Connect with us

মত দ্বিমত

দুইবার দেশের বিজয় এনেছি, এবার কি হবে পরাজয়?

Published

on

ডিএসই

১৯৭১ – বিজয়ের অন্তর্নিহিত শিক্ষা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি রাষ্ট্রের জন্ম নয়—এটি ছিল বাঙালির আত্মমর্যাদা, আত্মপরিচয় ও মানবিক ন্যায়ের পুনর্জন্ম। সেই যুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে, যখন জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয় তখন কোনো অত্যাচার, কোনো শাসক, কোনো বাহিনীই টিকে থাকতে পারে না। স্বাধীনতার অর্থ তখন কেবল পতাকা নয়, বরং মানুষের সম্মান, অধিকার এবং জীবনের নিরাপত্তা।

২০২৪ – গণঅভ্যুত্থান ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সূচনা
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আবারও বাংলাদেশের রাস্তায় ফুটে উঠেছে প্রতিরোধের আগুন। কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল একটি অগ্নিকণিকা, যা মুহূর্তেই রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। যুবসমাজের রক্ত, ছাত্রদের সাহস এবং জনতার নির্ভীক সমর্থনেই পতন ঘটে স্বৈরাচারী সরকারের। এবারের বিজয় বন্দুক নয়—মানুষের বিশ্বাস, ঐক্য ও সত্যের শক্তিতে অর্জিত।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

রক্ত, সহিংসতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই অভ্যুত্থান ছিল রক্তাক্ত, তবুও তা ছিল ন্যায়ের পথে। শত শত প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে একটি নতুন ভোরের আশায়। সেনাবাহিনী শেষ মুহূর্তে সংযমের ভূমিকা নেয়, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে স্বীকৃতি জানায়। বিশ্ব এবার তাকিয়ে আছে—বাংলাদেশ কীভাবে নিজের ভবিষ্যৎ লিখবে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

নতুন নেতৃত্বের আবির্ভাব: ড. মুহাম্মদ ইউনূস
দেশ যখন বিশৃঙ্খলার মুখে, তখনই আবির্ভূত হন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি একদিকে আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতীক, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের আশার মুখ। তার নেতৃত্বে শুরু হয় নতুন বাংলাদেশ গঠনের পরিকল্পনা—দুর্নীতি দমন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার। তবে তাঁর সামনে আছে বড় চ্যালেঞ্জ—রাজনীতির বিষাক্ত সংস্কৃতি ও দীর্ঘদিনের পচন।

দুর্নীতি ও রাষ্ট্রযন্ত্রের পুনর্গঠন
বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র বহু বছর ধরে দুর্নীতি ও অনিয়মে আক্রান্ত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো—একটি স্বাধীন ও কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, এবং সরকারি প্রশাসনে প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা। যে রাষ্ট্র নিজের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে না, সে রাষ্ট্র কোনোদিনই সত্যিকারের স্বাধীন নয়।

ভারতের ভূমিকা ও আঞ্চলিক বাস্তবতা
ভারত সবসময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে আগ্রহী এক প্রতিবেশী। ২০২৪–এর পর ভারতের অবস্থানও নীরব পর্যবেক্ষক থেকে কৌশলগত সহযাত্রীতে রূপ নিতে পারে। তবে বাংলাদেশের উচিত নিজস্ব স্বার্থ ও সার্বভৌম নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া—বন্ধুত্ব বজায় রেখে নির্ভরশীলতা নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করা।

আমেরিকার ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে সমর্থন জানালেও বাস্তবতা হলো—তাদের স্বার্থও নীতির অন্তরালে লুকিয়ে থাকে। মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা তাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকলেও বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের অবস্থান ধরে রাখা। অন্ধ অনুকরণ নয়—দৃঢ় কূটনৈতিক ভারসাম্যই এখন সময়ের দাবি।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: নতুন রাষ্ট্রচিন্তার তিন দিক
একটি জাতি এখন মোড় ঘুরিয়েছে। সামনে তিনটি পথ—

প্রথমত, সংস্কার, ন্যায়বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক ভারসাম্য রক্ষা করে সীমিত পরিবর্তনের বাস্তবমুখী পথ। তৃতীয়ত, বিভাজন ও অনৈক্যের কারণে আবারও অচলাবস্থায় পতন।

কোন পথ বেছে নেবে বাংলাদেশ—এটাই আজকের মূল প্রশ্ন।

রাষ্ট্রপুনর্গঠনের করণীয় ধাপ
প্রথম ৬ মাসে নাগরিক নিরাপত্তা, আইনি স্থিতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হবে। ছয়–আঠারো মাসে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। আঠারো–ছত্রিশ মাসে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বড় নীতি সংস্কার আনতে হবে। এই রোডম্যাপই হতে পারে একটি টেকসই রাষ্ট্রের ভিত্তি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: বাস্তববাদ ও মর্যাদা
ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেও বাংলাদেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশীয় অংশীদারদের সাথে সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থনির্ভর। একটি ছোট রাষ্ট্রও যদি আত্মবিশ্বাসী হয়, তবে কোনো পরাশক্তিই তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

মূল প্রশ্নগুলোর বাস্তব পর্যালোচনা
ড. ইউনূসকে সরানো মানে কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়—একটি আশা ও আস্থার প্রতীককে সরানো। বাংলাদেশ কোনো পরাশক্তির অঙ্গরাজ্য হবে না, যদি সে নিজের আত্মসম্মান ও জনগণের ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস রাখে। তরুণদের নেতৃত্ব, ন্যায়ের রাজনীতি এবং অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়বে।

সমাপ্তি: দ্বিতীয় স্বাধীনতার আহ্বান
১৯৭১ ছিল স্বাধীনতার প্রথম জন্ম, ২০২৪ তার আত্মার পুনর্জন্ম। এই দ্বিতীয় স্বাধীনতা কেবল সরকারের পরিবর্তন নয়—এটি এক মানসিক বিপ্লব, যেখানে নাগরিক নিজেই রাষ্ট্রের মালিক। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তার মানুষের সততা, সাহস ও ঐক্যের ওপর। আমরা যদি নিজেদের দায়িত্ব বুঝি, তবে এই দেশ আবারও মাথা তুলে দাঁড়াবে—সত্য, ন্যায় ও মানবতার আলোর পথে।

স্বাধীনতার অব্যাহত যাত্রা
বাংলাদেশ এখনো জন্ম নিচ্ছে— প্রতিদিন, প্রতিটি মানুষের সিদ্ধান্তে। ৭১ আমাদের দিয়েছে ভূখণ্ড, কিন্তু ২০২৪ আমাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে আত্মার আয়না। “স্বাধীনতা কোনো সমাপ্তি নয়, এটি এক অবিরাম যাত্রা। আর বাংলাদেশ সেই যাত্রায় আজ নিজের নাম, ভাষা ও আত্মাকে পুনরুদ্ধার করতে চাইছে।” আজ সময় এসেছে প্রতিটি নাগরিকের ভেতরের বাংলাদেশকে জাগিয়ে তোলার—কারণ সত্যিকারের স্বাধীনতা তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন জনগণ জেগে ওঠে রাষ্ট্র হয়ে।

রহমান মৃধা
গবেষক ও লেখক
সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
Rahman.Mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-

মত দ্বিমত

শিক্ষাব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় অনুদান হোক না একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

Published

on

ডিএসই

শিক্ষা একটি জাতির মূল ভিত্তি এবং অগ্রগতির চালিকাশক্তি। এটি কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং একটি শক্তি, যা ব্যক্তি, সমাজ এবং জাতির অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। কিন্তু বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার উদ্দেশ্য, পদ্ধতি এবং কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কেমন হওয়া উচিত?

একটি শক্তিশালী শিক্ষাব্যবস্থা কেবল চাকরি প্রদানে সক্ষম হবে না, বরং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল, মানবিক এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলবে। তাই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা হতে হবে এমন একটি কাঠামো, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করে এবং তাদের মননশীল, উদ্ভাবনী ও নৈতিক দক্ষতা বিকাশে সহায়ক হবে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

কর্মমুখী ও প্রযুক্তিমুখী শিক্ষা

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

আজকের যুগে শিক্ষা কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারবে না। প্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন সুযোগ তৈরি করছে—যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, রোবটিক্স এবং ডিজিটাল লিটারেসি। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় কর্মমুখী এবং প্রযুক্তিমুখী শিক্ষার সমন্বয় অপরিহার্য। শিক্ষার্থীদের কোডিং, রোবটিক্স এবং ডিজিটাল লিটারেসিতে পারদর্শী করে তোলা জরুরি।

ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (VR) এবং অগমেন্টেড রিয়ালিটি (AR) ব্যবহার করে পাঠদানের পদ্ধতি আরও কার্যকর ও আকর্ষণীয় করা যায়। কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে। উদাহরণ হিসেবে জার্মানি ও জাপানের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করা যেতে পারে।

শুধু কর্মমুখী নয়, প্রযুক্তি এবং মানবিক শিক্ষার ভারসাম্য নিশ্চিত করা উচিত। শিক্ষার্থীরা যেন চিন্তাশীল, সমস্যা সমাধানকারী এবং নৈতিক দিক থেকে সচেতন নাগরিক হিসেবে তৈরি হয়।

আদর্শ শিক্ষকের ভূমিকা

শিক্ষক শুধু একটি পেশা নয়, এটি মহান দায়িত্ব। একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষা বা ভালো ফলাফলের জন্য প্রস্তুত করেন না, বরং তাদের মনের গভীরে প্রভাব ফেলেন।

আমার বড় ভাই, প্রফেসর ড. মান্নান মৃধা, সুইডেনের কেটিএইচ রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক, এমন একজন আদর্শ শিক্ষকের উদাহরণ। তিনি ক্লাসে গল্পের মাধ্যমে জটিল বিষয় সহজে বোঝান। বাস্তব জীবনের উদাহরণ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের কৌতূহল বাড়ান। পরীক্ষার চাপে হতাশ না করে, সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করেন।

শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যাগুলো ও সমাধান

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও পরীক্ষার ফলাফলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। এতে সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হয়। সমাধানের জন্য প্রজেক্ট-ভিত্তিক লার্নিং এবং ক্লাসরুম-বাইন্ডারী শিক্ষা চালু করা প্রয়োজন। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যেমন প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ দেওয়া। শিক্ষকদের জন্য এআই ও ইন্টারেক্টিভ টুল ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।

স্টাডি লোন: শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

উন্নত দেশের মডেল অনুসারে, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি লোন চালু করা জরুরি। কম সুদে সহজ শর্তে লোন প্রদান শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমাবে এবং তাদের শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহ যোগাবে।

সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের মতো ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের আর্থিক স্বাধীনতা এবং সৃজনশীল কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করেছে। শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে লোন পরিশোধ করতে পারবে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের শিক্ষার উদাহরণ

  • ফিনল্যান্ড: পরীক্ষার চাপ কমিয়ে সৃজনশীলতা ও সহযোগিতার ওপর জোর।
  • জাপান: কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষার জন্য বিখ্যাত।
  • সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সব কিছুই বিনামূল্যে, দশম শ্রেণি থেকে মাসিক ভাতা ও ধারের ব্যবস্থা।

দেশের শিক্ষার নতুন কাঠামো ও দায়িত্ব

শিক্ষার মান উন্নত করতে আমাদের দেশেও প্রাথমিক স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই বিতরণ করা এবং শিক্ষার ধরণ পরিবর্তন করা দরকার। সৃজনশীল ও কার্যকর শিক্ষার জন্য কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ (on-the-job training) এবং বাস্তব জীবনের উদাহরণ ব্যবহার। মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি লোন ও আর্থিক সহায়তা। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং মনিটরিং পদ্ধতি চালু করা।

শিক্ষার্থীর সাফল্য মানেই দেশের সাফল্য। একটি সচেতন জাতির নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির উন্নয়ন শিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব।

উপসংহার: শিক্ষার ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে

যদি আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, সৃজনশীল এবং মানবিকভাবে শক্তিশালী করতে পারি, তবে আগামী প্রজন্ম শান্তিপূর্ণ, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। আমাদের উচিত শিক্ষার প্রতি গভীর মনোযোগ। প্রযুক্তি ও মানবিক গুণাবলির সমন্বয়ে একটি টেকসই ভবিষ্যতের পথ তৈরি করা। শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক ও শিক্ষাগত সমর্থন নিশ্চিত করা।

শুধু বর্তমানের চাহিদা নয়, আগামী দশ বছর পর শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা বিবেচনা করে পরিকল্পনা করা জরুরি। সৃজনশীল শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও মানসম্মত শিক্ষকতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের দৃঢ় নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ অপরিহার্য।

শিক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ হতে পারে একটি উদ্ভাবনী, সমৃদ্ধ এবং নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ জাতি। দেশের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা যদি এই দিকনির্দেশনা মেনে গড়ে তোলা হয়, তবে জাতি অর্জন করবে জ্ঞানের আলো, সক্ষম নাগরিক এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের পথ।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

চাকরি বনাম রাজনীতি: জবাবদিহিতার অভাবে গণতন্ত্রের সংকট

Published

on

ডিএসই

আধুনিক বিশ্বে একটি বিষয় স্পষ্ট, কোনো চাকরি আজীবনের নিশ্চয়তা নয়। কর্মদক্ষতা, বাজারের চাহিদা, এবং চুক্তির শর্ত, এই তিনের ওপর নির্ভর করে একজন কর্মীর অবস্থান নির্ধারিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বে বহুল পরিচিত “নিয়োগ এবং বরখাস্ত” নীতি মূলত এই বাস্তবতার প্রতিফলন। একজন কর্মী যতদিন প্রতিষ্ঠানকে মূল্য দিতে পারে, ততদিনই তার অবস্থান টিকে থাকে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই বাস্তবতা যদি কর্পোরেট জগতে প্রযোজ্য হয়, তাহলে রাজনীতিতে কেন নয়?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

রাজনৈতিক ক্ষমতা: চুক্তি আছে, জবাবদিহিতা নেই

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

গণতন্ত্রে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা জনগণের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি মূলত একটি অলিখিত “সামাজিক চুক্তি”- যেখানে জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা অর্পণ করে, আর নির্বাচিত প্রতিনিধি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়।

এই চুক্তির মৌলিক ভিত্তি হলো বিশ্বাস এবং জবাবদিহিতা। জনগণ তাদের সার্বভৌম ক্ষমতার একটি অংশ প্রতিনিধির হাতে তুলে দেয় এই প্রত্যাশায় যে সেই ক্ষমতা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে। কিন্তু যখন সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন বাস্তবে দেখা যায় না, তখন এই চুক্তির নৈতিক ভিত্তিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই পাঁচ বছর ধরে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি কার্যত একটি “নিরাপদ চাকরি” ভোগ করেন, তার পারফরম্যান্স যেমনই হোক না কেন। এখানেই মূল সমস্যা:

  • প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কোনো তাৎক্ষণিক শাস্তি নেই।
  • পারফরম্যান্স মাপার কোনো নিরপেক্ষ কাঠামো নেই।
  • জনগণের সরাসরি জবাবদিহিতা দাবি করার কার্যকর পদ্ধতি নেই।

জনগণের ভোট কি কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য, নাকি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার। ফলে গণতন্ত্র একটি “একদিনের নির্বাচন” কেন্দ্রীক ব্যবস্থায় পরিণত হয়, যেখানে বাকি সময়টুকু প্রায় সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত।

কর্পোরেট বনাম রাজনীতি: একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং কর্পোরেট চাকরির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বেশ স্পষ্ট। কর্পোরেট ক্ষেত্রে নিয়োগ মূলত চুক্তিভিত্তিক। একজন কর্মী নিয়মিতভাবে মূল্যায়িত হয়, তার পারফরম্যান্স মাপা হয় এবং যদি সে কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে চাকরি হারানোর বাস্তব পরিণতি থাকে। ফলোআপ এবং জবাবদিহিতা ধারাবাহিক।

রাজনীতিতে কিন্তু বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়োগ ভোটের মাধ্যমে হয়, কিন্তু তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের কোনও স্বচ্ছ ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া নেই। ব্যর্থতার ফলও প্রায় নেই, আর জবাবদিহিতা সীমিত। সংসদে উপস্থিতি, আইন প্রণয়নে অবদান, নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন, এসব নিয়ে নিয়মিত কোনো ফলোআপ নেই।

অর্থাৎ, যেখানে কর্পোরেট বিশ্বে কর্মীর দায়িত্ব ও ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত, সেখানে রাজনীতিতে সেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কাঠামো অনিয়ন্ত্রিত। ফলে জনগণের ক্ষমতা প্রাপ্ত প্রতিনিধির হাতে অপ্রকাশ্যভাবে চলে যায়, যা গণতন্ত্রের মূল নৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

বাংলাদেশের বাস্তবতা: সমস্যার মূল কোথায়?

  • বাংলাদেশে সমস্যাগুলো বহুমাত্রিক:
  • দলীয় নিয়ন্ত্রণ সংসদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
  • স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না।
  • নাগরিক সমাজ ও মিডিয়ার ওপর চাপ থাকে।
  • নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কোনো বাধ্যতামূলক ট্র্যাকিং নেই।

প্রতিটি নির্বাচনের আগে কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, এবং সেবার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচনের পরে এই প্রতিশ্রুতিগুলোর অগ্রগতি নিয়ে কি কোনো বাধ্যতামক, প্রকাশ্য মূল্যায়ন হয়। সংসদে উপস্থিতি, বিতর্কে অংশগ্রহণ, বা নিজ নির্বাচনী এলাকার বাস্তব উন্নয়ন, এসব কি কখনো নিয়মিতভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপিত হয়। ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রায়শই “চুক্তির বাইরে” অবস্থান করে।

আন্তর্জাতিক বাস্তবতা: কোথায় কী হচ্ছে?

রিকল ইলেকশন ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে জনগণ সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অপসারণ করতে পারে। তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে নাগরিকরা সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে এবং প্রশ্ন তুলতে পারে। উন্নত গণতন্ত্রে বিভিন্ন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এবং রিপোর্ট প্রকাশ করে।

কী করণীয়: একটি কার্যকর রাজনৈতিক রোডম্যাপ

১. নির্বাচনী ইশতেহারকে আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় আনতে হবে।
২. প্রতিটি জনপ্রতিনিধির জন্য পারফরম্যান্স সূচক নির্ধারণ করতে হবে।
৩. জনগণের হাতে সরাসরি অপসারণের ক্ষমতা দিতে হবে।
৪. স্বাধীন মূল্যায়ন কমিশন গঠন করতে হবে।
৫. ডিজিটাল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

গণতন্ত্র কেবল নির্বাচন নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং কর্মদক্ষতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আজকের বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, রাজনীতিকে “দায়বদ্ধ পেশা” হিসেবে পুনঃসংজ্ঞায়িত করা। যেখানে প্রতিশ্রুতি হবে চুক্তি, ক্ষমতা হবে দায়িত্ব, এবং জনগণ হবে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক।

এখনই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার, আপনি কি কেবল ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন, নাকি সেই ক্ষমতার জবাবদিহিতারও দাবি করবেন? কোনো জবাবদিহিতা ছাড়া গণতন্ত্র কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো হয়ে থাকবে। জাগো বাংলাদেশ জাগো।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

শত্রু কি বাইরে, নাকি ক্ষমতার ভেতরেই

Published

on

ডিএসই

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ মনোভাবের কারণে গণতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য এক বৃহৎ হুমকি এবং বিশ্বমঞ্চে এর গ্রহণযোগ্যতাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী দেশের রাজনৈতিক দলগুলো, যাদের নৈতিক অবক্ষয়, ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি দেশের ভিত্তিকে চিরস্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এ তথ্যের সত্যতা সহজেই ধরা পড়ে ইতিহাসের নানা ঘটনার মাধ্যমে। ইন্দিরা গান্ধীর পরিণতি করুণ ছিল, শত্রুর গুলিতে নয়, নিজের দেহরক্ষীর গুলিতে তার জীবন শেষ হলো।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

‎শেখ মুজিবের পিতা শেখ লুৎফর রহমানের দেহ নামাতে যে লোকটি কবরে নেমেছিল, শেখ মুজিবের মাতার মৃ’ত্যুতে যে লোকটি মাটিতে শুয়ে কান্নায় গড়াগড়ি করেছিলো, শেখ কামালের বিয়ের উকিল বাপ যে মানুষটি ছিলো! ১৯৭৫ সালের ১৪ই আগস্ট দুপুরে যে লোকটি বাসা থেকে তরকারী রান্না করে নিয়ে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে খাইয়েছিলো, তারপরের দিন ১৫ই আগষ্ট শেখ মুজিবকে যারা খুন করেছিল স্বপরিবারে, তাদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে যে লোকটি জড়িত ছিলো তার নাম খন্দকার মোশতাক।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

‎বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন, সেনাবাহিনীর ভেতরের অভ্যন্তরীণ কলহ, বদলি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার অস্থিরতার কারণে সেনাবাহিনীর একটি অংশের হাতে তিনি খুন হন, ‎হত্যাকারীরা ছিল সেনাবাহিনীর ভেতরে তার বেশ কাছের ও পরিচিত কর্মকর্তা।

‎ইতিহাসের পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায়, এক একটা সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে তাদের সব চাইতে কাছের মানুষদের হাত ধরে। সৌদি আরবের বাদশা ফয়সাল যখন তার ভাইপো’কে আলিঙ্গন করার উদ্দেশ্যে দু হাত বাড়িয়ে দিলেন, প্রতি উত্তরে হঠাৎ’ই পকেট থেকে পি’স্তল বের করে পরপর তিনটা গু’লি করে বসলেন।

‎পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৯৭৯ সালে এক বহুল বিতর্কিত মামলায় ফাঁসিতে ঝুলেন। অনেকের মতে, এটি ছিল বিচার নয়, বরং ক্ষমতার রাজনীতির নিষ্ঠুর প্রতিফলন। ‎তার কন্যা বেনজির ভুট্টো ২০০৭ সালে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। গুলি, বিস্ফোরণ এবং তদন্তের অস্পষ্টতা, সব মিলিয়ে তার মৃত্যুও আজও এক অমীমাংসিত রহস্য হয়ে আছে। ‎একই পরিবারের দুই প্রজন্ম, একজন রাষ্ট্রের হাতে, আরেকজন অদৃশ্য ষড়যন্ত্রের ছায়ায়, প্রাণ হারান। এখানেও প্রশ্ন একই থাকে, শত্রু কি বাইরে ছিল, নাকি ভেতরেই লুকিয়ে ছিল?

‎বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও সেই একই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে, ক্ষমতার পতন, প্রতিশ্রুতির ভাঙন, এবং জনগণের আস্থার সংকট। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনকালকে অনেকে একতরফা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক শাসন হিসেবে দেখেছেন, যেখানে বিরোধী কণ্ঠ দমন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে চাটুকারিতা, তোষামোদ এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।

‎অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই পরিবেশ, রাজনৈতিক আনুগত্যের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, নেতৃত্বকে ধীরে ধীরে বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় রাষ্ট্রযন্ত্রের কিছু অংশের অতিরিক্ত আনুগত্য বা নীরব সমর্থন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

‎ফলস্বরূপ, যে আস্থা ও নিয়ন্ত্রণের ওপর একটি শাসনব্যবস্থা দাঁড়িয়ে থাকে, সেটিই একসময় ভেঙে পড়ে। ইতিহাস যেমন দেখিয়েছে, ক্ষমতার চারপাশে যখন শুধুই প্রশংসা আর আনুগত্য ঘিরে ধরে, তখন পতনের বীজও ভেতরেই জন্ম নেয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে ঘিরে জনমতের মধ্যে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, তা আর কোনোভাবেই অগোচর রাখা যায় না। গণভোটে ৭০% মানুষের হ্যাঁ ভোটের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতির ভাঙন, এই সবের কারণে জনগণের মধ্যে প্রতারণার অনুভূতি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

এটি আর কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়; এটি দেশের মানুষের চোখে সরাসরি প্রতারণা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। অনেকে দেখছে, শক্তিশালী নেতা এবং তার ঘনিষ্ঠ বলয় দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সামরিক বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উসকানি ও চাটুকারিতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
জনগণের মধ্যে যে দ্বিধা ছিল, তা এখন সরাসরি প্রশ্নে এবং প্রশ্ন থেকে তীব্র ক্ষোভে রূপ নিয়েছে। প্রত্যাশা ছিল পরিবর্তনের, কিন্তু বাস্তবতায় অনেকে দেখছে প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবতার ফারাক ক্রমেই বাড়ছে।

গণভোট, সংস্কার প্রতিশ্রুতি এবং তথাকথিত নতুন রাজনৈতিক ধারার মাধ্যমে যে আস্থা তৈরি করা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে, অনেকে একে সরাসরি প্রতারণা হিসেবেও দেখছে। এটি আর উপেক্ষা করার মতো অবস্থায় নেই।

অনেকের চোখে বিষয়টি এখন ব্যক্তি বা দল নয়; বরং একটি মৌলিক প্রশ্ন, রাষ্ট্র কি সত্যিই জনগণের জন্য, নাকি ক্ষমতার জন্য একই নাটকের পুনরাবৃত্তি ঘটছে?
এই বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া আর নিছক অপেক্ষা বা হতাশায় সীমাবদ্ধ নেই; নীরব ক্ষোভ ধীরে ধীরে জমাট বাঁধছে। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এই ক্ষোভ উপেক্ষিত থাকলে তা একসময় বিস্ফোরিত হয় এবং তখন আর কোনো সতর্কবার্তা কার্যকর হয় না।

এটি একটি স্পষ্ট সতর্কসংকেত, যে কোনো ক্ষমতাসীন শক্তির জন্য। জনগণের আস্থা একবার ভেঙে গেলে, তা শুধু ভোটের ফলাফলে নয়, বাস্তবতার মাটিতেও তার জবাব চায়।

এখন কথা হলো, শত্রু কি সত্যিই বাইরে, নাকি সবচেয়ে কাছের মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে! ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, ক্ষমতার চারপাশে যখন শুধুই আনুগত্য এবং স্বার্থের রাজনীতি থাকে, তখন পতনের বীজও তার ভেতরেই জন্ম নেয়। এখন প্রশ্ন দক্ষিণ এশিয়ার গণতন্ত্র কি অগ্রগতির পথে অটল থাকবে, নাকি ক্ষমতার জন্য স্বার্থপর কৌশল ও স্বজনপ্রীতি তাকে পুনরায় পতনের দিকে ঠেলে দেবে?

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

বাংলাদেশের ইউনিয়ন নেতৃত্বের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ

Published

on

ডিএসই

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো ইউনিয়ন। এখান থেকেই রাষ্ট্রের সঙ্গে মানুষের সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হয়, এখানেই প্রতিদিন গড়ে ওঠে আস্থা কিংবা জন্ম নেয় হতাশা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক ক্ষেত্রে এই নেতৃত্ব তার দায়িত্বের গভীরতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়। ফলে উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং মানুষের প্রত্যাশার মধ্যে একটি স্পষ্ট ফাঁক থেকে যায়। এই প্রেক্ষাপটে, একটি কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক রোডম্যাপ এখন সময়ের দাবি, যা ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক পথে পরিচালিত করতে পারে।

স্থানীয় সরকার নেতৃত্ব কোনো পদ নয়, এটি একটি দায়িত্ব। ইউনিয়ন পর্যায়ের একজন নেতা কেবল নির্বাচিত প্রতিনিধি নন, তিনি মানুষের আস্থা, আশা এবং ভবিষ্যতের বাহক। বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে উন্নয়ন, ন্যায় এবং সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে হলে নেতৃত্বকে হতে হবে সৎ, সক্রিয় এবং মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এই রোডম্যাপটি এমন কিছু বাস্তবধর্মী নির্দেশনা তুলে ধরে, যা অনুসরণ করলে একজন নতুন বা আগ্রহী ইউনিয়ন নেতা তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তোলা

একজন নেতার প্রথম কাজ হলো মানুষকে জানা। ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি শ্রেণির মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনতে হবে, কৃষক, শ্রমিক, নারী, যুবক, প্রবীণ, সবার কথা। শুধু শোনা নয়, সেই সমস্যাগুলো নথিভুক্ত করা এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। মানুষ যেন অনুভব করে, তাদের কথা গুরুত্ব পাচ্ছে, এটাই নেতৃত্বের ভিত্তি।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা

নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয় স্বচ্ছতার মাধ্যমে। ইউনিয়নের বাজেট, প্রকল্প, সিদ্ধান্ত, সবকিছু জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা উচিত। যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় প্রতিনিধি, শিক্ষক, সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি এবং সাধারণ জনগণের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। ব্যক্তিগত স্বার্থকে পেছনে রেখে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শিক্ষাকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা

গ্রামের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই। প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালী করা, স্কুলের পরিবেশ উন্নত করা, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনা, এসবের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। যুবকদের জন্য কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা দরকার, যাতে তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিত করা একটি উন্নত সমাজ গঠনের অন্যতম শর্ত।

মানবিক ও সহানুভূতিশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলা

একজন নেতা কেবল প্রশাসক নন, তিনি মানুষের অভিভাবকও। ইউনিয়নের দরিদ্র, অসহায় এবং পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, এই মৌলিক বিষয়গুলোতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। মানুষের কষ্ট বোঝা এবং সেই অনুযায়ী কাজ করাই প্রকৃত নেতৃত্ব।

নৈতিকতা ও সততাকে অগ্রাধিকার দেওয়া

দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বই একটি সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কোনো অনিয়ম, পক্ষপাত বা স্বজনপ্রীতির সঙ্গে আপস করা যাবে না। একজন নেতা নিজের ভুল স্বীকার করতে জানেন, এবং তা সংশোধন করার সাহস রাখেন, এটাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলা নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা

শুধু তাৎক্ষণিক কাজ নয়, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন। ইউনিয়নের অবকাঠামো, রাস্তা, সেতু, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সবকিছু নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করতে হবে। কৃষি উন্নয়ন, সেচ ব্যবস্থা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার, এসব বিষয়েও দৃষ্টি দিতে হবে, যাতে উন্নয়ন টেকসই হয়।

তরুণদের সম্পৃক্ত করা

একটি ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণদের উপর। যুবকদের সংগঠিত করে তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করতে হবে। তাদের নতুন ধারণা ও উদ্যোগকে উৎসাহ দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন দ্রুত আসে। তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া উন্নয়ন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

নিয়মিত মূল্যায়ন ও সংশোধন

প্রতিটি উদ্যোগের ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়ন করা জরুরি। জনগণের মতামত নিয়ে কাজের অগ্রগতি যাচাই করতে হবে। যেখানে সমস্যা দেখা দেবে, সেখানে দ্রুত সংশোধন করতে হবে। একজন নেতা তার সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নেন, এটাই তার বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে।

সমাপনী ভাবনা

বাংলাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃত্ব যদি সৎ, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক হয়, তবে গ্রাম থেকেই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে ওঠা সম্ভব। মানুষ বড় কিছু চায় না। তারা চায় একজন সৎ প্রতিনিধি, যে তাদের কথা শুনবে, পাশে থাকবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা নেতৃত্বে আসতে চান, তাদের জন্য এই বার্তা স্পষ্ট, নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব। নেতৃত্ব মানে শাসন নয়, সেবা।

যদি এই নীতিগুলো অনুসরণ করা যায়, তবে বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নই হতে পারে উন্নয়ন, ন্যায় এবং মানবিকতার এক একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তবে মনে রাখতে হবে, এই লেখাটি একা বাংলাদেশের সমস্যার সমাধান করবে না। কিন্তু যদি প্রস্তাবনায় যে দিকনির্দেশনা আছে, তা সত্যিকার অর্থে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে এটি একটি শক্তিশালী শুরু হতে পারে।

কারণ সমস্যা কেবল নীতির অভাব নয়, বরং প্রয়োগের ঘাটতি, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, জবাবদিহির দুর্বলতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার। আমি যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছি, যেমন মানুষের সঙ্গে সংযোগ, স্বচ্ছতা, শিক্ষা, নৈতিকতা, তরুণদের সম্পৃক্ততা, এসবই মূল সমস্যার কেন্দ্রে আঘাত করে। তাই এগুলো প্রাসঙ্গিক, বাস্তবধর্মী এবং প্রয়োজনীয়। তবে এখানে তিনটি শর্ত আছে:

প্রথমত, রাজনৈতিক সদিচ্ছা
শুধু কাগজে নয়, বাস্তবে যদি কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত এই নীতিগুলো মানার ইচ্ছা থাকে, তবেই পরিবর্তন সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োগ
এই ধারণাগুলোকে নিয়ম, প্রক্রিয়া এবং বাধ্যতামূলক কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। না হলে এগুলো পরামর্শ হিসেবেই থেকে যাবে।

তৃতীয়ত, নাগরিক চাপ ও অংশগ্রহণ
মানুষ যদি নিজের অধিকার দাবি না করে, তাহলে কোনো ভালো নীতিও কার্যকর হয় না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, তোমার লেখাটি সমস্যার “সমাধান” না, বরং “সমাধানের পথনকশা”।

এটি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি শুরু হতে পারে। আর বাংলাদেশের বাস্তবতায়, অনেক বড় পরিবর্তনই নিচু স্তর থেকে শুরু হয়েছে।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

ভয়কে জয় করে এআই বিলিয়নিয়ার

Published

on

ডিএসই

জোয়েল হেলারমার্ক ছোটবেলা থেকেই জীবনকে সীমিত ভাবেননি। মৃত্যুর ভয় তাকে তাড়িত করেছে, কিন্তু সেই চাপই তাকে এআই-এর জগতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ২৯ বছর বয়সের মধ্যেই তিনি নিজের স্টার্টআপ সানা বিক্রি করে বিলিয়নিয়ার হয়েছেন।

২৯ বছর বয়সী জোয়েল হেলারমার্ক এআই বিপ্লবের প্রথম প্রজন্মের সফল উদ্যোক্তাদের একজন। গত বছর তিনি তার প্রতিষ্ঠানকে একটি আমেরিকান সফটওয়্যার কোম্পানির কাছে বিক্রি করে বিলিয়নিয়ার হন।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

গত গ্রীষ্মে এক পারিবারিক ডিনারের সময় তিনি হঠাৎ ভিডিও কলে যোগ দিতে অতিথি কক্ষে চলে যান। পশ্চিম উপকূলে বাবা-মায়ের গ্রামীণ বাড়িতে মেঝেতে বসে ল্যাপটপ খুলে কল শুরু করেন। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক Workday-এর সিইও Carl Eschenbach ছিলেন কলের অন্য প্রান্তে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

জোয়েল ভেবেছিলেন, এটি হয়তো বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনা। কিন্তু তার বদলে আসে পুরো কোম্পানি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব। একটি বড় সফটওয়্যার কোম্পানির সিইও আমাকে মেঝেতে বসে থাকা অবস্থায় কিনতে প্রস্তাব দিচ্ছেন, এটি সত্যিই এক চমকপ্রদ মুহূর্ত ছিল বলেন তিনি।

প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি ঘরে ফিরে এসে পরিবারের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করেন। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, যদিও প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে অন্যান্য শেয়ারহোল্ডার ও কর্মীদের সঙ্গে আরও কাজ বাকি ছিল।

জোয়েল বলেন, পরিবারের জন্য এটি ছিল এক বড় বিস্ময়, তবে আমাদের জন্য এটি একটি পূর্ণতার মুহূর্ত । তার সঙ্গে ছিলেন বাবা অ্যান্ডার্স, মা সেসিলিয়া, বান্ধবী আনা, বড় ভাই হ্যাম্পাস এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য। শ্যাম্পেন খুলে তারা সাফল্য উদযাপন করেন।

শৈশব ও গড়ে ওঠা

জোয়েল জন্মগ্রহণ করেন মালয়েশিয়ায় এবং শৈশব কাটে টোকিওতে। তার বাবা ছিলেন কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার এবং মা IBM-এ অতিথি গবেষক হিসেবে কাজ করতেন।

আমার বাবা-মা অত্যন্ত কৌতূহলী ছিলেন এবং কখনো আমাকে সীমাবদ্ধ করেননি। ঘরে শেখার আগ্রহকে সবকিছুর ওপরে গুরুত্ব দেওয়া হতো। সাত বছর বয়সে পরিবার স্টকহোমে চলে আসে। লিডিঙ্গোতে নিজের ঘরে বসেই তিনি প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করেন এবং Stanford University-এর মেশিন লার্নিং কোর্স অনুসরণ করতেন।

কখনো নিউরোসায়েন্স, কখনো দর্শন, আবার কখনো প্রোগ্রামিং—এআই এই সবকিছুর সংমিশ্রণ। তিনি Leonardo da Vinci, Richard Hamming এবং Buckminster Fuller-এর জীবনী পড়তেন, যা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

আমি পড়েছিলাম, Albert Einstein এবং Isaac Newton তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন তরুণ বয়সে। তখন থেকেই মনে হতো, সময়মতো কিছু অর্থবহ করতে না পারলে পিছিয়ে পড়ব। তিনি ছোটবেলা থেকেই জীবনের অস্থায়িত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। আমি ভয় পাই এমন কিছু না করে মারা যাওয়ার। তাই সময়কে অর্থবহ কাজে ব্যবহার করতে চাই।

সানা এবং এআই যাত্রা

২০১৬ সালে জোয়েল ও আনা মিলে সানা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে এটি ছিল একটি এআই-চালিত শিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম, পরে এটি কর্পোরেট প্রশিক্ষণ ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী টুলে পরিণত হয়।

বর্তমানে সানার কর্মীসংখ্যা প্রায় ৩০০, যার অর্ধেক স্টকহোমে। লন্ডন ও নিউ ইয়র্কেও তাদের কার্যক্রম রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানের আয় ছিল ৯৬ মিলিয়ন ক্রোন, তবে ক্ষতি ছিল ১৬১ মিলিয়ন।

জোয়েল মনে করেন, আগামী দুই বছর এআই খাতে নেতৃত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা যদি আমাদের শক্তিতে মনোনিবেশ করি এবং অংশীদাররা সঠিকভাবে বিতরণে কাজ করে, তাহলে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে।

কর্মসংস্কৃতি ও দৃষ্টিভঙ্গি

জোয়েল প্রচলিত ৯টা-৫টা কর্মসংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নন। তার মতে, সেরা টিমগুলো ছোট, নিবেদিত এবং গভীর মনোযোগী। যদি আপনি আপনার কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে না করেন, তাহলে এটি আপনার জন্য নয়। আমরা এমন মানুষ চাই, যাদের মধ্যে আগুন আছে।

সানা বিক্রির পরও তিনি সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং আগের চেয়েও বেশি মনোযোগী। আমি এখন আরও বেশি ভাবি, কীভাবে নিজেকে উন্নত করা যায় এবং আরও কার্যকর হওয়া যায়। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে সানা বিক্রি হয় Workday-এর কাছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ক্রোনে। তার ব্যক্তিগত আয় দাঁড়ায় দুই বিলিয়ন ক্রোনেরও বেশি।

নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষা

সুইডেনে এমন ঘটনা অস্বাভাবিক নয়, তবে প্রতিটি গল্পই নতুন অনুপ্রেরণা তৈরি করে। প্রযুক্তির এই সময়ে এআই শুধু একটি ধারণা নয়, এটি ভবিষ্যৎ গঠনের হাতিয়ার। জোয়েলের গল্প আমাদের কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে শেখায়,

  • ছোটবেলা থেকেই কৌতূহল লালন করা জরুরি
  • অর্থবহ কাজে সময় বিনিয়োগ করা উচিত
  • ধৈর্য ও অধ্যবসায় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি
  • ভয়কে এড়িয়ে নয়, তাকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে হয়

বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্বে নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

পুঁজিবাজারের সর্বশেষ

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার1 day ago

চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে ডিএসই-সিইএবি বৈঠক, যৌথ সহযোগিতায় জোর

চীনা কোম্পানিগুলোর সংগঠন চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (সিইএবি)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার1 day ago

বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর গনি

আর্থিক খাতে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব এবং প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর গনি কূটনৈতিক যোগাযোগ শক্তিশালী করা, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার2 days ago

ব্লক মার্কেটে লেনদেন ২৮ কোটি টাকার

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে মোট ৩৯টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন ব্লক মার্কেটে ২৮ কোটি...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার2 days ago

দরপতনের শীর্ষে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার2 days ago

দর বৃদ্ধি শীর্ষে বেঙ্গল উইন্ডসোর

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯০টি কোম্পানির মধ্যে ৭০টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে।...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার2 days ago

লেনদেনের শীর্ষে খান ব্রাদার্স

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে খান ব্রাদার্স পি.পি. ওভেন ব্যাগ...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার2 days ago

সূচকের পতনে সপ্তাহ শেষ, কমেছে লেনদেন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের নেতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শেষে হয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনে...

সোশ্যাল মিডিয়া

তারিখ অনুযায়ী সংবাদ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০  
ডিএসই
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার11 hours ago

এইচএসসির শিক্ষার্থীরা পাবেন প্রধানমন্ত্রী ট্রাস্টের বৃত্তি, আবেদন যেভাবে

ডিএসই
আবহাওয়া11 hours ago

ঢাকাসহ ৫ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস

ডিএসই
জাতীয়11 hours ago

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি বাংলাদেশি জাহাজ

ডিএসই
অর্থনীতি12 hours ago

গ্রামীণ ব্যাংক সংশোধন বিল সংসদে পাস

ডিএসই
আন্তর্জাতিক12 hours ago

প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউতে রাষ্ট্রদূত করল ভারত

ডিএসই
অর্থনীতি12 hours ago

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

ডিএসই
জাতীয়12 hours ago

ফুয়েল পাস চালু, নিবন্ধন করবেন যেভাবে

ডিএসই
আন্তর্জাতিক13 hours ago

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন পুতিন

ডিএসই
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার13 hours ago

‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল-২০২৬’ বিল পাস

ডিএসই
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার13 hours ago

উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া

ডিএসই
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার11 hours ago

এইচএসসির শিক্ষার্থীরা পাবেন প্রধানমন্ত্রী ট্রাস্টের বৃত্তি, আবেদন যেভাবে

ডিএসই
আবহাওয়া11 hours ago

ঢাকাসহ ৫ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস

ডিএসই
জাতীয়11 hours ago

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি বাংলাদেশি জাহাজ

ডিএসই
অর্থনীতি12 hours ago

গ্রামীণ ব্যাংক সংশোধন বিল সংসদে পাস

ডিএসই
আন্তর্জাতিক12 hours ago

প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউতে রাষ্ট্রদূত করল ভারত

ডিএসই
অর্থনীতি12 hours ago

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

ডিএসই
জাতীয়12 hours ago

ফুয়েল পাস চালু, নিবন্ধন করবেন যেভাবে

ডিএসই
আন্তর্জাতিক13 hours ago

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন পুতিন

ডিএসই
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার13 hours ago

‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল-২০২৬’ বিল পাস

ডিএসই
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার13 hours ago

উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া

ডিএসই
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার11 hours ago

এইচএসসির শিক্ষার্থীরা পাবেন প্রধানমন্ত্রী ট্রাস্টের বৃত্তি, আবেদন যেভাবে

ডিএসই
আবহাওয়া11 hours ago

ঢাকাসহ ৫ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস

ডিএসই
জাতীয়11 hours ago

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি বাংলাদেশি জাহাজ

ডিএসই
অর্থনীতি12 hours ago

গ্রামীণ ব্যাংক সংশোধন বিল সংসদে পাস

ডিএসই
আন্তর্জাতিক12 hours ago

প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউতে রাষ্ট্রদূত করল ভারত

ডিএসই
অর্থনীতি12 hours ago

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

ডিএসই
জাতীয়12 hours ago

ফুয়েল পাস চালু, নিবন্ধন করবেন যেভাবে

ডিএসই
আন্তর্জাতিক13 hours ago

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন পুতিন

ডিএসই
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার13 hours ago

‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল-২০২৬’ বিল পাস

ডিএসই
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার13 hours ago

উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া