রাজনীতি
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ: সালাহউদ্দিন
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ রায় প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ রায় বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ। শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের অতন্দ্র প্রহরী শীর্ষক’ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ দেশের মানুষ দেখুক এবং ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে তারা যাতে এটি মাথায় রাখে যে, এই দেশে স্বৈরাচারের কোনো জায়গা নেই, ফ্যাসিবাদের কোনো জায়গা নেই। যারা গণতন্ত্র হত্যা করবে তাদের এ পরিণতি হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো এ দেশের রাজনৈতিক দল ছিল না, আওয়ামী লীগ কখনো গণতান্ত্রিক দল ছিল না। একটি মাফিয়া ফ্যাসিস্ট শক্তি ছিল গণতন্ত্রের মুখোশ পড়ে। তারা সবসময় সংবিধান লঙ্ঘনের মহাযজ্ঞ করেছে, সংসদে দাঁড়িয়েও করেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, এ দেশের মানুষের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে, শত-সহস্র শহিদের রক্ত দানের মধ্য দিয়ে যে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছে সেটি হলো এই দেশ একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এ দেশের মানুষ বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায় না।
তিনি বলেন, আমরা যদি জনপ্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে ব্যর্থ হই, ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে তারা যদি ব্যর্থ হয় এ দেশে আবার ফ্যাসিবাদী রাজনীতির উৎপত্তি হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।
এমকে
রাজনীতি
ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে, সরকারকে জামায়াতের কড়া হুঁশিয়ারি
জুলাই গণহত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন দেওয়া এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি অভিযোগ করেছে, এসব পদক্ষেপ দেশের গণতন্ত্র ও বিচার প্রক্রিয়ার জন্য অশনিসংকেত এবং এর মাধ্যমে ‘ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের’ অপচেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে এই হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাদের একের পর এক জামিন দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে দলটির কার্যালয় খুলে দেওয়া হচ্ছে, যা দেশবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।”
“ফ্যাসিস্ট সরকার ও তাদের দোসররা ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতা কায়েম রেখেছিল। সেই শক্তিকে পুনর্বাসনের যেকোনো উদ্যোগ দেশের গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।”
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেছেন, “নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছে। একই দিনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদিও জামিন পেয়েছেন। জামায়াতের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন জেলায় পতিত সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ব্যাপক হারে জামিন প্রদান বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “জামিনে মুক্ত হয়ে কিছু ব্যক্তি লুটপাট ও সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বিবৃতিতে আরও বলেছেন, “শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তি কারাগারে থাকা অবস্থায় জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে পুনরায় হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হলে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।”
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করেন, ‘সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ উপেক্ষা করে কথিত পুলিশ হত্যা তদন্তের নামে জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। তার ভাষায়, “যারা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, তারা আত্মঘাতী পথে হাঁটছেন।”
সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আবদুর রহমান বদি ও সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ জামিনপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন বাতিল করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যেসব কার্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।”
অন্যথায় ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
এমএন
রাজনীতি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে: জামায়াত আমির
জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই লড়াইয়ে একটি জায়গাও যেন খালি না থাকে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা জীবন বাজি রেখে দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, সমাজের সেই সব জায়গা থেকে যোগ্য লোকদের নির্বাচন করে তাদের হাতে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব তুলে দিতে চায় জামায়াত। এ ক্ষেত্রে সবাইকে যত্নবান ও আত্মত্যাগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জামায়াতের ন্যায্য প্রাপ্যতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীরা তাঁকে জানিয়েছেন, জামায়াত হারেনি, বরং তাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংসদীয় রাজনীতিতে এবারই সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে দাবি করে জামায়াত আমির তিনটি অর্জনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রথমত, এটাই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে অর্থবহ একটি ঐক্য হয়েছে। এর আগে অন্যদের নেতৃত্বে ঐক্য করলেও এবার জামায়াতের নেতৃত্বেই সেই ঐক্য গড়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাদের প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব দিয়েছেন। তৃতীয়ত, এবার ছয়টি শক্তির বিরুদ্ধে সমান্তরালে লড়াই করতে হয়েছে জামায়াতকে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, যে ছয় শক্তি জামায়াতকে মোকাবিলা করেছে, তারা অন্যকিছুর আশ্রয় না নিলে তা সম্ভব হতো না। এই প্রসঙ্গে টিআইবি ও সুজনের বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন কেবল জামায়াত নয়, আরও অনেক প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে কারচুপির বিষয়ে কথা বলছে। এই সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে আবার লড়াই চালানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি এখন থেকেই কৌশল নির্ধারণের নির্দেশ দেন।
ঢাকার বস্তিগুলোতে নাকি বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেখানে টাকা, ওয়াদা বা সন্ত্রাস কোনো কিছুই কাজ করেনি বলে দাবি করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এসবের মধ্য দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ ইসলামের বাংলাদেশ হবে বলেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। আমরা থামব না ইনশাআল্লাহ, কেউ আমাদের থামাতে পারবেও না।
সিলেটের জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত ‘শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।
পরে নগরের বন্দরবাজারে কুদরত উল্লাহয় জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলের মন্ত্রীদের কাঁচা কথাবার্তা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং অপরাধ প্রবণতা উসকে দিচ্ছে। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ অব্যাহত থাকলে দেশের মঙ্গল হবে না।
রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রসঙ্গে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বড় পরিসরে আলোচনা হয়নি। দেশের জন্য যা মঙ্গল, সে বিষয়গুলো নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মানুষের জীবন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সরকারকে যথাযথ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সরকারি দলের কেউ যাতে অপরাধীদের পাশে না দাঁড়ান, সে ব্যাপারেও সতর্ক করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সমাজের অপরাধ দূর করা সম্ভব। জনগণের কল্যাণে সরকার কাজ করলে জামায়াত তাদের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।
এমএন
রাজনীতি
ধর্ষণ-হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি জামায়াত আমিরের
ঢাকা ও নরসিংদীতে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত একাধিক শিশু ও কিশোরী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ঢাকায় ৬ বছর বয়সী শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা, নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর খুন এবং হাজারিবাগে স্কুল ছাত্রীকে হত্যা; এই ঘটনাগুলো গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। এসব ঘটনায় আমরা নগ্ন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ক্ষেত্র বিশেষে প্রশাসনের চরম শৈথিল্য লক্ষ্য করছি। অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করার বদলে ধর্ষকের রক্ষক হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়া করতে চাওয়ার মত মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের দুঃসাহস ক্ষমতায় মত্ত একটি দলের নেতারা কিভাবে দেখাতে পারে?
তিনি আরও লেখেন, শিশু তাহিয়া হত্যার পর কার বা কাদের ইশারায় একে ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলো? কারা এখন সেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে? এরা কারা এবং তাদের উদ্দেশ্য কী— জনগণের কাছে আজ তা স্পষ্ট।
জামায়াত আমির লেখেন, দলীয় পদবি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্যাতিতদের দমিয়ে রাখা এবং নিপীড়কদের রক্ষা করা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশের সংস্কৃতি হতে পারে না।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আরও লেখেন, আমাদের কথা সুষ্পষ্ট, ইনসাফের প্রশ্নে কোনো আপস চলবে না। অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে স্বচ্ছ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
সবশেষ তিনি লেখেন, আমি মরহুমাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা দেশের সব মজলুমের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শামিল থাকব, ইনশাআল্লাহ।
এমএন
রাজনীতি
৫ মামলায় জামিন পেলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দায়ের করা চারটি হত্যা মামলাসহ মোট ৫টি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলায় গত বছরের ৯ মে সাবেক মেয়র আইভীকে শহরের পশ্চিম দেওভোগে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন। পরে আরও চারটি মামলায় তাকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখায় পুলিশ।
মামলাগুলো হলো—বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা মামলা, আব্দুর রহমান হত্যা মামলা, মো. ইয়াছিন হত্যা মামলা, পারভেজ হত্যা মামলা এবং পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলা।
এর মধ্যে প্রথম চারটি মামলায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা বাদী এবং ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কে এবং ভুঁইগড়, দেলপাড়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন বিভিন্ন বয়সী এ চারজন।
অপর মামলাটি সদর মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে করেছে। আইভীর বাসভবন ‘চুনকা কুটির’-এ গত ৮ মে পুলিশ অভিযান চালায়। ওই সময় পুলিশের গাড়িতে ইট-পাটকেল ছোড়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ কারণে পুলিশ গত ১২ মে এই মামলাটি করেছে। আইভীর সমর্থক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও এ মামলায় আসামি করা হয়।
এমএন
রাজনীতি
ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগে জামায়াতের উদ্বেগ
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় একজন ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই সিদ্ধান্তকে ‘মেধাতন্ত্র ও দক্ষ প্রশাসনের পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ কোনো আনুষ্ঠানিক বা অলংকারমূলক দায়িত্ব নয়। এটি একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর একটি, যার ওপর নির্ভর করে মুদ্রানীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা, ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সর্বোপরি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আস্থা গড়ে তোলা।
জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর যখন মানুষ কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল, তখন যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল। কোটা আন্দোলন কেবলই কোটার প্রশ্ন ছিল না; এটি ছিল মূলত মেধাতন্ত্র ও দক্ষ প্রশাসনের দাবিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
কিন্তু নতুন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের নিয়োগ সেই প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত বার্তা দিচ্ছে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন শিল্পপতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বে বসানো হলো, যার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ কোটি টাকা (সাত মিলিয়ন ডলারের বেশি) ঋণ বিশেষ নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিল করা হয়েছিল নিয়োগের অল্প সময় আগে। তিনি আবার বর্তমান শাসক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যও ছিলেন। ইতোমধ্যে জ্যেষ্ঠ ব্যাংকাররা স্বার্থের সংঘাত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যে ব্যক্তি নিজেই ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধাভোগী, তাকে পুরো ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রকের আসনে বসানো হলে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক।
শক্তিশালী, স্বাধীন এবং দক্ষ নেতৃত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা সম্ভব নয় । রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ, মেধা ও যোগ্যতাকে উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত – দেশীয় আস্থা যেমন নষ্ট করে, তেমনি আন্তর্জাতিক মহলেও আস্থার সংকট তৈরি করে। একটি মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যিনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, তিনি কীভাবে একটি পুরো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবেন; এই প্রশ্ন আজ স্বাভাবিকভাবেই উঠছে।
যখন দেশের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্যতা, পেশাদারিত্ব এবং মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব, এমন এক সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতার অবসানের সংকেত দিতে পারে এই সিদ্ধান্ত।
এমএন



