Connect with us
৬৫২৬৫২৬৫২

মত দ্বিমত

ভারত–লন্ডন নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও জনগণের অনুপস্থিতি

Published

on

ডিএসই

৫ আগস্ট ২০২৪—অনেকেই এই দিনটিকে ভেবেছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে উত্তরণের দিন হিসেবে। প্রত্যাশা ছিল, এই দিনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়ে শাসনতন্ত্রের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু বাস্তবে হলো উল্টো। দেশ স্বাধীন হলো না, বরং রাষ্ট্রকে দুই টুকরো করা হলো। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হলো বটে, কিন্তু তাঁকে ভারত পাঠানো হলো। ফলাফল? একদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, অন্যদিকে শেখ হাসিনা—ভারত থেকে এখনো তাঁর দল ও সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণ করছেন।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এই সিদ্ধান্ত ছিল ভয়াবহ ভুল। তাঁকে সরানো হলো, কিন্তু সমাধান করা হলো না। দল ও প্রশাসনের অনেকেই এখনো তাঁকেই নেত্রী মনে করছে, তাঁকেই অনুসরণ করছে। ফলে দেশের শাসনতন্ত্র কার্যত বিভক্ত হয়ে গেছে—অর্ধেক চলছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায়, অর্ধেক চলছে শেখ হাসিনার প্রভাবমুক্ত নয় এমন প্রশাসনের অধীনে। এই দ্বৈত নেতৃত্ব রাষ্ট্রযন্ত্রকে অচল করে দিয়েছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

আরেকদিকে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন লন্ডন থেকে তারেক রহমান। ভারত থেকে শেখ হাসিনা, লন্ডন থেকে তারেক রহমান—“ডিজিটাল বাংলাদেশ” যেন দুই প্রবাসী কেন্দ্র থেকে চালিত হচ্ছে। অথচ দেশের ভেতরে কার্যকর নেতৃত্ব নেই। বাইরে থেকে নির্দেশনা আসছে, কিন্তু ভেতরে সমস্যার সমাধান করার মতো উপস্থিত নেতৃত্ব নেই। এই কারণেই বলা যায়—দেশের বারোটা বেজে গেছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

জনগণ কে?
আমরা সবসময় বলি—জনগণ এটা চায় না, জনগণ এটা মেনে নেবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো—জনগণ কে?
•বিএনপি কি জনগণের দল নয়?
•জামায়াত, আওয়ামী লীগ বা অন্য সব দল কি জনগণের অংশ নয়?
•তাহলে দলগুলো বাদ দিয়ে আর কে আছে, যে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে—“আমি জনগণ”?

বাস্তবে সত্যিকারের জনগণের ভূমিকায় যারা আছে, তাদের সংখ্যা খুবই কম। তারা আছে, কিন্তু বিচ্ছিন্ন, সংগঠিত নয়। ফলাফল হলো—জনগণের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু জনগণের জন্য কাজ করা হচ্ছে না। অতীতে হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না—যদি না আমরা ডেসপারেটলি চেষ্টা করি।

দুর্নীতি, অনীতি ও বিভক্ত প্রশাসন
আজ দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল দুর্নীতি, অনীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজিতে নিমগ্ন। প্রশাসন বিভক্ত—কেউ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে, কেউ শেখ হাসিনার প্রতি অনুগত। এক্ষেত্রে “হাড়ি ভেঙে দই পড়েছে, বিড়ালের হইছে বাহার”—এই প্রবাদটাই সঠিক। সবাই নিজের সুবিধা নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যে কিছুই জোটেনি।

ভুলটা কোথায় হলো?
•শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হলো, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সমাধান করা হলো না।
•তাঁকে ভারত পাঠানো মানে তাঁর প্রভাবকে সরানো নয়—বরং বাইরে বসে তাঁকে আরও রহস্যময় ও শক্তিশালী করা হলো।
•তারেক রহমানও একইভাবে লন্ডন থেকে দল পরিচালনা করছেন—যা দেশের ভেতরে নেতৃত্বশূন্যতার জন্ম দিয়েছে।
•দুই প্রবাসী নেতা ডিজিটালি দল চালাচ্ছেন, আর দেশে সাধারণ মানুষ পড়েছে নেতৃত্বশূন্য ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে।

দেশকে জনগণের করতে কী চেষ্টা দরকার?
১. জনগণের সক্রিয় উপস্থিতি তৈরি করা: দল নয়, নাগরিক প্ল্যাটফর্মকে শক্তিশালী করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে টাউন-হল, নাগরিক কমিটি, নিরপেক্ষ জনমত সংগ্রহ শুরু করতে হবে।
২. দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ: দুর্নীতি, লুটপাট ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা নথিভুক্ত ও প্রকাশ করতে হবে। ন্যায়বিচারের জন্য আইনি ও সামাজিক চাপ তৈরি করতে হবে।
৩. ছোট সেবা দিয়ে আস্থা ফেরানো: পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য—এই খাতে স্থানীয় উদ্যোগ দেখাতে হবে। এতে জনগণ বুঝবে—কেউ তাদের জন্য কাজ করছে।
৪. স্বচ্ছ নেতৃত্ব ও জবাবদিহি: জনগণের নামে রাজনীতি নয়, জনগণের কাজে রাজনীতি। স্বচ্ছতা ছাড়া আস্থা আসবে না।
৫. বহির্বর্তী প্রভাব থেকে বের হওয়া: ভারত ও লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল নেতৃত্বের পরিবর্তে স্থানীয়, জনগণকেন্দ্রিক নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। দেশের ভিতরে সমাধান তৈরি করতে হবে, বাইরে নয়।

আজকের বাংলাদেশে ত্রৈমুখী নেতৃত্ব, বিভক্ত প্রশাসন, দুর্নীতিগ্রস্ত দল এবং “জনগণ” নামের এক অদৃশ্য সত্তা—সব মিলিয়ে রাষ্ট্র অচলাবস্থায়। শেখ হাসিনা ভারতে বসে প্রভাব চালাচ্ছেন, তারেক রহমান লন্ডন থেকে নির্দেশ দিচ্ছেন, আর দেশে আন্দোলন করছে ছোট দলগুলো। ফলে রাষ্ট্রযন্ত্র এক ভয়ঙ্কর অস্থিরতায় আছড়ে পড়েছে। যে দেশে সবাই কোনো না কোনো দলের সমর্থক, যে দেশে কেউ ভুল স্বীকার করে না, অন্যায়ের পর অনুশোচনা নেই, শুধু জনগণের নামে দায় চাপানো হয়—সেই দেশ কিভাবে জনগণের হতে পারে?

পরিবর্তন একদিনে হবে না। তবে ছোট ছোট নাগরিক উদ্যোগ, স্থানীয় স্বচ্ছ নেতৃত্ব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পথ নেই। যদি আমরা চেষ্টা না করি, তাহলে জনগণ সবসময় কেবল শ্লোগানেই থেকে যাবে—কাজে নয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল দায়িত্ব ও অঙ্গীকার ছিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধান করা, শাসনতন্ত্রে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। জবাবদিহিতার অভাব, সিদ্ধান্তহীনতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শেখ হাসিনার মনোনীত প্রেসিডেন্ট আজও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন—ফলে সরকারের বৈধতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ অবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রকে রক্ষা করা, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা; কিন্তু তারা যদি সত্যিকারের নিয়ন্ত্রণ ও নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, তাহলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

এই প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে সঙ্কট সমাধানের কার্যকর নেতৃত্ব নিতে পারতেন, কিন্তু তাঁর পদক্ষেপ সীমিত থাকায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘটেনি। তাই এখন জরুরি একটি ন্যায্য রূপান্তর—যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো টিকে থাকবে, কিন্তু তাদের ভেতরে থাকা দুর্নীতি, লুটপাট, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা অন্য অপরাধে দণ্ডিত নেতৃত্বকে কঠোরভাবে বাদ দিতে হবে। দল হচ্ছে জনগণের সংগঠিত অভিব্যক্তি; তাদের সম্পূর্ণ অস্বীকার করা গণতন্ত্রকেই অস্বীকার করা।

অতএব, প্রয়োজন এমন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যেখানে থাকবে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব, নিরপেক্ষ প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী এবং তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ। এই সরকারকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় থাকতে হবে, যেন প্রতিটি সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ, যাচাইযোগ্য এবং জনগণের কাছে ব্যাখ্যা-সাপেক্ষ হয়। কেবল এভাবেই দলীয় অস্তিত্ব রক্ষা করে অপরাধী নেতৃত্বকে ছাঁটাই করা সম্ভব, এবং গড়ে তোলা সম্ভব একটি নতুন শাসনব্যবস্থার ভিত্তি—যেখানে জনগণের আস্থা ফিরবে, রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা আসবে এবং ভবিষ্যতের নির্বাচন হবে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক। এর পরেই জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে তাদের প্রকৃত সিদ্ধান্তের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়।

রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। Rahman.Mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-

মত দ্বিমত

বিদায় শুধু একটি মুহূর্ত নয়, একটি চূড়ান্ত মূল্যায়ন

Published

on

ডিএসই

বিদায় শুধু একটি মুহূর্ত নয়, একটি চূড়ান্ত মূল্যায়ন। মানুষ কীভাবে ক্ষমতায় এসেছে, কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে সরে গেছে তারই নীরব রায় হলো বিদায়। ইতিহাসে বহু নেতা এসেছেন। কিন্তু খুব অল্প সংখ্যক বিদায় মানব কল্যাণের শিক্ষা রেখে গেছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিদায় তাই ব্যক্তিগত ঘটনা নয়। এটি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতিফলন। এই আয়নায় দেখা যায় ক্ষমতার চরিত্র, নেতৃত্বের নৈতিকতা এবং জনগণের সঙ্গে শাসকের সম্পর্ক।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

ওসমান হাদির বিদায় আমাদের শেখায় ত্যাগের নীরব শক্তি। তিনি দেশ গঠনে কোনো দৃশ্যমান অবকাঠামোগত অবদান রাখেননি। তাঁর নামে কোনো সেতু নেই, কোনো মেট্রোরেল নেই, কোনো বড় প্রকল্প নেই। তবু তিনি জাতির মনে জায়গা করে নিয়েছেন অনুপ্রেরণার বাণী প্রচারের মাধ্যমে। সাহসের ভাষা, ভয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং অন্যায়ের সামনে নত না হওয়ার মানসিকতা তাঁকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর বিদায় প্রমাণ করে নেতৃত্ব কেবল ক্ষমতার আসনে বসে তৈরি হয় না। অনেক সময় নেতৃত্ব জন্ম নেয় মানুষের হৃদয়ে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এর বিপরীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ পেয়েছে পদ্মাসেতু, মেট্রোরেলসহ বড় বড় অবকাঠামোগত অর্জন। এসব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। খালেদা জিয়ার সময়ে দেখা গেছে বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে দীর্ঘ ষোল বছর খালেদা জিয়া দেশ গঠনে কী করলেন। এর উত্তর এককথায় দেওয়া যায় না। কারণ সেই সুযোগ রাষ্ট্রই তাঁকে দেয়নি। হিংসাত্মক রাজনীতি, প্রতিহিংসা এবং ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার কৌশল তাঁকে রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব ক্ষেত্র থেকে বঞ্চিত করেছে।

এর ফলাফল ছিল গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী। দেশ দিনে দিনে আলো থেকে সরে গেছে। মানুষ গর্জন করতে শিখেছে, ঘৃণা করতে শিখেছে। ভিন্নমতকে চেপে রাখা হয়েছে। স্বাধীন কণ্ঠগুলোকে নিঃশব্দ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস বলে চেপে রাখা কণ্ঠ কখনো নিশ্চিহ্ন হয় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোই শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সেই অন্ধকার বাস্তবতা থেকেই জন্ম নিয়েছে ওসমান হাদির মতো অনুপ্রেরণার প্রতীক এবং খালেদা জিয়ার মতো বঞ্চিত নেতৃত্বের প্রতি সহমর্মিতাময় বিদায়।

শেখ হাসিনার বিদায় ছিল সবচেয়ে কঠিন শিক্ষা বহনকারী মুহূর্ত। ক্ষমতা যখন জনগণের সম্মতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন বিদায় আসে হঠাৎ। প্রস্তুতি ছাড়া। দেশের বাইরে চলে যাওয়ার দৃশ্যটি কোনো ব্যক্তিকে নয়, একটি শাসনব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করে। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ভয় দিয়ে শাসন করা যায়। কিন্তু সম্মান দিয়ে বিদায় কেনা যায় না।

এই তিনটি বিদায় একত্রে একটি স্পষ্ট পাঠ দেয়। রাষ্ট্র কেবল ইট পাথর দিয়ে গড়া হয় না। রাষ্ট্র গড়ে ওঠে মানুষের কণ্ঠস্বর, মর্যাদা এবং ন্যায়বিচারের ওপর। সেখানে ব্যর্থ হলে অবকাঠামো টিকে থাকে, কিন্তু নেতৃত্ব বিদায়ের মুহূর্তে প্রশ্নের মুখে পড়ে।

মানব কল্যাণের দৃষ্টিতে এখানেই মূল শিক্ষা। ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী। বিদায় অনিবার্য। মানুষ শেষ পর্যন্ত মনে রাখে কে কীভাবে বিদায় নিয়েছে, কে কতদিন ক্ষমতায় ছিল তা নয়। একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রকৃত পরীক্ষা শাসনে নয়, বিদায়ে।

বিদায় তাই শেষ কথা নয়। বিদায় হলো ইতিহাসের কাছে নেতৃত্বের চূড়ান্ত জবাব।

রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

আমাদেরও একজন রানী এলিজাবেথ ছিলেন

Published

on

ডিএসই

হ্যাঁ বলছি বেগম খালেদা জিয়ার কথা। তিনি যতটুকু কথা বলার দরকার ততটুকুই বলতেন, যতটুকু করার দরকার ততটুকুই করতেন এবং সেটা নিয়ে কখনো কোনো দ্বিমত পোষণ করতে দেখিনি কাউকে। তিনি গত ১৫ মাসে অনেকের চোখে জাতির এক মাতৃসম প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিপ্লবী নেতা কর্মীদের মধ্যে আমি একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি। তা ছিল গত বছরের সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালনের সময়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস থেকে শুরু করে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির চোখে মুখে এক ধরনের আবেগের ঢেউ কাজ করছিল। তাদের মনের ভাষা যেন ছিল জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো, তোমাকে এই সমাবেশে আনতে পেরে, তোমাকে দেখাতে তোমার সন্তানেরা পেরেছে তোমার জন্মভূমিকে তোমার কাছে ফিরিয়ে নিতে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

দীর্ঘ ১৬ বছর গৃহবন্দিনী থাকা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর জীবনের এই সময়টি ছিল বাংলার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া এক বিশেষ সম্মানের সময়। সম্ভবত সেই স্মৃতিই তাঁকে এবারের সশস্ত্র বাহিনী দিবসেও উপস্থিত থাকতে অনুপ্রাণিত করেছিল, শারীরিকভাবে নানা ধরনের জটিলতা থাকা সত্ত্বেও। বিনিময়ে তিনি নিজ কানে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যে শুনতে পান যে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াই ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

একজন সহধর্মিণীর জন্য তাঁর স্বামীর এমন গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক ভূমিকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, তা আবার লাখো মানুষের উপস্থিতিতে, নিঃসন্দেহে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দীর্ঘ ১৬ বছরের বেশি সময় নির্বাসিত একমাত্র সন্তানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং সেই সন্তানের উপস্থিতিতেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন, ঠিক একই দিনে যেদিন তাঁর সহধর্মী প্রেসিডেন্ট জিয়া পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন।

দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অনেক রাজনৈতিক নেতার বিদায় হয়েছে। আমার কাছে নিঃসন্দেহে শহীদ ওসমান হাদি, প্রেসিডেন্ট জিয়া এবং গণতন্ত্রের পক্ষে আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। আনন্দের সঙ্গে স্মরণ করছি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জাতীয় জাগরণের চেতনায় বেগম খালেদা জিয়া একজন রানী এলিজাবেথের মতো স্থির, নীরব এবং মর্যাদাসম্পন্ন প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন।

রহমান মৃধা, গবেষক-লেখক এবং সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন।   

rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

শুধু বেসরকারি ব্যাংকাররাই বঞ্চিত হবেন কেন?

Published

on

ডিএসই

চলতি বছরের গত ৯ ডিসেম্বর ব্যাংক কোম্পানীর কর্মকর্তা কর্মচারীগণের উৎসাহ বোনাস প্রদান প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি একটি সার্কুলার জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে “ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনায় অ্যাক্রুড বা আনরিয়ালাইজড আয়ের ভিত্তিতে প্রণোদনা প্রদান করা ব্যাংকের আর্থিক সুশাসন এবং সুদক্ষ ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এক্ষণে তফসিলী ব্যাংকসমূহকে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুকূলে উৎসাহ প্রদানের পূর্বে নিম্নোক্ত সকল বিষয়ে নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

কোনো আর্থিক বছরে শুধুমাত্র প্রকৃত আয়-ব্যয়ের ভিত্তিতে নির্ণীত মুনাফা অর্জিত হলে উৎসাহ বোনাস দেয়া যাবে পুঞ্জিভূত মুনাফা হতে উৎসাহ প্রদান করা যাবে না। রেগুলেটরি মূলধন সংরক্ষণে কোন ঘাটতি বা কোনরূপ সঞ্চিতি ঘাটতি থাকতে পারবে না এবং এ ক্ষেত্রে কোনরূপ বিলম্ব করার সুবিধা প্রদান প্রদত্ত হলে তা মুনাফা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া যাবেনা। বিভিন্ন সূচকে উন্নতির শ্রেণিকৃত পাবলিক অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি এই বোনাস প্রদানের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও তফশিলী বিশেষায়িত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মরত কর্মচারীদের উৎসাহ প্রদান নির্দেশিকা ২০২৫ অনুসরণীয় হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো।”

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

ব্যাংক মুনাফা না করলেও সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মন্ত্রণালয়ের অনুমিতি নিয়ে প্রণোদনা বোনাস গ্রহণ করতে পারবেন কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেটা পারবেন না এটা কি একটা বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত নয়? যেসকল বেসরকারি ব্যাংকে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে এবং বছরের আয়-ব্যয় হিসাবে মুনাফা করতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু অতীতের মন্দ ঋণের কারণে প্রভিশন ঘাটতিতে রয়েছে সেসব ব্যাংকের কর্মীরা প্রণোদনা বোনাস পেলে তাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কি ক্ষতি হবে?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা এমন বিশেষ কী সৎকাজ করেছেন এবং বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা কী এমন তিরস্কারযোগ্য কাজ করলেন সেটা কোন প্যারামিটারে যাচাই করা হলো বাংলাদেশ ব্যাংক সেটার কোন ব্যাখা দেয় নাই। সরকারি ব্যাংকগুলোতে বিনিয়োগ প্রদান করা বা রিকভারির কাজে কর্মকর্তা কর্মচারিদের যে তৎপরতা রয়েছে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি কাজ করেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। সম্প্রতি পত্রপত্রিকার খবরে বলা হয়েছে সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপী ঋণের অবস্থা ভয়াবহ। সেখানে রয়েছে বিপুল পরিমাণে প্রভিশন ঘাটতি। শুধুমাত্র জনতা ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ৪৮ হাজার ৩১ কোটি টাকা। একই ভাবে সোনালী, অগ্রণী, রূপালী, কৃষি এবং রাকাবেরও।

যেসব ব্যাংক বড় ধরণের প্রভিশন ঘাটতিতে পড়েছে তাদের এ সমস্যার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমানভাবে দায়ী। খেলাপী গ্রাহকদের সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করেছে। এখন তাদের সমস্যা থেকে উত্তরণের সহজ ব্যবস্থা না করে ব্যাংকারদের উপর আরো নিপীড়ণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ব্যাংকগুলো থেকে বড় বড় লুটেরা ব্যবসায়ী যেসব টাকা লুট করেছে সেগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাহায্য নিয়েই করেছে। এসব অপরাধে ব্যাংকাররা শাস্তি ভোগ করছেন কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন কর্মকর্তাকে এখনো পর্যন্ত শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের যারা এসব অপকর্মে জড়িত ছিলেন তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা না হলে আগামীতে এ ধরণের অপরাধ আরো মহামারি আকার ধারণ করবে।

একাত্তর টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে “সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালি, কৃষি ও রাকাব- এই ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ২০১৯ সালে যেখানে ঘাটতি ছিল মাত্র ৩১ হাজার কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে জনতা ব্যাংক, যাদের মূলধন ঘাটতি একাই ৬৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এই বিপুল অঙ্কের বড়ো অংশই আটকে আছে বেক্সিমকো, এস আলম, অ্যাননটেক্সসহ শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে।” খবরে আরো বলা হয়েছে, ছয় ব্যাংক মিলিয়ে ৩২ হাজার ২৩৯ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি ডেফারেল সুবিধা নিয়ে সাময়িকভাবে আড়াল করা হয়েছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে “রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল অর্থ বের করে নিয়েছে অল্প কিছু ব্যবসায়ী। ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে এসব ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি। এর জন্য সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ইতোপূর্বেও এসব ব্যাংকে মূলধন যোগান দিয়েছিল সরকার। কিন্তু ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত যে নেতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে এই মুহূর্তে সরকারের মূলধন প্রদান করার সক্ষমতা নেই। এছাড়া এসব ব্যাংকে নতুন করে মূলধন দেয়ার নীতি থেকেও বেরিয়ে এসেছে সরকার। তাই ব্যাংক কর্মকর্তারাই এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। তিনি বলেন, ঋণ বিতরণের পর যত ভালো গ্রাহকই হোক ঐ ঋণ তদারকি করা ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কাজ। কিন্তু ব্যাংকগুলো সে কাজ যথাযথভাবে পালন করেনি।

জুন পর্যন্ত ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট খেলাপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ। শীর্ষে রয়েছে জনতা ব্যাংক, যেখানে প্রতি ১০০ টাকার ঋণের ৭১ টাকা ঝুঁকিপূর্ণ। ছয় ব্যাংকের গড় খেলাপি হার প্রায় ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারি ব্যাংকের খেলাপীর হার বেসরকারি ব্যাংকগুলোর তুলনায় সবসময় বেশি।

প্রভিশন ঘাটতির সংকট নিয়ে সরকারি ব্যাংকগুলো মুনাফা না করে লস করলেও কর্মকর্তাদের জন্য প্রণোদনা বোনাস প্রদান করা হবে আর বেসরকারি ব্যাংকগুলো মুনাফা করেও কর্মকর্তারা বোনাস পাবেন না। এ কেমন নীতি! ব্যাংকগুলোর যদি পর্যাপ্ত তারল্য থাকে তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিৎ হবে এ ধরণের নিষেধজ্ঞা তুলে দিয়ে বোনাস প্রদানের বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উপর ছেড়ে দেয়া। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকারদের মধ্যে বৈষম্যমূলক নীতি পরিহার করাই হবে সুবিচার।

তাছাড়া ব্যাংকগুলোর এই বিপুল খেলাপীর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দায় কোন অংশে কম নয়। ব্যাংকগুলোর রেগুলেটর হিসেবে এস আলম, বেক্সিমকো এবং অ্যাননটেক্সের মত বড় বড় খেলাপীরা যেন বেশি বেশি টাকা পাচার এবং অবৈধ বিনিয়োগ সুবিধা নিতে পারে সেজন্য সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার লিমিট পরিবর্তন সহ নানাবিধ অবৈধ সুযোগ তৈরি করে দিতে বার বার নতুন নতুন আইন তৈরি করেছে এবং সার্কুলার দিয়ে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করেছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বেসরকারি ব্যাংকারদের উপর ছড়ি ঘুরানোর কোন সীমা পরিসীমা নাই। দেশের ব্যাংকখাতের এতবড় ঋণ খেলাপী ও প্রভিশন ঘাটতির সমান দায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা প্রতি বছর ৫ থেকে ৮টি বোনাস ভোগ করেন কোন নৈতিক শক্তির বলে? বেসরকারি ব্যাংকারদের সুযোগ সুবিধা বন্ধ করার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সুযোগ সুবিধা বন্ধ করতে হবে। অভিভাবক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোনাস সবার শেষে নেয়া উচিত।

সুসাশন প্রতিষ্ঠার জন্যই বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার দিয়ে থাকে। কিন্তু এই বিভাজনমূলক সার্কুলারের ফলে সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা আগামীতেও খেলাপী ঋণের বিষয়ে উদাসীন থাকবে। বাড়তে থাকবে খেলাপী ঋণ। ব্যংকারদের থাকবেনা কোন মাথা ব্যাথা। ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্যাংক খাতের সুসাশন। ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়া অমূলক নয়। তাই এই সার্কুলার বাতিল করে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রণোদনামূলক বোনাস ব্যাংকগুলোর উপর ছেড়ে দেয়াই উত্তম। আর একই সমস্যার দুই ধরণের সমাধান দিয়ে জটিলতা বৃদ্ধি না করে বেসরকারি ব্যাংকারদেরও বিশেষ উপায়ে প্রণোদনা বোনাসের আওতায় আনা হোক।

লেখক: জাওয়াদ কারীম, গবেষক
ইমেইল: karimjawad1979@gmail.com

এমকে

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

সিরাজুদ্দৌলার মৃত্যুতে বাংলা হারিয়েছিলাম, হাদির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ফিরে পেতে চাই বাংলাদেশ

Published

on

ডিএসই

আমি হয় জনতার অধিকার প্রতিষ্ঠা করব, নয় শহীদ হব। এটাই কি একজন নেতার পরিচয়? নবাব সিরাজুদ্দৌলার মৃত্যুর পর অসম্পূর্ণ বাংলা কি সত্যিই এমন একজন নেতার সন্ধান করছে? যদি করে থাকে, তাহলে আমরা হাদিকে পেয়েও কেন তাকে ধরে রাখতে পারলাম না? হাদি কি ভুল জগতে এসেছিল, নাকি অন্ধদের জগতে আয়না নিয়ে এসেছিল? আজ বাংলার আংশিক ভূখণ্ড বাংলাদেশ কি তার জবাব দিতে পারবে?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বাংলাদেশ কি মনে করছে হাদি হেরেছে? বাংলাদেশ কি একটুও হারেনি? আঠারো কোটি মানুষের দেশে প্রতিদিন কত মানুষের জীবন শেষ হয়। পরিবার ভেঙে পড়ে, কান্নায় চোখ ভিজে যায়। কিন্তু এবার একজন হাদির মৃত্যুতে খোদার আরশ কেঁদেছে। কারণ এ মৃত্যু সাধারণ নয়। এটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজীবন মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

হাদি আজ সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। পুরো বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমি নিজেও সেই সকাল থেকে নীরবতা পালন করছি। কিছুক্ষণ আগে হঠাৎ হৃদয়ের গভীরে এক তীব্র উপলব্ধি নেমে এলো। ঠিক তখনই লিখতে বসেছি, হাদির স্মরণে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

নবাব সিরাজুদ্দৌলার মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে এক গভীর অন্ধকার নেমে আসে। তাঁর পতনের সঙ্গে সঙ্গেই বাংলার রাজনৈতিক আত্মমর্যাদা ভেঙে পড়ে এবং স্বাধীন শাসনের শেষ স্তম্ভটি ধসে যায়। এই মৃত্যু ছিল কেবল একজন শাসকের অবসান নয়, বরং তৎকালীন বাংলার সার্বভৌমত্ব হারানোর সূচনাক্ষণ। এখানে বাংলা বলতে বোঝানো হয় সেই সময়ের সুবা বাংলা, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং উড়িষ্যার বিস্তৃত অঞ্চল। ক্ষমতার শূন্যতায় বিশ্বাসঘাতকতা ও লোভের দরজা খুলে যায়, আর সেই ফাঁক দিয়েই ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ধীরে ধীরে এই সমগ্র ভূঅঞ্চলের কর্তৃত্ব দখল করে নেয়। ফলশ্রুতিতে বাংলা হাতছাড়া হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘদিনের জন্য ব্রিটিশ শাসনের অধীন এক পরাধীন ভূখণ্ডে পরিণত হয়।

আমি সাত সাগর দেখেছি, আমি সাত আশ্চর্য দেখেছি, আমি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। আমি শেখ পরিবারের পতন দেখেছি। আমি ওলফ পালমের মৃত্যু দেখেছি। আমি ২০১৯ সালের করোনা মহামারিতে লাখো মানুষের মৃত্যু দেখেছি। আমি ২০২৪ সালের গণহত্যার করুণ পরিণতি দেখেছি। আমি হাদিকে শহীদ হতে দেখলাম। কিন্তু আমি বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন হতে দেখিনি।

কারণ জানেন, আমরা পথভ্রষ্ট একটি জাতি। দুর্নীতি আর অকৃতজ্ঞতায় ডুবে থাকা এই সমাজ কি সত্যিই স্বাধীনতার সাধ গ্রহণ করার যোগ্য? এই প্রশ্ন আজও আমার বিবেককে জাগিয়ে রাখে। সেই জাগরণের মধ্যেই জন্ম নেয় আরেকটি প্রশ্ন। নবাব সিরাজুদ্দৌলার মৃত্যুর পর বাংলার সেই দেশের ভবিষ্যৎ কি হবে?

আমার মনে আজ আরেকটি প্রশ্ন জাগে। সেই ১৯৪৭ সালে বাংলার একটি ভূখণ্ড, পূর্ব পাকিস্তান, কি ভারতের দয়ায় ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়েছিল? সেইজন্যই কি আজও আমরা প্রকৃত স্বাধীনতার মর্যাদা পাইনি? কারণ বাংলাদেশ কেবল একটি মানচিত্র নয়। বাংলাদেশ একটি বিস্তৃত মানবভূমি, যেখানে ভুপেন হাজারিকার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় মানুষের অভিন্ন আত্মার গান।

একই আশা, একই ভালোবাসা
কান্না হাসির একই ভাষা
দুঃখ সুখের বুকের মাঝে একই যন্ত্রণা
ও আমার দুই চোখে দুই জলের ধারা
মেঘনা, যমুনা
গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা…

এই গান শুধু সুর নয়। এটি আমাদের অস্তিত্বের আর্তনাদ। আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা সবাই একই যন্ত্রণার সন্তান। অথচ সেই সত্যকে ভুলে গিয়ে আমরা যখন বিভক্ত হই, তখনই হাদির মতো মানুষ একা হয়ে আলো জ্বালাতে আসে।

হাদি হারেনি। হেরেছি আমরা। হাদির মৃত্যু কোনো পরাজয় নয়। এটি আমাদের বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ইতিহাস একদিন প্রশ্ন করবে, আমরা কি এমন একজন মানুষকে চিনতে পারিনি, না কি চিনেও বাঁচাতে চাইনি।

হাদি আজ নেই, কিন্তু তার স্মৃতি আমাদের সামনে আয়নার মতো ধরে রেখেছে। সেই আয়নায় যদি আমরা নিজেদের বিকৃত মুখ দেখি, দায় নয় আয়নার, দায় আমাদের। হাদির স্মৃতির সামনে দাঁড়িয়ে আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই। আমরা কি সত্যিকারের স্বাধীন হতে চাই, নাকি শহীদের রক্ত দেখেও চুপ করে থাকার অভ্যাসটাই আমাদের নিয়তি হয়ে গেছে? ইতিহাস আমাদের শেখায়, একটি মৃত্যুর পরই কখনো কখনো একটি জাতি তার ভবিষ্যৎ হারিয়ে ফেলে। নবাব সিরাজুদ্দৌলার মৃত্যুর পর আমরা বাংলা হারিয়েছিলাম। সেই হারানোর ক্ষত আজও শুকায়নি।

হাদির মৃত্যুর পর আর হারাতে চাই না। আর কোনো ভূমি নয়, আর কোনো আত্মা নয়, আর কোনো নেমকহারামি নয়, আর কোনো প্রাণ হানি নয়। এই মৃত্যুর মধ্য দিয়েই আমি বাংলাদেশকে ফিরে পেতে চাই।

রহমান মৃধা, গবেষক এবং লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

নৈতিক ব্যবসা থেকে মানবকল্যাণভিত্তিক অর্থনীতি: বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা

Published

on

ডিএসই

বিশ্ব অর্থনীতি আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে নৈতিকতা এবং মানব কল্যাণ কোনো নৈতিক বিলাসিতা নয় বরং টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বাস্তবতা আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশটি সাম্প্রতিক দশকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করলেও সেই অগ্রগতি দুর্নীতি, বৈষম্য, প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দখলের কারণে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

গ্লোবাল অর্থনীতির প্রবাহ আজ নৈতিক বিনিয়োগ, স্বচ্ছতা, ডিজিটাল জবাবদিহি এবং মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। উন্নত বিশ্বের কর্পোরেট কাঠামো ইতিমধ্যে বুঝে ফেলেছে যে মানব কল্যাণ, ন্যায্যতা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কর্মীর প্রতি সম্মান শুধু দায়িত্ব নয় বরং অর্থনৈতিক সাফল্যের শক্তিশালী ভিত্তি। বাংলাদেশের পথচলা তাই স্পষ্ট। নৈতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠা এবং মানবকল্যাণকে জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দিতে পারলেই দেশ একটি স্থিতিশীল, সম্মানজনক এবং সমৃদ্ধ অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এই লিখাটি সেই পথনকশা তুলে ধরে। এখানে গ্লোবাল বিজনেস পাসপেক্টিভকে ভিত্তি করে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা, ব্যবসা পরিবেশ, দুর্নীতি কাঠামো, সিন্ডিকেট অর্থনীতি এবং মানব উন্নয়নের সব দিক সমন্বিতভাবে আলোচিত হয়েছে। লক্ষ্য একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা যেখানে অর্থনীতি মানুষের জন্য কাজ করবে এবং ব্যবসা হবে নৈতিকতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত এমন এক রূপান্তর পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যেখানে ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রযুক্তি, মানবিক মূল্যবোধ এবং টেকসই উন্নয়ন। ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত সম্প্রসারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লব, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতার নিয়ম এখন ব্যবসার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে।

বিশ্বের প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা, লিঙ্গ সমতা, কর্পোরেট জবাবদিহি এবং পরিচ্ছন্ন সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি কোম্পানি কোথায়, কীভাবে এবং কোন নৈতিক প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন করে তা এখন বাজার নির্ধারণের অন্যতম উপাদান। ফলে নৈতিকতার অভাব সরাসরি বিনিয়োগ, ব্র্যান্ড ইমেজ এবং বাজার প্রতিযোগিতা কমিয়ে দিচ্ছে।

সংক্ষেপে বলা যায়, যারা নৈতিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয় তারা শুধু মানুষের আস্থা অর্জন করে না বরং বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার শক্তি অর্জন করে। বাংলাদেশের জন্য এই শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নৈতিক ব্যবসা বলতে শুধু সৎ প্রশাসন বোঝায় না। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো যা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক স্তরে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, দায়িত্ববোধ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করে। বিশ্বে স্বীকৃত নৈতিক ব্যবসার মানদণ্ডগুলো হলো-
দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন
স্বচ্ছ বিনিয়োগ ব্যবস্থা
ন্যায়সংগত বাজার প্রতিযোগিতা
শ্রমিক অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ
পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উৎপাদন
সামাজিক দায়বদ্ধতার অনুভূতি
উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহির চর্চা
লাভের সুষম বন্টন এবং কর্মীদের প্রতি ন্যায্যতা

যে প্রতিষ্ঠানগুলো এ মানদণ্ড অনুসরণ করে তারা স্থানীয় বাজারে এবং বৈশ্বিক বাজারে সবচেয়ে স্থিতিশীল হয়। নৈতিকতা সেখানে শুধু শোভাকর নয় বরং ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের শক্তিশালী অস্ত্র।

বাংলাদেশে আজ অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি এক কঠিন বাস্তবতা বিদ্যমান। জনসংখ্যা কাঠামো, যুব সম্ভাবনা এবং ডিজিটাল অগ্রগতির মতো বড় সুবিধা থাকলেও দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

দেশের বাজার ব্যবস্থা প্রায় সব খাতেই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। কৃষিপণ্য থেকে বন্দর পরিচালনা, জ্বালানি থেকে আমদানি ব্যবসা, এমনকি শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য খাতেও এই অনিয়মের প্রভাব রয়েছে। ফলে ন্যায্যমূল্য, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজার প্রবাহ সবই বিকৃত হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের শিক্ষা কাঠামো বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। মুখস্থনির্ভর শিক্ষা, দক্ষতার অভাব, নৈতিকতা শিক্ষা অনুপস্থিতি এবং প্রযুক্তিভিত্তিক জ্ঞান ঘাটতি আগামী প্রজন্মকে প্রতিযোগিতা সক্ষমতার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে।

তবে সুযোগ এখনও বিশাল। বাংলাদেশের জনগণের শক্তি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং তরুণ উদ্যোক্তা শ্রেণি একটি বৃহৎ সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নৈতিক অর্থনৈতিক কাঠামো।

একটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিক্ষাব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা কাঠামোতে কয়েকটি মূল সীমাবদ্ধতা রয়েছে যা দেশের উন্নয়নকে ধীর করে দিচ্ছে।
পাঠ্যবই এবং জ্ঞান কাঠামো বিশ্বমানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
মুখস্থ নির্ভর মূল্যায়ন ব্যবস্থা শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি সীমাবদ্ধ করে।
নৈতিকতা চরিত্র গঠন রাজনীতি অর্থনীতি এবং গ্লোবাল ব্যবসা সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দুর্বল।
শিক্ষকের মান উন্নয়ন যথেষ্ট নয়।
ডিজিটাল এবং প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা পিছিয়ে।
উচ্চশিক্ষায় গবেষণা এবং উদ্ভাবনের পরিবেশ দুর্বল।

এই কাঠামো দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেতৃত্ব দিতে হলে তাদের নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং মানবকেন্দ্রিক নেতৃত্বের মূল্যবোধ তৈরি করতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি যদি নৈতিক ব্যবসা এবং মানবকল্যাণ ভিত্তিক উন্নয়ন মডেলে রূপান্তরিত হতে চায় তবে শিক্ষাব্যবস্থা হবে সেই ভিত্তি। শিক্ষা এবং অর্থনীতি একে অপরের সম্পূরক। তাই পাঠ্যক্রমে নৈতিক ব্যবসা, গ্লোবাল অর্থনীতি, ডিজিটাল দক্ষতা এবং মানবিক মূল্যবোধের বিস্তৃত অন্তর্ভুক্তি অপরিহার্য।

বাংলাদেশে সিন্ডিকেট অর্থনীতি নতুন নয়। এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, দলীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে। এর প্রভাব ভয়ংকর।

কৃষি বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি হওয়ায় উৎপাদক ন্যায্যমূল্য পায় না।
জ্বালানি বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্য বাড়ানো হয়।
আমদানি খাতে গোষ্ঠীভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত।
বন্দর ব্যবস্থাপনায় গোপন সমঝোতা ব্যবসার ব্যয় বাড়ায়।
সিন্ডিকেট স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ গবেষণা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করে।

এই পরিস্থিতি শুধু বাজার ব্যাহত করে না বরং নৈতিক উদ্যোক্তা সংস্কৃতি ধ্বংস করে। নতুন উদ্যোক্তা বাজারে টিকতে পারে না, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারায়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ে এবং পুরো অর্থনীতি একটি অদৃশ্য শক্তির কবলে পড়ে।

নৈতিক ব্যবসার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে এই সিন্ডিকেট এবং দুর্নীতির কাঠামো। তাই মানবকল্যাণ ভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথম কাজ হচ্ছে এই অনৈতিক শক্তির শিকড় উপড়ে ফেলা, স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা এবং রাষ্ট্র, ব্যবসা এবং নাগরিক সমাজের শক্তসমন্বিত ভূমিকা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশে ব্যবসা পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু নীতি থাকা যথেষ্ট নয়। কার্যকর Institutional Framework এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি সরকারি খাত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সংস্থা মিলিতভাবে দায়িত্ব নিলে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের প্রভাব হ্রাস পাবে।

ডিজিটাল অডিটিং, স্বচ্ছ তথ্যপ্রকাশ, ব্যাংকিং ও ফিনটেক প্ল্যাটফর্মে লেনদেন, এবং স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ কাঠামোর মূল ভিত্তি। এই ব্যবস্থা প্রতিটি ব্যবসা লেনদেনকে ট্র্যাকযোগ্য করে তোলে এবং জনসাধারণ, সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করে।

সাথে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নৈতিক ও সাসটেইনেবল প্র্যাকটিসে উদ্বুদ্ধ করতে কর সুবিধা, প্রশিক্ষণ এবং বিনিয়োগ সহজলভ্য করা অত্যন্ত জরুরি। এটি কেবল ব্যবসায়িক পরিবেশকে শক্তিশালী করবে না, বরং জাতির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও দৃঢ় করবে।

বাংলাদেশে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট এবং প্রশাসনিক অনিয়মের মূল উৎস হলো ক্যাশ ভিত্তিক লেনদেন। ক্যাশের মাধ্যমে অডিট ট্রেইল নেই, লেনদেন সহজে লুকানো যায়। তাই ক্যাশের পরিবর্তে কার্ড সিস্টেম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করা অপরিহার্য।

ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিটি অর্থপ্রদানের রেকর্ড রাখা যায়। এটি ট্যাক্স ফাঁকি, অবৈধ কমিশন এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে আনে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, হাটবাজার, কৃষি এবং সরকারি প্রকল্পে ডিজিটাল পেমেন্ট প্রবর্তন করলে জবাবদিহিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

ডিজিটাল অর্থনীতি কেবল দুর্নীতি কমায় না, বরং বিদেশি বিনিয়োগ, নৈতিক ব্যবসা সংস্কৃতি, স্বচ্ছ বাজার এবং সামাজিক আস্থা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এটি একটি ন্যাশনাল ইকোনমিক সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে কাজ করবে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে AI, অটোমেশন, ডেটা গভর্ন্যান্স এবং ডিজিটাল কমপ্লায়েন্সের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই প্রযুক্তিগত রূপান্তরকে গ্রহণ করা জরুরি।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরবরাহ চেইন স্বচ্ছ করা, প্রতিটি লেনদেন মনিটর করা, উৎপাদন ও বিতরণ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মী দক্ষতা উন্নয়ন করা সম্ভব। এছাড়া, ডিজিটাল উদ্ভাবন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করে, সৃজনশীল ব্যবসা প্রবাহ বাড়ায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় করে।

বাংলাদেশ একটি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। নৈতিক ব্যবসার মধ্যে পরিবেশগত দায়িত্ব সংযুক্ত করা ছাড়া কোনো টেকসই অর্থনীতি সম্ভব নয়।

সবুজ উৎপাদন, কার্বন নিরপেক্ষ প্রযুক্তি, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবহার এবং পরিবেশ বান্ধব শিল্পপ্রক্রিয়া গ্রহণ করলে দেশের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী হবে।

টেকসই কৃষি ও পুনঃনবীকরণযোগ্য শক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং দূরবর্তী অঞ্চলের জনগণও সমৃদ্ধিতে অংশ নেবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি হলো এসএমই খাত এবং কৃষি। নৈতিক ব্যবসা ও স্বচ্ছ বাজার নিশ্চিত করলে এসএমই দ্রুত সম্প্রসারণ পাবে।

কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে, গ্রামীণ উদ্যোক্তা স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে, নারী উদ্যোক্তা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী অর্থনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারবে।

এসব ক্ষেত্রে ডিজিটাল পেমেন্ট এবং টেকসই সরবরাহ চেইন কার্যকর হলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

নৈতিক ব্যবসার একটি প্রধান সুফল হলো সামাজিক ন্যায়বিচার। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন এবং শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করা।

সকল স্তরে নৈতিকতার প্রভাব সমাজকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক করে তোলে। রাষ্ট্র ও ব্যবসা একযোগে কাজ করলে সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সমতা নিশ্চিত হবে।

বাংলাদেশের জন্য টেকসই ও নৈতিক অর্থনীতির রোডম্যাপ:
১. শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকীকরণ: নৈতিকতা, প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন
২. ডিজিটাল পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করা
৩. Institutional Framework শক্তিশালী: অডিটিং, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি
৪. টেকসই উৎপাদন এবং সবুজ অর্থনীতি সম্প্রসারণ
৫. এসএমই ও কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা
৬. মানবকল্যাণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
৭. আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি গ্রহণ
৮. সিন্ডিকেট, ভেজাল ও দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা

এই রোডম্যাপ বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে না, বরং নৈতিক, মানবিক এবং টেকসই রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক মানের উদাহরণ হবে।

রহমান মৃধা, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

পুঁজিবাজারের সর্বশেষ

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার18 hours ago

ডিএসইতে নতুন জেনারেল ম্যানেজার হাসান তারেক চৌধুরী

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে জেনারেল ম্যানেজার এইচআর অ্যান্ড এডমিন হিসাবে যোগদান করেছেন হাসান তারেক চৌধুরী। (ডিএসইতে যোগদানের পূর্বে...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার18 hours ago

জিপিএইচ ইস্পাতের ক্যাটাগরি অবনতি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের ক্যাটাগরির অবনতি হয়েছে। গত ৩০ জুন,২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশের উপর ভিত্তি করে...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার18 hours ago

নগদ লভ্যাংশ পাঠিয়েছে ইবনে সিনা ফার্মা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ৩০ জুন,২০২৫ সমাপ্ত হিসাববছরের ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠিয়েছে।  AdLink...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার18 hours ago

ফিনিক্স ফাইন্যান্সের ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার20 hours ago

ব্লক মার্কেটে ১৯ কোটি টাকার লেনদেন

বছরের প্রথম কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে মোট ১৫টি কোম্পানির ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার20 hours ago

আরামিটের সর্বোচ্চ দরপতন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে আরামিট লিমিটেড। ডিএসই সূত্রে...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার20 hours ago

দর বৃদ্ধির শীর্ষে এপেক্স স্পিনিং

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেয়ার দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে এপেক্স স্পিনিং ও নিটিং মিলস লিমিটেড। ডিএসই...

সোশ্যাল মিডিয়া

তারিখ অনুযায়ী সংবাদ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
ডিএসই
জাতীয়46 seconds ago

পে-স্কেলে গ্রেড নিয়ে কমিশনে ৩ প্রস্তাবনা

ডিএসই
জাতীয়34 minutes ago

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মালদ্বীপের বিশেষ দূতের সাক্ষাৎ

ডিএসই
রাজনীতি37 minutes ago

খালেদা জিয়ার জন্য বিএনপির দোয়া মাহফিল আজ

ডিএসই
অর্থনীতি49 minutes ago

ফয়জুল করিমের ব্যাংকে আছে ১ হাজার টাকা, স্ত্রীর কাছে ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকার

ডিএসই
অর্থনীতি1 hour ago

কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে চিনির দাম

ডিএসই
রাজনীতি1 hour ago

জিএম কাদের নগদ টাকা বেড়েছে, রয়েছে বাড়ি ও ৮৫ লাখ টাকার গাড়ি

ডিএসই
রাজনীতি12 hours ago

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন

ডিএসই
জাতীয়12 hours ago

খালেদা জিয়ার জানাজায় প্রকৃত সার্কের চেতনা দেখেছি: প্রধান উপদেষ্টা

ডিএসই
অর্থনীতি13 hours ago

ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় আসেনি যে ৭ ব্যাংকে

ডিএসই
জাতীয়13 hours ago

অন্তর্বর্তী সরকার ভালো নির্বাচন উপহার দেবে: প্রেস সচিব

ডিএসই
জাতীয়46 seconds ago

পে-স্কেলে গ্রেড নিয়ে কমিশনে ৩ প্রস্তাবনা

ডিএসই
জাতীয়34 minutes ago

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মালদ্বীপের বিশেষ দূতের সাক্ষাৎ

ডিএসই
রাজনীতি37 minutes ago

খালেদা জিয়ার জন্য বিএনপির দোয়া মাহফিল আজ

ডিএসই
অর্থনীতি49 minutes ago

ফয়জুল করিমের ব্যাংকে আছে ১ হাজার টাকা, স্ত্রীর কাছে ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকার

ডিএসই
অর্থনীতি1 hour ago

কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে চিনির দাম

ডিএসই
রাজনীতি1 hour ago

জিএম কাদের নগদ টাকা বেড়েছে, রয়েছে বাড়ি ও ৮৫ লাখ টাকার গাড়ি

ডিএসই
রাজনীতি12 hours ago

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন

ডিএসই
জাতীয়12 hours ago

খালেদা জিয়ার জানাজায় প্রকৃত সার্কের চেতনা দেখেছি: প্রধান উপদেষ্টা

ডিএসই
অর্থনীতি13 hours ago

ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় আসেনি যে ৭ ব্যাংকে

ডিএসই
জাতীয়13 hours ago

অন্তর্বর্তী সরকার ভালো নির্বাচন উপহার দেবে: প্রেস সচিব

ডিএসই
জাতীয়46 seconds ago

পে-স্কেলে গ্রেড নিয়ে কমিশনে ৩ প্রস্তাবনা

ডিএসই
জাতীয়34 minutes ago

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মালদ্বীপের বিশেষ দূতের সাক্ষাৎ

ডিএসই
রাজনীতি37 minutes ago

খালেদা জিয়ার জন্য বিএনপির দোয়া মাহফিল আজ

ডিএসই
অর্থনীতি49 minutes ago

ফয়জুল করিমের ব্যাংকে আছে ১ হাজার টাকা, স্ত্রীর কাছে ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকার

ডিএসই
অর্থনীতি1 hour ago

কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে চিনির দাম

ডিএসই
রাজনীতি1 hour ago

জিএম কাদের নগদ টাকা বেড়েছে, রয়েছে বাড়ি ও ৮৫ লাখ টাকার গাড়ি

ডিএসই
রাজনীতি12 hours ago

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন

ডিএসই
জাতীয়12 hours ago

খালেদা জিয়ার জানাজায় প্রকৃত সার্কের চেতনা দেখেছি: প্রধান উপদেষ্টা

ডিএসই
অর্থনীতি13 hours ago

ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় আসেনি যে ৭ ব্যাংকে

ডিএসই
জাতীয়13 hours ago

অন্তর্বর্তী সরকার ভালো নির্বাচন উপহার দেবে: প্রেস সচিব