আন্তর্জাতিক
খামেনি হত্যা ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’: জাতিসংঘে ইরানের চিঠি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহতের ঘটনায় জাতিসংঘে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
চিঠিতে খামেনির হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এই ঘটনা একটি ‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন উত্তেজনা’ তৈরি করেছে, যা রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক আদর্শ এবং জাতিগুলোর মধ্যে সভ্য আচরণের পরিপন্থী।
ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর যথাযথ বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। তেহরানের দাবি, এই ধরনের কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে আব্বাস আরাঘচি আরও বলেন, এ ধরনের আচরণ কেবল আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার লঙ্ঘনই নয়; বরং এটি একটি বিপজ্জনক ‘প্যান্ডোরার বক্স’ খুলে দেওয়ার শামিল। এটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সমতা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার মূলে আঘাত হেনেছে।
আরাঘচি বলেন, ইরান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যেন তারা বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সনদে দেওয়া নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি আরও যোগ করেন, উল্লিখিত এই নৃশংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি সরকারকে পুরোপুরি জবাবদিহিতার আওতায় আনতে অবিলম্বে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সূত্র : আলজাজিরা।
এমএন
আন্তর্জাতিক
স্থায়ী শান্তিচুক্তির পরিবর্তে অস্থায়ী সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে মতবিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় স্থায়ী শান্তিচুক্তির ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ থেকে সরে এসেছেন মার্কিন ও ইরানি সরকারি প্রতিনিধিরা। স্থায়ী শান্তি চুক্তির পরিবর্তে তারা এখন পরিবর্তে এখন একটি অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য চেষ্টা করছেন।
যদি এই অস্থায়ী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির আলোচনার জন্য আরও ৬০ দিন সময় পাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এবং সেই আলোচনায় যুক্ত হবেন জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি’র (আইএইএ) প্রতিনিধিরাও।
তেহরানের উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্মতার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী নিয়ে প্রায় দুই যুগ ধরে বিরোধ চলছে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে। এ বিরোধের জেরেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ।
এই যুদ্ধের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। এর ফলে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয় এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়, যা দিনকে দিন তীব্রতর হচ্ছে।
টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারপর একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা; কিন্তু ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও ব্যর্থ হয় সেই বৈঠক।
বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট্র একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ ইরানের পরমাণু প্রকল্প, ইউরেনিয়ামের মজুত এবং পরমাণু প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে নিয়ে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের গভীর মতপার্থক্য।
অবশ্য ইসলাবাদ বৈঠক থেকে যে ইতিবাচক কিছুই আসেনি— এমন নয়। বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যি জাহাজের নিরাপদ চলাচল। যুদ্ধের অংশ হিসেবে ২৮ ফেব্রুয়ারির পর হরমুজে জলমাইন পেতেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। ফলে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল। আগে যেখানে প্রতিদিন এই প্রণালিতে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, যুদ্ধের পর তা নেমে এসেছে মাত্র ১০ থেকে ১২টিতে।
ইসলামাবাদের বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে এবং ফ্রিজড থাকা অর্থ-সম্পদের অন্তত কিছু অবমুক্ত করে— তাহলে হরমুজ দিয়ে আরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে।
কিন্তু পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দুই পক্ষের মতবিরোধের কারণে হরমুজসহ আরও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। পুরো বৈঠকের বিরাট অংশ জুড়ে ছিল ইরানের পরমাণু প্রকল্প।
ইরানি সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র চায় যে ইরান তার ইউরেনিয়ামের মজুত ‘ছেড়ে দিক’ এবং আগামী ২০ বছরের জন্য যাবতীয় পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ রাখুক। অন্যদিকে ইরান ইউরেনিয়ামের মজুত ‘ছেড়ে দেওয়ার’ পক্ষপাতী নয়; ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অবশ্য স্থগিত করতে সম্মত আছে ইরান, তবে সেটি ২০ বছরের জন্য নয়, বড়জোর ৩ কিংবা ৫ বছরের জন্য।
উল্লেখ্য ইরানের কাছে অন্তত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম আছে, যার বিশুদ্ধতার মাত্রা ৬০ শতাংশ। বিশুদ্ধতার এই মাত্রাকে যতি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তাহলে এই ইউরেনিয়াম দিয়ে পরমাণু অস্ত্র বানানো সম্ভব।
এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে ইসলামাবাদের বৈঠকে অংশ নেওয়া মার্কিন প্রতিনিধি দলের এক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তিনি বলেছেন, “চুক্তির পথে এখনও সবচেয় বড় বাধা ইরানের পরমাণু প্রকল্প।”
সূত্র : রয়টার্স
আন্তর্জাতিক
জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল পাকিস্তান নৌবাহিনী
নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা ও অভিযানগত প্রস্তুতি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল অগ্নিপরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি উচ্চ গতিতে ও বর্ধিত পাল্লা থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যা ‘প্রস্তুতি ও নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতার এক দৃঢ় প্রদর্শন’।
দেশটির নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে নিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন।
পাকিস্তান আইএসপিআর বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি অত্যাধুনিক দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা এবং উন্নত পরিচালনা ক্ষমতা দিয়ে সজ্জিত, যা এটিকে হুমকি এড়াতে, পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দেশীয়ভাবে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং পরিচালন দক্ষতার সমন্বয়কে তুলে ধরে।
এতে উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষাটি একটি বিশ্বাসযোগ্য সমুদ্র-ভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রাখা এবং এই অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান নৌবাহিনীর অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান এবং সার্ভিস প্রধানরা এই মাইলফলক অর্জনের জন্য অংশগ্রহণকারী ইউনিট ও বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তান নৌবাহিনী পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একই ধরনের সাফল্যের পর সাম্প্রতিক এই সফল পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হলো।
গত ১০ জানুয়ারি, দেশটির নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগরে একটি নৌ-মহড়ার সময় ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে, যা ক্রমবিকাশমান নৌ-যুদ্ধের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচলিত ও চালকবিহীন উভয় ধরনের সক্ষমতার প্রদর্শন।
এর আগে, পাকিস্তান বিমান বাহিনী দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র ব্যবস্থা ‘তৈমুর’-এর একটি সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করে, যা ৬০০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুপক্ষের স্থল ও সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
সূত্র: জিও নিউজ
আন্তর্জাতিক
অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে আগুন, ভয়াবহ সংকটের আশঙ্কা
অস্ট্রেলিয়ার একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। মেলবোর্নের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জিলং শহরের কোরিও এলাকায় অবস্থিত ভিভা এনার্জির একটি তেল শোধনাগারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশটির জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার মধ্যরাতের কিছু আগে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। এ সময়েই সেখানে বিস্ফোরণ ও আগুনের খবর পাওয়া যায়। প্রায় ১৩ ঘণ্টা জ্বলতে থাকার পর বৃহস্পতিবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনার সময় কর্মরত সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
শোধনাগারটি ভিক্টোরিয়া রাজ্যের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং জাতীয়ভাবে প্রায় ১০ শতাংশ জ্বালানি উৎপাদন করে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এটি এখনো আংশিকভাবে চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার আগে থেকেই চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। সরকার কোম্পানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
শোধনাগারটির প্রধান নির্বাহী স্কট ওয়ায়াট বলেন, আগুনে দুটি পেট্রোল উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ইউনিট অক্ষত রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বর্তমানে পেট্রোল, ডিজেল এবং জেট ফুয়েলের উৎপাদন আংশিকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জিওলংয়ের মেয়র স্ট্রেচ কন্টেলজ এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের ধাক্কা সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের কারণ ছিল যন্ত্রপাতির ত্রুটি, এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন প্রস্তাব ইরানের
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচলের ব্যাপারে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যদি প্রণালির ওমান অংশ দিয়ে চলাচল করতে পারবে। ইরান সেক্ষেত্রে হামলা চালাবে না।
তবে এক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। ইরানি সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটি তখনই কার্যকর কিংবা বাস্তবায়নযোগ্য হবে— যখন ওয়াশিংটন তেহরানের দাবিগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে।
১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরকে যুক্ত করেছে। এই প্রণালীর উত্তর উপকূলে ইরান এবং দক্ষিণ উপকূলে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী। কারণ, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের জন্য এই প্রণালীর গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ এই তিন দেশের জ্বালানি পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ দিয়ে আসে। সার, রাসায়নিক ও অন্যান্য পণ্যের পরিবহনের জন্যও এ প্রণালি প্রয়োজনীয়।
স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। এর ফলে জ্বালানি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ঘুরপথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারে। বিশ্বের অনেক দেশেই বাড়ছে তেলের দাম, সরবরাহ সংকটও দেখা দিয়েছে।
এছাড়া ইরান অবরোধ জারি করার পর থেকে হরমুজে আটকা পড়েছে শত শত জাহাজ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজে কয়েক শ’ জাহাজ এবং ২ হাজারেরও বেশি ক্রু আটকা অবস্থায় আছেন।
বিশ্বজুড়ে হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করার দাবি প্রতিদিন জোরাল হচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা।
তবে বর্তমানে যে অবস্থা, তাতে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ মুক্ত করে দেওয়া ইরানের জন্য বেশ কঠিন। কারণ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর হরমুজে জলমাইন পেতেছিল ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। কিন্তু প্রণালির কোন কোন জায়গায় মাইন স্থাপন করা হয়েছিল, তা এখন শনাক্ত করতে পারছে না আইআরজিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রণালির যেসব জায়গায় মাইন পাতা হয়েছে, সেসব ঠিকমতো নথিভুক্ত বা রেকর্ড করেনি আইআরজিসি।
হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন সরাতে ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। সেই তৎপরতার অংশ হিসেবে ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করা হয়েছে। ফলে একদিকে ইরানের কোনো বন্দর থেকে জাহাজ বের হতে পারছে না, অন্যদিকে বিদেশি কোনো জাহাজ প্রবেশও করতে পারছে না।
হরমুজ থেকে মাইন অপসারণের ব্যাপারে ইরান সহযোগিতা করবে কি-না— এ ব্যাপারে ইরানের সরকারি সূত্রকে প্রশ্ন করেছিল রয়টার্স। কিন্তু সূত্রের তরফ থেকে কোনো উত্তর আসেনি। তবে ইরানের নতুন প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তর ও বাসভবনের কোনো কর্মকর্তা এ ইস্যুতে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সূত্র : রয়টার্স
আন্তর্জাতিক
এবার লোহিত সাগর অবরোধ করার হুঁশিয়ারি ইরানের
মার্কিন নৌ অবরোধ (হরমুজ প্রণালীতে) অব্যাহত থাকলে লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের মধ্য দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি। খবর টাইমস অব ইসরাইলের।
তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি তার অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে, তবে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ‘একটি ভূমিকা’ হিসেবে গণ্য হবে।”
আলী আবদোল্লাহি আরও বলেন, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে কোনো ধরনের রফতানি বা আমদানি চলতে দেবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনীর ‘আরও হাজারো’ সদস্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে।
জানা গেছে, সেনা পাঠানোর বিষয়ে জানেন এমন মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি এই খবর প্রকাশ করেছে। তবে খবরটি প্রকাশ করে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এখনো স্বাধীনভাবে এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্র দু’টি নতুন শর্ত দিয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা দুই দিনের মধ্যে শুরু হতে পারে। তার দাবি, ওয়াশিংটনকে ‘সঠিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিরাই’ ডেকেছেন এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান।
নতুন দফা আলোচনা শুরুর আগে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ ও অবাধে’ পুনরায় খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়োম’।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘পারস্পরিকতার অবস্থানে’ অটল রয়েছে। অর্থাৎ, ইরান যদি হরমুজ দিয়ে জাহাজ ও ট্যাংকার চলাচলে বাধা দেয়, তবে তাদের নিজেদের জাহাজ এবং ট্যাংকারগুলোকেও এর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে দেয়া হবে না।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শর্ত হলো, যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য ইরানের প্রতিনিধিদলকে অবশ্যই ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কাছ থেকে পূর্ণ কর্তৃত্ব পেতে হবে। ওয়াশিংটন চায়, ইসলামাবাদে হওয়া যেকোনো সমঝোতায় সরকারের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্মতি থাকুক।
যুক্তরাষ্ট্রও বলছে, তারা আলোচনায় ফিরবে কেবল তখনই, যখন ইরানের প্রতিনিধিদল চুক্তি সম্পন্ন করার ‘পূর্ণ ক্ষমতা’ নিয়ে আসবে।
প্রথম শান্তি আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হওয়ার কয়েকদিন পর, উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ নিরসনের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচক দল এই সপ্তাহের শেষের দিকে পাকিস্তানে ফিরতে পারে বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই এসব ঘটনা ঘটল।
ইরানি ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই পরিকল্পনাগুলো সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেননি মার্কিন কর্মকর্তারা।
আলোচনায় যুক্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলগুলোকে আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য ইসলামাবাদে ফিরে আসার একটি প্রস্তাব ওয়াশিংটন ও তেহরানে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি, তবে উভয় দেশ এই সপ্তাহের শেষের দিকেই ফিরতে পারে।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার চার দিন পর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি ছিল মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্পৃক্ততা।



