জাতীয়
ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে: এলজিআরডি মন্ত্রী
ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (১ মার্চ) সকালে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেজন্য ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার চেষ্টা থাকবে। জেলা প্রশাসকের পক্ষে থেকে হাসপাতালে আরেকটি লিফটের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ এলাকার মানুষ যেনো স্বাস্থ্য সেবা পায়। সেই বিষযে আমরা সজাগ থাকবো। হাসপাতাল সুপারকে বলা হয়েছে যা যা প্রয়োজন, আমাদের জানালে আমরা সেভাবে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করে দিতে পারবো।
‘আমি হাসপাতালের সিভিল সার্জনসহ কর্মকর্তাদের অনুরোধ করব স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটা যাতে এ জেলায় ভালো হয়, সাধারণ মানুষ যাতে ভালো চিকিৎসা পায়– সেই অনুয়ায়ী আমাদের সীমিত সম্পদ দিয়ে যেন কাজ করতে পারি’, যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যারা দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে কর্মরত আছেন, সেই বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। খবু দ্রুত ঠিকঠাক করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসময় জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ফিরোজ জামান জুয়েল, জেলা বিএনপির সভাপতি ফয়সল আমিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
জাতীয়
তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব ব্যাপার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, প্রত্যেকে দায়িত্বশীল আচরণ করলে গ্রাহক পর্যায়ে জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। তবে বর্তমানে ‘তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা! অস্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করা আসলে একটি অসম্ভব ব্যাপার’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আপনারা সকলে বোঝেন, এটা অস্বাভাবিক চাহিদা। অস্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করা আসলে একটি অসম্ভব ব্যাপার।” তিনি আরও জানান, প্রতিনিয়ত হাজার হাজার লিটার তেল অবৈধ মজুতদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ফুয়েল পাসের পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করেছি, আমাদের আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আমি ভীষণভাবে আশাবাদী, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই (জ্বালানির জন্য) লম্বা লাইন সংক্ষিপ্ত হবে।’
লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের পিক আওয়ার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় আমাদের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। এই চাহিদার বিপরীতে আমাদের উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৮৪৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ লোডশেডিং ছিল ৪৮১ মেগাওয়াট। এই লোডশেডিং আমাদেরকে ডিস্ট্রিবিউট করতে হয়েছে। চট্টগ্রামে লোডশিডিং ছিল মাত্র ৩৫ মেগাওয়াট।’
এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা দাবি করেন, চট্টগ্রামে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার তথ্য আপনার কাছে থাকুক, আমি অফিশিয়াল চ্যানেল থেকে তথ্য পেয়েছি। আপনার কাছে কী তথ্য আছে সেটা আপনার কাছে…আর যখন আমার চেয়ার থেকে কথা বলছি, আমার প্রতিটি অংক, প্রতিটি শব্দের পেছনে দায়িত্বশীলতা আছে। আপনি আপনারটা নিয়ে আরগু করতে পারেন, আই অ্যাম সরি ফর দ্যাট।’
অমিত আরও বলেন, এলএনজির মূল সোর্স ছিল কাতার এনার্জি। আজকে যে বাস্তবতা, আগামী পাঁচ বছর লাগবে এটা পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে। যে কারণে বিকল্পভাবে সোর্সিং করতে হচ্ছে। এই সংকটগুলো তো কারও অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই।
এই পরিস্থিতিতে সরকার কৃষি ও শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা বোরো মৌসুম। সেচ পাম্প চালাতে কৃষকের যেন কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, তার পিক আওয়ারে সে যেন বিদ্যুৎ পায়, সে যেন ডিজেল পায়—এটাকে যেমন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একইসঙ্গে শিল্প উৎপাদন যেন কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয়; কারণ এর সঙ্গে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যাপার রয়েছে।
‘কিছু ক্ষেত্রে আমাদেরকে হাউস হোল্ডে লোড শেডিংয়ের মাত্রা বাড়াতে হচ্ছে। কারণ আমাদের ওই দুটি জায়গায় ফোকাস করতে হচ্ছে। মে মাসের প্রথম থেকে ফসল ওঠা শুরু করবে। তখন কৃষির (বিদ্যুৎ) চাহিদা কমে যাবে। স্বাভাবিকভাবে এটা (বিদ্যুৎ) তখন আবার আমরা বাসাবাড়িতে সরবরাহ করতে পারবো,’ জানান তিনি।
জাতীয়
মধ্যরাতে শুরু হজ ফ্লাইট, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
সৌদি সরকার ঘোষিত হজ ব্যবস্থাপনার রোডম্যাপ অনুসারে আজ (শুক্রবার) মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশ থেকে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করবেন তিনি। উদ্বোধনী ফ্লাইটে থাকবেন ৪১৯ জন হজযাত্রী।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উদ্বোধনী ফ্লাইটটি ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এদিন মোট ১৪টি ফ্লাইট রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, চারটি সৌদি আরবের সাউদিয়া ও চারটি ফ্লাইনাস পরিবহন করবে।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করবেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের জন্য যাবেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হজচুক্তি অনুসারে মোট হজযাত্রীর শতকরা ৫০ ভাগ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাকি ৫০ ভাগের মধ্যে সৌদি আরবের সাউদিয়া শতকরা ৩৫ ভাগ ও ফ্লাইনাস ১৫ ভাগ হজযাত্রী পরিবহন করবে।
২১ মে প্রি-হজ ফ্লাইট শেষ হবে। প্রি-হজ ফ্লাইট ২০৭টি, যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়ার ৭৫টি ও ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা ১ জুলাই শেষ হবে।
জাতীয়
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট পেল কমিশনিং লাইসেন্স
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশনিং লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। এর মাধ্যমে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পথে আরেকটি বড় অগ্রগতি অর্জিত হলো।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং লাইসেন্স এবং সংশ্লিষ্ট পার্সোনাল অথরাইজেশন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলামের নিকট হস্তান্তর করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে লাইসেন্সটি প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এখন কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রস্তুত।
লাইসেন্স প্রাপ্তির পূর্বে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রয়োজনীয় সকল কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করে। একই সঙ্গে জাতীয় নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিভিন্ন ধাপে পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এসব কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।
এ সময় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জ্বালানি লোডিং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন করা হয় এবং পরবর্তী পর্যায়ে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাধ্যমে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হতে যাচ্ছে ।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হওয়ায় নির্ধারিত সময়েই এ কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শুরুর প্রায় তিন মাসের মধ্যেই কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটবে।
পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম সম্পন্ন করে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এই অগ্রগতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয়
পদত্যাগ করলেন শিক্ষামন্ত্রীর পিএস
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একান্ত সচিব (পিএস) পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে আজই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. খান মইনুদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।’ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাউশির শীর্ষ পদে আসীন হতেই তিনি পিএস পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ড. খান মইনুদ্দিন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার সমিতির আহ্বায়ক এবং বিসিএস ১৬তম ব্যাচের একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেও তিনি তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে মাউশির মাধ্যমিক উইংয়ের পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল।
জাতীয়
প্রতিশোধ প্রতিহিংসা নয়, সহনশীলতাকে গুরুত্ব দিন: প্রধানমন্ত্রী
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা বা অযথা বিতর্ক নয়। জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেওয়ার পর তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়িয়ে চলা সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশে জ্বালানি তেল বা ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দেশে এখনও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। এই খাতে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতি বছর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের অবদান যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না। প্রথমেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরণোত্তর পুরস্কারটি গ্রহন করেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তিনি ‘দাদু’র পদক গ্রহণ করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে’ সার্বিক অবদানের জন্য।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে’ সার্বিক অবদানের জন্য।
খালেদা জিয়াসহ মরণোত্তর এই সম্মাননা পেয়েছেন সাতজন। এরা হলেন- মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজ সেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান।
মেজর জলিলের পক্ষে তার কণ্যা ব্যারিস্টার সারা জলিল, ড. আশরাফ সিদ্দিকীর পক্ষে তার মেয়ে ড. তাসনিম আরিফা সিদ্দিকা ,জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে তার ছেলে বারীশ হাসান চৌধুরী, মাহেরীন চৌধুরীর পক্ষে তার স্বামী মনসুর হেলাল, বশির আহমেদের পক্ষে তার হুমায়ারা বশির এবং কাজী ফজলুর রহমানের পক্ষে তার কন্যা তাবাসুম শাহনাজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।
বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজ সেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার নেন।
অধ্যাপক জহুরুল করিমের পক্ষে তার পুত্র হারুনুর রশীদ এবং একেএম হানিফ, জোবেরা রহমান, সাইদুল হক, মোহাম্মদ আবদুল বাকী, এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, আবদুল মুকিত মজমুদার প্রত্যেকে নিজে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নেন।
এ বছর যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত করা হয়েছে তা হলো, মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসা বিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে।



