আন্তর্জাতিক
এক মাসে রেকর্ড ১ কোটি ১৭ লাখ মানুষের ওমরাহ পালন
চলতি এক মাসে রেকর্ডসংখ্যক মুসল্লি ওমরাহ পালন করেছেন। হিজরি বর্ষের রবিউস সানি মাসে মক্কায় ওমরাহ সম্পন্ন করেছেন ১ কোটি ১৭ লাখেরও বেশি মানুষ।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এবং মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর সাধারণ কর্তৃপক্ষের যৌথ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটি সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের উন্নত সেবা, আধুনিক অবকাঠামো ও ডিজিটাল সুবিধা এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
গাল্ফ নিউজ তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বিপুল সংখ্যক ওমরাহ যাত্রীর মধ্যে দেড় মিলিয়নের (১৫ লাখের) বেশি মুসল্লি এসেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দেশ থেকে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে ওমরাহ ও হজ ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে সৌদি সরকার। বিশেষ করে ডিজিটাল ভিসা, অনলাইন নিবন্ধন, স্মার্ট ট্রান্সপোর্ট ও নতুন অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে ওমরাহ যাত্রায় আগের তুলনায় অংশগ্রহণ বেড়েছে কয়েকগুণ।
সৌদি সরকারের ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে এই সেবার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য দুই পবিত্র মসজিদে পৌঁছানো আরও সহজ করা এবং তাদের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। এতে শুরু থেকে যাত্রা শেষ হওয়া পর্যন্ত মুসল্লিদের নিরাপত্তা, আরাম ও মানসিক প্রশান্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডিজিটাল টুল ও সমন্বিত লজিস্টিক সেবার কারণে এখন ওমরাহ যাত্রা আগের চেয়ে অনেক সহজ ও আরামদায়ক হয়েছে। বিদেশি মুসল্লিরা অনলাইনে আবেদন, বুকিং ও যাত্রা-সংক্রান্ত কার্যক্রম সহজেই সম্পন্ন করতে পারছেন, ফলে শান্তিদায়ক পরিবেশে সহজেই ইবাদত করতে পারছেন।
আন্তর্জাতিক
ইরানে অভিযান চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সফল করতে চার সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘ডেইলি মেইল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এটি শুরু থেকেই একটি চার সপ্তাহের প্রক্রিয়া হিসেবে ধরা হয়েছে। আমরা হিসেব করে দেখেছি যে এটি চার সপ্তাহ বা তার কাছাকাছি সময় নেবে।’
অভিযানের ব্যাপ্তি নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আক্রমণ যত শক্তিশালীই হোক না কেন, ইরান একটি বড় দেশ। তাই এটি সম্পন্ন করতে চার সপ্তাহ—বা তার কম সময় লাগবে।’
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, তিনি এখনও ইরানিদের সাথে আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। তবে সেই আলোচনা ‘শিগগিরই’ হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
ট্রাম্প বলেন, আমি জানি না। তারা কথা বলতে চায়, কিন্তু আমি বলেছি— ‘তোমাদের গত সপ্তাহে কথা বলা উচিত ছিল, এই সপ্তাহে নয়।’
আরও মার্কিন প্রাণহানির আশঙ্কা ট্রাম্পের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানে আরও মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না। রোববার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে পূর্ণ শক্তিতে অভিযান চলছে এবং আমাদের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্যগুলো অত্যন্ত সুদৃঢ়।’
তবে সেই লক্ষ্যগুলো আসলে কী, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কর্তৃক তিন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর ট্রাম্প বলেন, পুরো জাতি আজ শোকাহত। তিনি বলেন, ‘একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে তারা দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদের এই মহান আত্মত্যাগের মিশন আমরা সফল করবই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত এই লড়াই শেষ হওয়ার আগে হয়তো আরও প্রাণহানি ঘটবে। পরিস্থিতিটাই এমন। তবে আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করছি যাতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।’
ইরানের সামরিক কমান্ডসহ শত শত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি
ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক হামলায় ইরানের শত শত লক্ষ্যবস্তু আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং দেশটির নৌবাহিনীর একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি জানান, এই হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (IRGC) স্থাপনা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের পুরো সামরিক কমান্ড এখন নিশ্চিহ্ন। তাদের সামরিক বাহিনীর অনেকেই এখন আত্মসমর্পণের পথ খুঁজছে।’
জনগণের উদযাপনের দাবি
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, খামেনির মৃত্যুর খবরে ইরানের সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দ উল্লাস করেছে। তিনি বলেন, ‘পুরো ইরান জুড়ে মানুষের উল্লাসের শব্দ শোনা গেছে।’ তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
‘অপারেশন এপিক ফিউরি’: বিশ্বের অন্যতম বড় সামরিক অভিযান
রোববার প্রকাশিত ৬ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প এই অভিযানের ব্যাপকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ৪৬ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছে, যা বিশ্বের দেখা অন্যতম বৃহত্তম, জটিল এবং বিধ্বংসী সামরিক অভিযান।’ তিনি পুরো ইরান জুড়ে একযোগে চালানো সিরিজ হামলার বিবরণ দেন।
কেন এই হামলা, ট্রাম্পের যুক্তি
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই হামলার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, কারণটি ‘খুবই সহজ’। ‘তারা তাদের পারমাণবিক গবেষণা বন্ধ করতে রাজি ছিল না। তারা এটি বলতেও রাজি ছিল না যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।’
বিরোধী বক্তব্য ও বাস্তবতা
ট্রাম্পের এই দাবি গত সপ্তাহে জেনেভায় আলোচনার আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির দেওয়া বক্তব্যের বিপরীত। আরাগচি বলেছিলেন, ‘ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার আমরা ছাড়ব না।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অভিযানের ফলাফল কী হতে পারে— এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকগুলো ভালো ফলাফল আসতে পারে। প্রধানটি হলো তাদের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করা (Decapitation) এবং এই খুনি ও গুণ্ডাদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া।’ তবে ইরান যদি আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে তবে হামলা বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে তিনি ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন। তিনি শুধু বলেছেন, ‘আমি জানি না। যদি তারা আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারে তবে আমরা ভেবে দেখব, কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা তা পারেনি।’
সূত্র : সিএনএন/আল-জাজিরা
এমএন
আন্তর্জাতিক
খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন: রুশ প্রেসিডেন্ট
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই মৃত্যুকে ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেছেন, এটি মানবিক নৈতিকতার আদর্শ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
রোববার (১ মার্চ) রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় এই মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্লাদিমির পুতিন খামেনির এই মৃত্যুকে একটি ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই ঘটনা মানবিক নৈতিকতার সমস্ত আদর্শ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
• খামেনিকে হত্যা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ড ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’। রোববার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ওই মন্তব্য করেছেন তিনি। এ সময় খামেনি হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্বজুড়ে শিয়া সম্প্রদায়ের একজন বিশিষ্ট নেতাকে এভাবে হত্যা করা… বিশ্বের সব প্রান্তের মুসলিম, বিশেষ করে শিয়াদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অধিকার ও কর্তব্য।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এই ঐতিহাসিক অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়াকে তার বৈধ দায়িত্ব এবং অধিকার বলে মনে করে।
সূত্র: এএফপি
এমএন
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি ঘাঁটিতে হামলা করা হয়েছে: ইরান রেভোল্যুশনারি গার্ড
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। গতকাল শনিবার থেকে আজ রোববার (১ মার্চ) সকাল পর্যন্ত এসব হামলা চালানো হয়।
রোববার (১ মার্চ) ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১২টিরও বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি ইসরায়েলের তেল নফ শহরে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ঘাঁটি, তেল আবিবের হাকিরিয়ায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কমান্ড হেডকোয়ার্টার এবং তেল আবিবে প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি বড় শিল্প কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের রাজাধানী মাস্কাটে সংলাপ শুরু হয় তেহরান ও ওয়াশিংটনে প্রতিনিধিদের মধ্যে। ৫ দফা আলোচনা চলার পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় শেষ হয় সংলাপ। সেদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এই সংলাপের ফলাফল নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।
সংলাপ শেষ হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই ইরানের রাজধানী তেহরানসহ ৭ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথবাহিনী। অতর্কিত এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন নিক্ষেপ শুরু করে ইরানের সেনাবাহিনী। শুরু হয় ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ।
সূত্র : আলজাজিরা
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হচ্ছেন?
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) নিহত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন— তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ আলোচনা এ পর্যন্ত উঠে এসেছ ৫ জনের নাম। এরা হলেন—
মোজতাবা খামেনি : ৫৬ বছর বয়স্ক মোজতাবা খামেনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং আধাসামরিক বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী’র ওপর তার দৃঢ় ও গভীর প্রভাব রয়েছে। তবে ইরানের শিয়া শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রক্ষমতায় পিতা-পুত্রের উত্তরাধিকারকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আরেকটি বাধা হলো— মোজতবা খামেনি খুব উচ্চ পর্যায়ের ইসলামি পণ্ডিত নন এবং এখন পর্যন্ত শাসনব্যবস্থায় তার কোনো আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নেই।
আলীরেজা আরাফি : ৬৭ বছর বয়সী আলীরেজা আরাফি ইরানে তেমন পরিচিত ব্যক্তি নন, তবে তিনি খামেনির আস্থাভাজন এবং একজন প্রতিষ্ঠিত ইসলামি পণ্ডিত। আরাফি বর্তমানে ইরানের আলেমদের পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য। এই কাউন্সিল ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের নির্বাচনে প্রার্থীদের বাছাই এবং পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইনগুলো যাচাই করে। আরাফি ইরানের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থারও প্রধান। তবে তিনি রাজনৈতিকভাবে হেভিওয়েট নন এবং সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই।
মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি : ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি একজন কট্টরপন্থি ইসলামি আলেম এবং ইরানের কেন্দ্রীয় আলেম পরিষদের সদস্য। তিনি ইরানের রক্ষণশীল আলেম-উলামাদের নেতা। ইরানের ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সমালোচক সংবাদমাধ্যম ইরান ওয়্যারের প্রতিবেদনে অনুসারে, মিরবাঘের তীব্রভাবে পশ্চিমাদের বিরোধী এবং তিনি বিশ্বাস করেন, বিশ্বাসী মুসলিম এবং অবিশ্বাসীদের মধ্যে সংঘাত অনিবার্য। বর্তমানে তিনি ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কোম এর বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির প্রধান।
হাসান খোমেনি : ৫০ বছর বয়স্ক হাসান খোমেনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের শীর্ষ নেতা এবং দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। তিনি বর্তমানে খোমেনির সমাধিসৌধের প্রধান রক্ষকের দায়িত্বে আছেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি সরকারের প্রশাসন পর্যায়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসেননি। ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরেও তার প্রভাব কম। তবে তিনি তার অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তুলনায় কম কঠোর মনোভাবের।
হাশেম হোসেইনি বুশেহরি : ষাটোর্ধ্ব হাশেম হোসেইনি বুশেহরি ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ ইসলামি পণ্ডিত এবং উত্তরাধিকার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং একই সঙ্গে ইরানের আলেম পরিষদের এক নম্বর উপ-চেয়ারম্যান। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কিন্তু সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক তেমন দৃঢ় নয়।
সূত্র : সিএনএনে
এমএন
আন্তর্জাতিক
খামেনি হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে যে বার্তা দিলো ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যায় জড়িত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
রোববার (১ মার্চ) সকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট তার অফিস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খামেনির হত্যাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এর কঠিন প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই গুরুতর অপরাধ কখনো অপ্রতিক্রিয়ায় থাকবে না এবং এটি ইসলামি বিশ্বের ও শিয়াবাদের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় খুলবে। এই মহান নেতার বিশুদ্ধ রক্ত একটি উন্মাদ স্রোতের মতো প্রবাহিত হবে এবং মার্কিন-জায়োনিস্টদের শোষণ ও অপরাধ নির্মূল করবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এইবারও আমরা আমাদের সব শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে, ইসলামি জাতি এবং বিশ্বের মুক্ত মানুষদের সমর্থন নিয়ে, এই গুরুতর অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও দায়ীদের অনুতপ্ত করে তুলব।’
পেজেশকিয়ান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটির ঘোষণাও দিয়েছেন।
এদিকে খামেনির মৃত্যুর খবর রোববার পাওয়া গেলেও তিনি হামলার শিকার হয়েছেন আগের দিন ভোরেই। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এদিন তার বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছিল সংবাদমাধ্যম বিবিসি। স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে পড়েছে। এটির চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, শনিবার ভোরে খামেনিকে তার কার্যালয়েই হত্যা করা হয়েছে। ওই সময় তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনরত ছিলেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসন ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। এক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ ছিলেন।
এমএন




