সারাদেশ
সব সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়তে চাই: চসিক মেয়র
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে বিজয়া দশমী বিহিত পূজা ও প্রতিমা বিসর্জন চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
এসময় তিনি বলেন, আমরা চট্টগ্রামকে একটি শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই শহরে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে উৎসব পালন করছে। প্রতিটি ধর্মীয় উৎসবকে সবার উৎসব হিসেবে উদযাপন করার মাধ্যমে আমরা প্রকৃত নাগরিকত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারবো। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সব সময় চেষ্টা করছে যাতে ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্ন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। ভবিষ্যতেও আমরা সমস্ত সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও সুন্দর শহর গড়ে তুলবো।
তিনি আরও বলেন, পূজা উপলক্ষ্যে নগরের বিভিন্ন মণ্ডপে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান, বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জা সংস্কার, রাস্তা সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সিটি কর্পোরেশন সম্পন্ন করেছে। মেয়র হিসেবে আমি চট্টগ্রামকে সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়তে চাই। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমি গড়ে তুলব ‘সেফ চট্টগ্রাম’।
এসময় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক অর্পন কান্তি ব্যানার্জী, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, টুরিস্ট পুলিশ ইনচার্জ এস এম কামরুজ্জামান, সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আশীষ, সহ-সভাপতি প্রদীপ শীল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রতন চৌধুরী, বিপ্লব সেন, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক অঞ্জন দত্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রত্নাকর দাস টুনু, শ্রী প্রকাশ দাস অসিত, হিল্লোল সেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশ
জান্নাতুন নাঈম নূরানী কিন্ডারগার্টেনে অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ
শরীয়তপুরের সখিপুরে পশ্চিম মালতকান্দির বেপারী বাড়ি জান্নাতুন নাঈম নূরানী কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ, বই বিতরণ ও ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্প্রতি এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হযরত মাওলানা মোশারফ হোসেন ও হাফেজ মোহাম্মদ নুরে আলম আর ও উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী আবুল বেপারী, সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন বেপারী, সহ-সভাপতি শাহ আলম বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মিল্টন ভূঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ (মাদ্রাসা ও মসজিদ বিষয়ক) জুলহাস বেপারী, জাহিদ হাসান সোভন এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম।
সহকারী শিক্ষক আসিফ মাহমুদ বক্তারা বলেন, নূরানী মাদ্রাসা শিক্ষার মাধ্যমে শিশুরা কুরআনভিত্তিক প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, শালীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে ওঠে। এতে তারা দুনিয়াতে সুনাগরিক এবং আখিরাতে সফল জীবন গঠনের পথে এগিয়ে যেতে পারে।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, সন্তানদের মাদ্রাসায় ভর্তি করালে তাদের চরিত্র গঠন ও ইসলামী শিক্ষায় অগ্রগতি নিশ্চিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ করা হয় এবং কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এমকে
সারাদেশ
জাহাজের ধাক্কায় মেঘনায় ৩০০ টন লবণ নিয়ে ট্রলারডুবি
ভোলার তুলাতুলি মেঘনা নদীতে জাহাজের ধাক্কায় ৩০০ টন লবণবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুর ১টার কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা ট্রলারটি উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ভোলা সদর উপজেলার তুলাতুলি এলাকার ইলিশ বাড়ি সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
ট্রলারে মাঝি মো. বেলাল উদ্দিন মাঝি ও শ্রমিক মো. আজিজ শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থেকে এমভি দিলোয়া-৩ নারে ট্রলারে তারা ৩০০ টন লবন বোঝাই করে খুলনার জেল খানা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। পরে দুপুরের দিকে চট্টগ্রামের চ্যানেলে এসে দুপুরের খাবার খেয়ে আবারও রওনা করেন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ভোলার তুলাতুলি এলাকার ইলিশ বাড়ি সংলগ্ন মেঘনা নদীতে আসলে ঘনকুয়াশার মধ্যে পরেন তারা। ওই সময় একটি জাহাজ তাদের ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রলারে পানি ঢোকতে শুরু করলে তারা তীরের দিকে চালাতে শুরু করেন। পরে র্তীরের কাছাকাছি আসলে ট্রলারটি ডুবে যায়। এসময় ট্রলারের থাকা তারা ৭ আরোহী তাদের আরেকটি ছোট নৌকায় করে তীরে উঠে আসেন।
তবে এঘটনায় তাদের কেউ আহত ও নিখোঁজ হয়নি বলেও জানান তারা। কিন্তু এঘটনায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী তাদের।
এদিকে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। ডুবে যাওয়া ট্রলারটিতে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন তারা।
সারাদেশ
মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়
হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় কনকনে তীব্র শীতে কাঁপছে উত্তরের জনপদ পঞ্চগড় জেলা। এক সপ্তাহের বেশি সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পর আজ হঠাৎই কমে গেছে এ জেলার তাপমাত্রা। তাপমাত্রা নেমে গেছে ৯ ডিগ্রির ঘরে। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে শীতের প্রকোপ। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে।
এ সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৯ শতাংশ ছিল। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ৮-১০ কিলোমিটার বয়ে যাচ্ছিল। গতকাল বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে, পঞ্চগড়ের আশপাশের জেলায় কয়েক দিন থেকে হিমালয়ের হিমেল বাতাসে ঠান্ডা অব্যাহত রয়েছে। রাতে ও সকালে ঠান্ডার কারণে গ্রাম-গঞ্জের মানুষ শীতের গরম কাপড় পরিধান করছে। তবে গত কয়েকদিন থেকেই শীতের তীব্রতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। এ ছাড়াও দিনের বেলা রোদের দেখা মিললেও কমেনি শীতের তীব্রতা।
অপরদিকে এ ছাড়া শীতের তীব্রতা বাড়ায় হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে প্রতিদিন শীতজনিত রোগীর ভিড় থাকছেই। হাসপাতালে প্রতিদিন রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের বেশির ভাগই শিশু ও বৃদ্ধ। যারা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারাই কেবল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
তেঁতুলিয়ার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ জানান, কয়েকদিন পর আজ হঠাৎই তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় তেঁতুলিয়ায় মৃদু শৈত্য বয়ে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৯ শতাংশ ছিল। ফলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে এ জেলায়। সামনের দিকে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
সারাদেশ
সাতসকালে নিয়ন্ত্রণ হারাল বালুর ট্রাক, নিহত ৪
রাজশাহীতে সাতসকালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুভর্তি ট্রাক বাজারের ভেতরে ঢুকে উল্টে যায়। এতে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ৭টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ৭টা ৫৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব ২ কিলোমিটার। বালুভর্তি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাজারের ভেতরে ঢুকে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। পুঠিয়া ফায়ার স্টেশনের ১টি ইউনিট ও নাটোর ফায়ার স্টেশনের ১টি ইউনিট উদ্ধারকাজ করছে। এ ঘটনায় ৪ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
এমকে
সারাদেশ
সারজিস আলমের ৩৩ লাখ টাকার সম্পদ, নেই বাড়ি-গাড়ি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেন।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, সারজিস আলমের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা। পাশাপাশি তাঁর একটি ব্যাংক হিসাবে জমা আছে ১ লাখ টাকা। হলফনামায় তিনি তাঁর বর্তমান পেশা হিসেবে ব্যবসা এবং পূর্বতন পেশা হিসেবে ছাত্র উল্লেখ করেছেন। তাঁর নামে দানকৃত কৃষিজমির পরিমাণ ১৬ দশমিক ৫০ শতক। অর্জনকালে ওই জমির আর্থিক মূল্য ছিল ৭ হাজার ৫০০ টাকা, যা বর্তমানে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবসা থেকে বছরে তাঁর আয় ৯ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) উল্লেখ করেছেন।
হলফনামার তথ্যে আরও দেখা যায়, সারজিস আলমের নামে একটি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। তাঁর নামে কোনো বন্ড, ঋণপত্র বা স্টক এক্সচেঞ্জভুক্ত শেয়ার নেই। আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। তাঁর কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। এ ছাড়া তাঁর নামে কোনো বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা ভবনও নেই।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে সারজিস আলম তাঁর মোট আয় দেখিয়েছেন ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তাঁর মোট সম্পদের মূল্য ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকা। এই খাতে তিনি ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।
এদিকে পঞ্চগড়-১ আসনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠেছে। এই আসনে সারজিস আলম ছাড়াও আরও সাত প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
অন্য প্রার্থীরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, বাংলাদেশ জাসদের নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধান, গণঅধিকার পরিষদের মো. মাহাফুজুর রহমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. ফেরদৌস আলম, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মো. সিরাজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. আব্দুল ওয়াদুদ বাদশা।



