আন্তর্জাতিক
ফেসবুক-গুগলসহ ১৫ মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিতে হামলার হুমকি ইরানের
উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কোম্পানির কর্মী ও আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ লোকজনকে অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরানের এই বাহিনী।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘আমেরিকান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানিগুলোকে আমরা সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ও শনাক্ত করেছি… তাই এখন থেকে মার্কিন এসব প্রতিষ্ঠান আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।’’
আইআরজিসি বলেছে, বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে বোয়িং, টেসলা, মেটা, গুগল এবং অ্যাপলসহ ১৫টিরও বেশি কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি দেশটির ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘‘ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধীরা বর্তমানে প্রকাশ্য ও নির্লজ্জভাবে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বোমা হামলা চালাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার।’’
ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, ইসরায়েল যে ভুলটি করছে তা হলো তারা প্রতিরক্ষাহীন কোনও ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিককে মোকাবিলা করছে না। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী আগ্রাসনকারীদের কঠোর শাস্তি দেবে।
সূত্র: আল জাজিরা।
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধ অবসান ও শান্তি ফেরাতে পাকিস্তান-চীনের পাঁচ দফার প্রস্তাব
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ ও শিগগিরই এই বিষয়ে শান্তি আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে চীন এবং পাকিস্তান। মঙ্গলবার বেইজিংয়ে পাকিস্তান ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক বৈঠকের পর ওই আহ্বান জানিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে পাঁচ দফার প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং এবং ইসলামাবাদ। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত বলে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত হয়েছেন।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির জলসীমায় আটকে পড়া জাহাজ ও ক্রুদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর লক্ষ্যে প্রকাশিত পাঁচ দফার যৌথ উদ্যোগে উভয় দেশ ওই আহ্বান জানিয়েছে।
- চীন ও পাকিস্তানের ৫ দফা উদ্যোগ
বেইজিংয়ে আলোচনার পর পারস্য উপসাগর ও ইরানে ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের’ লক্ষ্যে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার ৫ দফার একটি উদ্যোগ প্রকাশ করেছেন।
১. মধ্যপ্রাচ্যে ‘অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ’ এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায় চীন ও পাকিস্তান
২. ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিগগিরই শান্তি আলোচনা শুরু করা উচিত। উভয় দেশ বলেছে, এই আলোচনা শুরু করার উদ্যোগে সব পক্ষকে সমর্থন জানাবে চীন এবং পাকিস্তান।
৩. বেসামরিক নাগরিক এবং সামরিক নয়; এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
৪. হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল পথ নিরাপদ করতে হবে।
৫. জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি বিস্তৃত শান্তি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সূত্র: আল জাজিরা, ডন।
আন্তর্জাতিক
রাশিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৯ জন নিহত
রাশিয়ার ক্রিমিয়ায় একটি সামরিক পরিবহন বিধ্বস্ত হয়ে ২৯ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে এ তথ্য জানায় রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
বার্তাসংস্থা তাস নিউজ মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলেছে, কৃষ্ণ সাগরের কাছে ক্রিমিয়ার একটি পাহাড়ের চূড়ায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু এবং ২৩ জন সাধারণ যাত্রী মারা গেছেন।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, “মস্কোর সময় অনুযায়ী ৩১ মার্চ রাত ৮টার দিকে একটি এএন-২৬ সামরিক পরিবহন বিমান রাডার থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। বিমানটি ক্রিমিয়ায় একটি পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট অনুযায়ী উড়ছিল।”
বিমানটিতে সর্বমোট কতজন যাত্রী ছিলেন সেটি স্পষ্ট করেনি রাশিয়া। তবে কেউ বেঁচে থাকার তথ্য জানায়নি দেশটি।
বার্তাসংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।
এএন-২৬ সামরিক পরিবহন বিমানগুলো ১৯৬০ এর দশক থেকে চলছে। এগুলো মালবহনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এ মডেলের একাধিক বিমান এর আগে বিধ্বস্ত হয়েছিল।
২০২২ সালে ইউক্রেনের একটি এএন-২৬ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে একজন প্রাণ হারান। তারও আগে ২০২০ সালে দেশটির আরেকটি এএন-২৬ বিধ্বস্ত হয়ে ২৬ জন নিহত হন। তবে বিমানটিতে থাকা এক যাত্রী অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।
অপরদিকে দক্ষিণ সুদানে রুশ সেনাবাহিনীর এএন-২৬ বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছিলেন। যারমধ্যে পাঁচজন ছিলেন রুশ নাগরিক। এছাড়া ২০১৭ সালে তাদের আরেকটি বিমান আইভরি কোস্টে বিধব্স্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় ১০ জন প্রাণ হারান।
সূত্র: এএফপি
আন্তর্জাতিক
বিশ্ববাজারে প্রতিদিন জ্বালানি তেলের ঘাটতি সোয়া কোটি ব্যারেল
ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার এক মাস পার হলেও বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বৈশ্বিক সরবরাহ এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বিশ্ব বাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এ বিশাল ঘাটতি কেবল মজুদ রাখা জ্বালানি তেল দিয়ে মেটানো সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন তারা। খবর রয়টার্স।
বিশ্বের বর্তমান এ জ্বালানি সংকটের মূলে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। সংকীর্ণ জলপথটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘তেলের রুট’ হিসেবে পরিচিত। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, পরিশোধিত পণ্য ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। কিন্তু সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। মার্চে হাতেগোনা কয়েকটি জাহাজ এ পথ অতিক্রম করতে পেরেছে। ফলে জ্বালানি বাজার এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
যদিও ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল দাবি করছে, তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বকে দুর্বল করে দিতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এই দাবি খুব একটা স্বস্তি বয়ে আনছে না। বাস্তব চিত্র হলো, ট্যাংকারগুলো এখনো হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। অন্যদিকে, ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তেহরান বিশ্ব অর্থনীতিকে এক প্রকার জিম্মি করে রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি’ বা ‘ওর্স্ট-কেস সিনারিও’ তখনই তৈরি হবে যদি ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরব বা আরব আমিরাতের তেল শোধনাগার, পাইপলাইন ও রফতানি টার্মিনালগুলোতে ব্যাপক হামলা চালায়। গুঞ্জন রয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল বা হরমুজ প্রণালির ছোট দ্বীপগুলো দখল করতে স্থল সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন। যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়, তবে সেটি ইরানকে বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক হামলার দিকে উসকে দিতে পারে। আর এমনটি হলে বিশ্ব অর্থনীতি এক নজিরবিহীন জ্বালানি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।
এ সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে এশিয়ায়। কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি এশিয়ার দেশগুলোতে যায়। ফলে এই অঞ্চলে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সিঙ্গাপুরে জেট ফুয়েলের দাম গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে ২২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ডিজেল তৈরির মূল উপাদান গ্যাসঅয়েলের দামও দ্বিগুণ হয়েছে এবং পেট্রলের দাম বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।
অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো এখন জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানির জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পথে জ্বালানি তেল রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।
উদ্বেগের বিষয়, এ সংঘাত লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা যদি পথ বন্ধ করে দেয়, তবে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রফতানি আরো কঠিন হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে জাহাজগুলোকে সুয়েজ খাল হয়ে অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে, যা পরিবহন খরচ ও সময় দুটিই বাড়িয়ে দেবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। গতকাল এশিয়ায় লেনদেনের শুরুতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলার ৫৫ সেন্টে পৌঁছেছে। হামলা শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এটি প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি তেলের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা বলা মুশকিল। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি স্বল্পতা এবং উচ্চমূল্যের এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক
ইরানে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ফেলল যুক্তরাষ্ট্র!
ইরানে একটি বিশাল বিস্ফোরণের ভিডিও শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে ইসফাহান শহরে ঘটেছে। ফুটেজে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ দেখা যায়, যার পরপরই বিশাল অগ্নিকাণ্ডে ভোরের আকাশ কমলা আভায় আলোকিত হয়ে ওঠে।
ট্রাম্প ভিডিওটির কোনো প্রেক্ষাপট দেননি, তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে এটি ইসফাহানে একটি বড় অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার দৃশ্য। প্রায় ২৩ লাখ জনসংখ্যার এই শহরটি বদর সামরিক বিমানঘাঁটির জন্যও পরিচিত। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
মার্কিন এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইসফাহানের ওই অস্ত্রাগারে প্রায় ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা নিক্ষেপ করেছে।
তিনি বলেন, ‘এই হামলায় বিপুল পরিমাণ বাঙ্কার বাস্টার বা পেনিট্রেটর মিউনিশন ব্যবহার করা হয়েছে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় একাধিক শক্তিশালী সেকেন্ডারি বিস্ফোরণ ঘটে, যা বিশাল অগ্নিগোলক ও শকওয়েভ তৈরি করে। যুদ্ধ যখন দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করেছে, ঠিক সেই সময় এই হামলার কারণে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তান, মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্ক সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে বৈঠক করেছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান প্রায় ৫৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ইসফাহানের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে থাকতে পারে। গত বছর ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়ও এই শহরটি লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল, যেখানে মূলত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো টার্গেট করা হয়।
ট্রাম্পের হুমকির পরই এই হামলার খবর এলো। সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে দ্রুত কোনো চুক্তি না হলে ইরানের জ্বালানি সম্পদ, পারমাণবিক স্থাপনা ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়া হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যদি আলোচনায় সমঝোতায় না পৌঁছায় এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলো ধ্বংস করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করে আসছেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা এই দাবি সমর্থন করেনি।
সূত্র: এনডিটিভি
আন্তর্জাতিক
মার্কিন হামলায় ইরানের ত্রাণ সংগ্রহকারী বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত
ইরানের মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শিকার হয়েছে একটি বেসামরিক বিমান। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিতে ত্রাণ সংগ্রহে যাওয়ার আগে হামলার শিকার হয় ইরানি বিমান পরিষেবা সংস্থা মাহান এয়ার-এর বিমানটি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথবাহিনীকে হামলার জন্য দায়ী করে তেহরান বলেছে, “এই হামলার ফলে একটি পরিকল্পিত মানবিক মিশনের উদ্দেশ্যে বেসামরিক ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে।”
দিল্লি থেকে ওই বিমানটির ১১ টন মানবিক সাহায্য (ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং খাদ্য) আনার কথা ছিল বলে জানিয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার। এই ঘটনার জেরে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রায় ১৬-১৭টি বাণিজ্যিক যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান ধ্বংস হয়েছিল। সেই হামলার সময় ইসরায়েল দাবি করেছিল যে ওই উড়োজাহাজগুলো গোপনে নিয়ন্ত্রণ করত ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি) এবং কুদস ফোর্স এসব উড়োজাহাজ ব্যবহার করে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ) এবং আশাব আল-কাহ্ফ, ইয়েমেনের হুথির মতো পশ্চিম এশিয়ার শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ করত।
তবে পশ্চিমা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রচারিত স্যাটেলাইটচিত্রে দাবি করা হয়েছে সেগুলি সাধারণ যাত্রিবাহী ও পণ্যবাহী বিমান ছিল। এ বার ইসরায়েল দাবি করেছে যে ইরানের সেনা এয়ার ইরান এবং মাহান এয়ারের মতো বাণিজ্যিক যাত্রিবাহী ফ্লাইট ব্যবহার করে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার জন্য অস্ত্র পরিবহণ করছে।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত ১৮ মার্চ ইরানে প্রথম মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছিল ভারত। সেই সাহায্যকে ‘দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সভ্যতাগত ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক’ বলেছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে বারেও ইরানের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের মাধ্যমেই মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার।
সূত্র : এএফপি



