বীমা
ন্যাশনাল লাইফের চেয়ারম্যান তোফাদল, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদা জামান
বিশিষ্ট শিল্পপতি তোফাজ্জল হোসেন ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। কোম্পানীর অন্যতম পরিচালক কাজী মাহমুদা জামান ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদের ২৮৪তম বোর্ড সভায় তাদের নির্বাচিত করা হয়।
চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন ব্যাংকিং ও বীমা সেক্টরের অন্যতম পথিকৃত ব্যক্তিত্ব এবং স্বনামধন্য শিল্প উদ্যোক্তা। ইতোপূর্বে তিনি এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড ও ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান প্রতীক সিরামিকের চেয়ারম্যান এবং গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত। তোফাজ্জল হোসেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা ও সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের সাবেক সদস্য এবং বিজিএমইএ-এর ব্যাংকিং এন্ড ফিন্যান্স কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর দাতা সদস্য, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য। লেখক, গবেষক ও আলোচক হিসেবে সমধিক পরিচিত জনাব তোফাজ্জল হোসেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ষ্ট্রাটেজিক এন্ড পীস স্টাডিজ’ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদা জামান কোম্পানীর অন্যতম উদ্যোক্তা পরিচালক ও গার্মেন্টস এবং অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত। তিনি তরঙ্গ কমপ্লেক্স, তাজ চিশতী প্রোপাটিজ এবং কানাডিয়ান সুয়েটারের পরিচালক। তিনি ব্যাংক-বীমা সেক্টরের অন্যতম উদ্যোক্তা ও ন্যাশনাল লাইফের অন্যতম উদ্যোক্তা পরিচালক বিশিষ্ট শিল্পপতি মরহুম কে এম হাবীব জামানের সহধর্মীনী। কাজী মাহমুদা জামান ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে এম. এ পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি টি এন্ড টি কলেজ ও সিটি কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার চৌড়া গ্রামের বিশিষ্ট কাজী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
কাজী মাহমুদা জামান নানাবিধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি দেশের বিভিন্নএলাকার পাশাপাশি নিজ এলাকা গাজীপুরের কালিগঞ্জের মানুষের আর্ত-সামাজিক উন্নয়নে নিবিঢ়ভাবে কাজ করছেন।
বীমা
বীমা রেগুলেশন অধ্যাদেশ ও বীমা আইন সংশোধনী পর্যালোচনায় বৈঠক, সময় চাইল বিআইএ
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘বীমাকারীর রেগুলেশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং বীমা আইন ২০১০-এর সংশোধিত খসড়া পর্যালোচনা উপলক্ষে দুটি বৈঠকের আয়োজন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। তবে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট সাইদ আহমেদ নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় নির্বাচনের পর সভা আয়োজন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটি জানায়, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টা এবং দুপুর ২টায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বীমা ও পুঁজিবাজার অনুবিভাগ) মো. সাদিক কুতুবের সভাপতিত্বে আইডিআরএ’র সম্মেলন কক্ষে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় সভাগুলো পেছানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট সাইদ আহমেদ এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হওয়ায় বর্তমানে ঢাকার বাহিরে অবস্থান করছেন। তাই সভাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় তার উপস্থিত থাকা একান্ত প্রয়োজন। এ কারণে নির্বাচনের পর সুবিধাজনক সময়ে সভা আয়োজন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বিআইএ।
এমকে
বীমা
তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক নির্বাচনে অনিয়ম, ৫ পরিচালক অপসারণের নির্দেশ
তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএসসির ২৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) অনুষ্ঠিত পরিচালক নির্বাচন সংক্রান্ত অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় অবৈধভাবে বিজয়ী ঘোষিত পাঁচজন পরিচালককে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ(আইডিআরএ)। একই সঙ্গে বিধিমালা অনুযায়ী প্রকৃতভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি আইডিআরএ’র আইন অনুবিভাগের পরিচালক মোহা. আব্দুল মজিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গত বছরের ১৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় বীমাকারীর ‘পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা ২০২৪’-এর বিধি ১১(২) লঙ্ঘন করে যথাযথভাবে ভোট গণনা না করে উদ্যোক্তা পরিচালক অংশে এবিএম কায়কোবাদ, মো. মাসুদুর রহমান ও তাহমিনা আফরোজ এবং জনসাধারণ পরিচালক অংশে জিয়া উদ্দিন পোদ্দার ও মো. সাইফুল ইসলামকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়- এমন অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য গত বছরের ২৭ আগস্ট নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মাহফেল হক অ্যান্ড কোম্পানিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে দাখিল করা প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা ২০২৪-এর বিধি ১১(২) লঙ্ঘন করে যথাযথ ভোট গণনা ছাড়াই অপেক্ষাকৃত কম ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীদের বেআইনিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বিধিমালা অনুসারে সঠিকভাবে ভোট গণনা করা হলে উদ্যোক্তা পরিচালক অংশে মোহাম্মদ মফিজউদ্দিন, ফারজানা রহমান ও আনোয়ার হোসাইন চৌধুরী এবং জনসাধারণ পরিচালক অংশে নাফিসা সালমা ও মোহাম্মদ ওসমান গণি বৈধভাবে নির্বাচিত হতেন। তবে এসব প্রার্থীকে বাদ দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে অন্যদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের বেআইনি কার্যক্রম বীমাকারীর সুশাসন, বীমা পলিসিধারক, শেয়ারহোল্ডার এবং সর্বোপরি জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। এমতাবস্থায়, বীমা আইন ২০১০-এর ধারা ৫০(১) অনুযায়ী নির্দেশক্রমে অবৈধভাবে বিজয়ী ঘোষিত উদ্যোক্তা পরিচালক অংশে এবিএম কায়কোবাদ, মো. মাসুদুর রহমান ও তাহমিনা আফরোজ এবং জনসাধারণ পরিচালক অংশে জিয়া উদ্দিন পোদ্দার ও মো. সাইফুল ইসলামকে পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক পদ থেকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে, পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা ২০২৪ অনুযায়ী প্রকৃতভাবে নির্বাচিত উদ্যোক্তা পরিচালক অংশে মোহাম্মদ মফিজউদ্দিন, ফারজানা রহমান ও আনোয়ার হোসাইন চৌধুরী এবং জনসাধারণ পরিচালক অংশে নাফিসা সালমা ও মোহাম্মদ ওসমান গণিকে আগামী ২০ কার্যদিবসের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আইডিআরএ।
কাফি
বীমা
নন-লাইফ বীমায় ব্যক্তি এজেন্ট লাইসেন্স স্থগিত, ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর
নন-লাইফ বীমা খাতে ব্যক্তি এজেন্টদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। নন-লাইফ বীমা পলিসি গ্রহণকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বীমাগ্রহীতাদের আর্থিক ক্ষতি রোধ এবং খাতটিতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইডিআরএ’র প্রশাসন বিভাগের উপসচিব ও পরিচালক আহমদ এহসান উল হান্নান স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও গণমাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।
আইডিআরএ সূত্র জানায়, কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নন-লাইফ বীমা ব্যবসায় ব্যক্তি এজেন্ট লাইসেন্স বাতিল/স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নন-লাইফ বীমা ব্যবসায় কোনো ব্যক্তি এজেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নন-লাইফ বীমা পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যক্তি এজেন্ট কমিশন বা কমিশনের নামে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা প্রদানের সুযোগ থাকবে না। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করার জন্য একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইডিআরএ মনে করে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে নন-লাইফ বীমা খাতে অনিয়ম কমবে এবং বীমা ব্যবসার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।
এমকে
বীমা
চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা, পদ্মা ইসলামী লাইফের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ
বেসরকারি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দুই শীর্ষ কর্মকর্তা ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) সাজ্জাদ হোসেন ও জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, “সম্ভব অ্যাপস” নামের একটি প্ল্যাটফর্মে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ফিক্সড বেতনের মিথ্যা আশ্বাস দেখানো হয়েছে এবং পরে বিভিন্ন অজুহাতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রতারণার শিকার তিন ব্যক্তি সোমবার (০৮ ডিসেম্বর) বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে অর্থ ফেরত ও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এসব চিঠিতে বলা হয়েছে, “সম্ভব অ্যাপস” নামের একটি অ্যাপ্লিকেশনে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে নির্ধারিত ঠিকানায় যান ভুক্তভোগীরা। সেখানে তারা জানতে পারেন, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত অফিসটি পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর প্রধান কার্যালয়- ১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, বাংলা মোটর, ঢাকা।
চিঠিতে ভুক্তভোগী নিগার সুলতানা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাজ্জাদ হোসেন এবং জেনারেল ম্যানেজার মো. জিল্লুর রহমান তাকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদে নিয়োগের আশ্বাস দেন এবং মাসিক ৪০ হাজার টাকা ফিক্সড বেতনের কথা বলেন। বিনিময়ে তারা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে দর কষাকষির মাধ্যমে নিগার সুলতানা নগদ ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা প্রদান করেন।
এতে আরও জানানো হয়, টাকা নেওয়ার পর চাকরির শর্ত পরিবর্তন করে জানানো হয়; পদটি ফিক্সড বেতনের নয়; বরং কমিশনভিত্তিক, মাসিক ১০ লাখ টাকার টার্গেট পূরণ না করলে কোনো কমিশনও প্রদান করা হবে না। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে তাকে জোরপূর্বক দুইটি জীবনবীমা পলিসি ধরিয়ে দেওয়া হয়; যা তার অনুমতি ছাড়াই তার নামে ইস্যু করা হয়েছে। উল্লেখিত দুইটি পলিসি হলো- ১. পলিসি নং: PAA-E-1423-25, মূল্য ১,৮৭,৫৩০ টাকা। ২. পলিসি নং: PAA-E-1190-25, মূল্য ৪১,২৭৫ টাকা।
একই অভিযোগ করা বাকী দুইজন হলেন- শাহনাজ পারভীন এবং নাদীয়া আক্তার। আইডিআরএ’র দেওয়া চিঠিতে শাহনাজ পারভীন বলেন, ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিলে চাকরি নিশ্চিত করা হবে এবং মাসিক ৪০ হাজার টাকা ফিক্সড বেতন দেওয়া হবে। দর কষাকষির পর চাকরির আশায় শাহনাজ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা গ্রহণের পর জিল্লুর রহমান আর কোনো নিয়োগপত্র প্রদান করেননি। বরং পরে জানান, চাকরিটি কমিশনভিত্তিক এবং বীমা পলিসি করাতে না পারলে কোনো আয় হবে না, ফিক্সড বেতনও নেই।
একইভাবে অর্থ হারিয়েছেন নাদীয়া আক্তার। তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন, ইউনিট ম্যানেজার পদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার জিল্লুর রহমান ২২ হাজার ২৬০টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের নিকট প্রদত্ত আবেদনে আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরত প্রদান ও সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
এমকে
বীমা
স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, হস্তক্ষেপে আইডিআরএ চিঠি
বেসরকারি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অব্যস্থাপনা ও বিমা আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের জন্য সাবেক মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন পদ হারানোর পরেও বিভিন্ন কৌশলে তিনি এখনো ভিন্ন ভিন্ন পদ-পদবী ব্যবহার করে কোম্পানীর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে ২০২১ সাল পরবর্তী ২০২৫ সাল পর্যন্ত কোম্পানিতে কোন প্রকার অভ্যন্তরীন অডিট হয়নি। এমনকি এজিএম, ইজিএম হয়নি। ২০১৯ সাল হতে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার সরকারী ভ্যাট, ট্যাক্স পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়াও, ২০২৩ সালের ১৭ আগষ্ট হতে মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি শূণ্য হওয়ার পর থেকে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা থাকা স্বত্ত্বেও অদ্যবধি কোন স্থায়ী মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হচ্ছে না। বর্তমানে মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কোম্পানীর দায়েরকৃত চুরির চলমান মামলার আসামী আব্দুল জব্বার কাউসারকে। এমতাবস্থায় হাজার হাজার গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষা ও সঞ্চিত আমানত ফেরতের বিষয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (০৮ ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান বারবর চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের অবলিখন ও দাবী বিভাগের ইনচার্জ ও এসভিপি মো. আলমগীর শেখ। চিঠির অনুলিপি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, কর অঞ্চল-৫ এর কমিশনার, আইডিআরএ প্রশাসন আইন ও জীবন বিমা পরিচালক, ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এবং স্বদেশ লাইফের সকল পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত মূখ্য নির্বাহীকে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জের অভিযোগ, সাবেক মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন কোম্পানির গ্রাহকের প্রিমিয়ামের ৬০ লাখ ৭০ হাজার ৭১৭ টাকা ও নিয়ম বর্হির্ভূত ভাবে গ্রহণকৃত ইনসেনটিভ বোনাস বাবদ ৪১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০৫ টাকা সহ সর্বমোট ১ কোটি ০২ লাখ ২৭ হাজার ২২২ টাকা আত্মসাৎ করেন। এই টাকা পরিশোধের জন্য বা কোম্পানী হিসাবে জমা করার জন্য বিগত ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর পত্র জারী করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই টাকা কোম্পানিতে জমা করা হয়নি। যদিও গ্রাহকের প্রিমিয়ামের টাকা তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা করার বিষয়টি তিনি নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত ভাবে স্বীকার করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে, সাবেক মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন বীমা আইন লঙ্ঘন ও বিভিন্ন অনিয়মের জন্য গত ২০২৩ সালের ১৭ আগষ্ট তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আইন উপসচিব ও পরিচালক মোহা. আব্দুল মজিদ স্বাক্ষরিক পত্র জারি করা হয়। এতে বলা হয়, তিনি স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর মূখ্য নির্বাহী হিসেবে কাজ করতে পারবেন না। প্রত্যক্ষ্য বা পরোক্ষ্য ভাবে তিনি স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত থাকবেন না বা এতে অংশ গ্রহণ করবেন না। তাছাড়া ও গত ২০২৪ সালের ১৩ জুন তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। যার প্রেক্ষিত দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি মামলা দায়ের করা হইয়াছে, যা তদন্তাধীন রয়েছে। এ নির্দেশনা থাকার পরও তিনি বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন পদ-পদবী ব্যবহার করে কোম্পানীর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। সর্বশেষ কোম্পানীর ৪৯তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি বর্তমানে আর.এস.আর.এম কোম্পানি নির্বাহী পরিচালক হিসেবে স্বর্দেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করছেন। যা সম্পূর্ণ অন্যায়। তার ছত্রছায়াই কোম্পানিতে বিভিন্ন প্রকার আর্থিক অনিয়ম হচ্ছে।
চিঠিতে এই কর্মকর্তা জানান, কোম্পানি পরিশোধিত মূলধন ও মূলধন হতে অর্জিত সুদও খরচ করা হয়েছে। কোম্পানির স্থায়ী আমানতের বিপরীতে ১৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋন গ্রহণ করেছে যা এখন পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়নি। এবিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১২ জন পরিচালককে অপসারণ করে। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোম্পানি হাইকোর্টে রীট পিটিশন ২৩৭৪/২০২৪ দায়ের করেন। হাইকোর্ট ০৬ মাসের জন্য কর্তৃপক্ষের আদেশ স্থগিত করেন। কিন্তু বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের অবহেলা কিংবা তদবীরের অভাবে এখনও পর্যন্ত মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি।
বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত থেকে জানা গেছে, কোম্পানিটি ২০১৪ সাল হতে ব্যবসা শুরু করেন। ২০১৪ সাল হতে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময় কালে যথাক্রমে ২১৯ শতাংশ, ১৪৯ শতাংশ, ১২৬ শতাংশ, ৯৪ শতাংশ, ১১৫ শতাংশ, ৪১ শতাংশ, ৪৫ শতাংশ অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছেন। তাছাড়া, ২০২১ সাল পরবর্তী ২০২৫ সাল পর্যন্ত কোম্পানিতে কোন প্রকার অভ্যন্তরীন অডিট হয়নি। এমনকি এজিএম, ইজিএম হয়নি। তাছাড়া দীর্ঘদিন যাবৎ কোম্পানীতে একজন সি.এফ.ও এবং কোম্পানির একজন সচিব নেই। বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন কর্মকর্তাকে এই দায়িত্ব সাময়িক ভাবে প্রদান করা হয়। এতে করে কোম্পানির কোন প্রকার তথ্য ভান্ডার সঠিক নেই।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানীতে গত ২০২৩ সালের ১৭ আগষ্ট হতে মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি শূণ্য হওয়ার পরও থেকে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা থাকা স্বত্ত্বেও কোন স্থায়ী মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ করছে না। একেক সময় একেক কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই পর্যন্ত ০৩ জন মূখ্য নির্বাহী (চলতি ও একজন প্রশাসক সহ মোট ০৪ জন) কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে আব্দুল জব্বার কাউসার মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তার বিরুদ্ধে কোম্পানির দায়েরকৃত চুরির মামলা সি.এম.এম আদালত, ঢাকাতে চলমান। এছাড়াও, কর্মকর্তাদের নামে ব্যাংক একাউন্ট না থাকায় এবং কোম্পানীটি অনলাইন ভিত্তিক না হওয়ায় মাঠ পর্যায় থেকে হেড অফিসের কর্মকর্তাদের বেতন, ভাতা, কমিশন বিল সহ ভাড়া ভাড়া সমস্ত লেনদেন ম্যানুয়াল সিস্টেম হওয়ার কারণে নামে, বে-নামে বিভিন্ন প্রকার বিল ভাউচার সমন্বয় করা হয়। বিভিন্ন প্রকার ইনসেনটিভ সঠিক বণ্টন না করে কিছু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থে যাকে যতটুকু দিয়ে ম্যানেজ করতে পারে তাকে এই দেওয়া হয়। আবার অনেককে কিছুই দেওয়া হয় না। প্রতিবাদ করিলে চাকুরী থাকবে না বলে ভয় দেখানো হয় এবং সংগঠন বিচ্যুতি ঘটানোর ফলে অনেকে কোন প্রতিবাদ করেন না।
কোম্পানী ২০১৯ সাল হতে অদ্য পর্যন্ত কোন প্রকার সরকারী ভ্যাট, ট্যাক্স পরিশোধ করেন নাই। কোম্পানীতে কর্মরত কর্মকর্তাকে তাদের বেতন হতে কর্তনকৃত ভ্যাট, ট্যাক্স এর বৈতনিক সনদ প্রদান করেননি বলে চিঠিতে জানান এই কর্মকর্তা।
প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ গুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চেয়েছে এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, কোম্পানি সাবেক এই মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা তার অন্যায় হস্তক্ষেপ ও আর্থিক দুর্নীতি দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য কোম্পানির সকল অন্যায় ও দুর্নীতির মূল সহযোগী উন্নয়ন প্রশাসন এইচ আর এডমিন মো. সাজিদ হোসেন ও কোম্পানির সচিব তাকে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে পদোন্নতি দিয়ে বর্তমানে তাকে এডিশনাল এমডি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আগামী দিনে তাকে মূখ্য নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে সাবেক মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতিয়ার উদ্দিন শাহীন তার অন্যায় কার্যক্রম দীর্ঘায়ু করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা করছেন। এমতাবস্থায় কোম্পানীর সুশান প্রতিষ্ঠা ও গ্রহাকের স্বার্থ সুরক্ষায় সাবেক এই কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপ কোম্পানির জন্য এবং কোম্পানির গ্রাহকের জন্য অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ।
এসএম



