আন্তর্জাতিক
গাজা চুক্তি ‘বিশ্বের জন্য একটি দুর্দান্ত দিন’: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, মিসরে সম্পন্ন হওয়া গাজার ‘জিম্মি মুক্তি বিনিময়ে যুদ্ধবিরতি’ চুক্তির দিনটি ‘বিশ্বের জন্য এক মহান দিন’।
রয়টার্সের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে পুরো বিশ্ব এক হয়েছে। ইসরায়েলসহ সব দেশ একসঙ্গে এসেছে। আজকের দিনটি অসাধারণ।
ট্রাম্প আরও বলেন, এটা বিশ্বের জন্য এক মহান দিন। এটা সবার জন্য এক দারুণ ও আনন্দের দিন।
এদিকে আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করা ও জিম্মি মুক্তি নিয়ে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে ২০ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, সেটির প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়নে একমত হয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসরায়েল।
এ বিষয়ে গতকাল নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে ইসরায়েল ও হামাস—উভয়ই আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়নে রাজি হয়েছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও লেখেন, খুব শিগগির সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ইসরায়েল নিজেদের সেনাদের নির্ধারণ করা একটি সীমানায় সরিয়ে আনবে।
এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মিসরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় আলোচকেরা একটি চূড়ান্ত চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছেছেন। চুক্তি হলে সেটার ঘোষণা দেওয়ার জন্য মিসরে যাবেন তিনি।
এরপর হোয়াইট হাউস জানায়, ওয়াশিংটনের ওয়াল্টার রিড মেডিকেল সেন্টারে আগামীকাল শুক্রবার সকালে পূর্বনির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেবেন ট্রাম্প। এরপর তিনি মিসরে যেতে পারেন। সেটা আগামী শনি কিংবা রোববার হতে পারে।
যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে দুই পক্ষ সম্মত হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এটা ‘ইসরায়েলের জন্য একটি দারুণ দিন।’
আজ বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা এ পরিকল্পনার অনুমোদন দিতে পারে। ইতিমধ্যে নেতানিয়াহু নেসেটে (ইসরায়েলের পার্লামেন্ট) ভাষণ দিতে ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
গত মাসে ট্রাম্প গাজা নিয়ে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ইসরায়েল ও হামাস দুই পক্ষই তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার মিসরের পর্যটন শহর শারম আল শেখে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চলমান আলোচনায় কাতার, তুরস্ক, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। মধ্যস্থতাকারীরা ট্রাম্পের ২০ দফা যাতে দুই পক্ষ মেনে নেয়, সে জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান এবং উপত্যকাটিতে হামাসের হাতে থাকা ৪৮ জন জিম্মিকে (জীবিত ও মৃত) মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২০ জন জীবিত আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিপরীতে ইসরায়েলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দীদের অনেককেই মুক্তি দেওয়া হবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এ ঘটনায় ১ হাজার ২১৯ জন নিহত হন বলে দাবি করে ইসরায়েল। জিম্মি করা হয় ২৫১ জনকে। ওই দিন থেকেই গাজায় টানা নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য, গত দুই বছরে ইসরায়েলের হামলায় এ উপত্যকায় অন্তত ৬৭ হাজার ১৭৩ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২০ হাজার ১৭৯টি শিশু।
আন্তর্জাতিক
৪৪০ বাংলাদেশি বন্দিকে ক্ষমা করলো আরব আমিরাত
৫৪তম জাতীয় দিবস (ইদ আল ইতিহাদ) উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসকরা ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দির রাজকীয় ক্ষমা ঘোষণা করেছে। এটি দেশটির দীর্ঘদিনের মানবিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ইদ আল ইতিহাদ উদযাপনের অংশ হিসেবে এ ক্ষমার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্ব দেশব্যাপী বিভিন্ন দেশের হাজারো বন্দিকে ক্ষমা করে দেয়।
প্রতি বছর ঈদ, জাতীয় দিবসসহ প্রধান জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব, উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসকরা দণ্ডিতদের এ ধরনের রাজকীয় ক্ষমা ঘোষণা করেন। এর উদ্দেশ্য হলো—ক্ষমাশীলতা, সমাজে পুনরায় একীকরণ এবং পারিবারিক পুনর্মিলনকে উৎসাহিত করা।
কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ সালের শেষের দিকে ক্ষমা কর্মসূচির আওতায় আমিরাত বিপুল সংখ্যক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকরাও ছিলেন। এতে তারা নিজেদের জীবন পুনর্গঠন এবং পরিবার ও সমাজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
এই উদ্যোগ আমিরাতের শাসকের মানবিক মূল্যবোধ ও সহানুভূতির প্রতি প্রতিশ্রুতিকে জোরালোভাবে তুলে ধরে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় দিবস—ইদ আল ইতিহাদ প্রতি বছর ২ ডিসেম্বর পালিত হয়। দিনটিতে ১৯৭১ সালে এক পতাকার অধীনে আমিরাতসমূহের ঐতিহাসিক ঐক্যকে স্মরণ করা হয়।
আন্তর্জাতিক
হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো উড়িয়ে দেবে ইরান
সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে ওই অঞ্চলের দেশগুলোর মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হবে।
বুধবার একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তেহরান সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে তুরস্ক পর্যন্ত আঞ্চলিক দেশগুলোকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে ওই দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত করা হবে।’
তিনি আরও জানান, ইরান এসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলা ঠেকাতে চেষ্টা করার অনুরোধও জানিয়েছে।
এদিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ গড়িয়েছে তৃতীয় সপ্তাহে। জানা গেছে, এই বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে চলেছে তেহরান। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, গত সপ্তাহে গ্রেফতার হওয়া বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড বুধবারের (১৪ জানুয়ারি) মধ্যে কার্যকর করা হতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, এরফান সোলতানি ইরানে বুধবার মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন। গত বৃহস্পতিবার গ্রেফতারের পর তার বিচার, দোষী সাব্যস্তকরণ ও সাজা ঘোষণা করা হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, ২৬ বছর বয়সি সোলতানিকে তেহরানের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠের শহর কারাজ থেকে গ্রেফতার করা হয়। ইন্টারনেট বন্ধের আগে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ যখন চরমে পৌঁছেছিল, তখন গ্রেফতারের এ ঘটনা ঘটে। গার্ডিয়ানের তথ্যানুসারে, গত সপ্তাহে গ্রেফতার হওয়া হাজারো বিক্ষোভকারীর মধ্যে এরফান একজন।
এরফানের মামলাটি তুলে ধরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করেছে যে, ইরানি কর্তৃপক্ষ ‘ভিন্নমত দমন’ ও ‘ভয় দেখাতে’ আবারও দ্রুত বিচার ও নির্বিচার মৃত্যুদণ্ডের পথে হাঁটতে পারে।
অ্যামনেস্টির সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কর্মকর্তারা এরফান সোলতানির পরিবারকে বলেছেন যে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সংগঠনটি জানায়, ব্যাপক বিক্ষোভ ও সরকারের ইন্টারনেট বন্ধের মধ্যে ৮ জানুয়ারি থেকে সোলতানির সঙ্গে তার স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক
বিশ্ববাজারে সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ-রুপা
অস্থির বাজারে এবার আরও এক বড় লাফ দিয়েছে সোনা; অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছে গেছে মূল্যবান হলুদ ধাতুটি। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইতিহাস গড়া দাম উঠেছে রুপারও।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকায় এবং ফেডারেল ব্যাংকের সুদ কমানোর জল্পনা জোরদার হওয়ায় সোনা–রুপার প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে মার্কিন স্পট মার্কেটে সোনার দাম এক শতাংশ বেড়ে আউন্স প্রতি দাম দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৩২ দশমিক ০৩ ডলার। এর আগে, লেনদেনের একপর্যায়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছায় সোনার দাম। এছাড়া, ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহযোগ্য সোনার ফিউচার দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
এদিন আরও বেশি উত্থান হয়েছে রুপার দামে। স্পট রুপার দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৯০ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে, যা ইতিহাসে প্রথমবার। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআইয়ের সর্বশেষ তথ্য বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বার্ষিক ভিত্তিতে ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা প্রত্যাশার চেয়ে কম। মাসিক ভিত্তিতে মূল সিপিআই বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে বাজারের পূর্বাভাস ছিল ০ দশমিক ৩ শতাংশ।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, মূল্যস্ফীতির এই তুলনামূলক শান্ত চিত্র বিনিয়োগকারীদের আরও শিথিল মুদ্রানীতির প্রত্যাশা জিইয়ে রেখেছে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের প্রতি সুদহার ‘গুরুত্বপূর্ণভাবে’ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যাংকার ও সাবেক ফেড চেয়ারম্যানরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারসহ যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের ওপর আস্থার প্রশ্ন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা আরও বাড়িয়েছে। বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরে দুই দফায় ০ দশমিক ২৫ শতাংশ করে সুদ কমানো হতে পারে, যার প্রথমটি হতে পারে জুনে।
এ অবস্থায় এএনজেড ব্যাংক বলছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই সোনার দাম প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার ডলারের ওপর উঠতে পারে। রুপার ক্ষেত্রেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যানের মতে, প্রতি আউন্সে ১০০ ডলার হতে পারে রুপার দাম।
অন্যদিকে, বুধবার প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৩৮৬ দশমিক ৬০ ডলারে উঠেছে। আর প্যালাডিয়ামের দামও ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৫৪ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক
কুয়ালালামপুরে অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক ১৫০
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১৫০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। ‘অপারেশন কুটিপ’ নামক অভিযানে স্থানীয় সেলায়াং এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের সময় অনেক প্রবাসী গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্নভাবে চরম আতঙ্কে পড়েন, কেউ ওপর তলা থেকে ছুরির মতো ধারালো অস্ত্র ছুঁড়ে মারেন, কেউ ছাদের ওপর উঠে পড়েন, আবার কেউ পানির ট্যাঙ্কের ভেতর লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেন।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ৩২৬ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়, যার মধ্যে ৭৯ জনকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাগরিকরা রয়েছেন।
আটককৃতরা মূলত নিরাপত্তা প্রহরী, খাবারের দোকানের সহকারী, লন্ড্রি কর্মী, মুদি দোকানের কর্মচারী ও নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তারা অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করছিলেন, যেখানে প্রায় ৬০০ রিঙ্গিতে তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাটে পাঁচ থেকে ছয়জন ঘনিষ্ঠভাবে বসবাস করত।
জালান ক্লাং লামার অবৈধ বসতিতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে আরও ৭১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ইন্দোনেশিয়ান, পাশাপাশি মিয়ানমার, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছে। সেখানে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তারা অবৈধ উৎস থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বসবাস করছিলেন।
লোকমান এফেন্দি জানিয়েছেন, এই অভিযান চলবে ব্যাপকভাবে এবং কোনো আপস হবে না। শুধু অবৈধ অভিবাসীদের নয়, তাদের নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের আওতায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযানে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি অভিবাসন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি ওয়ান ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
আন্তর্জাতিক
ইরানের অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে বাড়লো তেলের দাম
ইরানের অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে বাড়লো তেলের দাম। বিশ্বের অন্যতম তেল রপ্তানিকারক দেশটিতে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্ন আন্তর্জাতিক বাজারে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই উদ্বেগ এত বেশি যে, তা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনাকেও ছাপিয়ে গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ০৬ ডলার বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৬৪ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই দাম গত মধ্য নভেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ।
একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ০২ ডলার বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৬০ দশমিক ৫২ ডলার হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ওপেকের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ এবং সেখানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাজারের ওপর সরবরাহ ঝুঁকি তৈরি করছে।
ব্রিটিশ ব্যাংক বারক্লেস জানিয়েছে, ইরানে অস্থিরতা এখন তেলের দামের ওপর প্রতি ব্যারেল ৩০৪ ডলার পরিমাণ ‘জিওপলিটিক্যাল রিস্ক প্রিমিয়াম’ যোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এমনকি, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে তাদের মার্কিন ব্যবসায় ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ইরান তার তেলের বড় অংশ চীনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে। ফলে ট্রাম্পের এ ধরনের হুমকি বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও তা সরবরাহ ঝুঁকিকে পুরোপুরি দূর করতে পারেনি। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করা হবে।
তবে রাজনৈতিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে এই সরবরাহ বাস্তবে কতটা আগাবে তা অনিশ্চিত।
এমকে



