জাতীয়
ডিএমপির ৭ এডিসিকে বদলি
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) পদমর্যাদার সাত কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত তিন আদেশে তাদের বদলি করা হয়।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কর্মকর্তাদের মধ্যে সিটি-এডমিন অ্যান্ড লজিস্টিকস বিভাগের মুঈদ মোহাম্মদ রুবেলকে পিওএম-পূর্ব বিভাগে, গোয়েন্দা-মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসাইনকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ), ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগের যাত্রাবাড়ী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আকতারুজ্জামানকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন বিভাগ) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
আরেক আদেশে সহকারী পুলিশ কমিশনার ফারজানা হককে সহকারী পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক রমনা বিভাগের ট্রাফিক ধানমন্ডি জোন হিসেবে ও সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল্লাহেল বাকীকে সহকারী পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগের ট্রাফিক-যাত্রাবাড়ী জোন হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়াও ট্রাফিক মতিঝিল বিভাগের মো. ফজলুল করিমকে তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে এবং প্রটেকশন বিভাগের (সংসদ ভবন-নিরাপত্তা) পরিত্রান তালুকদারকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগ) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
জাতীয়
ব্যক্তির স্বৈরাচার হওয়া ঠেকাতেই আইনসভার উচ্চকক্ষ: আলী রীয়াজ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ভবিষ্যতে ব্যক্তি বিশেষের স্বৈরাচার হওয়া রোধের জন্যই দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্যসমন্বয়কের দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজশাহী মেডিকেল কলেজে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বার বার একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে। তাই কোনো ব্যক্তি বিশেষের ওপর নির্ভর না করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই এর মোকাবিলা করতে হবে।
এ কারণেই জুলাই সনদে সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠিত হলে একদিকে যেমন জনগণ ও সব দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে, সেই সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও সবার মতামত প্রতিফলিত হবে।
বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান ও রাজশাহী পুলিশ কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।
রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় রাজশাহী বিভাগের সব জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আমরা এমন একটা রাষ্ট্র চেয়েছিলাম যেখানে সব মানুষের সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু গত ৫৪ বছরেও আমরা সেই রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারিনি। আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় বিবেচনায় ব্যক্তিতান্ত্রিক ক্ষমতার লোভে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ আমাদের তরুণরা তৈরি করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে আর যেন ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয় তা নিশ্চিতে দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার।
এই গণভোট আমাদের ভিত্তি তৈরি করার নির্বাচন উল্লেখ করে আসন্ন গণভোটে সরকারের তরফে প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, যদি আমরা রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তনগুলো দেখতে চাই এবং একে আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে চাই তাহলে গণভোটের মাধ্যমে রায় দিতে হবে।
মনির হায়দার বলেন, গণভোট যদি ব্যর্থ হয় তাহলে পরের বার আপনার আমার সন্তানকে জীবন দিতে হবে। ফ্যাসিবাদ পথ চিনে গেছে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, পরের বার খুব দ্রুতই ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে।
প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, আপনার আমার সন্তানের ভবিষ্যতকে নিরাপদ রাখতেই জুলাই সনদ ও গণভোটে জনগণের সম্মতি প্রয়োজন।
আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় কোনো বিধিনিষেধ নেই—এ কথা উপস্থিত কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে মনির হায়দার বলেন, গণভোটে কোনো প্রার্থী নেই; এটি আমাদের সবার এজেন্ডা। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ তার বক্তব্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গৃহীত উদ্যোগ ও এর অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমরা একটি যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি উল্লেখ করে তিনি অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য সব কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
এমকে
জাতীয়
দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা
‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রধান অতিথি হিসেবে এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।
রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে সম্মেলনটি আজ শুরু হয়ে চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ মোট ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে।
দেশের উচ্চশিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করা এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা কমিশন নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।
এ ছাড়া অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন, বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীম উদ্দিন খান।
সম্মেলনে সার্কভুক্ত দেশের ইউজিসি ও উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা, বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক, কূটনীতিক উপস্থিত থাকবেন।
তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট ৮টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা, সুশাসন ও গুণগতমান এবং অন্তর্ভুক্তি’ এবং ‘গবেষণা, উদ্ভাবন, স্থায়িত্ব এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক দু’টি সেশন থাকবে।
দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমন্বয়, ডিজিটাল রূপান্তর এবং স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেম’, ‘গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা’, উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ পথরেখা : সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং নেটওয়ার্কিং’, ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে অংশীজনদের সংলাপ : সুশীল সমাজের কণ্ঠস্বর’ এবং ‘উপাচার্যদের সাথে সংলাপ: হিট প্রকল্পের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সেশন অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনের শেষ দিনে ‘উচ্চশিক্ষায় জেন্ডার ইস্যু’ নিয়ে আলোচনা শেষে ‘ঢাকা হায়ার এডুকেশন ডিক্লারেশন’ বা ঢাকা ঘোষণার মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে।
জাতীয়
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব সংগঠনের নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত রাখতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব ধরনের পেশাজীবী ও অন্যান্য সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন না করার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনী কার্যক্রমকে যেকোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে কমিশন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সব পেশাজীবী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের নির্বাচন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতি, সাংবাদিক সমিতি, বণিক সমিতি (চেম্বার অব কমার্স), সমবায় সমিতি ও ট্রেড ইউনিয়নসহ অন্যান্য সব নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত সংগঠনের নির্বাচন বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।
ইসির নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে, উল্লিখিত সংগঠনগুলোর যেকোনো নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির পর আয়োজন করতে হবে। সংসদ নির্বাচনের সময় স্থানীয় বা পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব সৃষ্টি না হয়, সেজন্য এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।
জাতীয়
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন-কমিশনার নিয়োগে বাছাই কমিটি
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন ও কমিশনার নিয়োগে সুপারিশ দিতে বাছাই কমিটি গঠন করেছে সরকার।
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী, সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ কমিটি গঠন করে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
ছয় সদস্যের এ কমিটির সভাপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন- মন্ত্রিপরিষদ সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি বা তার মনোনীত মানবাধিকার বিষয়ে সাংবাদিকতায় অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন সাংবাদিক প্রতিনিধি এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কুবলেশ্বর ত্রিপুরা।
কমিটি লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ বাচাই কমিটির কার্য-সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সচিবিক সহায়তা দেবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৭ নভেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেন। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পাঁচজন অবৈতনিক সদস্যও মো. আমিনুল ইসলাম, কংজুরি চৌধুরী, বিশ্বজিৎ চন্দ, অধ্যাপক তানিয়া হক এবং সার্বক্ষণিক সদস্য সেলিম রেজাও পদত্যাগ করেন।
এরপর ৯ নভেম্বর ২০০৯ সালের আইন বাতিল করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে সরকার। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী চেয়ারপারসন ও চারজন কমিশনারের সমন্বয়ে কমিশন গঠন হবে। চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের মেয়াদ হবে চার বছর।
জাতীয়
ভোট ডাকাতি আর যেন না ঘটে সেই ব্যবস্থা করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতামও। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে, সিস্টেমকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দেওয়া হয়েছে— এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। এসবের পুরো রেকর্ড থাকা প্রয়োজন। নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) তদন্ত কমিশন। প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তদন্তের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন কমিশনের সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশন প্রধান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন, সদস্য শামীম আল মামুন, কাজী মাহফুজুল হক সুপণ, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন, ড. মো. আব্দুল আলীম। উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
তদন্ত প্রতিবেদনে কমিশন জানায়, ২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অবিশষ্ট ১৪৭টিতে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার মিশন গ্রহণ করে। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল তাদের এ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতাম। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে সিস্টেমকে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দিয়েছে… এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। পুরো রেকর্ড থাকা দরকার।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘দেশের টাকা খরচ করে, মানুষের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ দেশের মানুষ সে সময় অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল, কিছুই করতে পারেনি। এ দেশের জনগণ যেন কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়, সেজন্য এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের চেহারা জাতির সামনে নিয়ে আসতে হবে। কারা করল, কীভাবে করল— সেটা জনসমক্ষে আসা জরুরি। নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে, আমাদের সেই স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে।’
তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করে রাখা হয়েছিল। আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘অসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ কাজ করেছিল। ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশও ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে বিএনপিসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ‘ডামি’ প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ দেখানোর অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত তিনটি নির্বাচনের এই অভিনব জালিয়াতির পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছিল, যা ‘নির্বাচন সেল’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
২০১৪-২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে নির্বাচন ব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময়ে কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে ওঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি।




