অর্থনীতি
শীতের সবজিতে স্বস্তি, কমেছে ডিম-মুরগির দাম
পুরোদমে শীতের আবহ এখনো তৈরি না হলেও এরইমধ্যে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে শীতকালীন শাক-সবজির। যে কারণে গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দামে স্বস্তি ফিরেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কমতে শুরু করেছে ডিমের দামও। তবে তেল, চিনি, লবণের দামে তেমন হেরফের দেখা যায়নি।
বিক্রেতারা বলছেন, অধিক লাভের আশায় কৃষকরা এখন আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে থাকেন। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। এতে মৌসুমের শুরু থেকেই আসতে শুরু করেছে হরেক রকম শীতের সবজি। এতে গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সব ধরনের সবজির দাম কমেছে।
রাজধানীর তালতলা, মালিবাগ ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
এসব বাজারে শিম কেজি প্রতি ১২০-১৪০ টাকা, মুলা ৬০-৮০ টাকা, মানভেদে বাজারে এক একটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এসব কপির আকার ছোট। লাউয়ের ক্ষেত্রেও তা-ই। আকার ও মানভেদে প্রতিটি লাউয়ের দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকা।
এদিকে ক্রেতারা বলছেন, এসব ফুলকপি, বাঁধাকপি আকারের তুলনায় কিছুটা খরুচে হলেও বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। যে কারণে টানা কয়েক মাস ধরে সবজির দামের যে তেজিভাব ছিল, সেটা কমতে শুরু করেছে।
কিছু পদের শীতের সবজি কিনে এনামুল হোসেন নামের একজন ক্রেতা বলেন, নতুন সবজি একটু দাম বেশি হলেও কিনতে ইচ্ছে করে। তবে এখন দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কম। কারণ গত সপ্তাহে ২০০ টাকা কেজিতে শিম কিনেছি, আজ কিনলাম ১২০ টাকা কেজি দরে। মুলা ও কপির দামও প্রায় ২০ টাকা কম নিল।
বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতাদের আকর্ষণ এখন শীতের সবজির ওপর। দিন যত যাবে শীতের সবজিসহ অন্যান্য সবজির দামও কমে আসবে। ১-২ সপ্তাহের মধ্যে এসব সবজির সরবরাহ বেড়ে যাবে।
এদিকে বাজারে গরমের সময়কার সবজিগুলোর দামও অল্প অল্প করে কমতে শুরু করেছে শীতের সবজির সরবরাহ থাকায়। এর মধ্যে মান ও বাজারভেদে প্রতি কেজি লম্বা বেগুণ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে। যদিও গোল বেগুণ বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকার মধ্যে, যা সপ্তাহ দুয়েক আগেও ১৫০ টাকায় উঠেছিল।
এছাড়া চিচিঙ্গা, করলা, ঝিঙ্গা, ধুন্দল, পটল বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকার মধ্যে। পেপে ৩০-৩৫ টাকা। তবে বরবটি আগের মতই ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, আলুর দামও বরাবরের মতোই কম, প্রতি কেজি মিলছে ২৫-৩০ টাকায়। আর পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত।
এদিকে, ঢাকার বাজারে গত সপ্তাহে হুট করেই ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়ে গিয়েছিল, তা এখন কমতে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও সেটি আবারও ১৪০ টাকায় এসেছে। যদিও পাড়া-মহল্লার কিছু দোকানে এখনো ১৫০ টাকায় ডিম বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মুদি পণ্যের বাজারে তেল, চিনি, লবণের দামে তেমন কোনো হেরফের দেখা যায়নি।
অর্থনীতি
ট্রেজারি বন্ড জামানত রেখে নেয়া যাবে ঋণ, ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা
গ্রাহকদের ট্রেজারি বন্ড জামানত রেখে ঋণ দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে ব্যাংকগুলো। তবে এ ধরনের ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি)-১ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে।
এতে বলা হয়, লিয়েনকৃত সরকারি বন্ডকে যোগ্য জামানত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে গ্রাহকদের ঋণ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে ব্যাংকগুলো। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আসায় এ ধরনের ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে গ্রাহকদের ওভারড্রাফট বা মেয়াদি ঋণ দেয়ার আগে ব্যাংককে ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (এফএমআই) সিস্টেমে সংশ্লিষ্ট বন্ডে লিয়েন মার্ক করতে হবে।
এছাড়া বন্ডের অভিহিত মূল্য বা ফেস ভ্যালুর সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেয়া যাবে। তবে সুদসহ ঋণের মোট স্থিতি কোনো অবস্থাতেই বন্ডের অভিহিত মূল্য অতিক্রম করতে পারবে না।
ঋণের মেয়াদ কোনোভাবেই বন্ডের মেয়াদের চেয়ে বেশি হতে পারবে না। পাশাপাশি ট্রেজারি বন্ড কেনার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যাংক ঋণ দিতে পারবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নতুন এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এমএন
অর্থনীতি
আরও বাড়ল দেশের রিজার্ভ, এখন কত বিলিয়ন ডলার?
আকুর বিল পরিশোধের ধকল কাটিয়ে আবারও বাড়তে শুরু করেছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ হাজার ২৯২ দশমিক ২৭ মিলিয়ন বা ৩৪ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ১১ মার্চ পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৫৬৯ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন বা ২৯ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
এর আগে আকুর বিল পরিশোধের পর গত ৮ মার্চ পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।
এমএন
অর্থনীতি
সোনার দাম আরও বাড়লো, ভরি ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার টাকার বেশি বাড়িয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোনার দাম বাড়ানোর সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমএন
অর্থনীতি
মার্চের শুরুতেই রেমিট্যান্সের সুবাতাস, ৯ দিনেই এলো দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশি
দেশে প্রবাসী আয়ে বইছে সুবাতাস। চলতি মার্চ মাসের প্রথম ৯ দিনেই দেশে এসেছে ১৫২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার (১.৫২ বিলিয়ন)। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, চলতি মার্চের প্রথম ৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১০১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৩৯৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২২ দশমিক ৯০ শতাংশ।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে ঘিরে প্রবাসীরা দেশে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে প্রচুর পরিমাণে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এতেই বাড়ছে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলমান থাকলে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত জানুয়ারি মাসে দেশে এসেছে ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
আর গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। যা ছিল দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। গত নভেম্বরে দেশে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
এমএন
অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তির প্রভাবে রাজস্ব হারানোর শঙ্কা: সিপিডির
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির ফলে চলতি অর্থবছরেই সরকার আমদানি শুল্ক থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, এই চুক্তির প্রভাবে আমদানি শুল্ক থেকেই সরকারের প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে। পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মের কারণে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশকেও একই ধরনের সুবিধা দিতে বাধ্য হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সুপারিশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরেন সিপিডি।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ নামে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে আরও ২ হাজার ২১০ ধরনের পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হবে।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, এ কারণে চলতি অর্থবছরেই সরকার আমদানি শুল্ক থেকে প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে পারে। তিনি আরও বলেন, চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা ডব্লিউটিওর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এর ফলে ডব্লিউটিওর আওতাভুক্ত অন্যান্য সদস্য দেশও একই সুবিধা দাবি করতে পারে।
তিনি আরও জানান, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য কেনার শর্ত রয়েছে, যা সরকারের ব্যয় বাড়াতে পারে। তাই রাজস্ব আয় ও সরকারি ব্যয়ের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাণিজ্যকে ক্রমেই রাজনৈতিক ও কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ডব্লিউটিওকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, এই চুক্তির বিষয়বস্তু উন্মুক্ত করা প্রয়োজন, কারণ এতে বেশ কিছু আর্থিক ঝুঁকির উপাদান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের বড় অংশ বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করবে। তবে তাদের যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিতে উৎসাহিত করতে হয়, তাহলে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হতে পারে। অন্যথায় তারা কেন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই পণ্য আমদানি করবে— সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
বৈঠকে সিপিডি জানায়, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ। বাকি সময়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে প্রায় ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ হারে রাজস্ব আদায় করতে হবে, যা বাস্তবে কঠিন।
বর্তমানে রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলেও জানানো হয়। রাজস্ব আদায় কম থাকায় সরকারকে ব্যাংকিং খাতের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার ব্যাংক থেকে ৫৯ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক-বহির্ভূত ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
সিপিডির মতে, ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার ফলে আর্থিক খাতে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাচ্ছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সংকটের কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
সংস্থাটি জানায়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নেও ধীরগতি রয়েছে। জানুয়ারি পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ২০ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে, বিপরীতে আমদানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
সিপিডি মনে করে, আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের সময় উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ থেকে সরে আসা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর রাজস্ব সংস্কার এবং অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এছাড়া বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সংস্থাটির প্রতিনিধিরা।
এমএন




