন্দ ধরে রাখতেই কেউ এটি পোস্ট করেছেন। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন, এখানে কোনো খাম খোলা হয়নি। এমন কোনো প্রমাণ নেই।
আখতার আহমেদ বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বাহরাইন পোস্টকে জানানো হয়েছে।
জাতীয়
বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালট বিতরণের অভিযোগ তদন্তাধীন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
বাহরাইনের একটি বাসায় অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট বিতরণের যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা গেছে বাহরাইনের এক জামায়াত নেতার বাসা থেকে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি বিষয়টি দেখেছি এবং এ ব্যাপারে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। দেখা যাক আসলে ফলাফল কী দাঁড়ায়।’ প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী ভোট দিতে আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত বড় কর্মযজ্ঞে কিছু সমস্যা হতেই পারে।
মো. তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘আমাদের রাজনীতির ক্ষেত্রে যারা বিচরণ করেন, তারা সবাই যে নিখুঁত মানুষ, তা তো না। কেউ এটাকে অপব্যবহার করার চেষ্টা করবে– এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের চেষ্টা করতে হবে যেন অপব্যবহার না হয়। যখনই কিছু জানা যাবে, তা তদন্ত করা হবে। তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে আমি জানি। তবে কাজ কতটুকু এগিয়েছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।’
বিদেশে থাকা মিশনগুলোর দায়িত্ব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ব্যালট পেপার মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে এবং তারা ভোট দিয়ে ডাকযোগে (বাই-পোস্ট) পাঠাবেন। এ ক্ষেত্রে মিশনের ভূমিকা খুব একটা বেশি নয়। কাজেই, আমাকে এটা এই পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখতে হবে।
জাতীয়
সাগর সংরক্ষণ ও সামুদ্রিক মৎস্য রক্ষায় এমওইউ সই
সাগর সংরক্ষণ, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সুরক্ষা এবং টেকসই ব্লু ইকোনমি গড়ে তুলতে জাপানের খ্যাতনামা সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের (এসপিএফ) সঙ্গে মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমআইডিএ) একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে এমওইউতে সই করেন এমআইডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ওপিআরআই) সভাপতি প্রফেসর মিৎসুতাকু মাকিনো। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন
চুক্তিটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. আতসুশি সুনামি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেবেন। এ সময় ওপিআরআইয়ের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এমাদুল ইসলাম এবং এমআইডিএ সদস্য কমডোর তানজিম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করার পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমাদের সাগর একটি বড় সম্পদ, কিন্তু এটি ক্রমেই দূষিত হয়ে পড়ছে। সাগরের কয়েক হাজার মিটার গভীরেও এখন প্লাস্টিক বর্জ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। এই এমওইউ আমাদের সাগর রক্ষা ও পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সামুদ্রিক সম্পদ অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন সামুদ্রিক গবেষণায় বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত সম্মানিত। আমাদের গবেষণা কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউট এই সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং ধাপে ধাপে এই গবেষণা আরও সম্প্রসারিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, এমওইউর আওতায় সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন উমিগিও (সামুদ্রিক শিল্পভিত্তিক কমিউনিটি উন্নয়ন) মডেল অনুসরণ করে মহেশখালীতে তিনটি গ্রামকে মডেল মৎস্যগ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে এমআইডিএকে সহায়তা করবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে উপকূলীয় উন্নয়ন ও মহেশখালীসহ কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এমআইডিএ, সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে মৎস্য ও সামুদ্রিক খাতে জাতীয় অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কাজ করবে। এসব অগ্রাধিকার দেশের ২০টিরও বেশি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সমন্বয়ে নির্ধারিত।
এমওইউ অনুযায়ী সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—মেরিকালচার, মৎস্য ও পোস্ট-হারভেস্ট ব্যবস্থাপনায় জাপানের ব্লু ইকোনমি মডেল অনুসরণে সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ, সি-ফুড প্রসেসিং, জেলে সম্প্রদায়ের কল্যাণ, উপকূলীয় জীবিকা উন্নয়ন, সমুদ্রে নিরাপত্তা, কমিউনিটি-ভিত্তিক সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সরকার ও জেলে সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
এছাড়া মৎস্য সম্পদ ও উপকূলীয় পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে বেসলাইন স্টাডি পরিচালনা করা হবে। জেটি, স্বয়ংক্রিয় মাছ অবতরণ কেন্দ্র, কোল্ড-চেইন ও পরিবহন ব্যবস্থা, সি-ফুড প্রসেসিং সুবিধা এবং বাজার চেইন উন্নয়নও এই সহযোগিতার অংশ।
ওপিআরআই সভাপতি প্রফেসর মিৎসুতাকু মাকিনো বলেন, এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে বিশেষ করে মৎস্যখাতে একটি সমন্বিত ও টেকসই ব্লু ইকোনমি গড়ে তোলার বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
এমআইডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, এমআইডিএ উপকূলীয় ঐতিহ্যবাহী জীবিকা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই অংশীদারত্ব বঙ্গোপসাগরের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ‘নর্থইস্ট ইন্ডিয়ান ওশান রিজিওনাল ডায়ালগ অন সাসটেইনেবল ব্লু ইকোনমি, কানেক্টিভিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেটস (এসআইডিএস)’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সংলাপের ফাঁকে এই এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়।
গত দুদিন (১৩ ও ১৪ জানুয়ারি ) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
জাতীয়
পঞ্চম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৭২ জন, বাতিল ১৭
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির পঞ্চম দিনে ৭২ জনের আপিল মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ দিনে মোট ১০০ জন প্রার্থীর শুনানি হয়। এছাড়া ১৭টি আপিল নামঞ্জুর বা বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি সচিব বলেন, আজ ১০০ জন প্রার্থী ইসি আপিল করেছিল, আমরা ৭২ জনের আবেদন মঞ্জুর করেছি। এছাড়া ১৭ জনের আপিল আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। ১০ জনের আপিল আবেদন পেন্ডিং আছে। ৫ দিনে মোট ৩৮০ জন প্রার্থী ইসিতে আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ২৭৭ জন প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। এছাড়া ৮১টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বাকিগুলো পেন্ডিং আছে।’



