আন্তর্জাতিক
রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত
রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আরও ২৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র কেনার অনুমোদন দিয়েছে ভারত। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিএসি এস-৪০০ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেমের জন্য ২৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অব নেসেসিটি’ অনুমোদন দিয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সামরিক আধুনিকীকরণ ও পরিচালনাগত চাহিদা পূরণে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অব নেসেসিটি’ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে সরাসরি এস-৪০০-এর উল্লেখ না থাকলেও যুদ্ধবিমান, মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট, রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনার কথা বলা হয়।
প্রতিবেদন বলছে, ভারতীয় বিমানবাহিনী রাশিয়ার কাছ থেকে আরও এস-৪০০ সিস্টেম সংগ্রহ করতে চায়, যা প্যান্টসির স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে ব্যবহৃত হবে। অনুমোদিত ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১২০টি স্বল্পপাল্লার এবং ১৬৮টি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এসব কেনাকাটা দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ভারতের হাতে চারটি এস-৪০০ সিস্টেম রয়েছে। চলতি বছর আরও দুটি সিস্টেম সরবরাহ পাওয়ার কথা রয়েছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
বিশ্ববাজারে প্রতিদিন জ্বালানি তেলের ঘাটতি সোয়া কোটি ব্যারেল
ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার এক মাস পার হলেও বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বৈশ্বিক সরবরাহ এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বিশ্ব বাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এ বিশাল ঘাটতি কেবল মজুদ রাখা জ্বালানি তেল দিয়ে মেটানো সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন তারা। খবর রয়টার্স।
বিশ্বের বর্তমান এ জ্বালানি সংকটের মূলে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। সংকীর্ণ জলপথটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘তেলের রুট’ হিসেবে পরিচিত। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, পরিশোধিত পণ্য ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। কিন্তু সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। মার্চে হাতেগোনা কয়েকটি জাহাজ এ পথ অতিক্রম করতে পেরেছে। ফলে জ্বালানি বাজার এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
যদিও ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল দাবি করছে, তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বকে দুর্বল করে দিতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এই দাবি খুব একটা স্বস্তি বয়ে আনছে না। বাস্তব চিত্র হলো, ট্যাংকারগুলো এখনো হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। অন্যদিকে, ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তেহরান বিশ্ব অর্থনীতিকে এক প্রকার জিম্মি করে রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি’ বা ‘ওর্স্ট-কেস সিনারিও’ তখনই তৈরি হবে যদি ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরব বা আরব আমিরাতের তেল শোধনাগার, পাইপলাইন ও রফতানি টার্মিনালগুলোতে ব্যাপক হামলা চালায়। গুঞ্জন রয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল বা হরমুজ প্রণালির ছোট দ্বীপগুলো দখল করতে স্থল সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন। যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়, তবে সেটি ইরানকে বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক হামলার দিকে উসকে দিতে পারে। আর এমনটি হলে বিশ্ব অর্থনীতি এক নজিরবিহীন জ্বালানি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।
এ সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে এশিয়ায়। কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি এশিয়ার দেশগুলোতে যায়। ফলে এই অঞ্চলে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সিঙ্গাপুরে জেট ফুয়েলের দাম গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে ২২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ডিজেল তৈরির মূল উপাদান গ্যাসঅয়েলের দামও দ্বিগুণ হয়েছে এবং পেট্রলের দাম বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।
অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো এখন জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানির জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পথে জ্বালানি তেল রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।
উদ্বেগের বিষয়, এ সংঘাত লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা যদি পথ বন্ধ করে দেয়, তবে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রফতানি আরো কঠিন হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে জাহাজগুলোকে সুয়েজ খাল হয়ে অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে, যা পরিবহন খরচ ও সময় দুটিই বাড়িয়ে দেবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। গতকাল এশিয়ায় লেনদেনের শুরুতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলার ৫৫ সেন্টে পৌঁছেছে। হামলা শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এটি প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি তেলের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা বলা মুশকিল। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি স্বল্পতা এবং উচ্চমূল্যের এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক
ইরানে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ফেলল যুক্তরাষ্ট্র!
ইরানে একটি বিশাল বিস্ফোরণের ভিডিও শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে ইসফাহান শহরে ঘটেছে। ফুটেজে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ দেখা যায়, যার পরপরই বিশাল অগ্নিকাণ্ডে ভোরের আকাশ কমলা আভায় আলোকিত হয়ে ওঠে।
ট্রাম্প ভিডিওটির কোনো প্রেক্ষাপট দেননি, তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে এটি ইসফাহানে একটি বড় অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার দৃশ্য। প্রায় ২৩ লাখ জনসংখ্যার এই শহরটি বদর সামরিক বিমানঘাঁটির জন্যও পরিচিত। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
মার্কিন এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইসফাহানের ওই অস্ত্রাগারে প্রায় ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা নিক্ষেপ করেছে।
তিনি বলেন, ‘এই হামলায় বিপুল পরিমাণ বাঙ্কার বাস্টার বা পেনিট্রেটর মিউনিশন ব্যবহার করা হয়েছে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় একাধিক শক্তিশালী সেকেন্ডারি বিস্ফোরণ ঘটে, যা বিশাল অগ্নিগোলক ও শকওয়েভ তৈরি করে। যুদ্ধ যখন দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করেছে, ঠিক সেই সময় এই হামলার কারণে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তান, মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্ক সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে বৈঠক করেছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান প্রায় ৫৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ইসফাহানের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে থাকতে পারে। গত বছর ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়ও এই শহরটি লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল, যেখানে মূলত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো টার্গেট করা হয়।
ট্রাম্পের হুমকির পরই এই হামলার খবর এলো। সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে দ্রুত কোনো চুক্তি না হলে ইরানের জ্বালানি সম্পদ, পারমাণবিক স্থাপনা ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়া হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যদি আলোচনায় সমঝোতায় না পৌঁছায় এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলো ধ্বংস করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করে আসছেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা এই দাবি সমর্থন করেনি।
সূত্র: এনডিটিভি
আন্তর্জাতিক
মার্কিন হামলায় ইরানের ত্রাণ সংগ্রহকারী বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত
ইরানের মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শিকার হয়েছে একটি বেসামরিক বিমান। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিতে ত্রাণ সংগ্রহে যাওয়ার আগে হামলার শিকার হয় ইরানি বিমান পরিষেবা সংস্থা মাহান এয়ার-এর বিমানটি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথবাহিনীকে হামলার জন্য দায়ী করে তেহরান বলেছে, “এই হামলার ফলে একটি পরিকল্পিত মানবিক মিশনের উদ্দেশ্যে বেসামরিক ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে।”
দিল্লি থেকে ওই বিমানটির ১১ টন মানবিক সাহায্য (ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং খাদ্য) আনার কথা ছিল বলে জানিয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার। এই ঘটনার জেরে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রায় ১৬-১৭টি বাণিজ্যিক যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান ধ্বংস হয়েছিল। সেই হামলার সময় ইসরায়েল দাবি করেছিল যে ওই উড়োজাহাজগুলো গোপনে নিয়ন্ত্রণ করত ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি) এবং কুদস ফোর্স এসব উড়োজাহাজ ব্যবহার করে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ) এবং আশাব আল-কাহ্ফ, ইয়েমেনের হুথির মতো পশ্চিম এশিয়ার শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ করত।
তবে পশ্চিমা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রচারিত স্যাটেলাইটচিত্রে দাবি করা হয়েছে সেগুলি সাধারণ যাত্রিবাহী ও পণ্যবাহী বিমান ছিল। এ বার ইসরায়েল দাবি করেছে যে ইরানের সেনা এয়ার ইরান এবং মাহান এয়ারের মতো বাণিজ্যিক যাত্রিবাহী ফ্লাইট ব্যবহার করে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার জন্য অস্ত্র পরিবহণ করছে।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত ১৮ মার্চ ইরানে প্রথম মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছিল ভারত। সেই সাহায্যকে ‘দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সভ্যতাগত ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক’ বলেছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে বারেও ইরানের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের মাধ্যমেই মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার।
সূত্র : এএফপি
আন্তর্জাতিক
জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন কৌশল, পাকিস্তানে শিগগিরই লকডাউন
মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সংঘাতের কারণে গভীর সংকট মোকাবিলা ও জ্বালানি ব্যবহার কমানোর জন্য পাকিস্তান সংকোচনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী ‘স্মার্ট লকডাউন’ জারির পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে দেশটির ফেডারেল সরকার। প্রধান অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর যে কোনো সময় লকডাউনের চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।
সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
প্রতিবেদন অনুসারে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাজার ও শপিংমল রাত সাড়ে ৯টায় বন্ধ করতে হবে। কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে সর্বোচ্চ ২০০ জন অতিথি থাকতে পারবে, এক পদের খাবার পরিবেশন করা হবে এবং রাত ১০টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। এই বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য হলো বড় জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা ও রাতে বিদ্যুৎ খরচ কমানো।
সরকারি অফিসগুলোতে চালু করা হবে হাইব্রিড কর্মপদ্ধতি। সরকারি দপ্তরে সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিন সশরীরে অফিস, বাকি দুই দিন হোম অফিস করাতে হবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ছয় দিন খোলা পরিষেবা বিভাগগুলো চার দিন অফিসে, দুই দিন অনলাইনে কাজ করবে। উপস্থিতি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, ৫০ শতাংশ রোটা পদ্ধতিও (শিফট সিস্টেম) কার্যকর করা হবে।
বেসরকারি অফিসগুলোর জন্যও একই ধরনের হোম বা রিমোট অফিসের ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
এ ছাড়াও সরকারি যানবাহন ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করবে পাকিস্তান সরকার। নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জ্বালানি বা যানবাহন বাজেয়াপ্ত করার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য সম্মিলিত পরিবহন ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে।
জ্বালানি সংরক্ষণেও জোর দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত ওই পরিকল্পনায়। সরকারি অফিসে সকাল সাড়ে ১০টার আগে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সরকারি খাতের অন্তত ৫০ শতাংশ ভবন সৌরশক্তিতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সমন্বয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ভাতা কমানো, সম্পত্তি ও যানবাহন লেনদেনের কর পরিবর্তন, টোল ট্যাক্স বৃদ্ধি এবং গণপরিবহনের ভাড়া কমিয়ে ব্যবহার উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলো এমন এক সময়ে নেওয়া হলো যখন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে পেট্রোল লিটারপ্রতি ৩২১ রুপি (পাকিস্তানি মুদ্রায়) এবং ডিজেল ৩৩৫ রুপির উপরে উঠেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, পাকিস্তান বৈদেশিক তেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় মূল্যবৃদ্ধি দেশের রিজার্ভ ও চলতি হিসাবের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
এর আগে, গত ২৪ নভেম্বর পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান প্রদেশ সিন্ধুর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী নাসির হুসেন জানান, ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক তেল সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের উপায় হিসেবে সরকার স্মার্ট লকডাউন জারির কথা বিবেচনা করছে। প্রাদেশিক সরকার সরকারি যানবাহনের জ্বালানি খরচ ভাতা ৬০ শতাংশ কমিয়েছে। প্রদেশের স্কুলগুলো ১৬ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক
ইরাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বার্তা
ইরাকের জনগণকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সমর্থন দেয়ার জন্য লিখিত এক বার্তায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
রোববার (২৯ মার্চ) ইরানি গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে বলে এএফপির বরাত দিয়ে করা এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এনডিটিভি।
মোজতবা খামেনির প্রকাশ্যে না আসা নিয়ে তার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে জোর জল্পনা চলছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং দেশটির কিছু কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি বিমান হামলায় আহত হলেও সুস্থ হয়ে উঠছেন।
সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, মোজতবা খামেনি ‘ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেয়া এবং তেহরানের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য ইরাকের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এবং জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করেছেন। এখানে ইরাক-ভিত্তিক গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী সিস্তানির কথা উল্লেখ করেছেন মোজতবা খামেনি।
সংবাদ সংস্থাটি জানায়, শিয়া দল ইসলামিক সুপ্রিম কাউন্সিল অব ইরাক এবং বাগদাদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মধ্যে বৈঠকের পর এই বার্তাটি দেয়া হয়। তবে বার্তাটি কীভাবে পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।



