আইন-আদালত
পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা ফেরত আনল সিআইডি
অনলাইনভিত্তিক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এমটিএফই (মেটারভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ)-এর মাধ্যমে পাচার হওয়া বিপুল অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। উদ্ধারকৃত অর্থের পরিমাণ ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকারও বেশি।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার জানান, উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের নামে এমটিএফই গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। ২০২৩ সালে খিলগাঁও থানায় জনৈক ভুক্তভোগীর করা দুই লাখ টাকা প্রতারণার মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে সিআইডি। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী কয়েকশ কোটি টাকা খুইয়েছেন।
সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এমটিএফই। ফেসবুক ও ইউটিউবে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টে কৃত্রিম মুনাফা দেখানো হতো। শুরুতে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করলেও ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে কার্যক্রম বন্ধ করে চক্রটি উধাও হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছিল।
পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়ায় সিআইডি আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ‘ওকেএক্স’ (OKX)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং ব্লকচেইন বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্থের উৎস নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনায় সোনালী ব্যাংকে সরকারি হিসাব খুলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেড’-এর সহায়তায় ক্রিপ্টোকারেন্সিকে বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
সিআইডি জানায়, বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে এবং ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের লোভনীয় অফারের ফাঁদে না পড়ার জন্য সিআইডির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আইন-আদালত
৬ দিনের রিমান্ডে সাবেক সেনাকর্মকর্তা আফজাল নাছের
এক এগারোর সময়ে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সেনাকর্মকর্তা আফজাল নাছেরকে ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার সিএমএম আদালতে তাকে হাজির করা হলে বিচারক মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন। শুনানিতে তার বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাদের নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ তোলে রাষ্ট্রপক্ষ।
২০০৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন আফজাল নাছের। এক এগারোর সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বহু রাজনৈতিক নেতাকে নির্যাতনে বার বার নাম আসে তার।
জুলাইয়ের আন্দোলনে মিরপুরের দেলোয়ার হত্যা মামলায় রোববার মধ্যরাতে আফজাল নাছেরকে আটক করে ডিবি। সোমবার বিকেলে আদালতে নিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে বয়স বিবেচনায় রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বয়োবৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ায় বাধা দিয়েছিলেন আফজাল।
এ পর্যন্ত এক এগারোর কুশিলব তিন সেনাকর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আইন-আদালত
আসিফ মাহমুদের এপিএস মোয়াজ্জেমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।
এদিন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) উপপরিদর্শক মো. আব্দুল হান্নান তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।
ওই আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) থাকাকালীন সময়ে তদবির বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিকানা অর্জন করেন। এসব অর্থ তিনি অবৈধ উপায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার পূর্বক সম্পত্তি অর্জন করার বিষয়ে মানিলন্ডারিং অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি যেকোন সময় বিদেশ গমণ করতে পারে বিধায় অনুসন্ধানটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিদেশ গমণ রোধ করা বিশেষ প্রয়োজন। অনুসন্ধানটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিদেশ গমণ রোধ করার জন্য বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন), বাংলাদেশ পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ঢাকাকে আদেশ দানে মর্জি হয়।
এর আগে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৪ মে একই আদালত মোয়াজ্জেম হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।
আইন-আদালত
সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান হান্নান ও স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের আদেশ
বাহিনী সাবেক প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান পৃথক দুটি আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা করদাতা। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের মূল আয়কর নথি খোলার সময় থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র/তথ্যাদি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৬ মে আব্দুল হান্নানের এসব সম্পদ জব্দের আদেশ দেন আদালত।
আইন-আদালত
বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা আফজাল নাছের গ্রেপ্তার
রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে বরখাস্ত হওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
রোববার (৩০ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন বলেন, রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে বরখাস্ত হওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। রোববার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের কারণ ও বিস্তারিত বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি ডিবির এই কর্মকর্তা।
এর আগে এক-এগারো সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তারা বর্তমানে ডিবির কাছে রিমান্ডে রয়েছেন।
জানা গেছে, আফজাল নাছের ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন। কর্নেল আফজাল নাছের ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর বরখাস্ত হন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। সেনাবাহিনীর চাকরিতে যোগদান করেন ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই।
আইন-আদালত
কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম আটক
রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিমকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২৯ মার্চ) শাহ আলী থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মিরপুর চিড়িয়াখানার সামনে থেকে স্থানীয় জনতা তাকে আটকে রেখেছিল। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের ঘটনাবলি নিয়ে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সেগুলো আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’



