আন্তর্জাতিক
জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু
মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলার বিচার প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় পর জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজি)। জাতিসংঘের এই আদালত ‘বৈশ্বিক আদালত’ (ওয়ার্ল্ড কোর্ট) নামেও পরিচিত।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে জাতিসংঘের আদালতের অবস্থান। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দেশটির স্থানীয় সময় বেলা ১০টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা) মামলার শুনানি শুরু হবে। আগামী ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে এই শুনানিপর্ব।
জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত যে মামলাটি নথিবদ্ধ করা হয়েছিল, সেই মামলার তদন্তকারী দল ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০১৭ সালের জুলাই মাসে বাংলাদশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে বোমা হামলা হয়েছিল। সশস্ত্র রোহিঙ্গাগোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-কে এই হামলার জন্য দায়ী করে মিয়ানমারের সরকার। পরে এ হামলার জের ধরে ওই মাসেই বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
অভিযানের নামে সাধারণ রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে বর্মী সেনাবাহিনীর লাগাতার হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের সামনে টিকতে না পেরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশে পালাতে শুরু করে। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন সে সময়। তারা এখনও বাংলাদেশেই আছেন।
২০১৭ সালে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের পরপরই জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী দল এ ঘটনার তদন্ত করেছিল। সেই দলের তদন্ত প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৯ সালে বৈশ্বিক আদালতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা করেছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিায়া। সেই মামলারই শুনানি শুরু হচ্ছে সোমবার।
মিয়ানমারে যখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছিল, সে সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অং সান সুচি। জাতিসংঘের অনুসন্ধানি দলের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। গাম্বিয়া যখন মামলা করে, তখনও সেই মামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সুচি বলেছিলেন, গাম্বিয়ার অভিযোগ ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’।
২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন সুচি এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকার। বর্তমানে মিয়ানমারের কারাগারে আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে সেনাবাহিনীর আদালতে তার বিচার চলছে।
দেশটিতে বর্তমানে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা জাতিসংঘ, কিছু পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার গোষ্ঠী কর্তৃক অবাধ বা সুষ্ঠু নয় বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
এই বিচারের ফলাফলের প্রভাব মিয়ানমারের বাইরেও পড়বে। সম্ভবত গাজা যুদ্ধের জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইসিজেতে দক্ষিণ আফ্রিকার গণহত্যার মামলার উপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল পাকিস্তান নৌবাহিনী
নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা ও অভিযানগত প্রস্তুতি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল অগ্নিপরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি উচ্চ গতিতে ও বর্ধিত পাল্লা থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যা ‘প্রস্তুতি ও নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতার এক দৃঢ় প্রদর্শন’।
দেশটির নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে নিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন।
পাকিস্তান আইএসপিআর বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি অত্যাধুনিক দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা এবং উন্নত পরিচালনা ক্ষমতা দিয়ে সজ্জিত, যা এটিকে হুমকি এড়াতে, পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দেশীয়ভাবে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং পরিচালন দক্ষতার সমন্বয়কে তুলে ধরে।
এতে উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষাটি একটি বিশ্বাসযোগ্য সমুদ্র-ভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রাখা এবং এই অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান নৌবাহিনীর অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান এবং সার্ভিস প্রধানরা এই মাইলফলক অর্জনের জন্য অংশগ্রহণকারী ইউনিট ও বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তান নৌবাহিনী পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একই ধরনের সাফল্যের পর সাম্প্রতিক এই সফল পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হলো।
গত ১০ জানুয়ারি, দেশটির নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগরে একটি নৌ-মহড়ার সময় ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে, যা ক্রমবিকাশমান নৌ-যুদ্ধের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচলিত ও চালকবিহীন উভয় ধরনের সক্ষমতার প্রদর্শন।
এর আগে, পাকিস্তান বিমান বাহিনী দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র ব্যবস্থা ‘তৈমুর’-এর একটি সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করে, যা ৬০০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুপক্ষের স্থল ও সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
সূত্র: জিও নিউজ
আন্তর্জাতিক
অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে আগুন, ভয়াবহ সংকটের আশঙ্কা
অস্ট্রেলিয়ার একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। মেলবোর্নের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জিলং শহরের কোরিও এলাকায় অবস্থিত ভিভা এনার্জির একটি তেল শোধনাগারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশটির জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার মধ্যরাতের কিছু আগে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। এ সময়েই সেখানে বিস্ফোরণ ও আগুনের খবর পাওয়া যায়। প্রায় ১৩ ঘণ্টা জ্বলতে থাকার পর বৃহস্পতিবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনার সময় কর্মরত সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
শোধনাগারটি ভিক্টোরিয়া রাজ্যের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং জাতীয়ভাবে প্রায় ১০ শতাংশ জ্বালানি উৎপাদন করে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এটি এখনো আংশিকভাবে চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার আগে থেকেই চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। সরকার কোম্পানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
শোধনাগারটির প্রধান নির্বাহী স্কট ওয়ায়াট বলেন, আগুনে দুটি পেট্রোল উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ইউনিট অক্ষত রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বর্তমানে পেট্রোল, ডিজেল এবং জেট ফুয়েলের উৎপাদন আংশিকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জিওলংয়ের মেয়র স্ট্রেচ কন্টেলজ এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের ধাক্কা সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের কারণ ছিল যন্ত্রপাতির ত্রুটি, এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন প্রস্তাব ইরানের
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচলের ব্যাপারে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যদি প্রণালির ওমান অংশ দিয়ে চলাচল করতে পারবে। ইরান সেক্ষেত্রে হামলা চালাবে না।
তবে এক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। ইরানি সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটি তখনই কার্যকর কিংবা বাস্তবায়নযোগ্য হবে— যখন ওয়াশিংটন তেহরানের দাবিগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে।
১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরকে যুক্ত করেছে। এই প্রণালীর উত্তর উপকূলে ইরান এবং দক্ষিণ উপকূলে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী। কারণ, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের জন্য এই প্রণালীর গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ এই তিন দেশের জ্বালানি পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ দিয়ে আসে। সার, রাসায়নিক ও অন্যান্য পণ্যের পরিবহনের জন্যও এ প্রণালি প্রয়োজনীয়।
স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। এর ফলে জ্বালানি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ঘুরপথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারে। বিশ্বের অনেক দেশেই বাড়ছে তেলের দাম, সরবরাহ সংকটও দেখা দিয়েছে।
এছাড়া ইরান অবরোধ জারি করার পর থেকে হরমুজে আটকা পড়েছে শত শত জাহাজ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজে কয়েক শ’ জাহাজ এবং ২ হাজারেরও বেশি ক্রু আটকা অবস্থায় আছেন।
বিশ্বজুড়ে হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করার দাবি প্রতিদিন জোরাল হচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা।
তবে বর্তমানে যে অবস্থা, তাতে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ মুক্ত করে দেওয়া ইরানের জন্য বেশ কঠিন। কারণ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর হরমুজে জলমাইন পেতেছিল ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। কিন্তু প্রণালির কোন কোন জায়গায় মাইন স্থাপন করা হয়েছিল, তা এখন শনাক্ত করতে পারছে না আইআরজিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রণালির যেসব জায়গায় মাইন পাতা হয়েছে, সেসব ঠিকমতো নথিভুক্ত বা রেকর্ড করেনি আইআরজিসি।
হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন সরাতে ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। সেই তৎপরতার অংশ হিসেবে ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করা হয়েছে। ফলে একদিকে ইরানের কোনো বন্দর থেকে জাহাজ বের হতে পারছে না, অন্যদিকে বিদেশি কোনো জাহাজ প্রবেশও করতে পারছে না।
হরমুজ থেকে মাইন অপসারণের ব্যাপারে ইরান সহযোগিতা করবে কি-না— এ ব্যাপারে ইরানের সরকারি সূত্রকে প্রশ্ন করেছিল রয়টার্স। কিন্তু সূত্রের তরফ থেকে কোনো উত্তর আসেনি। তবে ইরানের নতুন প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তর ও বাসভবনের কোনো কর্মকর্তা এ ইস্যুতে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সূত্র : রয়টার্স
আন্তর্জাতিক
এবার লোহিত সাগর অবরোধ করার হুঁশিয়ারি ইরানের
মার্কিন নৌ অবরোধ (হরমুজ প্রণালীতে) অব্যাহত থাকলে লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের মধ্য দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি। খবর টাইমস অব ইসরাইলের।
তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি তার অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে, তবে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ‘একটি ভূমিকা’ হিসেবে গণ্য হবে।”
আলী আবদোল্লাহি আরও বলেন, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে কোনো ধরনের রফতানি বা আমদানি চলতে দেবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনীর ‘আরও হাজারো’ সদস্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে।
জানা গেছে, সেনা পাঠানোর বিষয়ে জানেন এমন মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি এই খবর প্রকাশ করেছে। তবে খবরটি প্রকাশ করে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এখনো স্বাধীনভাবে এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্র দু’টি নতুন শর্ত দিয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা দুই দিনের মধ্যে শুরু হতে পারে। তার দাবি, ওয়াশিংটনকে ‘সঠিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিরাই’ ডেকেছেন এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান।
নতুন দফা আলোচনা শুরুর আগে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ ও অবাধে’ পুনরায় খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়োম’।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘পারস্পরিকতার অবস্থানে’ অটল রয়েছে। অর্থাৎ, ইরান যদি হরমুজ দিয়ে জাহাজ ও ট্যাংকার চলাচলে বাধা দেয়, তবে তাদের নিজেদের জাহাজ এবং ট্যাংকারগুলোকেও এর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে দেয়া হবে না।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শর্ত হলো, যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য ইরানের প্রতিনিধিদলকে অবশ্যই ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কাছ থেকে পূর্ণ কর্তৃত্ব পেতে হবে। ওয়াশিংটন চায়, ইসলামাবাদে হওয়া যেকোনো সমঝোতায় সরকারের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্মতি থাকুক।
যুক্তরাষ্ট্রও বলছে, তারা আলোচনায় ফিরবে কেবল তখনই, যখন ইরানের প্রতিনিধিদল চুক্তি সম্পন্ন করার ‘পূর্ণ ক্ষমতা’ নিয়ে আসবে।
প্রথম শান্তি আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হওয়ার কয়েকদিন পর, উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ নিরসনের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচক দল এই সপ্তাহের শেষের দিকে পাকিস্তানে ফিরতে পারে বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই এসব ঘটনা ঘটল।
ইরানি ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই পরিকল্পনাগুলো সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেননি মার্কিন কর্মকর্তারা।
আলোচনায় যুক্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলগুলোকে আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য ইসলামাবাদে ফিরে আসার একটি প্রস্তাব ওয়াশিংটন ও তেহরানে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি, তবে উভয় দেশ এই সপ্তাহের শেষের দিকেই ফিরতে পারে।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার চার দিন পর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি ছিল মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্পৃক্ততা।
আন্তর্জাতিক
শক্তিশালী ৩ দেশ সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করে বিশ্বে দারুণ অবস্থান গড়ে নিয়েছে পাকিস্তান। প্রথম দফার আলোচনা ব্যর্থ হলেও চলছে দ্বিতীয় দফা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। এতে পাকিস্তানের কদর আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী দেশ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শাহবাজ শরিফ আজ বুধবার জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে সৌদি আরবের নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কাতার যাবেন তিনি। কাতারে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এ ছাড়া পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, তুরস্কে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন শাহবাজ শরিফ। পাশপাশি পঞ্চম আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
এদিকে ইরানের সঙ্গে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বদলে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি করতে চায় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ৮ এপ্রিল স্বাক্ষরিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি আর বাড়ানো হবে না। বরং বড় ধরনের একটি সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করতে চায় ওয়াশিংটন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও একই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু সীমিত চুক্তি নয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়েও বিস্তৃত সমাধান চায় যুক্তরাষ্ট্র।
তবে তিনি স্বীকার করেন, দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস অনেক বেশি, তাই চুক্তিতে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সূত্র : বিবিসি ও আল জাজিরা



