Connect with us

মত দ্বিমত

বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার

Published

on

ডিএসইর

একটি নতুন সময়ের চিত্র
বিশ্ব এখন এমন এক বিনিয়োগ সময়ের মুখোমুখি যেখানে পুরনো স্থিতিশীলতা আর নেই। গত কয়েক দশকের পরিচিত অর্থনৈতিক গতিশীলতা, বাজারের নিয়ম ও নিশ্চিত বিনিয়োগ প্রবাহ ভেঙে পড়েছে। অর্থনীতি, ভূরাজনীতি এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের জটিলতায় বিশ্বব্যাপী পুঁজির গতিপথ নতুন রূপ নিচ্ছে। এই পরিবর্তনের ঢেউ বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবণতা
গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে ক্রমাগত ধীরগতি দেখা গেছে। United Nations Conference on Trade and Development জানিয়েছে যে ২০২৪ সালে বৈশ্বিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং ২০২৫ সাল এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এর অর্থ, উন্নয়নশীল দেশগুলো বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।
এশিয়া অঞ্চলে পুঁজিবাজার কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও বাজারের গভীরতা, দায়বদ্ধতা এবং স্বচ্ছতার অভাব এখনো প্রকট। উন্নয়নশীল দেশগুলো এখনও ঝুঁকি এবং মানবসম্পদ সংকটে ভুগছে। ফলে অতিরিক্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাজার স্থিতিশীল নয়।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বেসরকারি মৌলধন বা প্রাইভেট ইকুইটি বাজার কিছুটা পুনরুদ্ধার করলেও আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি। বড় লেনদেন ধীর এবং বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত সতর্ক। এর ফলে উদ্ভাবন এবং উদ্যোগে অর্থায়নের গতি কমে যাচ্ছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সুদের হার বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি চাপ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবর্তন এবং নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি মূল্যায়নে বাধ্য করছে। এসব প্রবণতা মিলিয়ে বিশ্ব এখন নতুন বিনিয়োগ যুগের মুখোমুখি, যেখানে পুরনো নিশ্চয়তা আর নেই এবং বাজারকে নতুন চোখে দেখা ছাড়া বিকল্প নেই।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান চিত্র
“একটি দেশের জিডিপির একটি বড় অংশ হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার, কিন্তু বাংলাদেশে সবচেয়ে অবহেলিত পুঁজিবাজার।” বাংলাদেশে পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্যতা ও স্বচ্ছতার অভাবে দুর্বল। নীচে মূল বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হলো। ব্যাংক একীভূতকরণ: নীতি, সংকট ও ঝুঁকি কিছু দুর্বল ব্যাংককে অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারের জন্য তিনটি বড় সংকট তৈরি হয়েছে।

১. তালিকাভুক্ত ব্যাংকের শেয়ারের ভবিষ্যত অনিশ্চিত। বিনিয়োগকারীরা জানে না তাদের অর্থের ফলাফল কী হবে।
২. বিনিয়োগকারীর মতামত উপেক্ষিত। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডারের ভোট, স্বাধীন মূল্যায়ন এবং ন্যায্য বিনিময় অনুপাত নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে এগুলো কার্যকরভাবে হয় না।
৩. নৈতিক সংকট। যদি অডিট অনুযায়ী ব্যাংক স্থিতিশীল ছিল তাহলে হঠাৎ পতন কেন। আর যদি দুর্বল ছিল তাহলে অডিটে ধরা পড়েনি কেন। এটি বিনিয়োগকারীর আস্থা ভেঙে দেয় এবং বাজারকে ঝুঁকিপূর্ণ করে।
শেয়ারহোল্ডারের অধিকার
শেয়ারহোল্ডারের মৌলিক অধিকারগুলো কার্যকর না হলে বাজার টেকসই হয় না। এই অধিকারগুলো হলো:
১. ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা
২. স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করা যেমন নন-পেরফর্মিং লোন, ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি এবং অডিট রিপোর্ট
৩. শেয়ারহোল্ডারের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা
৪. ক্ষতির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর ক্ষতিপূরণের অধিকার
বাংলাদেশে এই অধিকারগুলো প্রায়ই উপেক্ষিত। ফলে বিনিয়োগকারীর আস্থা দুর্বল হয়ে গেছে এবং বাজার অনিরাপদ স্থানে আটকে আছে।
পুঁজিবাজার পতনের মূল কারণ
বাংলাদেশে বাজার পতন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংকটের ফল।
১. নীতির অস্থিরতা: হঠাৎ নতুন নীতি যেমন সার্কিট ব্রেকার, মার্কেট মেকার নীতি বা মার্জিন লোন নীতি বাজারকে অনিশ্চিত করে।
২. স্বচ্ছতার অভাব: ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা জনসমক্ষে আসে না।
৩. গোষ্ঠী স্বার্থে বাজার নিয়ন্ত্রণ: দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু কার্যকর সমাধান নেই।
৪. সাধারণ বিনিয়োগকারীর বিশ্বাসহীনতা: মানুষ বিশ্বাস করে না যে তাদের টাকা নিরাপদ, নীতি ন্যায্য এবং রেগুলেটর নিরপেক্ষ।
নির্দিষ্ট পথ নির্দেশনা: নতুন আলো কীভাবে দেওয়া সম্ভব
বাংলাদেশ চাইলে এই সংকট কাটিয়ে পুঁজিবাজারে নতুন আলো দিতে পারে। এর জন্য ধাপমূলক রোডম্যাপ প্রস্তাব করা হলো।
১. নীতি ধারাবাহিকতা এবং পূর্বঘোষণা
নতুন নীতি হঠাৎ পরিবর্তন না করে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে হবে। সার্কিট ব্রেকার, মার্কেট মেকার এবং মার্জিন লোন নীতিকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে স্থির করতে হবে।
২. বিনিয়োগকারীর অধিকার রক্ষা
মার্জার বা অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডারের ভোট বাধ্যতামূলক করতে হবে।
রেগুলেটর ব্যর্থ হলে ক্ষতিপূরণের স্বচ্ছ নীতি থাকা জরুরি।
৩. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
কর্পোরেট গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করতে হবে।
ইন্সাইডার ট্রেডিং কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করতে হবে।
৪. নিয়ন্ত্রক সংস্থার দক্ষতা ও স্বাধীনতা
BSEC এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকির ক্ষমতা বাড়াতে হবে।
আন্তর্জাতিক মানের অডিট পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে।
৫. বিনিয়োগকারীর তথ্যপ্রবাহ ও শিক্ষার উন্নয়ন
সহজ ভাষায় তথ্য প্রকাশ, বিনিয়োগ-ঝুঁকি সচেতনতা বৃদ্ধি, মিডিয়া ও রেগুলেটরের যৌথ উদ্যোগে বাজার-সচেতনতা তৈরি।
৬. উদ্ভাবনী খাতে পুঁজিবাজারের সম্পৃক্ততা
প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন ইনভেস্টমেন্ট ইত্যাদিতে পুঁজিবাজারের শক্তি ব্যবহার।
৭. ধাপভিত্তিক রূপান্তর রোডম্যাপ
প্রথম বছর: নীতি রিভিউ ও আইন সংস্কার।
দ্বিতীয় বছর: তদারকি শক্তিশালী করা ও শেয়ারহোল্ডারের অধিকার নিশ্চিত।
তৃতীয় বছর: উদ্ভাবনী বাজার ব্যবস্থা চালু করা এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা ফিরিয়ে আনা।

শেষ আহ্বান
বিশ্বের ধনী দেশ, ক্ষমতাধারী ব্যক্তি এবং কর্পোরেট নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে একটি স্পষ্ট বার্তা। বিশ্বের অর্থনীতির সংকটের মূল প্রভাবগুলো হচ্ছে বিশ্বরাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা, সামরিক সংঘাত, রোবটিক ও প্রযুক্তিগত দ্বন্দ্ব, কুটনৈতিক কুচক্র এবং যুদ্ধ। এই বাস্তবতায় যদি কাগজে কলমে আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, তাহলে এলন মাস্কের মতো একজনের ভোটের মতো আমারও একটি ভোট। এখন ভাবুন যদি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ সত্ত্বেও নেতৃস্থানীয় মানুষকে হারানো সম্ভব হয়নি, তাহলে অর্থ দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা কতটা কার্যকর হবে।
এখন বিশ্বের কাছে প্রশ্ন: আমরা চাই অবিচার ও বিশৃঙ্খলা নাকি ন্যায্যতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা?

Rahman Mridha, গবেষক এবং লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, Pfizer, Sweden
rahman.mridha@gmail.com 

শেয়ার করুন:-

মত দ্বিমত

ভয়কে জয় করে এআই বিলিয়নিয়ার

Published

on

ডিএসইর

জোয়েল হেলারমার্ক ছোটবেলা থেকেই জীবনকে সীমিত ভাবেননি। মৃত্যুর ভয় তাকে তাড়িত করেছে, কিন্তু সেই চাপই তাকে এআই-এর জগতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ২৯ বছর বয়সের মধ্যেই তিনি নিজের স্টার্টআপ সানা বিক্রি করে বিলিয়নিয়ার হয়েছেন।

২৯ বছর বয়সী জোয়েল হেলারমার্ক এআই বিপ্লবের প্রথম প্রজন্মের সফল উদ্যোক্তাদের একজন। গত বছর তিনি তার প্রতিষ্ঠানকে একটি আমেরিকান সফটওয়্যার কোম্পানির কাছে বিক্রি করে বিলিয়নিয়ার হন।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

গত গ্রীষ্মে এক পারিবারিক ডিনারের সময় তিনি হঠাৎ ভিডিও কলে যোগ দিতে অতিথি কক্ষে চলে যান। পশ্চিম উপকূলে বাবা-মায়ের গ্রামীণ বাড়িতে মেঝেতে বসে ল্যাপটপ খুলে কল শুরু করেন। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক Workday-এর সিইও Carl Eschenbach ছিলেন কলের অন্য প্রান্তে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

জোয়েল ভেবেছিলেন, এটি হয়তো বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনা। কিন্তু তার বদলে আসে পুরো কোম্পানি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব। একটি বড় সফটওয়্যার কোম্পানির সিইও আমাকে মেঝেতে বসে থাকা অবস্থায় কিনতে প্রস্তাব দিচ্ছেন, এটি সত্যিই এক চমকপ্রদ মুহূর্ত ছিল বলেন তিনি।

প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি ঘরে ফিরে এসে পরিবারের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করেন। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, যদিও প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে অন্যান্য শেয়ারহোল্ডার ও কর্মীদের সঙ্গে আরও কাজ বাকি ছিল।

জোয়েল বলেন, পরিবারের জন্য এটি ছিল এক বড় বিস্ময়, তবে আমাদের জন্য এটি একটি পূর্ণতার মুহূর্ত । তার সঙ্গে ছিলেন বাবা অ্যান্ডার্স, মা সেসিলিয়া, বান্ধবী আনা, বড় ভাই হ্যাম্পাস এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য। শ্যাম্পেন খুলে তারা সাফল্য উদযাপন করেন।

শৈশব ও গড়ে ওঠা

জোয়েল জন্মগ্রহণ করেন মালয়েশিয়ায় এবং শৈশব কাটে টোকিওতে। তার বাবা ছিলেন কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার এবং মা IBM-এ অতিথি গবেষক হিসেবে কাজ করতেন।

আমার বাবা-মা অত্যন্ত কৌতূহলী ছিলেন এবং কখনো আমাকে সীমাবদ্ধ করেননি। ঘরে শেখার আগ্রহকে সবকিছুর ওপরে গুরুত্ব দেওয়া হতো। সাত বছর বয়সে পরিবার স্টকহোমে চলে আসে। লিডিঙ্গোতে নিজের ঘরে বসেই তিনি প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করেন এবং Stanford University-এর মেশিন লার্নিং কোর্স অনুসরণ করতেন।

কখনো নিউরোসায়েন্স, কখনো দর্শন, আবার কখনো প্রোগ্রামিং—এআই এই সবকিছুর সংমিশ্রণ। তিনি Leonardo da Vinci, Richard Hamming এবং Buckminster Fuller-এর জীবনী পড়তেন, যা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

আমি পড়েছিলাম, Albert Einstein এবং Isaac Newton তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন তরুণ বয়সে। তখন থেকেই মনে হতো, সময়মতো কিছু অর্থবহ করতে না পারলে পিছিয়ে পড়ব। তিনি ছোটবেলা থেকেই জীবনের অস্থায়িত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। আমি ভয় পাই এমন কিছু না করে মারা যাওয়ার। তাই সময়কে অর্থবহ কাজে ব্যবহার করতে চাই।

সানা এবং এআই যাত্রা

২০১৬ সালে জোয়েল ও আনা মিলে সানা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে এটি ছিল একটি এআই-চালিত শিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম, পরে এটি কর্পোরেট প্রশিক্ষণ ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী টুলে পরিণত হয়।

বর্তমানে সানার কর্মীসংখ্যা প্রায় ৩০০, যার অর্ধেক স্টকহোমে। লন্ডন ও নিউ ইয়র্কেও তাদের কার্যক্রম রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানের আয় ছিল ৯৬ মিলিয়ন ক্রোন, তবে ক্ষতি ছিল ১৬১ মিলিয়ন।

জোয়েল মনে করেন, আগামী দুই বছর এআই খাতে নেতৃত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা যদি আমাদের শক্তিতে মনোনিবেশ করি এবং অংশীদাররা সঠিকভাবে বিতরণে কাজ করে, তাহলে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে।

কর্মসংস্কৃতি ও দৃষ্টিভঙ্গি

জোয়েল প্রচলিত ৯টা-৫টা কর্মসংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নন। তার মতে, সেরা টিমগুলো ছোট, নিবেদিত এবং গভীর মনোযোগী। যদি আপনি আপনার কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে না করেন, তাহলে এটি আপনার জন্য নয়। আমরা এমন মানুষ চাই, যাদের মধ্যে আগুন আছে।

সানা বিক্রির পরও তিনি সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং আগের চেয়েও বেশি মনোযোগী। আমি এখন আরও বেশি ভাবি, কীভাবে নিজেকে উন্নত করা যায় এবং আরও কার্যকর হওয়া যায়। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে সানা বিক্রি হয় Workday-এর কাছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ক্রোনে। তার ব্যক্তিগত আয় দাঁড়ায় দুই বিলিয়ন ক্রোনেরও বেশি।

নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষা

সুইডেনে এমন ঘটনা অস্বাভাবিক নয়, তবে প্রতিটি গল্পই নতুন অনুপ্রেরণা তৈরি করে। প্রযুক্তির এই সময়ে এআই শুধু একটি ধারণা নয়, এটি ভবিষ্যৎ গঠনের হাতিয়ার। জোয়েলের গল্প আমাদের কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে শেখায়,

  • ছোটবেলা থেকেই কৌতূহল লালন করা জরুরি
  • অর্থবহ কাজে সময় বিনিয়োগ করা উচিত
  • ধৈর্য ও অধ্যবসায় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি
  • ভয়কে এড়িয়ে নয়, তাকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে হয়

বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্বে নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

পশ্চিমবঙ্গ বনাম বাংলাদেশের নেতৃত্বের তুলনামূলক বিশ্লেষণ

Published

on

ডিএসইর

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মৌলিক প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে। কেন কিছু নেতা দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন, আর অন্যরা ক্ষমতায় থেকেও একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে ব্যর্থ হন।

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার তুলনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু দুই অঞ্চলের পার্থক্যই দেখায় না, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিগুলোও স্পষ্ট করে। বিশেষত, শিক্ষা, প্রশাসনিক দক্ষতা, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সবই এই তুলনায় প্রতিফলিত হয়।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

পশ্চিমবঙ্গের নেতৃত্বের ইতিহাস একটি সুসংগঠিত ধারার চিত্র তুলে ধরে। শিক্ষা, চিন্তাশীলতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর নির্ভরতা একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করেছে। এখানে ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান এবং দলের শক্তি নেতৃত্বকে ধারাবাহিক ও কার্যকর করেছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ ছিলেন সৎ, নীতিবান এবং শিক্ষিত, কিন্তু রাজনৈতিক সংগঠন ও শক্তিশালী দলীয় কাঠামোর অভাবে তার নেতৃত্ব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। তার অভিজ্ঞতা দেখায়, নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও একা তা যথেষ্ট নয়।

বিধান চন্দ্র রায় ছিলেন একজন অনন্য প্রশাসক। চিকিৎসক হিসেবে তার মানবিকতা এবং পরিকল্পনাবিদ হিসেবে দূরদৃষ্টি পশ্চিমবঙ্গকে আধুনিক অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করেছে। তিনি প্রশাসন ও পরিকল্পনার সংমিশ্রণে রাজ্যকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেছেন।

জ্যোতি বসু দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্বে থেকে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছেন। দলীয় শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতা একসাথে কাজ করেছে। তার সময়ে সরকার শুধু পরিচালিত হয়নি, বরং একটি স্থিতিশীল দল ও প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে উঠেছে।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য আধুনিকায়নের প্রবক্তা ছিলেন। শিল্পায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তিতে নতুন দিগন্তের দিকে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়েছেন। তবে তার সময়ে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের আন্দোলন দেখিয়েছে, উন্নয়নের পরিকল্পনা সফল করতে হলে জনগণের আস্থা, স্বচ্ছতা এবং অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি একটি ভিন্ন বাস্তবতা দেখায়। তার জনপ্রিয়তা দীর্ঘায়িত ক্ষমতা নিশ্চিত করেছে, তবে রাজ্যকে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা অপরিহার্য। পশ্চিমবঙ্গ ভারতের বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় কেন্দ্রীয় নীতি, সংবিধান এবং বিচারব্যবস্থা স্থিতিশীলতার সঙ্গে কাজ করে। রাজ্য সরকারের স্বায়ত্তশাসন সীমিত হলেও এটি রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যক্তিনির্ভরতার প্রভাব অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পাঁচজন প্রধান নেতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শেখ মুজিবুর রহমান: স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব প্রশাসনিক সংকট, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি হন। তার নেতৃত্বে অতিরিক্ত ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। যদিও তিনি অসাধারণ ক্যারিশমাটিক নেতা ছিলেন, তার centralized approach এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের উপেক্ষা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

জিয়াউর রহমান: সামরিক শাসনের অধীনে জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদ, শৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ করেন। তবে সামরিক প্রভাব এবং কেন্দ্রীকৃত ক্ষমতা প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি দুর্বল রাখে। তার সময়ে কিছু প্রশাসনিক উন্নতি ঘটলেও গণতান্ত্রিক কাঠামো পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ: এরশাদের শাসন সরাসরি সামরিক শাসনের প্রতীক। কিছু প্রশাসনিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। তার centralized leadership এবং রাজনৈতিক বিরোধ দমন প্রতিষ্ঠানকে আরও দুর্বল করেছে।

খালেদা জিয়া: খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলীয়করণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতি স্পষ্টভাবে উপস্থিত ছিল, যা প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক সংঘাতকে তীব্র করেছে। তবে তার পুরো রাজনৈতিক যাত্রা একমাত্রিক নয়। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক নিপীড়ন, গ্রেফতার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির চাপের মধ্যে থাকার কারণে তিনি এক পর্যায়ে জনগণের একটি অংশের কাছে সহানুভূতি এবং আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে তার জীবনের শেষ পর্যায়ে জনগণের প্রতিক্রিয়ায় এই গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। এটি দেখায় যে, রাজনৈতিক বাস্তবতায় নেতৃত্বের মূল্যায়ন শুধুমাত্র শাসনকাল দিয়ে নির্ধারিত হয় না, বরং ব্যক্তিগত ত্যাগ, ভোগান্তি এবং সময়ের প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শেখ হাসিনা: শেখ হাসিনার দীর্ঘায়িত নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার শাসনামলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কিছু অর্থনৈতিক অগ্রগতি দৃশ্যমান হলেও, একই সঙ্গে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ দমন, নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা তার নেতৃত্বকে ক্রমেই বিতর্কিত করে তুলেছে। এর ফলে জনগণের একটি বড় অংশের আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে এবং নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা সংকুচিত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের কেন্দ্রীভূত শাসন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে দুর্বল করে এবং রাষ্ট্রের টেকসই স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

উভয় নেতার শাসন দেখায় যে ব্যক্তি নেতৃত্বের ওপর নির্ভরতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পশ্চিমবঙ্গ:

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি হলো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং দলীয় কাঠামোর ওপর নেতৃত্বের নির্ভরতা। নেতারা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম, শৃঙ্খলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

শক্তিশালী দল ও প্রতিষ্ঠান: রাজ্য সরকারের প্রতিটি স্তরে দল ও প্রশাসনিক কাঠামো নির্দিষ্টভাবে কাজ করে। নীতি নির্ধারণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রায়শই প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুসারে হয়, যা নেতৃত্বকে ব্যক্তিগত প্রভাবের বাইরে রাখে।

নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতা: বহু প্রজন্মের নেতৃত্ব প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। উদাহরণস্বরূপ, জ্যোতি বসুর দীর্ঘ শাসনামলে দলীয় শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত ছিল।

প্রশাসন নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো অনুসরণ করে: প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়ম এবং প্রোটোকল অনুসারে পরিচালিত হয়, ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে যায় এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখা সহজ হয়।

বাংলাদেশ:

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ব্যক্তি নেতৃত্ব প্রাধান্য পেয়েছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই দুর্বল হয়ে পড়েছে। ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নীতি প্রণয়ন ও প্রশাসনের স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ণ করছে।

ব্যক্তি নেতৃত্ব প্রাধান্য পেয়েছে: শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার শাসনামলে দেখা গেছে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রায়শই একজন নেতার কেরিশমা বা ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে।

প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই দুর্বল: সরকারি ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না থাকায় নীতিমালা সঠিকভাবে কার্যকর হয় না। দলীয় শৃঙ্খলা থাকলেও তা ব্যক্তিগত আনুগত্যের ওপর নির্ভর।

ক্ষমতা রক্ষাই প্রধান লক্ষ্য: অনেক সময় নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় নিজের ক্ষমতা ধরে রাখা, যা নীতিনির্ধারণ এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তোষামোদ ও আনুগত্য নীতিনির্ধারণকে দুর্বল করে: আনুগত্য ও তোষামোদকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, যোগ্যতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত আনুগত্য মূল্যায়িত হয়। এতে দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনিক দক্ষতা কমে যায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার স্বাভাবিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই তুলনায় স্পষ্ট দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি ব্যক্তিগত নেতা নয়, বরং সংগঠিত দল ও প্রতিষ্ঠান-এর ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং স্বৈরশাসনের উদ্ভব ব্যক্তি নেতৃত্বের প্রাধান্যের কারণে।

ডিজিটাল যুগ ও নতুন প্রজন্ম: আজকের বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক এবং সামাজিক চেতনা পুরোপুরি ডিজিটাল বাস্তবতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। তারা তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ, বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত এবং দ্রুত তথ্য যাচাই করতে সক্ষম। তাদের কাছে অন্যায়, দুর্নীতি বা প্রশাসনিক অযোগ্যতার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এই বাস্তবতা দেখায় যে, যেকোনো নেতৃত্ব যদি নতুন প্রজন্মকে উপেক্ষা করে, সে আর দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারবে না।

ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য যা অপরিহার্য:

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: নতুন প্রজন্মের চোখে লুকোছাপা বা অনিয়ম চলবে না। নেতৃত্বকে প্রতিটি নীতি, সিদ্ধান্ত এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য, যাতে জনগণ দেখতে পায় নীতি প্রয়োগে কে কীভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

ডিজিটাল যোগাযোগে সততা: তথ্যপ্রযুক্তি ও সামাজিক মিডিয়ার যুগে নেতারা সরাসরি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগে যুক্ত। মিথ্যা তথ্য বা ভ্রান্ত প্রভাব যে কোনো সময় অবিশ্বাস্যতা তৈরি করতে পারে। ডিজিটাল যোগাযোগে সততা এবং দ্রুত তথ্য প্রদান নতুন প্রজন্মের আস্থা ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি।

তরুণদের সম্পৃক্ততা: নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্ব এবং নীতি-নির্ধারণের অংশ করা অপরিহার্য। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করতে সহায়ক।

প্রযুক্তির ন্যায়ভিত্তিক ব্যবহার: প্রযুক্তি শুধুমাত্র প্রশাসনিক কার্যক্রমকে দ্রুত করার জন্য নয়, বরং ন্যায়বিচার, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং অংশগ্রহণমূলক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহার করতে হবে। এটি নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।

যে কোনো রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি নির্ভর করে নেতৃত্বের নৈতিকতা, ক্ষমতা এবং প্রতিষ্ঠানগত শক্তির সুষম মেলবন্ধনের উপর। এই ব্যালান্সটি না থাকলে রাষ্ট্র চূড়ান্তভাবে দুর্বল এবং জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়।

নৈতিকতা প্রয়োজন, কিন্তু যথেষ্ট নয়: নেতৃত্বের ব্যক্তিগত সততা ও নৈতিকতা অপরিহার্য, তবে একা তা রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম নয়। পশ্চিমবঙ্গের প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষের অভিজ্ঞতা দেখায়, নৈতিকতা থাকলেও রাজনৈতিক সংগঠন ও দলীয় কাঠামোর অভাব দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিশ্চিত করতে পারে না।

ক্ষমতা প্রয়োজন, কিন্তু তা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে: কেন্দ্রীকৃত ক্ষমতা কার্যকর প্রশাসন চালাতে সাহায্য করে, কিন্তু যদি তা নিয়ন্ত্রণহীন হয়, যেমন শেখ হাসিনার দীর্ঘায়িত শাসনে দেখা যায়, তখন ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং স্বৈরশাসনের জন্ম হয়। এটি রাষ্ট্রের নৈতিক কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যা ব্যক্তির ঊর্ধ্বে থাকবে: শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান নেতৃত্বের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেয় এবং নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়েছে যে একটি সুসংগঠিত দল এবং প্রশাসনিক কাঠামো রাষ্ট্রকে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যক্তিনির্ভরতার প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

জনসম্পৃক্ত উন্নয়ন অপরিহার্য: উন্নয়নের স্থায়িত্ব তখনই সম্ভব, যখন জনগণ নীতিমালা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের আন্দোলন দেখিয়েছে, উন্নয়ন শুধুমাত্র উপরের পর্যায়ে পরিকল্পনা করে সফল করা যায় না; জনগণের আস্থা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা অপরিহার্য।

ডিজিটাল প্রজন্মকে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক: নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তিতে দক্ষ, দ্রুত তথ্য যাচাই করতে সক্ষম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করলে কোনো নেতৃত্ব দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারবে না।

যে নেতৃত্ব সমালোচনাকে ভয় পায়, সে নিজেকে সীমাবদ্ধ করে এবং শেষ পর্যন্ত সত্যকে হারায়। এমন নেতৃত্ব শুধুমাত্র স্বার্থপরতা এবং স্বৈরশাসনের ফাঁদে নিজেকে আবদ্ধ করে, যা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা বিনষ্ট করে।

অপরদিকে, যে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, এবং নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্বের অংশ করে, সে শুধুমাত্র বর্তমান সমস্যা সমাধান করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল এবং জনগণের বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখে। ইতিহাসে স্থায়ী অবদান রাখে সেই নেতারাই, যারা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চাইতে প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়ার শক্তিকে প্রাধান্য দিয়েছে।

এই প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দেখায়, নেতৃত্বের চূড়ান্ত মানদণ্ড হলো কতোটা ব্যক্তি নয়, কতোটা প্রতিষ্ঠান ও জনগণের অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করা হয়েছে। এটি ভবিষ্যতের রাষ্ট্র ও নেতৃত্বের জন্য এক অমোঘ শিক্ষণীয় পাঠ।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

স্বাধীনতার আগমন

Published

on

ডিএসইর

রাত পোহালেই ভোর হবে
একটি নতুন সূর্য উঠবে আকাশে,
পঞ্চান্ন বছর আগের সেই প্রভাতের মতো
যেখানে রক্তের ভেতর থেকে জন্ম নিয়েছিল একটি দেশ।

এই মাটির গন্ধে আছে ইতিহাস,
ধানক্ষেতে শিশির ভেজা স্বপ্ন,
নদীর জলে ভেসে আসে
অসংখ্য অশ্রু আর অগণিত হাসির গল্প।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

মানুষগুলো সহজ, তবু গভীর,
তাদের চোখে ক্লান্তি, তবু আশার আলো,
গ্রামের পথে হাঁটলে শোনা যায়
বাউল গানের ভাঙা সুরে স্বাধীনতার ডাক।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সবুজের বুক চিরে লাল সূর্য ওঠে
জাতীয় পতাকার রঙে মিশে থাকে ভালোবাসা,
এই পতাকা শুধু কাপড় নয়
এটি আমাদের আত্মার পরিচয়।

সঙ্গীতে বাজে ইতিহাস
প্রতিটি সুরে প্রতিধ্বনি তোলে মুক্তির গান,
ভালোবাসা এখানে কেবল মানুষে মানুষে নয়
এটি মাটির সাথে, নদীর সাথে, আকাশের সাথে এক অদ্ভুত বন্ধন।

প্রকৃতি এখানে কথা বলে
কখনো কাশফুলে, কখনো বর্ষার বৃষ্টিতে,
কখনো শিউলির গন্ধে ভোরের আলোয়
স্বাধীনতার স্মৃতি জেগে ওঠে নীরবে।

আমরা সেই মানুষ
যারা হারিয়ে গিয়েও খুঁজে পায় নিজেদের,
যারা ভেঙে পড়েও দাঁড়ায় আবার
একটি পতাকার নিচে, এক সুরের টানে।

যেখানে নতুন প্রজন্ম প্রতিবাদ করতে জানে
জানে, প্রয়োজনে সবকিছু ভেঙে চুরমার করতে
পারে নতুন করে লিখতে এক নতুন সংবিধান
যেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা লেখা থাকবে,
থাকবে না অবিচার, অন্যায় আর বৈষম্যের ছায়া
সকলেই মিলে গড়িব দেশ, স্বাধীন সোনার বাংলাদেশ।

রাত পোহালেই আবার মনে পড়ে
স্বাধীনতা কোনো শেষ নয়, এটি একটি শুরু,
যেখানে প্রতিটি হৃদয় প্রতিজ্ঞা করে
দেশকে ভালোবাসার, নতুন করে গড়ার।

এই আমার বাংলাদেশ
মানুষ, মাটি, সংস্কৃতি আর ভালোবাসার এক অমলিন নাম,
যেখানে প্রতিটি ভোরে নতুন করে জন্ম নেয়
স্বাধীনতার আগমন।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

চিন্তার অভাব নাকি তথ্যের দুনিয়ায় হারিয়ে যাচ্ছি আমরা

Published

on

ডিএসইর

আমরা কি ধীরে ধীরে আমাদের চিন্তার ক্ষমতাটুকুও অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছি, নাকি এমন এক সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে আমরা উত্তর জানি, কিন্তু চিন্তা করতে ভুলে গেছি?

সহজ পথ বেছে নেওয়া মানুষের স্বভাব। কিন্তু যখন সেই সহজ পথ আমাদের চিন্তা করার ক্ষমতাকেই অপ্রয়োজনীয় করে তোলে, তখন সেটি আর শুধু সুবিধা থাকে না, ধীরে ধীরে তা এক ধরনের নির্ভরতা হয়ে ওঠে। এখন সেই সহজ পথের নাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কাজ দ্রুত হচ্ছে, ঝামেলা কমছে, ক্লান্তিকর চিন্তার প্রয়োজন কমে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা কি খেয়াল করছি, এর বিনিময়ে আমরা কী ছেড়ে দিচ্ছি?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সামাজিক মাধ্যমে এখন প্রায়ই এমন লেখা চোখে পড়ে, যেখানে প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করা হয়, অথচ পুরো লেখাটিই তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে। আরও বিস্ময়কর হলো, সেই লেখার নিচে যে আলোচনা, যে মতবিনিময়, তার বড় অংশও একইভাবে তৈরি। প্রথমে বিষয়টি মজার মনে হতে পারে। কিন্তু একটু গভীরভাবে দেখলেই বোঝা যায়, এটি নিছক কৌতুক নয়, এটি আমাদের চিন্তার জায়গা দখল করে নেওয়ার একটি নীরব প্রক্রিয়া।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সবচেয়ে অস্বস্তিকর সত্য হলো, এগুলো কোনো ভুয়া পরিচয় বা অদৃশ্য কোনো বটের কাজ নয়। আমাদের আশেপাশের মানুষ, পরিচিত মুখ, শিক্ষিত নাগরিক, তাঁরাই নিজেদের পড়ার বোঝাপড়া, বিশ্লেষণ এবং এমনকি অন্যের সঙ্গে সংলাপের দায়িত্বও একটি অ্যালগরিদমের হাতে তুলে দিচ্ছেন। যে অ্যালগরিদম মানুষের ভাষা অনুকরণ করতে পারে, কিন্তু মানুষের অভিজ্ঞতা, দ্বিধা, নৈতিক টানাপোড়েন বা দায়বোধের ভেতর দিয়ে যায় না।

এই প্রবণতা যদি শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে হয়তো উদ্বেগ কম হতো। কিন্তু বিষয়টি এখন নীতিনির্ধারণী স্তরেও প্রভাব ফেলছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজস্ব বিশ্লেষণের পরিবর্তে প্রস্তুত করা উত্তর বা সারাংশের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এর ফলে সিদ্ধান্তের ভেতরের জবাবদিহিতা কোথায়, সেই প্রশ্নটি ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাচ্ছে। আমরা কি বুঝতে পারছি, এতে করে ভুল হলে দায় নেবে কে?

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও গভীর। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এখনো মুখস্থনির্ভরতা একটি বড় বাস্তবতা। সেখানে যদি চিন্তা, বিশ্লেষণ এবং নিজে বোঝার প্রক্রিয়াটুকুও প্রযুক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করব, যারা তথ্য জানে, কিন্তু বোঝে না; উত্তর দেয়, কিন্তু প্রশ্ন করতে শেখে না।
আজ অনেক শিক্ষার্থী বই খুলে পড়ার আগেই উত্তর খুঁজে ফেলে। তারা বিষয়টি নিয়ে লড়াই করে না, ভুল করে না, আবার চেষ্টা করে না। ফলে শেখার যে ধীর, কষ্টসাধ্য কিন্তু গভীর প্রক্রিয়া, সেটি ভেঙে পড়ে। পরীক্ষায় ভালো ফল করা সম্ভব, কিন্তু জ্ঞান ভিতরে গেঁথে বসে না। এর প্রভাব আমরা ইতিমধ্যেই দেখতে শুরু করেছি, সাধারণ জ্ঞানের ঘাটতি, ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতা, এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের মৌলিক ধারণা সম্পর্কে অস্পষ্টতা।

আমরা ধর্মীয় গ্রন্থ প্রতিদিন পড়ি, নৈতিক বা আধ্যাত্মিক শিক্ষা পাই, কিন্তু কতজন তাৎপর্য উপলব্ধি করে বা সেই অনুযায়ী কাজ করে? দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো, যা আমাদের চরিত্র ও বিচারের জন্য অপরিহার্য, তা প্রায়শই কোনো রিফ্লেকশন ছাড়া দ্রুত অতিক্রম হয়ে যায়। তথ্যের দ্রুততা ও শর্টকাটে অভ্যস্ত হয়ে আমরা এমন একটি যুগে পৌঁছেছি যেখানে টিকটকের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও আমাদের মনকে আটকে রাখে, আর নিজের ব্যক্তিগত তথ্য যেমন পাসওয়ার্ড বা ফোন নম্বর মনে রাখা পর্যন্ত এখন অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। এভাবেই আমরা ধীরে ধীরে নিজের মনন ও চিন্তার গভীরতা হারাতে শুরু করেছি।

কিন্তু এখানেই থেমে থাকলে পুরো ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কারণ এই একই প্রযুক্তি, যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের বহু দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের পথও খুলে দিতে পারে।

দুর্নীতি দমনে আমরা বহু বছর ধরে সংগ্রাম করছি। ঘুষ, অনিয়ম, প্রভাব, এসব যেন অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে। অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন শনাক্ত করা, সরকারি সেবায় অস্বচ্ছতা চিহ্নিত করা, কিংবা নির্দিষ্ট প্যাটার্নের মাধ্যমে অনিয়ম ধরার ক্ষেত্রে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যেখানে মানুষ প্রভাবিত হয়, সেখানে প্রযুক্তি অন্তত একটি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক হতে পারে, যদি আমরা তাকে সেইভাবে ব্যবহার করতে চাই।

শিক্ষাক্ষেত্রে নকল নিয়ন্ত্রণেও এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা বিশাল। প্ল্যাগিয়ারিজম শনাক্ত করা, পরীক্ষার উত্তর বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক মিল খুঁজে বের করা, কিংবা শিক্ষার্থীর শেখার দুর্বলতা চিহ্নিত করে তাকে আলাদা করে সহায়তা করা, এসবই সম্ভব। অর্থাৎ, যে প্রযুক্তিকে আমরা শর্টকাট হিসেবে ব্যবহার করছি, সেটিকেই আমরা মান উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবেও গড়ে তুলতে পারি।

গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার কথা ভাবুন। দেশের অনেক এলাকায় এখনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পাওয়া কঠিন। সেখানে প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, জরুরি স্বাস্থ্য পরামর্শ, এমনকি দূরবর্তী চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে একজন রোগীকে দ্রুত সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া সম্ভব। একটি সঠিক সময়ে দেওয়া পরামর্শ অনেক ক্ষেত্রে একটি জীবন বাঁচাতে পারে। এই জায়গায় প্রযুক্তি একটি সহায়ক শক্তি, বিকল্প নয়।

অর্থাৎ, সমস্যা প্রযুক্তির অস্তিত্বে নয়, সমস্যা আমাদের ব্যবহারে। আমরা কি এটিকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করছি, নাকি নিজের দায়িত্ব এড়ানোর একটি সহজ অজুহাত হিসেবে নিচ্ছি, সেটিই মূল প্রশ্ন।

মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি তৈরি হয় প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে। কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে, ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে, আবার ফিরে এসে ঠিক করার মধ্য দিয়ে। এই যাত্রাটি কষ্টসাধ্য, কিন্তু এই কষ্টের মধ্যেই তৈরি হয় বিচারবোধ, ধৈর্য এবং দায়িত্ববোধ। যদি আমরা সেই প্রক্রিয়াটিই বাদ দিয়ে দিই, তাহলে আমরা শুধু কাজের ফল পাব, কিন্তু মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার সুযোগ হারাব।

আজকের তরুণদের দিকে তাকালে একটি দ্বৈত চিত্র দেখা যায়। একদিকে তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি তথ্যের নাগালে আছে। অন্যদিকে সেই তথ্যকে জ্ঞানে রূপান্তর করার ধৈর্য ও অভ্যাস কমে যাচ্ছে। ইতিহাস, সাহিত্য, দর্শন, যে বিষয়গুলো একটি মানুষের চিন্তার ভিত্তি তৈরি করে, সেগুলোর সঙ্গে সংযোগ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। কারণ, প্রয়োজন হলে একটি অ্যাপই কয়েক সেকেন্ডে সব উত্তর দিয়ে দিচ্ছে।

কিন্তু জ্ঞান কখনোই প্রস্তুত উত্তর নয়। জ্ঞান হলো প্রশ্ন করার সাহস, অস্বস্তির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা, এবং নিজে বুঝে ওঠার এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া ছাড়া তথ্য আসে, কিন্তু প্রজ্ঞা জন্মায় না।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এখানেই। আমরা কি ধীরে ধীরে এমন একটি সমাজের দিকে এগোচ্ছি, যেখানে অধিকাংশ মানুষ নিজে চিন্তা করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে, এবং একই সঙ্গে সেই চেষ্টা করার ইচ্ছাটুকুও হারিয়ে ফেলছে? যদি তা হয়, তাহলে সেই সমাজকে প্রভাবিত করা, বিভ্রান্ত করা এবং নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
প্রযুক্তি আমাদের শত্রু নয়। কিন্তু প্রযুক্তির ওপর অন্ধ নির্ভরতা আমাদের ভেতরকে দুর্বল করে দিতে পারে। তাই এখনই সময় নিজেকে প্রশ্ন করার, আমি কি প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছি, নাকি অজান্তেই প্রযুক্তিই আমাকে ব্যবহার করছে?

তথ্য আমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে, কিন্তু চিন্তা আমাদের ভেতর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

রমজানের এই মাসে আল্লাহ, তুমি আমাদের মন সংস্কার করে দাও

Published

on

ডিএসইর

রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং আত্মসমালোচনার মাস। এই মাস মানুষকে শুধু ব্যক্তিগত ধার্মিকতার দিকে নয়, সামাজিক ন্যায়বোধ এবং নৈতিকতার দিকেও ফিরে তাকাতে শেখায়। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় যদি আমরা রমজানের শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করতে পারি, তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্রে যে জটিলতা, বিভ্রান্তি এবং জালিয়াতির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তার থেকে বেরিয়ে আসার পথও খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশে বহু বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে, সংস্কার কি সত্যিই পরিবর্তনের জন্য, নাকি ক্ষমতা ও প্রভাব ধরে রাখার আরেকটি কৌশল। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে সংস্কারের কথা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে সেই সংস্কার প্রায়ই আটকে যায় স্বার্থের দেয়ালে। কখনো রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, কখনো প্রশাসনিক জটিলতা, আবার কখনো ব্যক্তিগত লোভ ও ক্ষমতার খেলায় প্রকৃত পরিবর্তনের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে বিশ্বাসের সংকটে। মানুষ যখন দেখে যে নীতি, আদর্শ এবং ন্যায়বিচারের কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হয় না, তখন সমাজের ভেতরে সন্দেহ ও হতাশা জন্ম নেয়। এই পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে একটি বিপজ্জনক সংস্কৃতি তৈরি হয়, যেখানে জালিয়াতি, প্রতারণা এবং তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে সত্যকে আড়াল করার প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলাফল হিসেবে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

রমজানের শিক্ষা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিতে পারে। রোজা মানুষকে শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করতে শেখায় না, এটি মানুষকে সততা, আত্মসংযম এবং জবাবদিহিতার মূল্যও মনে করিয়ে দেয়। ইসলামের মূল শিক্ষায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অন্যায়, প্রতারণা এবং মিথ্যার ওপর কোনো সমাজ দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। সত্য এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে যে সমাজ গড়ে ওঠে, সেই সমাজই টেকসই এবং শান্তিপূর্ণ হয়।

বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় সংস্কারের প্রশ্নকে নতুনভাবে ভাবতে হবে। সংস্কার মানে শুধু আইনের পরিবর্তন নয়, বরং মানসিকতা ও নৈতিকতার পরিবর্তন। যদি সমাজের মানুষ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রশাসন একই সঙ্গে নিজেদের ভেতরে আত্মসমালোচনার সাহস দেখাতে পারে, তাহলে পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে।

প্রথমত, সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা। রাষ্ট্র ও সমাজে সত্যকে আড়াল করার প্রবণতা যতদিন থাকবে, ততদিন কোনো সংস্কার স্থায়ী হবে না। সত্য প্রকাশের সাহস থাকতে হবে, এমনকি সেই সত্য অস্বস্তিকর হলেও।

দ্বিতীয়ত, জবাবদিহিতা। ক্ষমতার যে কোনো অবস্থানে থাকুক না কেন, প্রত্যেককে তার কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। এই জবাবদিহিতা যদি কেবল আইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেও প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দুর্নীতি ও প্রতারণার সুযোগ অনেক কমে যাবে।

তৃতীয়ত, নাগরিক সচেতনতা। একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয় যখন তার নাগরিকরা সচেতন ও দায়িত্বশীল হয়। মানুষ যদি সত্যকে চিনতে শেখে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব না থাকে, তাহলে কোনো জালিয়াতি বা প্রতারণা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

রমজান আমাদের শুধু উপবাসের শিক্ষা দেয় না, এটি আমাদের শেখায় সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহস এবং নিজের ভুল স্বীকার করার শক্তি। একটি জাতির প্রকৃত পরিবর্তন কখনো কেবল আইন, ক্ষমতা বা রাজনৈতিক স্লোগানের মাধ্যমে আসে না। পরিবর্তনের শুরু হয় মানুষের অন্তরে।

যদি আমরা সত্যকে লুকিয়ে রাখি, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিই এবং প্রতারণাকে স্বাভাবিক মনে করি, তাহলে কোনো সংস্কারই স্থায়ী হবে না। কিন্তু যদি আমরা নিজেদের মনকে সত্য, সততা এবং ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে পারি, তাহলে সমাজ, রাষ্ট্র এবং জাতির ভবিষ্যৎও পরিবর্তিত হতে পারে।

রমজানের এই পবিত্র সময় আমাদের সামনে সেই আত্মসমালোচনার দরজা খুলে দেয়। এখন প্রশ্নটি আমাদের সবার কাছে। আমরা কি সত্যিকার অর্থে নিজেদের মনকে সংস্কার করতে প্রস্তুত, নাকি পুরোনো অভ্যাস, ভয় এবং স্বার্থের ভেতরেই আটকে থাকতে চাই। কারণ মানুষের মন পরিবর্তন হলেই সমাজ, রাষ্ট্র এবং জাতির প্রকৃত সংস্কার সম্ভব।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

পুঁজিবাজারের সর্বশেষ

ডিএসইর ডিএসইর
পুঁজিবাজার15 hours ago

ডিএসইর বাজার মূলধন কমলো ১৭ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা

বিদায়ী সপ্তাহে (২৯ মার্চ থেকে ০২ এপ্রিল) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন হয়েছে।...

ডিএসইর ডিএসইর
জাতীয়2 days ago

প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী হলেন তানভীর গনি

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তানভীর গনি। তিনি বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার...

ডিএসইর ডিএসইর
পুঁজিবাজার2 days ago

নীতিগত সংস্কার ও কর প্রণোদনায় পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে বিএমবিএর বাজেট প্রস্তাব

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে কর–প্রণোদনা ও নীতিগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় বাজেটের জন্য প্রস্তাবনা দিয়েছে।...

ডিএসইর ডিএসইর
পুঁজিবাজার2 days ago

ব্লক মার্কেটে লেনদেন ১৪ কোটি টাকার

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে মোট ৩১ টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন ব্লক মার্কেটে১৪ কোটি...

ডিএসইর ডিএসইর
পুঁজিবাজার2 days ago

দরপতনের শীর্ষে প্রিমিয়ার লিজিং

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড...

ডিএসইর ডিএসইর
পুঁজিবাজার2 days ago

দর বৃদ্ধি শীর্ষে জনতা ইন্স্যুরেন্স

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৪টি কোম্পানির মধ্যে ৬৫টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে।...

ডিএসইর ডিএসইর
পুঁজিবাজার2 days ago

লেনদেনের শীর্ষে খান ব্রাদাস পি.পি. ওভেন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে খান ব্রাদাস পি.পি. ওভেন ব্যাগ...

সোশ্যাল মিডিয়া

তারিখ অনুযায়ী সংবাদ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০  
ডিএসইর
আবহাওয়া12 hours ago

ঢাকাসহ ২৭ জেলায় দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অফিস

ডিএসইর
জাতীয়12 hours ago

ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বিআরটিএ’র কঠোর নির্দেশনা

ডিএসইর
সারাদেশ13 hours ago

খাল খনন বিপ্লব সমাপ্ত হলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ অব্যাহত থাকত : পানিসম্পদমন্ত্রী

ডিএসইর
জাতীয়13 hours ago

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা

ডিএসইর
সারাদেশ13 hours ago

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী

ডিএসইর
কর্পোরেট সংবাদ13 hours ago

রূপালী ব্যাংকের রাজশাহী বিভাগীয় ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডিএসইর
রাজনীতি13 hours ago

গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে ক্ষোভ তাসনিম জারার

ডিএসইর
জাতীয়13 hours ago

জ্বালানি নিয়ে আতঙ্কের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি: বাণিজ্যমন্ত্রী

ডিএসইর
অর্থনীতি13 hours ago

খেলাপি ঋণসহ ব্যাংকের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি

ডিএসইর
অর্থনীতি13 hours ago

পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা: মার্চে সার্বিক রপ্তানির চেয়েও বেশি পতন

ডিএসইর
আবহাওয়া12 hours ago

ঢাকাসহ ২৭ জেলায় দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অফিস

ডিএসইর
জাতীয়12 hours ago

ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বিআরটিএ’র কঠোর নির্দেশনা

ডিএসইর
সারাদেশ13 hours ago

খাল খনন বিপ্লব সমাপ্ত হলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ অব্যাহত থাকত : পানিসম্পদমন্ত্রী

ডিএসইর
জাতীয়13 hours ago

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা

ডিএসইর
সারাদেশ13 hours ago

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী

ডিএসইর
কর্পোরেট সংবাদ13 hours ago

রূপালী ব্যাংকের রাজশাহী বিভাগীয় ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডিএসইর
রাজনীতি13 hours ago

গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে ক্ষোভ তাসনিম জারার

ডিএসইর
জাতীয়13 hours ago

জ্বালানি নিয়ে আতঙ্কের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি: বাণিজ্যমন্ত্রী

ডিএসইর
অর্থনীতি13 hours ago

খেলাপি ঋণসহ ব্যাংকের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি

ডিএসইর
অর্থনীতি13 hours ago

পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা: মার্চে সার্বিক রপ্তানির চেয়েও বেশি পতন

ডিএসইর
আবহাওয়া12 hours ago

ঢাকাসহ ২৭ জেলায় দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অফিস

ডিএসইর
জাতীয়12 hours ago

ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বিআরটিএ’র কঠোর নির্দেশনা

ডিএসইর
সারাদেশ13 hours ago

খাল খনন বিপ্লব সমাপ্ত হলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ অব্যাহত থাকত : পানিসম্পদমন্ত্রী

ডিএসইর
জাতীয়13 hours ago

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা

ডিএসইর
সারাদেশ13 hours ago

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী

ডিএসইর
কর্পোরেট সংবাদ13 hours ago

রূপালী ব্যাংকের রাজশাহী বিভাগীয় ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডিএসইর
রাজনীতি13 hours ago

গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে ক্ষোভ তাসনিম জারার

ডিএসইর
জাতীয়13 hours ago

জ্বালানি নিয়ে আতঙ্কের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি: বাণিজ্যমন্ত্রী

ডিএসইর
অর্থনীতি13 hours ago

খেলাপি ঋণসহ ব্যাংকের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি

ডিএসইর
অর্থনীতি13 hours ago

পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা: মার্চে সার্বিক রপ্তানির চেয়েও বেশি পতন