আন্তর্জাতিক
লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবি, ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার উপকূলে ২৬ বাংলাদেশিকে নিয়ে একটি নৌকা ডুবে গেছে। এতে চার বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একই উপকূলে অর্ধশতাধিক সুদানিসহ পৃথক আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।
দ্বিতীয় ঘটনায় অবশ্য হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি। উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার আল-খোমস উপকূলে এই ঘটনা ঘটে। রোববার (১৬ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার আল-খোমস উপকূলে প্রায় ১০০ জনকে বহনকারী দুটি অভিবাসী নৌকাডুবির ঘটনায় কমপক্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট।
সংস্থাটি জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে আল-খোমসের তীরের কাছে উল্টে যাওয়া দুটি নৌকার খবর তারা পায়। প্রথম নৌকাটিতে ছিলেন বাংলাদেশের ২৬ নাগরিক। তাদের মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আর দ্বিতীয় নৌকাটিতে ছিলেন মোট ৬৯ জন। এর মধ্যে দুজন মিসরীয় এবং বাকি ৬৭ জন সুদানি নাগরিক। তাদের মধ্যে আটজন শিশু।
রেড ক্রিসেন্ট জানায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জীবিতদের উদ্ধার। এছাড়া মৃতদের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি সবাইকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজও তারা করে।
মূলত অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার জন্য বেশ পরিচিত এবং জনপ্রিয় রুট হচ্ছে লিবিয়া। ২০১১ সালে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটি ইউরোপগামী অভিবাসীদের ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়। বর্তমানে সাড়ে ৮ লাখেরও বেশি অভিবাসী লিবিয়ায় অবস্থান করছে। গাদ্দাফির শাসনামলে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা তেলসমৃদ্ধ লিবিয়ায় কাজ পেত, কিন্তু তার পতনের পর থেকে দেশটি প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়াদের সংঘাতে জর্জরিত হয়ে পড়েছে।
অধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলো বলছে, লিবিয়ায় শরণার্থী ও অভিবাসীরা নিয়মিতভাবে নির্যাতন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির শিকার হয়ে থাকে।
অবশ্য অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন লিবিয়ার কোস্টগার্ডকে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অর্থসহায়তা দিয়েছে। কিন্তু ওই কোস্টগার্ডের সঙ্গেই নির্যাতন ও অপরাধে জড়িত মিলিশিয়ার সম্পর্ক থাকার অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইউরোপের দেশগুলো রাষ্ট্রীয় উদ্ধার অভিযান ধাপে ধাপে বন্ধ করায় সমুদ্রযাত্রা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত দাতব্য সংস্থাগুলোও বিভিন্ন রাষ্ট্রের কাছ থেকে দমনমূলক পদক্ষেপের সম্মুখীন হয়েছে।
আন্তর্জাতিক
কোরআন হাতে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি
কোরআন হাতে শপথ নিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ইতিহাস গড়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি নিউইয়র্কের প্রথম মেয়র, যিনি কোরআন শরিফে হাত রেখে শপথ গ্রহণ করলেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহরের প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র মামদানি শপথ গ্রহণের জন্য ব্যবহার করেন তার দাদার সংরক্ষিত কোরআন এবং নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি (এনওয়াইপিএল) থেকে ধার নেওয়া প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক কোরআন। টাইমস স্কয়ারের নিচে পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে আয়োজিত ব্যক্তিগত শপথ অনুষ্ঠানে এই দুটি কোরআন ব্যবহৃত হয়।
শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটি হলে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক শপথ অনুষ্ঠানে তিনি তার দাদা ও দাদির সংরক্ষিত দুটি কোরআন ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছেন।
লাইব্রেরি থেকে ধার নেওয়া ঐতিহাসিক কোরআনটি একসময় আফ্রিকান-আমেরিকান ইতিহাসবিদ ও লেখক আরতুরো শমবার্গের সংরক্ষণে ছিল। তিনি ১৯২৬ সালে তার প্রায় ৪ হাজার বইয়ের সংগ্রহ নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির কাছে বিক্রি করেন, যা পরবর্তী সময় বিখ্যাত শমবার্গ সেন্টার ফর রিসার্চ ইন ব্ল্যাক কালচার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
শমবার্গ ১৮৭০-এর দশকে পুয়ের্তো রিকোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে নিউইয়র্কে অভিবাসী হয়ে আসেন। ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে হার্লেম রেনেসাঁ আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ সময় নিউইয়র্কের কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ ঘটে।
নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি জানিয়েছে, মামদানির এই কোরআন বেছে নেওয়া নিউইয়র্কের অন্যতম প্রভাবশালী চিন্তাবিদের উত্তরাধিকার এবং অন্তর্ভুক্তির বার্তাকে তুলে ধরে। লাইব্রেরির মতে, ছোট আকার ও সাধারণ নকশার কারণে এটি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য তৈরি কোরআন বলে ধারণা করা হয়। এর লেখনশৈলী ও বাঁধাই থেকে অনুমান করা হয় যে, এটি ১৯শ শতকে উসমানি সিরিয়ার অঞ্চলে মুদ্রিত হয়েছিল।
লাইব্রেরির মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামী অধ্যয়ন বিভাগের কিউরেটর হিবা আবিদ বলেন, এই কোরআনের গুরুত্ব শুধু এর সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সাধারণ মানুষের খুব কাছের একটি কোরআন এবং দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক লাইব্রেরি ব্যবস্থার অংশ।
লাইব্রেরির প্রেসিডেন্ট ও সিইও অ্যান্থনি ডব্লিউ মার্ক্স বলেন, শমবার্গের কোরআন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্তি, প্রতিনিধিত্ব ও নাগরিক মূল্যবোধের প্রতীক।
যুক্তরাষ্ট্রে খুব কম সংখ্যক রাজনীতিবিদই কোরআনে শপথ নিয়েছেন। নিউইয়র্কে মেয়রদের জন্য ধর্মগ্রন্থে শপথ নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে অতীতে অনেক মেয়র বাইবেল ব্যবহার করেছেন। সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ একবার তার পরিবারের ১০০ বছরের পুরোনো বাইবেলে শপথ নেন, আর বিল ডি ব্লাসিও ব্যবহার করেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের বাইবেল। মামদানির পূর্বসূরি এরিক অ্যাডামসও পারিবারিক বাইবেলে শপথ নিয়েছিলেন।
এমকে
আন্তর্জাতিক
বছরের শেষ দিনে জাপানে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প
পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৬। স্থানীয় সময় বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অর্থাৎ বিদায়ী বছরের শেষ দিনে দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলে এই শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। কয়েক সপ্তাহ আগেই অবশ্য বড় ধরনের কম্পনে ক্ষতিগ্রস্ত এ অঞ্চলে নতুন করে ভূমিকম্পের খবর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে সর্বশেষ এই ভূমিকম্পের জেরে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, জাপানের পূর্ব উপকূলের নোডা অঞ্চলের কাছাকাছি সমুদ্রে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৯ দশমিক ৩ কিলোমিটার গভীরে। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দেশটিতে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ জন আহত হন। এছাড়া প্রায় ৯০ হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হন।
গত ৮ ডিসেম্বরের সেই ভূমিকম্পের পর সমুদ্র উপকূলে ঢেউ আঘাত হেনেছিল। জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানায়, দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলে তিন মিটার (১০ ফুট) পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি আঘাত হানতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। হোক্কাইদো, আওমোরি ও ইওয়াতে প্রিফেকচারে সতর্কতা দেয়া হয় এবং বিভিন্ন বন্দরে ২০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি হচ্ছে জাপান। দেশটিতে প্রায় প্রতি পাঁচ মিনিট পরপরই কোথাও না কোথাও কম্পন অনুভূত হয়। বিশ্বে ৬ বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই জাপানে ঘটে থাকে। এর আগে, ২০১১ সালের ১১ মার্চ দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ছিল সেটি।
ওই সময় ভূমিকম্পের পর দেশটিতে বড় ধরনের সুনামি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সেই বিশাল সুনামিতে উপকূলজুড়ে বিপর্যয় নেমে আসে এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। সূত্র : এনডিটিভি।
এমকে
আন্তর্জাতিক
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলো আরও
বছরের শেষে এসে তৃতীয়বারের মতো বিশ্ববাজারে কমে এসেছে তেলের দাম। চলতি বছরে তেলের দাম গড়ে ১৫ শতাংশের বেশি পড়ে গেছে। অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এবং চাহিদা কম থাকায় এই পতন হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালের পর এবারই তেলের সর্বনিম্ন এসে পৌঁছেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২০২৫ সালে প্রায় ১৮ শতাংশ কমেছে। এটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা তিন বছর বার্ষিক দরপতনের ঘটনা। বুধবার (৩১ডিসেম্বর) ব্রেন্ট তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬১ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি ছিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শেল তেল উৎপাদন স্থির থাকায় বাজারে তেলের ঘাটতি তৈরি হয়নি। ফলে দাম বাড়ার সুযোগ পায়নি।
বছরের শুরুতে তেলের বাজার কিছুটা চাঙা হয়েছিল। তখন রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ইউক্রেন যুদ্ধও তীব্র হয়ে ওঠে। এসব কারণে সাময়িকভাবে তেলের দাম বেড়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যেও উত্তেজনা দেখা দেয়। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত হয়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। এতে বাজারে কিছু সময়ের জন্য অস্থিরতা দেখা দেয়।
তবে এই উত্তেজনা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ওপেক প্লাস জোট চলতি বছরে তেল উৎপাদন বাড়ায়। এতে বাজারে আরও বেশি তেল আসে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধীরগতির আশঙ্কায় জ্বালানির চাহিদাও কমে যায়।
আগামী বছরের প্রথম তিন মাস ওপেক প্লাস উৎপাদন না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবু বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী বছরও বাজারে তেলের সরবরাহ বেশি থাকবে। এতে দামের ওপর চাপ থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম যদি আরও কমে ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারের কাছাকাছি চলে যায়, তাহলে উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে ওপেক প্লাস। তবে বর্তমান দাম ধরে থাকলে বড় কোনো পরিবর্তন নাও আসতে পারে।
সবশেষে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেন, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো বড় ঝুঁকি। যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হঠাৎ করেই তেলের দামে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সূত্র: রয়টার্স।
এমকে
আন্তর্জাতিক
বিশ্ব গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার জানাজার খবর
বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় জানাজা বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সম্পন্ন হয়েছে। লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায় শেষে তাকে শেরেবাংলা নগরে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম এই মহীয়সী নারীর প্রয়াণ ও বিশাল জানাজার খবরটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘সাবেক নেত্রীকে বিদায় জানাতে ঢাকায় জনতার ঢল’। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ লড়াই ও সংগ্রামের প্রতীক খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর রাজপথ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, শুধুমাত্র একনজর দেখার জন্য এবং শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লাখ লাখ মানুষ ঢাকায় ছুটে আসেন।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এবং জিও নিউজ তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পুরো বাংলাদেশ এখন শোকাতুর। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো তার রাষ্ট্রীয় জানাজায় বিপুল জনসমাগমকে ঐতিহাসিক হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার জানাজার বিশাল জমায়েতের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ ও সংগ্রামী অধ্যায়ের অবসান ঘটল। তার জানাজায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, সাধারণ জনগণের হৃদয়ে তার অবস্থান কতটা সুদৃঢ় ছিল। সংসদ ভবন এলাকায় জানাজা শেষে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করার মাধ্যমে তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের চিরসমাপ্তি ঘটল।
এমকে
আন্তর্জাতিক
নতুন বছরে যুদ্ধ লাগতে পারে ভারত-পাকিস্তান
দক্ষিণ এশিয়ায় আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা দেখছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স (সিএফআর)। সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে ২০২৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। খবর এনডিটিভি।
গত রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিশেষজ্ঞদের নিয়ে করা এক জরিপে এই মূল্যায়ন উঠে এসেছে। এতে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলোর প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন কঙ্গো, গাজা, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সংঘাত নিরসনের চেষ্টা চালালেও ভারত-পাকিস্তান ও কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডের উত্তেজনা উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে।
প্রতিবেদনে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, চলতি বছরের মে মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিন দিনের একটি সামরিক সংঘাত ঘটে। ৬ মে রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে অভিযান চালায়। ভারতের দাবি, ওই অভিযানে সন্ত্রাসী শিবির লক্ষ্য করে ১০০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হয়।
পাল্টা হামলায় ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত পাকিস্তান সশস্ত্র ড্রোন দিয়ে ভারতের সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পরে ট্রাম্প প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ১০ মে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
সিএফআর আরও জানায়, চলতি বছর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যেও সীমান্ত উত্তেজনা বেড়েছে। অক্টোবরে কাবুলে টিটিপি প্রধান নুর ওয়ালি মেহসুদকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বাড়লে ২০২৬ সালে আফগানিস্তান-পাকিস্তানের মধ্যেও ‘মাঝারি মাত্রার’ সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।




