জাতীয়
অবশেষে ১৪টি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত বিমান পর্ষদের
ইউরোপ না আমেরিকা–কার কাছ থেকে উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ, তা নিয়ে অনেক টানাহেঁচড়ার পর অবশেষে বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান পরিচালনা পর্ষদ। গত মঙ্গলবার বিমান পরিচালনা পর্ষদে ১৪টি বোয়িং কেনার ‘নীতিগত’ সিদ্ধান্ত হয় বলে কোম্পানির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বৃহস্পতিবার জানান।
বিমানের জন্য ইউরোপীয় জায়ান্ট এয়ারবাস নাকি মার্কিন বোয়িং এর উড়োজাহাজ কেন হবে, তা নিয়ে গত দুই বছর ধরে রশি টানাটানি চলছিল।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। কিন্তু অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আর ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির চাপে শেষ পর্যন্ত বিমানের অর্ডার যাচ্ছে বোয়িংয়ের ব্যাগে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ফ্রান্সের কোম্পানি এয়ারবাস থেকে ১০টি বড় উড়োজাহাজ ‘কেনার প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছে।
এয়ারবাস থেকে আটটি যাত্রীবাহী ও দুটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ কেনার বিষয় ‘পর্যালোচনার’ মধ্যে আমেরিকান কোম্পানি বোয়িংও তৎপর হয়ে ওঠে। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে দুপক্ষেরই দেনদরবার চলে। এর মধ্যেই ২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছর চেয়ারে বসেই যে বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করেন, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। ট্রাম্পের ৩৫ শতাংশ শুল্কের খড়গ থেকে বাঁচতে গত জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
তাতে ফ্রান্সের কোম্পানি এয়ারবাস থেকে বিমানের জন্য ১০টি বড় উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এরপর ইউরোপও নড়েচড়ে বসে। এয়ারবাস বিক্রির জন্য তারাও চাপ দিতে থাকে সরকারের ওপর।
গত জুন মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাজ্য সফরে গেলে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এয়ারবাসের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ভাউটার ভ্যান ভার্স। এর পর থেকে কোম্পানির প্রতিনিধিরা সরকারের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রেখে চলেন।
গত নভেম্বরের শুরুতে ফ্রান্স দূতাবাসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা একযোগে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, উড়োজাহাজ কেনার আলোচনায় যেন এয়ারবাসকে ‘যৌক্তিকভাবে’ বিবেচনা করা হয়।
তারা ইউরোপে কয়েক বিলিয়ন ইউরোর বাংলাদেশি পণ্যের বাজার, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং দীর্ঘ অংশীদারত্বের কথা মনে করিয়ে দেন বারবার।
সর্বশেষ গত ২৬ নভেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত র্যুডিগার লোটৎস এক সভায় বলেন, এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার ‘প্রতিশ্রুতি’ থেকে বাংলাদেশ সরে এলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কে ‘প্রভাব পড়বে’।
তিনি বলেন, ইউরোপের বাজারে শুল্কছাড়ের আলোচনার আবহও এয়ারবাস নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের কারণে বদলে যেতে পারে।
বিমানের সিদ্ধান্ত
এতসব টানাহেঁচড়ার মধ্যে অবশ্য বিমানের চাওয়া বা না চাওয়ার কোন আলোচনা ছিল না।
এয়ারলাইন্স ব্যবসায় উড়োজাহাজের প্রয়োজন হলে সেই চাহিদা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির তরফ থেকে আসার নিয়ম রয়েছে। এখানে যার জন্য উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে, সেই বিমানকেই রাখা হয়েছিল অন্ধকারে।
তবে শেষ পর্যন্ত বিমানের পরিচালনা পর্ষদ বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত দিল।
বিমান থেকে জানানো হয়েছে, বোয়িং ও এয়ারবাস দুই পক্ষেরই প্রস্তাব বিমানের টেবিলে ছিল। সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর গত ২৪ নভেম্বর বোয়িং আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান বিক্রি, অন্যান্য শর্তাবলী ও সেগুলো ডেলিভারির বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠায়।
ওই প্রস্তাব অনুযায়ী বোয়িং থেকে ১৪টি এয়ারক্রাফট কেনার সিদ্ধান্ত দেয় বিমানের পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি সুপরিসর বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ন্যারো বডির বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ।
এখন বিমানের পক্ষ থেকে দরকষাকষির জন্য একটি কমিটি করা হবে। এই কমিটি প্রতিটি এয়ারক্রাফটের দাম ও অন্যান্য টেকনিক্যাল বিষয়ে বোয়িং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে।
এমকে
জাতীয়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৮ শহীদের পরিচয় শনাক্ত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ শনাক্তকরণের অংশ হিসেবে ১১৪ জনের মরদেহ উত্তোলন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরইমধ্যে নতুন করে ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে এই মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সিআইডি।
শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলেন- শহীদ ফয়সাল সরকার, শহীদ পারভেজ বেপারী, শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহীদ মাহিম (২৫), শহীদ সোহেল রানা, শহীদ আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম (২৯)।
সিআইডি জানায়, রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।প্রতিটি মরদেহ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ফরেনসিক চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন। সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।
সিআইডি আরও জানায়, এ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় শহীদদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্য থেকে ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে এরইমধ্যে ৮ জন অজ্ঞাতপরিচয় শহীদের পরিচয় সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জাতীয়
নির্বাচনের পরিবেশ সন্তোষজনক: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, সবার সহযোগিতা থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে উপহার দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে নির্বাচন পরিবেশ-পরিস্থিতি সন্তোষজনক আছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রবেশের সময় তিনি আপিলের বুথ পরিদর্শন করে এ কথা বলেন।
এদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন শুরু হয়েছে। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই আপিল আবেদনের ওপর পর্যায়ক্রমে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি জানায়, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আগামী ৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করতে পারবেন। আপিল আবেদনের জন্য ১ সেট মূল কাগজপত্র এবং ৬ সেট ছায়ালিপি (ফটোকপি) মেমোরেন্ডাম আকারে জমা দিতে হবে।
সারাদেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে আপিল গ্রহণের জন্য পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। রংপুর অঞ্চল: বুথ-১ (আসন ১-৩৩), রাজশাহী অঞ্চল: বুথ-২ (আসন ৩৪-৭২), খুলনা অঞ্চল: বুথ-৩ (আসন ৭৩-১০৮), বরিশাল অঞ্চল: বুথ-৪ (আসন ১০৯-১২৯), ময়মনসিংহ অঞ্চল: বুথ-৫ (আসন ১৩০-১৬৭), ঢাকা অঞ্চল: বুথ-৬ (আসন ১৬৮-২০৮), ফরিদপুর অঞ্চল: বুথ-৭ (আসন ২০৯-২২৩), সিলেট অঞ্চল: বুথ-৮ (আসন ২২৪-২৪২), কুমিল্লা অঞ্চল: বুথ-৯ (আসন ২৪৩-২৭৭) ও চট্টগ্রাম অঞ্চল: বুথ-১০ (আসন ২৭৮-৩০০)
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী শুনানি চলবে। ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এটি চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। পরিস্থিতি ও আপিলের সংখ্যা বিবেচনায় এই সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে। শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা তার প্রতিনিধি এবং আপিলকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকতে হবে।
শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে মনিটরে প্রদর্শন করা হবে এবং ই-মেইলে পিডিএফ কপি পাঠানো হবে। এছাড়া নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী নির্বাচন ভবন থেকে রায়ের হার্ডকপি সংগ্রহ করা যাবে। ১০-১২ জানুয়ারির রায় ১২ জানুয়ারি, ১৩-১৫ জানুয়ারির রায় ১৫ জানুয়ারি এবং ১৬-১৮ জানুয়ারির রায় ১৮ জানুয়ারি বিতরণ করা হবে।
জাতীয়
মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল শুরু আজ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আজ (৫ জানুয়ারি) থেকে আপিল দায়ের করা যাবে। আগামী ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংক্ষুদ্ধ কোনো প্রার্থী বা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোনো সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অথবা প্রার্থী কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি ইসিতে আপিল দায়ের করতে পারবেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে আপিল দায়ের সংক্রান্ত ১০টি বুথ
১নং বুথে খুলনা অঞ্চলের জেলা: মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা।
২নং বুথে রাজশাহী অঞ্চলের জেলা: জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা।
৩নং বুথে রংপুর অঞ্চলের জেলা: পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা।
৪নং বুথে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেলা: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান।
৫নং বুথে কুমিল্লা অঞ্চলের জেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুর।
৬নং বুথে সিলেট অঞ্চলের জেলা: সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ।
৭নং বুথে ঢাকা অঞ্চলের জেলা: টাংগাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ।
৮ নং বুথে ময়মনসিংহ অঞ্চলের জেলা : জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা।
৯নং বুথে বরিশাল অঞ্চলের জেলা: বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ।
১০নং বুথে ফরিদপুর অঞ্চলের জেলা: রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর এবং শরীয়তপুর জেলার মনোনায়নপত্র বাতিল ও গ্রহণ আদেশের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল দায়ের করা যাবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে রাতে সারা দেশে কতগুলো মনোনয়নপত্র বৈধ এবং কতগুলো বাতিল হয়েছে তা প্রকাশ করা হবে।
ইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ কোনো প্রার্থী বা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোনো সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অথবা প্রার্থী কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল দায়ের করতে পারবেন।
যেভাবে আপিল দায়ের করতে হবে
» মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল : আপিল আবেদন কমিশন সচিবালয়ের সচিবের নিকট নির্ধারিত ফরমেটে দায়ের করতে হবে।
» আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ সম্বলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে।
» আপিল আবেদনের ১টি মূলকপিসহ সর্বমোট ৭ টি কপি দাখিল করতে হবে।
» আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনের আপিল আবেদন গ্রহণ সংক্রান্ত কেন্দ্রে স্ব স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে।
» আপিল আবেদন ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে দাখিল করতে হবে।
» আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপি পেতে নির্ধারিত ফরম-এ আবেদন দাখিল করতে হবে। ওই ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ হতে সংগ্রহ করা যাবে। আপিল দায়েরকারী অথবা আপিল দায়েরকারীর পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
আপিল নিষ্পত্তি: মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত আপিলসমূহ নির্বাচন কমিশন আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করবে।
নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুসরণ: সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী বা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি এবং সরকারী সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুসরণ করতে হবে।’
জাতীয়
ভোরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের ধিং এলাকায়। এর কেন্দ্রস্থল ছিল মাটির ৩৫ কিলোমিটার গভীরে।
ভূকম্পনের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই পোস্ট করেন। সিলেট নগরী ও আশপাশে কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর মধ্যরাতে সিলেটে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই দিন রাত ২টা ২০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথমবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর ২টা ২৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে দ্বিতীয়বার ভূমিকম্প হয়।
জাতীয়
সারাদেশের বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করলো ইসি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই কার্যক্রম শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যাচাই শেষে প্রাথমিকভাবে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে জমা পড়া মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে মোট ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়। ইসি জানায়, এবারের নির্বাচনে মোট ৩ হাজার ৪০৬টি মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছিল। এসব মনোনয়নপত্রের মাধ্যমে ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অঞ্চলভিত্তিক যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফল নিম্নরূপ—
ঢাকা অঞ্চল: বৈধ মনোনয়ন ৩০৯টি, বাতিল ১৩৩টি
চট্টগ্রাম অঞ্চল: বৈধ ১৩৮টি, বাতিল ৫৬টি
রাজশাহী অঞ্চল: বৈধ ১৮৫টি, বাতিল ৭৪টি
খুলনা অঞ্চল: বৈধ ১৯৬টি, বাতিল ৭৯টি
বরিশাল অঞ্চল: বৈধ ১৩১টি, বাতিল ৩১টি
সিলেট অঞ্চল: বৈধ ১১০টি, বাতিল ৩৬টি
ময়মনসিংহ অঞ্চল: বৈধ ১৯৯টি, বাতিল ১১২টি
কুমিল্লা অঞ্চল: বৈধ ২৫৯টি, বাতিল ৯৭টি
রংপুর অঞ্চল: বৈধ ২১৯টি, বাতিল ৫৯টি
ফরিদপুর অঞ্চল: বৈধ ৯৬টি, বাতিল ৪৬টি
সব মিলিয়ে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় মোট ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
বিশেষ পরিস্থিতি
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্যে আরও জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১—এই তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আপিলের সুযোগ
ইসি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত এই ফলাফলের বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থীর আপত্তি থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে, ফলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।
এমকে



