জাতীয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ চলছে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ বৃহস্পতিবার উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সাথে ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের গণভোটেও। সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এসব কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন—দলীয় ৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ২০ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি; তাদের প্রার্থী সংখ্যা ২৯১ জন। এ নির্বাচনে নিবন্ধিত ১০টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি।
জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করেছে ইসি। ফলে ওই আসন বাদ দিয়ে ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ২৯৯টি আসনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
৩০০ আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে—২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-২ আসনে—৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে পিরোজপুর-১ আসনে সবচেয়ে কম, মাত্র ২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ৬৯ জন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯৮ জন, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং কর্মকর্তা ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৪ জন। এ ছাড়া পোস্টাল ভোটের দায়িত্বে থাকছেন প্রায় ১৫ হাজার কর্মকর্তা।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
প্রথমবারের মতো নির্বাচনের নিরাপত্তায় ইউএভি (আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেল), ড্রোন ও বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
মোতায়েন বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য, ৫টি জেলার ১৭টি আসনে ৫ হাজার নৌসদস্য, ৩ হাজার ৫০০ জন বিমানবাহিনীর সদস্য, ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য, ৩ হাজার ৫৮৫ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ৯ হাজার ৩৪৯ জন র্যাব সদস্য, বিএনসিসির ১২৮টি সেকশনের ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য এবং সহায়ক সেবা হিসেবে ১৩ হাজার ৩৯০ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য।
নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধ আমলে নেওয়া ও সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পন্নের লক্ষ্যে ২৯৯টি আসনে ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। তারা ভোটের আগে দুই দিন, ভোটের দিন ও পরবর্তী দুই দিন—মোট পাঁচ দিন দায়িত্বে থাকবেন (১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি)।
আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতি উপজেলা ও নির্বাচনী থানায় ন্যূনতম দুজন করে মোট ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করছেন।
এ ছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি এসেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রায় ৩৩০ জন পর্যবেক্ষক এবং ৪৫টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে প্রায় ১৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক এসেছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২২৩ জন, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফরেল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ থেকে ২৫ জন, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ১২ জন এবং অন্যান্য সংস্থা থেকে প্রায় ৩০ জন পর্যবেক্ষক রয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ভোটের জন্য ‘বিডি মোবাইল অ্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রবাসী (ওসিভি) ও দেশের অভ্যন্তরের (আইসিপিভি) মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন ভোটার।
এমএন
জাতীয়
ডিএমপির মুখপাত্র হলেন নাসিরুদ্দিন
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার এনএম নাসিরুদ্দিনকে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের মুখপাত্র করা হয়েছে।
শনিবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এক আদেশে নাসিরুদ্দিনকে ডিএমপির পরিবহণ বিভাগ থেকে বদলি করে মুখপাত্র করেন।
একই আদেশে ডিএমপির উপকমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়াকে ডিএমপির পরিবহণ বিভাগের উপকমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া ডিএমপির পি অ্যান্ড আর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ওয়াহিউল ইসলামকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
জাতীয়
বাংলা নববর্ষ উদযাপনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি
‘নববর্ষের ঐক্যতান, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে এবার উদযাপন করা হবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। আগের বছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে বের হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এ তথ্য জানানো হয়। নববর্ষের কর্মসূচি নিয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে সর্বজনীন, সুশৃঙ্খল ও তাৎপর্যপূর্ণ করার জন্য সভা থেকে প্রাথমিক কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এতে সিদ্ধান্ত হয়, ছায়ানটের উদ্যোগে রমনা বটমূলে বরাবরের মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানটি সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন এবং বেতার মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
বেসরকারি চ্যানেলগুলো বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ফিডের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
এতে আরো সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন যথাযথ অনুষ্ঠান আয়োজন করবে। এ কাজে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থাকে (জাসাস) সম্পৃক্ত করা হবে।
সভায় সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে উদযাপনের আহ্বান জানান।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন ড. আজহারুল ইসলাম শেখ, অধ্যাপক কাওসার হাসান টগর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, ঢাকা মেট্রোপলিটন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নজরুল ইসলাম, বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, জাসাস সভাপতি হেলাল খান ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। সভা সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান।
জাতীয়
মাদরাসাপ্রধান নিয়োগে নীতিমালা পরিবর্তন, অধিদপ্তরের নতুন চিঠি
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপি নীতিমালা, ২০২৬-এ পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাদরাসার শীর্ষ পদে—অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপারিনটেডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেডেন্ট নিয়োগ পেতে এখন থেকে ন্যূনতম ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
রবিবার (২৯ মার্চ) মাদরসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। যা সব বেসরকারি মাদরাসার অধ্যক্ষ, সুপার ও ইবতেদায়ি প্রধানদের পাঠানো হয়েছে।
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠির সঙ্গে সম্প্রতি প্রকাশিত কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের এসংক্রান্ত পরিপত্র সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
জাতীয়
সংসদ জনগণের সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র, কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: ডেপুটি স্পিকার
জাতীয় সংসদ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি জাতীয় সংসদে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণে নিরপেক্ষতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন।
রোববার (২৯ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠক শুরু হয়। এ বৈঠকে প্রথমবারের মতো সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, এবারের সংসদকে গতানুগতিক ধারার বাইরে ‘মজলুমদের সংসদ’ ও ‘ঐতিহাসিক সংসদ’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদ পরিচালনার ঘোষণা দেন।
বক্তব্যের শুরুতেই ডেপুটি স্পিকার সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী এবং তার নির্বাচনী এলাকা কলমাকান্দা-দুর্গাপুরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। বিশেষ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং আজ তিনি ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে স্বীকৃত।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানকে গণতন্ত্রের নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। তিনি শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম ও মীর মুগ্ধসহ সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি। আজকের এই সংসদ পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং নির্যাতিত মানুষের ত্যাগের ফসল।
সংসদ পরিচালনায় পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ডেপুটি স্পিকার ঘোষণা করেন, আমি ইতোমধ্যে সরকার এবং দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিতে কাজ করব।
হযরত আবু বকর (রা.)-এর আদর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি সঠিক থাকলে আপনারা সাহায্য করবেন, আর ভুল করলে শুধরে দেবেন। কারণ এই সংসদে আমার চেয়েও অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান অনেকে আছেন।
ত্রয়োদশ সংসদের বিশেষত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সংসদ বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। এখানে কেউ এসেছেন ফাঁসির মঞ্চের কন্ডেম সেল থেকে, কেউ এসেছেন আয়নাঘর থেকে, কেউ দীর্ঘ নির্বাসন থেকে, আর কেউ এসেছেন গুম-নির্যাতনের দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে। আমরা সবাই এখানে মজলুম হিসেবে সমবেত হয়েছি।
বিখ্যাত আইনবিদ এভি ডাইসির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সরকার বা জনগণ—সবাইকে আইনের অধীনে থাকতে হবে। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সুবাদে আমি ওয়েস্টমিনস্টার স্টাইলের গণতন্ত্র সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবো।
বক্তব্যের শেষে তিনি জাতীয় স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গঠনমূলক সমালোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ হবে জাতির দর্পণ এবং আমাদের লক্ষ্য হবে জনগণের কল্যাণ ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
এমএন
জাতীয়
দুর্নীতি নয়, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নই অগ্রাধিকার: স্থানীয় সরকার
সংসদে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে দুর্নীতিকে আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে উন্নয়নের নামে ফ্যাসিবাদি সরকার বড় বড় প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি করেছে। এতে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল অবহেলিত থেকে গেছে। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে।
তাই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে আগামী দিনে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানান তিনি।



