Connect with us

মত দ্বিমত

দল মনোনয়ন দিলেও দুর্নীতিবাজকে ভোট দেবেন না

Published

on

পিই রেশিও

আমরা আর চোখ বুজে থাকতে পারি না। আমরা আর শুনে যেতে পারি না যে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী শক্তি ও অর্থের পেছনে লুকিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দিচ্ছে। দুর্নীতি কেবল আর্থিক চুরি নয়, এটি আমাদের ন্যূনতম মর্যাদা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের স্বাধীনতাকে ক্ষতবিক্ষত করে। যখন আদালত, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন কিংবা স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় জবাবদিহি বিলুপ্ত হয়ে যায়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। বিশেষত সেই পরিশ্রমী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা, যাদের কষ্টের অর্থে আজও দেশের অর্থনীতি টিকে আছে।

এই কষ্ট আমরা আর মেনে নেব না। দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার, যে অভিযোগই উঠুক, সেটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণভিত্তিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। প্রভাব, দরদাম বা রাজনৈতিক সুবিধার নামে বিচারপ্রক্রিয়া যেন বিকৃত না হয়, সেটাই আজকের সবচেয়ে বড় দাবি।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

কিন্তু শুধু অভিযোগ নয়, আমাদের কাঠামোই বদলাতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রয়োজন হবে স্বচ্ছতা, স্বাধীনতা, যোগ্যতা, প্রযুক্তি এবং জনসম্পৃক্ততার সমন্বয়।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে যেমন;

১) স্বচ্ছতা ও তথ্য অধিকার প্রসার: সরকারি প্রকল্পের ব্যয়, উন্নয়ন বাজেট এবং লেনদেনের তথ্য সহজে নাগালের মধ্যে আনতে হবে, যাতে জনগণ দেখতে পারে কোথায় কীভাবে টাকা খরচ হচ্ছে। তথ্যের অভাব অনিয়মের জন্ম দেয়; স্বচ্ছতা দুর্নীতির মৃত্যু ঘটায়।
২) স্বাধীন তদন্ত ও অডিট ব্যবস্থা: রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, দ্রুত ও পেশাদার তদন্ত এবং অডিট প্রতিষ্ঠান গঠন করতে হবে, যাদের প্রতিবেদন বাধ্যতামূলকভাবে প্রকাশিত হবে এবং কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নেবে।
৩) যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে সরকারি নিয়োগ: ব্লাডভিত্তিক বা রাজনৈতিক নিয়োগের সংস্কৃতি বন্ধ করে দক্ষতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে নিয়োগ ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ বাড়াতে হবে।
৪) নাগরিক অংশগ্রহণ ও স্থানীয় তত্ত্বাবধান: জনগণকে প্রশাসনিক ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের নজরদারি থাকলে কাঠামোগত দুর্নীতি অনেকাংশে রোধ করা যায়।
৫) ডিজিটাল রেকর্ড ও ট্রেসেবল সেবা: সরকারি নথি, লেনদেন ও সেবায় ডিজিটাল রেকর্ড রাখলে অনিয়ম লুকানো যায় না। এতে সেবা দ্রুত হয়, জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।

এই পরিবর্তনগুলো শুধু নীতি নয়, এগুলো সততা ও দায়িত্ববোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার পথ। এটি একদিনের কাজ নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রাম যেখানে প্রতিদিন ন্যায্যতার জন্য দাঁড়াতে হয়। স্বাভাবিক ভাবেই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে হলে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে কারণ ভোট মানে দায়িত্ব।

সেক্ষেত্রে একজন দুর্নীতিবাজকে দল মনোনয়ন দিলেও আপনি তাকে সমর্থন করবেন না, হোক না সে আপনার দলের কেউ, ভোট দিয়ে দুর্নীতিকে সমর্থন করবেন না। হ্যাঁ, আমি বলছি বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষকে। যদি আমরা সত্যিই বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে মর্যাদা রাখতে চাই, তবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া ছাড়া বিকল্প নেই। কিন্তু সেটা কখনোই সম্ভব নয় যদি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের হাতেই আমরা দেশকে জিম্মি করে রাখি।

বিশ্বজুড়ে দেড় কোটিরও বেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা আজ এই দেশকে সচল রাখছেন, তাদের কষ্টের টাকা যেন দুর্নীতির পকেটে না যায়, সেটি আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। আমরা চাই মানবিক মূল্যবোধ, সততা, নিষ্ঠা এবং জনগণের কল্যাণে নিবেদিত নেতৃত্ব। কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত অমানুষের দেশ পরিচালনার অধিকার নেই এবং ভুল করেও আমরা যেন তাকে সেই সুযোগ না দিই। এটি শুধু অধিকার নয়, এটি আমাদের জাতিগত দায়িত্ব।

তবু প্রশ্ন থেকে যায়, এত আহ্বান, এত ত্যাগের পরও আমরা কেন একই জায়গায় ঘুরপাক খাই? কেন বারবার সেই পুরোনো নেতৃত্ব, সেই পুরোনো দুর্নীতির চক্র ফিরে আসে? এই প্রশ্নই আমাদের ইতিহাসের আয়নায় তাকাতে বাধ্য করে। ভাবুন গত পঞ্চাশ বছরের বাস্তবতায় আমরা কী পেয়েছি! দীর্ঘ চুয়ান্ন বছর কেটে গেছে, কিন্তু আমরা প্রকৃত অর্থে পরিবর্তন দেখিনি। এক রোগ থেকে মুক্তি পেয়ে আরেক রোগে আক্রান্ত হয়েছি—কলেরা থেকে যক্ষ্মা, কিন্তু সুস্থ হতে পারিনি। কারণ আমরা বারবার একই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব ও বিকৃত রাজনৈতিক সংস্কৃতির কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। এখন যদি আবারও আমরা ব্যর্থ হই, তবে হেরে যাবে আমাদের মনুষ্যত্ব—সাথে হারিয়ে যাবে বাংলাদেশও।

আমি/ আপনিই কিন্তু বাংলাদেশ, আমি/ আপনিই সেই জাগ্রত জনতার কণ্ঠ আমার আছে সততা, আর সততার সঙ্গে লড়াই করার সাহস। অসততার সঙ্গে আমার কোনো আপস নেই। অসততা সবসময় অন্ধকারে লুকায়, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বৈরশাসন জন্ম দেয়। এই বাস্তবতা বাংলাদেশের মানুষ বহুবার দেখেছে। অতএব, আমরা জানি, এই অপকর্মের প্রশ্রয় আমরা আর দিতে পারি না। আমাদের করণীয় একটাই: সততার পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলা, এবং প্রতিটি দুর্নীতিকে ঘৃণা করা।

এক সাগরের রক্তের বিনিময় আবারও আমরা নতুন একটি সুযোগ পেয়েছি, এখনই সময়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে যেভাবে টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন চলছে, তা দেখে স্পষ্ট, মানুষের মুখোশধারী রাক্ষসরা আবারও আমাদের গণতন্ত্রকে গ্রাস করতে চায়। কিন্তু আমরা ভুলে যেতে পারি না, এই দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি আঠারো কোটি মানুষের দেশ। যদি আমরা সত্যিই নাগরিক হিসেবে বাঁচতে চাই, তবে এখনই সময়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর, সত্যের পক্ষে বলার, এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার।

আসুন সকলে মিলে সত্যের পথে দাঁড়ানোর শপথ নিই সত্য বললে শক্তি শঙ্কিত হয়, কিন্তু ন্যায়ের পথে তা-ই দরকার। আমাদের কণ্ঠ হতে হবে যুক্তিনির্ভর, প্রমাণভিত্তিক ও দায়িত্বশীল। কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, চাই কাঠামোগত সংস্কার; কেবল আবেগ নয়, চাই কার্যকর নীতি ও জবাবদিহি।
আমাদের সংগ্রাম কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের লড়াই। আমাদের লক্ষ্য একটিই, একটি দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক এবং দায়িত্বশীল বাংলাদেশ। আমি বলি, প্রশ্ন করুন, তথ্য চান, বিচার চাই। আমাদের সন্তানদের জন্য, আমাদের স্বপ্নের জন্য, আমাদের দেশের জন্য, এখনই সময়। নিজের কণ্ঠ তুলুন, সত‍্যের পক্ষে লড়ুন, এবং রক্ষা করুন ভবিষ্যৎ। রক্ষা করুন বাংলাদেশ।

লেখক: রহমান মৃধা
গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন।
rahman.mridha@gmail.com 

শেয়ার করুন:-

মত দ্বিমত

রমজানের এই মাসে আল্লাহ, তুমি আমাদের মন সংস্কার করে দাও

Published

on

পিই রেশিও

রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং আত্মসমালোচনার মাস। এই মাস মানুষকে শুধু ব্যক্তিগত ধার্মিকতার দিকে নয়, সামাজিক ন্যায়বোধ এবং নৈতিকতার দিকেও ফিরে তাকাতে শেখায়। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় যদি আমরা রমজানের শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করতে পারি, তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্রে যে জটিলতা, বিভ্রান্তি এবং জালিয়াতির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তার থেকে বেরিয়ে আসার পথও খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশে বহু বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে, সংস্কার কি সত্যিই পরিবর্তনের জন্য, নাকি ক্ষমতা ও প্রভাব ধরে রাখার আরেকটি কৌশল। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে সংস্কারের কথা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে সেই সংস্কার প্রায়ই আটকে যায় স্বার্থের দেয়ালে। কখনো রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, কখনো প্রশাসনিক জটিলতা, আবার কখনো ব্যক্তিগত লোভ ও ক্ষমতার খেলায় প্রকৃত পরিবর্তনের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে বিশ্বাসের সংকটে। মানুষ যখন দেখে যে নীতি, আদর্শ এবং ন্যায়বিচারের কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হয় না, তখন সমাজের ভেতরে সন্দেহ ও হতাশা জন্ম নেয়। এই পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে একটি বিপজ্জনক সংস্কৃতি তৈরি হয়, যেখানে জালিয়াতি, প্রতারণা এবং তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে সত্যকে আড়াল করার প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলাফল হিসেবে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

রমজানের শিক্ষা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিতে পারে। রোজা মানুষকে শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করতে শেখায় না, এটি মানুষকে সততা, আত্মসংযম এবং জবাবদিহিতার মূল্যও মনে করিয়ে দেয়। ইসলামের মূল শিক্ষায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অন্যায়, প্রতারণা এবং মিথ্যার ওপর কোনো সমাজ দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। সত্য এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে যে সমাজ গড়ে ওঠে, সেই সমাজই টেকসই এবং শান্তিপূর্ণ হয়।

বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় সংস্কারের প্রশ্নকে নতুনভাবে ভাবতে হবে। সংস্কার মানে শুধু আইনের পরিবর্তন নয়, বরং মানসিকতা ও নৈতিকতার পরিবর্তন। যদি সমাজের মানুষ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রশাসন একই সঙ্গে নিজেদের ভেতরে আত্মসমালোচনার সাহস দেখাতে পারে, তাহলে পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে।

প্রথমত, সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা। রাষ্ট্র ও সমাজে সত্যকে আড়াল করার প্রবণতা যতদিন থাকবে, ততদিন কোনো সংস্কার স্থায়ী হবে না। সত্য প্রকাশের সাহস থাকতে হবে, এমনকি সেই সত্য অস্বস্তিকর হলেও।

দ্বিতীয়ত, জবাবদিহিতা। ক্ষমতার যে কোনো অবস্থানে থাকুক না কেন, প্রত্যেককে তার কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। এই জবাবদিহিতা যদি কেবল আইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেও প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দুর্নীতি ও প্রতারণার সুযোগ অনেক কমে যাবে।

তৃতীয়ত, নাগরিক সচেতনতা। একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয় যখন তার নাগরিকরা সচেতন ও দায়িত্বশীল হয়। মানুষ যদি সত্যকে চিনতে শেখে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব না থাকে, তাহলে কোনো জালিয়াতি বা প্রতারণা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

রমজান আমাদের শুধু উপবাসের শিক্ষা দেয় না, এটি আমাদের শেখায় সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহস এবং নিজের ভুল স্বীকার করার শক্তি। একটি জাতির প্রকৃত পরিবর্তন কখনো কেবল আইন, ক্ষমতা বা রাজনৈতিক স্লোগানের মাধ্যমে আসে না। পরিবর্তনের শুরু হয় মানুষের অন্তরে।

যদি আমরা সত্যকে লুকিয়ে রাখি, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিই এবং প্রতারণাকে স্বাভাবিক মনে করি, তাহলে কোনো সংস্কারই স্থায়ী হবে না। কিন্তু যদি আমরা নিজেদের মনকে সত্য, সততা এবং ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে পারি, তাহলে সমাজ, রাষ্ট্র এবং জাতির ভবিষ্যৎও পরিবর্তিত হতে পারে।

রমজানের এই পবিত্র সময় আমাদের সামনে সেই আত্মসমালোচনার দরজা খুলে দেয়। এখন প্রশ্নটি আমাদের সবার কাছে। আমরা কি সত্যিকার অর্থে নিজেদের মনকে সংস্কার করতে প্রস্তুত, নাকি পুরোনো অভ্যাস, ভয় এবং স্বার্থের ভেতরেই আটকে থাকতে চাই। কারণ মানুষের মন পরিবর্তন হলেই সমাজ, রাষ্ট্র এবং জাতির প্রকৃত সংস্কার সম্ভব।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

ধর্ম, ভূরাজনীতি এবং মানবজাতির অস্তিত্ব

Published

on

পিই রেশিও

মধ্যপ্রাচ্য যখন ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং জনঅসন্তোষের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে এক নতুন ধর্মীয় বয়ান তৈরি হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, এই দুই প্রান্তের অস্থিরতার মধ্যে কি কোনো অদৃশ্য কৌশলগত সংযোগ আছে?

ইরানের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক অসন্তোষ জমে আছে। অন্যদিকে ইসরায়েল তার নিরাপত্তা কৌশলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রেখেছে। এমন বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবে উঠে আসে: আঞ্চলিক শক্তিগুলো কি অভ্যন্তরীণ সংকটকে বহির্মুখী সংঘাতে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছে?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হত্যাচেষ্টা এবং তার পরবর্তী সময়ে তাকে “ঐশ্বরিকভাবে রক্ষিত নেতা” হিসেবে উপস্থাপন করার রাজনৈতিক প্রচার কি কেবল অভ্যন্তরীণ মার্কিন রাজনীতির অংশ, নাকি এটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলের উপাদান?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

ইসরায়েল কি তার নিরাপত্তা নীতিকে শক্তিশালী করতে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির নির্দিষ্ট ধারাকে প্রভাবিত করছে?

ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ কি আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে?

নাকি আমরা কেবল সমান্তরাল সংকটকে একটি বৃহৎ কাহিনিতে জোড়া লাগানোর চেষ্টা করছি?

এই প্রশ্নগুলোই আমাদের বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা বোঝার সূচনা বিন্দু।

বর্তমান বিশ্ব এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে ধর্মীয় ভাষা, রাজনৈতিক কৌশল এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এক জটিল বিন্যাস তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং “শেষ সময়ের যুদ্ধ” ধরনের ভাষার পুনরুত্থান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই প্রতিবেদনটি ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে বিশ্লেষণ করছে।

১. ট্রাম্পকে ঘিরে “ঐশ্বরিক রক্ষা” ধারণা: ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হত্যাচেষ্টা এবং তার বেঁচে যাওয়া মার্কিন রাজনীতিতে গভীর প্রতীকী প্রভাব ফেলে। তার কিছু সমর্থকের মধ্যে ধারণা জোরদার হয় যে তিনি ঈশ্বরের দ্বারা রক্ষিত অথবা ঈশ্বরের পরিকল্পনার অংশ।

এই বিশ্বাসের পেছনে কয়েকটি ধর্মীয় ব্যাখ্যা কাজ করে। মার্কিন ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের একটি অংশ মনে করে ঈশ্বর ইতিহাসে রাজনৈতিক নেতাদের ব্যবহার করেন। বাইবেলের পুরনো নিয়মে এমন উদাহরণ রয়েছে যেখানে নৈতিকভাবে নিখুঁত নন এমন রাজাকেও ঐশ্বরিক পরিকল্পনায় ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। ফলে ট্রাম্পকে কেউ কেউ নৈতিক আদর্শ নয়, বরং ঐশ্বরিকভাবে ব্যবহৃত নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সব রিপাবলিকান বা সব খ্রিস্টানের বিশ্বাস নয়। রিপাবলিকান পার্টির কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় মতবাদ নেই। এটি একটি গোষ্ঠীগত ধর্মীয় ব্যাখ্যা, রাজনৈতিক বাস্তবতার আনুষ্ঠানিক কাঠামো নয়।

২. ইরানকে “অশুভ শক্তি” হিসেবে চিত্রায়ন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং ইসরায়েল প্রশ্ন এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে। মার্কিন রক্ষণশীল রাজনীতির একটি অংশ ইরানকে কৌশলগত প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরে।

কিছু ইভানজেলিক্যাল গোষ্ঠী বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীকে আধুনিক ভূরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করে। তাদের মতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত “শেষ সময়ের” পূর্বাভাস হতে পারে, ইসরায়েল রক্ষা করা ঈশ্বরের পরিকল্পনার অংশ, এবং ইরান সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ শক্তি। তবে এটি মূলধারার খ্রিস্টীয় মতবাদ নয়, বরং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধর্মীয় ব্যাখ্যা।

৩. ইহুদি ধর্মে “শেষ সংঘাত” ধারণা: ইহুদি ধর্মে মেসিয়ানিক যুগের ধারণা রয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। কিছু ঐতিহ্যিক গ্রন্থে “গগ ও মাগগ” নামে একটি চূড়ান্ত সংঘাতের উল্লেখ আছে। কিন্তু এখানে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ইহুদিরা যিশুকে মেসিয়া হিসেবে মানে না এবং যিশুর পুনরাগমনে বিশ্বাস করে না। তাদের মতে ভবিষ্যৎ মেসিয়া এখনো আগমন করেননি। ফলে “শেষ যুদ্ধের পর যিশু ফিরে আসবেন” এই ধারণা ইহুদি বিশ্বাস নয়, বরং খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্বের অংশ।

৪. খ্রিস্টধর্মে পুনরাগমন ও চূড়ান্ত বিচার: খ্রিস্টধর্মে বিশেষ করে উপেনবারেলসেবোকেনে একটি চূড়ান্ত আধ্যাত্মিক সংগ্রামের বর্ণনা রয়েছে। সেখানে যিশুর পুনরাগমন, ভালো ও মন্দের চূড়ান্ত বিচার এবং নতুন আকাশ ও নতুন পৃথিবীর ধারণা উল্লেখ আছে। এই পাঠে মুসলমানদের কোনো উল্লেখ নেই, কারণ ইসলাম খ্রিস্টধর্মের কয়েক শতাব্দী পরে আবির্ভূত হয়েছে। এখানে সংঘাতটি ধর্মতাত্ত্বিক অর্থে ঈশ্বর ও অশুভ শক্তির মধ্যে, আধুনিক কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। অধিকাংশ খ্রিস্টান এই বর্ণনাকে প্রতীকী বা আধ্যাত্মিক সংগ্রাম হিসেবে দেখেন।

৫. “মুসলমানদের বিরুদ্ধে শেষ যুদ্ধ” ধারণার বিশ্লেষণ: মুসলমানদের বিরুদ্ধে অ্যাপোক্যালিপ্টিক যুদ্ধ সাধারণত এমন একটি ধর্মীয় রঙযুক্ত ধারণাকে বোঝায় যেখানে পৃথিবীর শেষ সময়ে ভালো ও মন্দের মধ্যে একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ হবে, এবং সেখানে মুসলমানদেরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে কল্পনা করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ধারণা মূলধারার কোনো ধর্মীয় শিক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে না। এটি নির্দিষ্ট কিছু উগ্র বা চরমপন্থী ব্যাখ্যার ফল। তাই বিষয়টি বোঝার জন্য আমাদের প্রথমেই দুটি জিনিস আলাদা করতে হবে। ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্বাস এবং রাজনৈতিক বা উগ্র ব্যাখ্যা।

ইসলাম ধর্মে শেষ সময়ের ধারণা, ইসলামে “আখেরাত” ও “কিয়ামত” সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ তত্ত্ব আছে, যাকে এস্ক্যাটোলজি বলা হয়। কিছু হাদিসে বড় ফিতনা, আল মাহদীর আবির্ভাব এবং ঈসা আলাইহিস সালামের পুনরাগমনের কথা উল্লেখ আছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

  • এসব বর্ণনার ব্যাখ্যা বিভিন্ন আলেম বিভিন্নভাবে করেছেন।
  • অধিকাংশ মুসলমান এগুলোকে প্রতীকী বা আল্লাহর জ্ঞানের অন্তর্গত বিষয় হিসেবে দেখেন।
  • ইসলামের মূলধারার শিক্ষা দৈনন্দিন জীবনে ন্যায়, দায়িত্ব, শান্তি ও সহাবস্থানের উপর জোর দেয়।

অর্থাৎ ইসলাম কোনো জাতি বা নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক আহ্বান দেয় না। কিছু উগ্র গোষ্ঠী এসব বর্ণনাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তা মূলধারার ইসলাম নয়।

খ্রিস্টধর্মে শেষ সময়ের ধারণা, খ্রিস্টধর্মেও শেষ সময় বা পৃথিবীর অন্তিম অধ্যায় নিয়ে বর্ণনা আছে। বিশেষ করে নতুন নিয়মের উপেনবারেলসেবোকেনে ভালো ও মন্দের এক চূড়ান্ত সংঘাতের কথা বলা হয়েছে, যাকে অনেক সময় হারমাগেডন বলা হয়।

  • সেখানে মুসলমানদের কোনো উল্লেখ নেই, কারণ ইসলাম খ্রিস্টধর্মের কয়েক শতাব্দী পরে আবির্ভূত হয়েছে।
  • যুদ্ধটি ধর্মতাত্ত্বিক অর্থে ঈশ্বর ও অশুভ শক্তির মধ্যে, আধুনিক কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়।
  • অধিকাংশ খ্রিস্টান এই বর্ণনাকে প্রতীকী বা আধ্যাত্মিক সংগ্রাম হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী এসব পাঠকে আক্ষরিক অর্থে নিয়ে বর্তমান ভূরাজনীতির সাথে যুক্ত করার চেষ্টা করে। পার্থক্য মূলত তিনটি ক্ষেত্রে:

  • ইতিহাসের শেষ অধ্যায় কিভাবে বর্ণনা করা হয়েছে
  • কোন কোন ধর্মীয় চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন
  • পাঠগুলোকে আক্ষরিক না প্রতীকীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়

দুই ধর্মের দৈনন্দিন জীবনের মূল বার্তা হলো নৈতিকতা, দায়িত্ব, শান্তি এবং ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক। মুসলমানদের বিরুদ্ধে অ্যাপোক্যালিপ্টিক যুদ্ধ ধরনের ভাষা সাধারণত রাজনৈতিক প্রচারণা, চরমপন্থী মতাদর্শ, সভ্যতার সংঘাত তত্ত্ব এবং ধর্মীয় পাঠের অপব্যবহারের প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলধারার খ্রিস্টান বা মুসলমানদের বিশ্বাসকে প্রতিনিধিত্ব করে না।

৬. ইসরায়েল প্রশ্ন ও নিরাপত্তা রাজনীতি: ইসরায়েল বর্তমানে নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে রেখেছে। হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তাদের কৌশলগত নীতির অংশ। প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখা, শত্রুকে নিরস্ত করা এবং প্রযুক্তিগত সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা তাদের অগ্রাধিকার। তবে আন্তর্জাতিক মহলে সামরিক পদক্ষেপের মানবিক মূল্য, দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের অভাব এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নের অনিরসন নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। নিরাপত্তা ও মানবিকতার দ্বৈত বাস্তবতা এখানেই স্পষ্ট।

৭. ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ব রাজনীতিতে কয়েকটি শিক্ষা দিয়েছে:

  • জাতীয়তাবাদ বহুপাক্ষিকতার ওপর প্রাধান্য পেতে পারে।
  • ব্যক্তিকেন্দ্রিক কূটনীতি প্রথাগত কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
  • ধর্মীয় ভোটব্যাংক নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
  • অভ্যন্তরীণ মেরুকরণ আন্তর্জাতিক অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে।

৮. ভবিষ্যৎ প্রবণতা: বিশ্ব এখন মূলত কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগে প্রবেশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়ার মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি সংঘাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তি, সাইবার যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সামরিক সংঘাতের বিকল্প হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

বিশ্ব কি ধর্মীয় শেষ যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে? বাস্তব বিশ্লেষণ বলছে, না। ধর্মীয় ভাষা ব্যবহৃত হচ্ছে, কিন্তু সিদ্ধান্তগুলো মূলত নিরাপত্তা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক কৌশলের ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে। ধর্মতত্ত্ব, পরিচয় রাজনীতি এবং ক্ষমতার ভাষার এই মিশ্র বাস্তবতা বোঝা আজ অত্যন্ত জরুরি। আবেগ নয়, বিশ্লেষণই হতে পারে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের পথ।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

বিংশ শতাব্দীর কাঠামো না কি একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর: কোন পথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা?

Published

on

পিই রেশিও

যুদ্ধের চরিত্র বদলে গেছে। একসময় যুদ্ধ মানেই ছিল সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ, রাইফেল, কামান, ট্যাংক এবং সম্মুখসমরের সংঘর্ষ। রাষ্ট্রের শক্তি মাপা হতো সৈন্যসংখ্যা দিয়ে। বড় বাহিনী মানেই বড় শক্তি। সেই ধারণা বিংশ শতাব্দীর বাস্তবতায় কার্যকর ছিল।

কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে যুদ্ধের কেন্দ্র সরে গেছে। আজ যুদ্ধ শুধু সীমান্তে নয়, সার্ভার রুমে, স্যাটেলাইট কক্ষপথে, ডেটা সেন্টারে এবং কন্ট্রোল রুমে। ড্রোন আকাশে উড়ছে, সমুদ্রে স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা কাজ করছে, সাইবার আক্রমণ বিদ্যুৎ গ্রিড অচল করতে পারে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা অস্থিতিশীল করতে পারে, এমনকি একটি দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দিতে পারে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বিশ্বের বড় শক্তিগুলো তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলে প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সাইবার স্পেস এখন স্বীকৃত যুদ্ধক্ষেত্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিক্স, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থা এবং স্যাটেলাইট নজরদারি আধুনিক সামরিক শক্তির মূল উপাদান। সৈন্য আছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করছে প্রযুক্তি।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এই বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে, কেবল শারীরিক প্রশিক্ষণ, কুচকাওয়াজ এবং বৃহৎ জনবল দিয়ে কি আধুনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব? সাইবার আক্রমণ রুখতে রাইফেল লাগে না। ড্রোন প্রতিরোধে প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুশীলন যথেষ্ট নয়। স্যাটেলাইট নজরদারি মোকাবিলায় প্রয়োজন ইলেকট্রনিক দক্ষতা।

জাতীয় নিরাপত্তা এখন সীমান্তের চেয়ে বেশি নির্ভর করছে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর।

এবার বাংলাদেশের দিকে তাকাই। আমাদের প্রতিরক্ষা কাঠামো ঐতিহ্যগতভাবে জনবলনির্ভর। বৃহৎ সৈন্যসংখ্যা, বিস্তৃত প্রশাসনিক পরিকাঠামো এবং স্থায়ী ব্যয়ের কাঠামো রাষ্ট্রীয় বাজেটের বড় অংশ দখল করে আছে। প্রশ্ন হলো, এই বিপুল জনশক্তি কি পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতায় রূপান্তরিত হচ্ছে? নাকি আমরা এখনো সংখ্যাকে শক্তি মনে করে আত্মতুষ্ট?

শুধু বড় বাহিনী থাকলেই শক্তিশালী হওয়া যায় না। দক্ষতায় বড় হওয়াই আজকের শক্তি।

এখানেই একটি বিকল্প চিন্তার দরজা খুলে যায়। যদি সামরিক জনবলের একটি অংশকে পরিকল্পিতভাবে পুনঃপ্রশিক্ষণ দেওয়া হয় সাইবার ডিফেন্স, ডেটা অ্যানালিটিক্স, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রতিরক্ষা গবেষণায়, তাহলে একই মানবসম্পদ দ্বৈত ভূমিকা পালন করতে পারে। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা, অন্যদিকে প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতিতে অবদান।

প্রতিরক্ষা খাতকে কেবল ব্যয়ের খাত হিসেবে দেখা হবে, নাকি মানবসম্পদ উন্নয়নের কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

বাংলাদেশের সামনে চারটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকতে পারে।

প্রথমত, ডিমান্ড বেজড প্রযুক্তিগত শিক্ষা। বিশ্ববাজারে কোন দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে তা বিশ্লেষণ করে প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করতে হবে। সাইবার নিরাপত্তা, অটোমেশন, ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত প্রযুক্তি দক্ষতা ছাড়া ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে টিকে থাকা সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়ত, সামরিক পুনর্গঠন। ঐতিহ্যগত জনবল কাঠামোকে ধীরে ধীরে দক্ষতানির্ভর কাঠামোয় রূপান্তর করতে হবে। উচ্চ প্রযুক্তি ইউনিট গঠন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।

তৃতীয়ত, সমন্বিত সাইবার ও ডিজিটাল প্রতিরক্ষা কমান্ড গঠন, যা বেসামরিক ও সামরিক উভয় অবকাঠামোকে সুরক্ষা দেবে।

চতুর্থত, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ। যে প্রযুক্তি সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য, সেখানে বিনিয়োগ করলে প্রতিরক্ষা ব্যয় উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তরিত হতে পারে।

কিন্তু এই চারটি সিদ্ধান্ত কেবল নীতিগত ঘোষণা হয়ে থাকলে চলবে না। এর পরেই প্রয়োজন একটি কাঠামোগত রূপান্তর পরিকল্পনা। মূল প্রশ্ন হলো, বর্তমানে সমগ্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যে বিপুল জনশক্তি রয়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হবে?

এই জনশক্তিকে কেবল নিরাপত্তা কাঠামোর স্থায়ী উপাদান হিসেবে না দেখে, জাতীয় উন্নয়নের কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

রাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে, যেখানে প্রতিরক্ষা খাতে কর্মরত জনবলকে ধাপে ধাপে নতুন প্রযুক্তি দক্ষতা, ডিজিটাল সক্ষমতা এবং সমাজকল্যাণমূলক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের আওতায় আনা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা ব্যবস্থাপনা, ড্রোন প্রযুক্তি, অবকাঠামো প্রযুক্তি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই জনশক্তি দ্বৈত সক্ষমতায় রূপ নিতে পারে।

এখানে আরেকটি কৌশলগত মাত্রা যুক্ত করা জরুরি। বিশ্বের বহু দেশে দক্ষ প্রযুক্তিগত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মশক্তির ঘাটতি রয়েছে। পরিকল্পিত ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা পটভূমির মানবসম্পদকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে তোলা গেলে তা বৈদেশিক আয়ের একটি নতুন দ্বার খুলতে পারে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত চুক্তি, দক্ষতা সনদায়ন এবং পুনর্বাসন কাঠামোর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব।

অর্থাৎ প্রতিরক্ষা জনবলকে ধীরে ধীরে এমন এক মানবসম্পদ শক্তিতে রূপান্তর করা, যারা একদিকে জাতীয় নিরাপত্তায় অবদান রাখবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতায় যুক্ত হবে, এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও অংশ নিতে পারবে।

এটি কেবল সামরিক সংস্কার নয়। এটি নতুন মানবিক উন্নয়নের রূপরেখা। একটি কাঠামো ফর বিল্ডিং ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিরক্ষা ব্যয়কে ব্যয় হিসেবে নয়, মানবসম্পদে বিনিয়োগ হিসেবে পুনঃসংজ্ঞায়িত করা হবে।

রাষ্ট্র যদি চায়, তবে বৃহৎ জনবলকে স্থায়ী ব্যয়ের বোঝা হিসেবে না দেখে উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। এটি হবে কৌশলগত মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, যেখানে প্রতিরক্ষা খাতের কর্মীরা একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করবে এবং দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

এটি কোনো আবেগ বা সাধারণ মতামতের প্রশ্ন নয়। এটি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থানের প্রশ্ন। এটি আমাদের জাতীয় ভবিষ্যৎ, আমাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, এবং আগামী প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।

বাংলাদেশ কি বড় জনবল ধরে রেখে বিংশ শতাব্দীর শক্তির ধারণায় স্থির থাকবে, নাকি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা রাষ্ট্র গড়ে তুলবে?

রাষ্ট্রের শক্তি আর কেবল বন্দুকের নলে সীমাবদ্ধ নয়। আজ রাষ্ট্রের শক্তি নিহিত জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদে। সিদ্ধান্তটি সরল—কিন্তু তার প্রভাব হবে ঐতিহাসিক।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

দুর্নীতিমুক্ত সংসদ ছাড়া ন্যায়বিচার অসম্ভব

Published

on

পিই রেশিও

“যতদিন সংসদে দুর্নীতিমুক্ত ও ঋণখেলাপিমুক্ত সংসদ সদস্য না যাবে, ততদিন বাংলাদেশে সংবিধান থেকে জাতি ন্যায়বিচার পাবে না। কারণ, অপরাধী রাজনীতিবিদরা যখন আইন তৈরি করবে, তখন আপনি কখনই ন্যায়বিচার পাবেন না।”

এটি কেবল একটি বাক্য নয়, এটি রাষ্ট্রের ভেতরের অমীমাংসিত সংকটের সংক্ষিত সারাংশ। এখানে প্রশ্ন ব্যক্তির নয়, কাঠামোর। প্রশ্ন দলীয় নয়, নৈতিকতার।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সংবিধান বনাম বাস্তবতা

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সংবিধান একটি জাতির সর্বোচ্চ নীতিপত্র, যেখানে ন্যায়, সমতা, মানবাধিকার ও জবাবদিহির অঙ্গীকার লেখা থাকে। কিন্তু সেই সংবিধান বাস্তবায়নের দায়িত্ব যাদের হাতে, তারাই যদি দুর্নীতি, ঋণখেলাপি, লুটপাট, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে সংবিধানের ভাষা কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে। ন্যায়বিচার তখন নথিতে থাকে, বাস্তবে নয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিযোগিতা এখন নীতির লড়াই নয়, বরং প্রভাবের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণখেলাপিরা ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে, অথচ সাধারণ আমানতকারীরা অনিশ্চয়তায় ভুগেছে। বড় প্রকল্পে অনিয়ম আর জবাবদিহির অভাব সাধারণ মানুষের আস্থায় চিড় ধরিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ধারণা জন্মেছে যে—যোগ্যতা নয়, রাজনৈতিক সংযোগই সাফল্যের একমাত্র পথ। এই মানসিকতা রাষ্ট্রের জন্য এক গভীর বিপদের সংকেত।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো ভোটের প্রতি আস্থার সংকট। যদি নাগরিক বিশ্বাস করতে না পারেন যে তাদের ভোটই প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ করে, তবে গণতন্ত্র কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। গণতন্ত্রের প্রাণ হলো আস্থা। সেই আস্থা ক্ষয় হলে সংবিধানের প্রতিশ্রুতি দুর্বল হয়ে পড়ে।

এই বাস্তবতায় মূল প্রশ্নটি স্পষ্ট। আইন প্রণেতারা যদি নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হন, তবে আইন কি ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারে? যখন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত বা আর্থিক অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিরা আইন প্রণয়ন করেন, তখন আইনের প্রতি জনগণের শ্রদ্ধা কমে যায়। আইনের শাসন তখন ব্যক্তির শাসনে রূপ নিতে শুরু করে।

সমাধান কোনো ব্যক্তিবিশেষের বিরোধিতায় নয়, বরং কাঠামোগত শুদ্ধিতে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়নে নৈতিক মানদণ্ড কঠোর করা, ঋণখেলাপি ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের সংসদে প্রবেশ চিরতরে বন্ধ করা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে বাস্তব অর্থে শক্তিশালী করা জরুরি।

রাষ্ট্রকে বাঁচাতে হলে প্রথমে সংসদকে শুদ্ধ করতে হবে। কারণ সংসদই আইন তৈরি করে, আর আইনই রাষ্ট্রের চরিত্র নির্ধারণ করে। আইন যদি নৈতিকতার উপর দাঁড়ায়, রাষ্ট্র টিকে থাকে। আইন যদি স্বার্থের উপর দাঁড়ায়, রাষ্ট্র ভেঙে পড়ে।

অতএব এই বাক্যটি কেবল প্রতিবাদ নয়, একটি সতর্কবার্তা। ন্যায়বিচার কাগজে লেখা থাকে না, তা মানুষের হাতে গড়ে ওঠে। আর সেই হাত যদি কলুষিত হয়, তবে সংবিধানও ন্যায় দিতে পারে না।

প্রশ্নটি এড়ানো যায় না। রাষ্ট্রের জনগণ যেমন, তার নেতৃত্বও সাধারণত তেমনি হয়। বাংলাদেশের জন্য কি এই কথাটি প্রযোজ্য?

নেতৃত্ব আকাশ থেকে পড়ে না; তারা সমাজের ভেতর থেকেই উঠে আসে। সমাজ যদি দুর্নীতিকে সহনীয় মনে করে কিংবা ঋণখেলাপিকে কৌশলী ব্যবসায়ী হিসেবে বাহবা দেয়,ভোট জালিয়াতিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে মেনে নেয় এবং চাঁদাবাজিকে প্রভাবের অংশ মনে করে, তবে সেই মানসিকতার প্রতিফলনই একদিন সংসদে বসে। তখন আমরা কেবল নেতৃত্বকে দোষ দিই, কিন্তু আয়নায় নিজেদের দেখি না।

তবে এর অর্থ এই নয় যে জনগণই দায়ী বলেই রাষ্ট্র দায়ী। বরং পরিবর্তনের শক্তিও জনগণের হাতেই। সমাজ যদি নৈতিক মানদণ্ড উঁচু করে, ভোটাররা যদি প্রশ্ন করতে শেখেন এবং দলীয় অন্ধত্বের বদলে নৈতিকতার ভিত্তিতে প্রতিনিধি বাছেন, তবেই সংসদ বদলাবে। রাষ্ট্রকে বাঁচাতে হলে সংসদকে শুদ্ধ করতে হবে। কারণ সংসদই আইন তৈরি করে, আর আইনই রাষ্ট্রের চরিত্র নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটি তাই দ্বিমুখী। নেতৃত্ব কি জনগণের প্রতিচ্ছবি, নাকি জনগণকে এমন কাঠামোর মধ্যে রাখা হয়েছে যেখানে বিকল্পই সংকুচিত? যদি দ্বিতীয়টি সত্য হয়, তবে কাঠামো ভাঙতে হবে। যদি প্রথমটি আংশিক সত্য হয়, তবে মানসিকতা বদলাতে হবে।

অতএব, যতদিন সংসদে দুর্নীতিমুক্ত ও ঋণখেলাপিমুক্ত প্রতিনিধি না যাবে, ততদিন সংবিধানের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে না। পরিবর্তনের চাবিকাঠি কিন্তু সাধারণ মানুষের হাতেই।

পরিশেষে, আমরা কি কেবল অভিযোগ করে যাব, নাকি নিজেদের রাজনৈতিক নৈতিকতাকেও পুনর্গঠন করব?

এমএন/ রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী: স্পষ্টভাষিতা বিতর্ক এবং নতুন রাজনীতির রূপরেখা

Published

on

পিই রেশিও

আমি দূর প্রবাসে থাকলেও তাকে আমি চিনি, যদিও কখনও চোখে দেখিনি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আমার লেখালিখির সক্রিয় অংশগ্রহণের সময় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত যারা ছিল তাদের মধ্যেই নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী আমার নজর আলাদাভাবে কেড়েছিল। তার অদম্য সাহস, দৃঢ় সংকল্প এবং মানুষের কল্যাণের প্রতি আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গি তখনই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। সেই দিনের মুহূর্ত থেকে সে আমার চোখে শুধুই একজন রাজনৈতিক নেতা নয়; সে এক অনন্য চরিত্র, যার প্রভাব কেবল আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সময়ের সঙ্গে প্রতিফলিত হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্পষ্টভাষী নেতা বিরল। নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী সেই অদ্বিতীয় কণ্ঠ, যে সরাসরি দৃঢ় এবং প্রায়শই বিতর্কিত বক্তব্য দেয়। তার ভাষা সমালোচনার জন্ম দেয়, সমর্থনও জন্মায়। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ঘাটতি ও সম্ভাবনার উভয়ই প্রতিফলন। এই প্রতিবেদনে আমি বিশ্লেষণ করেছি সে কীভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলছে, নতুন প্রজন্ম তাকে কীভাবে দেখছে এবং তার নেতৃত্ব কীভাবে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক অঙ্গনে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী একটি আলোচিত নাম। তাকে কেউ দেখে দুর্নীতিবিরোধী আপসহীন কণ্ঠ হিসেবে, কেউ দেখে বিতর্কপ্রবণ রাজনীতিক হিসেবে। কিন্তু তাকে ঘিরে যে আলোচনা, তা কেবল ব্যক্তিকে নিয়ে নয়। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাষা, সংস্কৃতি ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার গভীর প্রশ্নকে সামনে আনে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অশ্লীলতার অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের বক্তব্য, তার ভাষা প্রায়ই তীব্র। সমর্থকদের দাবি, সে কেবল অপ্রিয় সত্য উচ্চারণ করে। এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে। কঠোর ভাষা ও অশ্লীলতার কি একই বিষয়? নাকি আমরা এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত, যেখানে তোষামোদ স্বাভাবিক এবং সরাসরি সমালোচনা অস্বস্তিকর?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক আনুগত্য প্রায়ই নীতিগত বিতর্ককে ছাপিয়ে যায়। ফলে শক্ত সমালোচনা সহজেই ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে ব্যাখ্যা পায়। এই প্রেক্ষাপটে পাটোয়ারীর ভাষা বিতর্ক সৃষ্টি করলেও তা রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সংকটকেই উন্মোচন করে।

নতুন প্রজন্মের চাওয়া
নতুন প্রজন্মের এক অংশ তাঁর এই আপসহীনতাকে সততার প্রতীক মনে করলেও, অন্য অংশ তাঁর বক্তব্যের চেয়ে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও ফলাফল দেখতে আগ্রহী। আজকের তরুণ সমাজ শুধু স্লোগান চায় না, তারা চায় রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তব রূপরেখা। এই প্রেক্ষাপটে পাটোয়ারীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাঁর এই সাহসকে কৌশলী নীতিতে রূপান্তর করা।

পাটোয়ারীর স্পষ্টভাষিতা তার শক্তি, আবার ঝুঁকিও
ইতিবাচক দিক হলো, সে আলাদা রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তুলেছে। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান তাকে দৃশ্যমান করেছে। তরুণদের একটি অংশ তার মধ্যে প্রতিবাদী নয়, সম্ভাব্য সংস্কারকের প্রতিচ্ছবি দেখে।

নেতিবাচক দিক হলো, যদি ভাষাই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে তবে নীতিগত গভীরতা আড়ালে পড়তে পারে। জোটভিত্তিক রাজনীতিতে সমঝোতার প্রয়োজন থাকে। অতিরিক্ত তীব্রতা রাজনৈতিক সমীকরণকে কঠিন করে তুলতে পারে। আইনি ও প্রশাসনিক চাপের ঝুঁকিও থেকে যায়।

কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন
১: রাজনৈতিক আচরণবিধির স্পষ্ট সংজ্ঞা প্রয়োজন, যাতে কঠোর সমালোচনা ও ব্যক্তিগত অশালীনতার পার্থক্য নির্ধারিত হয়।
২: প্রমাণভিত্তিক বক্তব্যের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা জরুরি। অভিযোগের সঙ্গে দলিল যুক্ত হলে ভাষা নয়, তথ্য আলোচনার কেন্দ্রে আসে।
৩: স্বাধীন তথ্য যাচাই কাঠামো শক্তিশালী করা দরকার, যাতে গুজব ও বিকৃত বক্তব্য দ্রুত সংশোধিত হয়।
৪: নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য রাজনৈতিক যোগাযোগ ও নৈতিক ভাষা ব্যবহারের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
৫: সমালোচনার পাশাপাশি লিখিত নীতিপত্র ও বাস্তবায়ন রূপরেখা প্রকাশ করতে হবে।

সংসদে নতুন মানদণ্ডের প্রত্যাশা

জাতীয় সংসদে নীতিগত আলোচনার যে ঘাটতি প্রায়ই দেখা যায়, সেখানে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর মতো নেতার উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। তবে সংসদীয় রাজনীতিতে কার্যকর হতে হলে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি:

  • জবাবদিহিমূলক বিতর্কের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা।
  • আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে সুস্পষ্ট আলোচনা।
  • তরুণ প্রজন্মকে দেখানো যে রাজনীতি সৃজনশীল, নীতিনির্ভর এবং মানুষের কল্যাণমুখী হতে পারে।

তার বক্তব্যে যে বার্তাগুলো ধারাবাহিকভাবে উঠে আসে তা হলো তোষামোদ নয়, জবাবদিহি; আইন প্রয়োগই রাষ্ট্রের শক্তি; দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীনতা; নাগরিক সাহসের চর্চা। এই বার্তা যদি কেবল বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ না থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় রূপ পায়, তবে তা রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।

নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীকে ঘিরে বিতর্ক আসলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরীক্ষা। সে একই সঙ্গে আশার প্রতীক, বিতর্কের কেন্দ্র এবং সম্ভাব্য সংস্কারক। তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাহসকে কৌশলে রূপান্তর করা, ভাষাকে নীতিতে রূপান্তর করা এবং আবেগকে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনে রূপান্তর করা।

আজ বাংলাদেশের রাজনীতি একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। জনগণ ক্লান্ত প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তিতে, ক্লান্ত তোষামোদে, ক্লান্ত গুজবনির্ভর চরিত্রহননে। তারা এমন রাজনীতি দেখতে চায় যেখানে যোগ্যতা সম্মান পায়, সৃজনশীলতা মূল্য পায় এবং জবাবদিহি বাধ্যতামূলক হয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আমরা প্রায়ই দেখেছি যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে রাজনীতি আমলাতন্ত্রের কাছে হার মেনেছে। যোগ্য, ত্যাগী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাব দেশের নীতিনির্ধারণকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আসন্ন নির্বাচনের পর একটি শক্তিশালী বিরোধী দল এবং একটি ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করা গেলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারণায় যে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার আভাস মিলেছে, তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়া এখন সময়ের দাবি।

নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীকে ঘিরে বিতর্ক আসলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিপক্বতারই পরীক্ষা। তিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং এক নতুন রাজনৈতিক মানদণ্ডের সম্ভাবনা। যদি তাঁর স্পষ্টভাষিতা ও সাহসের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সংমিশ্রণ ঘটে, তবে তা নতুন প্রজন্মের কাছে এই বার্তাই দেবে যে—রাজনীতি মানে ক্ষমতা নয়, বরং মানুষের কল্যাণে নিবেদিত একটি মহান দায়িত্ব।

লেখক: রহমান মৃধা
গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মাহে রমজান

১৪৪৭ হিজরী

🔕
রোজার নিয়ত (সেহরী)
নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক...
(হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের রোজা রাখার নিয়ত করলাম...)
ইফতারের দোয়া
আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু।
(হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিযিক দিয়ে ইফতার করলাম।)
অপেক্ষা করুন...
00:00:00
সেহরী শেষ --:--
ইফতার --:--
পূর্ণ তালিকা দেখুন
Advertisement Banner

পুঁজিবাজারের সর্বশেষ

পিই রেশিও পিই রেশিও
পুঁজিবাজার16 hours ago

ডিএসইতে পিই রেশিও বেড়েছে ৩ শতাংশ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ৩ শতাংশ বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা...

পিই রেশিও পিই রেশিও
পুঁজিবাজার16 hours ago

সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে ওরিয়ন ইনফিউশন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।  AdLink...

পিই রেশিও পিই রেশিও
পুঁজিবাজার16 hours ago

সাপ্তাহিক দর পতনের শীর্ষে সাইফ পাওয়ারটেক

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাপ্তাহিক শেয়ার দর পতনের শীর্ষে উঠে এসেছে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।...

পিই রেশিও পিই রেশিও
পুঁজিবাজার16 hours ago

সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির শীর্ষে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাপ্তাহিক শেয়ার দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড । ডিএসই সূত্রে এ...

পিই রেশিও পিই রেশিও
পুঁজিবাজার1 day ago

কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজের সিইও আরিফুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে

কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম...

পিই রেশিও পিই রেশিও
পুঁজিবাজার1 day ago

ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়লো ৮ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা

দেশের শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে। এতে সপ্তাহ ব্যবধানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)...

পিই রেশিও পিই রেশিও
পুঁজিবাজার2 days ago

ব্লক মার্কেটে ৪৪ কোটি টাকার লেনদেন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে প্রধান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে মোট ২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন ব্লক মার্কেটে ৪৪...

সোশ্যাল মিডিয়া

তারিখ অনুযায়ী সংবাদ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
পিই রেশিও
জাতীয়8 hours ago

সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত

পিই রেশিও
জাতীয়9 hours ago

৫ সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ

পিই রেশিও
কর্পোরেট সংবাদ9 hours ago

নগদে রেমিটেন্স নিয়ে স্বর্ণের হার জিতলেন ফরিদপুরের বন্যা খাতুন

পিই রেশিও
জাতীয়10 hours ago

গার্মেন্টসে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার অনুরোধ ডিএমপির

পিই রেশিও
জাতীয়10 hours ago

গণপরিবহন পাবে পর্যাপ্ত তেল, উঠে যাচ্ছে রেশনিং পদ্ধতি

পিই রেশিও
গণমাধ্যম10 hours ago

কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

পিই রেশিও
অর্থনীতি12 hours ago

১৬টি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে, আরও তিনটি আসছে

পিই রেশিও
জাতীয়12 hours ago

অতিরিক্ত ভাড়া ও টিকিট কালোবাজারি বন্ধে তদারকি করা হবে: ডিএমপি

পিই রেশিও
টেলিকম ও প্রযুক্তি12 hours ago

এআই চ্যাটবটের সামাজিক মাধ্যম ‘মোল্টবুক’ কিনে নিল মেটা

পিই রেশিও
আন্তর্জাতিক12 hours ago

ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে রওনা দিয়েছে ২৫০০ মার্কিন সেনা

পিই রেশিও
জাতীয়8 hours ago

সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত

পিই রেশিও
জাতীয়9 hours ago

৫ সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ

পিই রেশিও
কর্পোরেট সংবাদ9 hours ago

নগদে রেমিটেন্স নিয়ে স্বর্ণের হার জিতলেন ফরিদপুরের বন্যা খাতুন

পিই রেশিও
জাতীয়10 hours ago

গার্মেন্টসে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার অনুরোধ ডিএমপির

পিই রেশিও
জাতীয়10 hours ago

গণপরিবহন পাবে পর্যাপ্ত তেল, উঠে যাচ্ছে রেশনিং পদ্ধতি

পিই রেশিও
গণমাধ্যম10 hours ago

কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

পিই রেশিও
অর্থনীতি12 hours ago

১৬টি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে, আরও তিনটি আসছে

পিই রেশিও
জাতীয়12 hours ago

অতিরিক্ত ভাড়া ও টিকিট কালোবাজারি বন্ধে তদারকি করা হবে: ডিএমপি

পিই রেশিও
টেলিকম ও প্রযুক্তি12 hours ago

এআই চ্যাটবটের সামাজিক মাধ্যম ‘মোল্টবুক’ কিনে নিল মেটা

পিই রেশিও
আন্তর্জাতিক12 hours ago

ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে রওনা দিয়েছে ২৫০০ মার্কিন সেনা

পিই রেশিও
জাতীয়8 hours ago

সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত

পিই রেশিও
জাতীয়9 hours ago

৫ সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ

পিই রেশিও
কর্পোরেট সংবাদ9 hours ago

নগদে রেমিটেন্স নিয়ে স্বর্ণের হার জিতলেন ফরিদপুরের বন্যা খাতুন

পিই রেশিও
জাতীয়10 hours ago

গার্মেন্টসে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার অনুরোধ ডিএমপির

পিই রেশিও
জাতীয়10 hours ago

গণপরিবহন পাবে পর্যাপ্ত তেল, উঠে যাচ্ছে রেশনিং পদ্ধতি

পিই রেশিও
গণমাধ্যম10 hours ago

কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

পিই রেশিও
অর্থনীতি12 hours ago

১৬টি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে, আরও তিনটি আসছে

পিই রেশিও
জাতীয়12 hours ago

অতিরিক্ত ভাড়া ও টিকিট কালোবাজারি বন্ধে তদারকি করা হবে: ডিএমপি

পিই রেশিও
টেলিকম ও প্রযুক্তি12 hours ago

এআই চ্যাটবটের সামাজিক মাধ্যম ‘মোল্টবুক’ কিনে নিল মেটা

পিই রেশিও
আন্তর্জাতিক12 hours ago

ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে রওনা দিয়েছে ২৫০০ মার্কিন সেনা