রাজনীতি
দু-এক দিনের মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দু-একদিনের মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হবেন তারেক রহমান।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সিলেটের একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের চেয়ারপার্সনের মৃত্যুতে পদটি শূন্য রয়েছে। সেই শূন্যতা পূরণে তারেক রহমানকে এই পদে বসানো হবে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, বরাবরের মতো এবারো সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবে বিএনপি।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন জাতির জন্য এজন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, মানুষ তার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। নির্বাচন নিয়ে মিডিয়া আশঙ্কার কথা বললেও দল হিসেবে বিএনপি শঙ্কা বোধ করে না। প্রথম থেকেই নির্বাচন চেয়েছে বিএনপি।
গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর গত শনিবার তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার হন।
অন্যদিকে, বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের পক্ষে এই মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার ও বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত হওয়া সব কটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন ছিল বিএনপির দখলে। এর মধ্যে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য হন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
এক-এগারোর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি হয়। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান কারামুক্ত হয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। বিদেশে থাকায় তখন ভোটার তালিকায় তিনি অন্তর্ভুক্ত হননি। এর পরপর আওয়ামী লীগের শাসনকালে তিনি দেশে আসেননি, ভোটারও হননি।
গত বছর জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ভোটগ্রহণ।
এমকে
রাজনীতি
তারেক রহমানের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানানো হয়।
সাক্ষাতে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল। তাঁরা হলেন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পায়োলা প্যাম্পালোনি, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দক্ষিণ এশিয়ার উপপ্রধান মনিকা বাইলাইতে ও লিগ্যাল অ্যাডভাইজার রাস্টিস্লাভ স্প্যাক।
এসময় বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
রাজনীতি
তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমে যুক্ত হলেন আরও তিনজন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমে আরও তিনজনকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমের পরিচালক (নিরাপত্তা) হিসেবে মেজর (অব.) মোহাম্মদ শাফাওয়াত উল্লাহ, পরিচালক (প্রটোকল) হিসেবে মেজর (অব.) মইনুল হোসেন এবং পরিচালক (সমন্বয়) হিসেবে ক্যাপ্টেন (অব.) মো. গণী উল আজমকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
রাজনীতি
শুধুমাত্র মিছিল মিটিং করার জন্য জাতীয়তাবাদীর নাম ব্যবহার নয়: রিজভী
শুধুমাত্র মিছিল মিটিং করার জন্য জাতীয়তাবাদীর নাম ব্যবহার করে সংগঠন তৈরি না করে, সেই পেশার মানুষদেরকে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, শুধু মিছিল মিটিং করার জন্য সংগঠন তৈরি করা নয়, আপনাদের এই পেশার মানুষদেরকে সমাজে যাতে মাতা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। তারা যাতে সবসময় সম্মানিত থাকে। তারা যেন পুলিশি হয়রানি শিকার না হয়, এই জিনিসগুলো লক্ষ্য রেখে আইন প্রণয়ন করতে হবে।
মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মোটরযান চালক দল আয়োজিত সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা উদ্বোধন ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, দেশে যত গরিব মানুষ, যত খেটে খাওয়া মানুষ, যত শ্রমজীবী মানুষ, এরাই বেশি হয়রানির শিকার হয়। নির্যাতনের শিকার হয়। সেই হয়রানি, নির্যাতন থেকে মুক্ত করার জন্য, নিজেকে সুখী করার জন্য একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে মোটরযান চালক পেশাকে গ্রহণ করা যায়।
তিনি বলেন, আমি আমেরিকায় দেখেছি। বাংলাদেশের অনেক বিএ পাস, এমএ পাস ছেলে অনেক ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার তারা সেখানে পাঠাও চালায়, ট্যাক্সি চালায়। তারা সেখানে ট্যাক্সি চালিয়ে বেশ উন্নতমানের জীবন যাপন করে। তারা সেখানে বাড়ি কিনতে পারে। আরো অনেক কিছুই করতে পারে। সেই দেশে কোনো শ্রেণিবিভাজন নেই। এজন্যই একজন ট্যাক্সিচালক, তার যেমন সমাজে মূল্য রয়েছে। একজন এমপিও সমাজে একই মূল্য রয়েছে। কেউ কম, কেউ বেশি নেই। আমাদেরকেও সেই সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেটি বারবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার ৩১ দফা কর্মসূচিসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, যে ছেলে ইউনিভার্সিটি শেষ করেছে কিন্তু এখনো চাকরি হয়নি। তারা উন্নত দেশের মতো এখানেও উবার চালাবে, ট্যাক্সি চালাবে। যতদিন অন্য চাকরি না হচ্ছে তারা এই ধরনের স্বাধীন পেশায় নিযুক্ত হয়ে কমপক্ষে নিজের ও সংসারের এমনকি পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারবে। তবে রাষ্ট্রকে তার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। সহযোগিতা করতে হবে আইন প্রণয়ন করতে হবে।
এমকে
রাজনীতি
শাহবাগ থেকে শুরু হলো ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষিত ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শাহবাগ থেকে পথযাত্রা ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শুরু হয়েছে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় শাহবাগের হাদী চত্বর থেকে এ যাত্রা শুরু করেছে। এ সময় মার্চ ফর ইনসাফ অংশ নেওয়া নেতা বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোন যায়। স্লোগানের মধ্যে রয়েছে, ‘হাদির ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’, ‘রক্ত বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘লাল সবুজের পতাকা, ইনকিলাবের পতাকা, হাদি তোমায় দেখা যায়’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’।
‘মার্চ ফর ইনসাফ’ পথযাত্রাটি শাহবাগ থেকে শুরু করে সায়েন্সল্যাব-সিটি কলেজ, মোহাম্মদপুর-তিন রাস্তার মোড়, রায়েরবাজার-বধ্যভূমি, মিরপুর ১০, উত্তরা, বসুন্ধরা, বাড্ডা, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী হয়ে সন্ধ্যায় শাহবাগ হাদি চত্বরে এসে শেষ হবে।
মার্চ ফর ইনসাফ পথযাত্রায় ১০টি পিক-আপে অংশ নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের চার দফা দাবি হলো—
১. খুনি, খুনের পরিকল্পনাকারী, খুনের সহায়তাকারী, পলায়নে সহযোগী, আশ্রয়দাতাসহ পুরো খুনিচক্রের আগামী ২৪ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে।
২. বাংলাদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে।
৩. ভারত তার অভ্যন্তরে আশ্রয় নেওয়া সব খুনিদের ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।
৪. সিভিল মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসরদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
এমকে
রাজনীতি
সুরভীর সঙ্গে ন্যায়বিচার হয়নি, পুরো বিষয়টি বানোয়াট: নাহিদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর সঙ্গে ন্যায়বিচার হয়নি এবং পুরো বিষয়টি বানোয়াট।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) মধ্যরাতে সদ্য জামিনে মুক্তি পাওয়া তাহরিমার খোঁজ নিতে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, কিছু কিছু মিডিয়া নির্বাচনকে সামনে রেখে গণ-অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিদের চরিত্রহন করার চেষ্টা করছে। সুরভীর ঘটনাটিও তারই ধারাবাহিকতা।
তিনি সতর্ক করে বলেন, দলের ভেতরে অনুপ্রবেশকারী একটি গোষ্ঠী দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, তাই সবাইকে আরও সচেতন থাকার আহ্বান।
এর আগে, গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর টেকপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে চাঁদাবাজির মামলায় সুরভীকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী। সোমবার সন্ধ্যায় তার দুই দিনের রিমান্ড আদেশ বাতিল করা হয়। অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ-১-এর বিচারক অমিত কুমার দে তার চার সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন। সোমবার দুপুরে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক সৈয়দ ফজলুল মাহাদী সুরভীর দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এই আদেশের পর আদালতপাড়ায় ‘ছাত্র-জনতা’ বিক্ষোভ করেন।
এদিকে জামিন পেয়ে সুরভি টঙ্গীর বাসায় ফিরলে রাতে তাকে দেখতে যান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ সময় দলটির গাজীপুর মহানগর ও টঙ্গীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমকে




