অর্থনীতি
দুই দেশ থেকে ১০৪৪ কোটি টাকার গম-চাল কিনবে সরকার
যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) পদ্ধতিতে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৫০ হাজার টন সেদ্ধ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই গম ও চাল আনতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৪ কোটি ৪১ লাখ ৬৭ হাজার ৩০০ টাকা।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই গম ও চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্যাকেজ-১ এর আওতায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন বাসমতি সেদ্ধ চাল ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।
ভারতের এম/এস-বগাদিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এই চাল আমদানি করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে এই চাল আনতে ব্যয় হবে ২১৯ কোটি ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৩০০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ধরা হয়েছে ৩৫৯.৭৭ ডলার।
বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটস থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এগ্রোক্রোপ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এই গম আমদানি করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এই গম আনতে ব্যয় হবে ৮২৫ কোটি ৩১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ধরা হয়েছে ৩০৮ মার্কিন ডলার।
অর্থনীতি
আরও ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক
দেশের ১০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সোমবার (১২ জানুয়ারি) ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এক্ষেত্রে কাট-অফ হারও ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
একই বিনিময় ও কাট-অফ হারে এর আগে গত ৮ জানুয়ারি ১৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে ৬ জানুয়ারি ১৪টি ব্যাংক থেকে কেনা হয় ২২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।
এসব কেনার ফলে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ক্রয়ের পরিমাণ হয়েছে ৩৮৩ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘সোমবার ১০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৮১ মিলিয়ন (৮ কোটি ১০ লাখ) মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ দশমিক ৩০ টাকা এবং কাট-অফ রেটও ১২২ দশমিক ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।’
এর ফলে, নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে মোট ক্রয় দাঁড়াল ৬৯৮ মিলিয়ন বা ৬৯ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার।
অর্থনীতি
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে সোনা
বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে সোনার দম। এবার ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতি
৪৩ পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে প্রণোদনার মেয়াদ বাড়লো
সরকার ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানির বিপরীতে দেওয়া নগদ সহায়তা বা প্রণোদনার মেয়াদ আরও ছয় মাস, অর্থাৎ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়েই রপ্তানিকারকরা এই সুবিধা পাবেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য প্রণোদনা কার্যকর ছিল। তবে রপ্তানি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবার এর মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলো।
গত অর্থবছরের মতোই এবারও প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খাতভেদে রপ্তানিকারকরা সর্বনিম্ন ০ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা পাবেন। মোট ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাত এই প্রণোদনার আওতায় রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নগদ সহায়তা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নিযুক্ত বহিঃনিরীক্ষক বা অডিট ফার্মের মাধ্যমে রপ্তানি সংক্রান্ত হিসাব নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
এছাড়া প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার বিকল্প হিসেবে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইউরো অঞ্চলে রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান সহায়তার সঙ্গে অতিরিক্ত ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনাও বহাল থাকবে।
প্রজ্ঞাপন দেখতে ক্লিক করুন।
অর্থনীতি
বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ সই ৬ ফেব্রুয়ারি
জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের রাজধানী টোকিওতে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান উপস্থিত থাকবেন।
ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকার বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ) ছাড়া এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের আর কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নেই। জাপানের সঙ্গে ইপিএ সইয়ের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সরকারের আশা, এতে শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভরতা কিছুটা কমে জাপান বাংলাদেশের একটি বড় বাজারে পরিণত হতে পারে। তবে চুক্তি বাস্তবায়নে কিছু ঝুঁকিও থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ-জাপান ইপিএর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। তখন দর-কষাকষির ভিত্তি তৈরিতে একটি যৌথ গবেষণা দল গঠন করা হয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ১৭টি খাত চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে আলোচনা এগোনোর সুপারিশ করা হয়।
এর আগে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তি সইয়ের দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে জাপানের ১০৩৯টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে একই সুবিধা পাবে। ইপিএর মাধ্যমে বাংলাদেশের ৯৭টি উপখাত জাপানের জন্য উন্মুক্ত হবে। অন্যদিকে, জাপানের ১২০টি উপখাত উন্মুক্ত হবে বাংলাদেশের জন্য। পণ্যের পাশাপাশি সেবা, বিনিয়োগ এবং সহযোগিতাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অর্থনীতি
বিএফআইইউর প্রধান হলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মামুন
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর কমিশনার ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধান অনুযায়ী ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদমর্যাদায় সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি যোগদানের তারিখ থেকে দুই বছর মেয়াদে বিএফআইইউ-এর প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক রাখতে পারবেন না। এ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি অনুমোদিত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।




